চাঁদপুর। শুক্রবার ১৪ এপ্রিল ২০১৭। ১ বৈশাখ ১৪২৪। ১৬ রজব ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৬। উহারা কি অনুধাবন করে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করিয়াছি উহাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিবসকে করিয়াছি আলোকপ্রদ? ইহাতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

আমি দুর্ভাগ্যকে স্বাগত জানাই, কারণ দুর্ভোগের পরই সৌভাগ্য আসে।            -টমাস কিড। 


যে ব্যক্তি (অভাবগ্রস্ত না হয়ে) ভিক্ষা করে, কেয়ামতের দিন তার কপালে একটি প্রকাশ্য ঘা হবে ।  


ফটো গ্যালারি
এই বৈশাখে
সোহেল নওরোজ
১৪ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

খোলা আকাশের নিচে বিশাল মাঠের এক কোণে বসে আছি। সময়ের সঙ্গে সূর্যের তেজ বাড়ছে। আমার সঙ্গে যে তিনজন আছে তাদের মধ্যে কিঞ্চিৎ অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে উত্তেজনার কাছে তা পাত্তা পাচ্ছে না। মুঠোফোন হাতে নিয়ে অপেক্ষায় আছি। অবনী ফেসবুক লাইভে এলেই কার্যক্রম শুরু হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যাদেরকে বেছে নিয়েছি, তাদের কারো বয়সই ১২ বছরের বেশি হবে না। তবে তিনজনকে একত্র করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। কয়েকবার রিহার্সেল করিয়েছি। নিজের জন্য কিছু না কিনলেও ওদেরকে লাল-সাদা পাঞ্জাবী কিনে দিয়েছি। আজকের দিনে ওরাই আমার সঙ্গী। কাজটা শেষ হলেই ভালো কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে একসঙ্গে খাব।

ফেসবুকের সবুজ বাতি জ্বলে উঠেছে। শেষবারের মতো ওদেরকে প্রস্তুত হতে বললাম। মোবাইল স্ক্রীনে অবনীর ছবি ভেসে ওঠে। আমি তিনজনকে লাইনে দাঁড় করাই। ওরা একসঙ্গে গেয়ে উঠে 'এসো হে বৈশাখ, এসো...এসো...'। অবনীর চোখের কোণে অশ্রু। আমার চোখেও কি? আপাতত তা আড়াল করি। গানের পর বেলুন ওড়ানো হবে। সবগুলোতেই বিভিন্ন রঙে অবনীর নাম লেখা। কী দারুণ হতো, যদি সত্যিই এগুলো হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে অবন্তীর কাছে পৌঁছে যেত!

এমন এক পহেলা বৈশাখেই অবনীকে প্রথম দেখি। সবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছি। শরীরে তখনো গ্রামের গন্ধ লেগে আছে। মনটাও প্রায়ই বাড়ির জন্য উতলা হয়। ক্যাম্পাসের আচার-অনুষ্ঠান তেমন টানত না। রোজ সকালে নিয়ম করে পান্তা খাওয়ায় অভ্যস্ত আমাকে কেউ যখন আনুষ্ঠানিকভাবে তা মুখে দিয়ে বছর শুরুর প্রস্তাব দিল, হেসেই উড়িয়ে দিলাম। তারপরও বন্ধুদের সঙ্গে তাল মেলাতেই শরীক হয়েছিলাম বর্ষবরণে। কে কী করছে তা পর্যবেক্ষণেই ব্যস্ত ছিলাম। সুন্দর করে সাজানো মঞ্চে গান শুরু হয়। সেদিন শিল্পীদের গানের চেয়ে সঞ্চালকের কথাতেই বেশি মুগ্ধ হয়েছিলাম। শুদ্ধ বাক্যের মাঝে কবিতার লাইন! আঞ্চলিকতার বৃত্ত ভাঙতে এমন কারো কাছে দীক্ষা নিলে মন্দ হতো না!

প্রকৃতি কিছু বিষয় মিলিয়ে দেয়। আমরা বলি কাকতাল। সেদিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করা মেয়েটিকে দ্রুতই আবিষ্কার করি। তাও আমাদেরই ক্লাসে! জড়তা কাটিয়ে একসময় মুগ্ধতা ও ইচ্ছার কথা জানাই। অন্যদের মতো হেসে উড়িয়ে দেয় না। সেদিনের পর থেকে একটু একটু করে বদলে যাওয়ার পাঠ নিই। বৈশাখ আমাদেরকে কাছে এনেছিল, পরের বর্ষবরণগুলো তাই ভিন্ন মাত্রা পায়। ওর ইচ্ছে ছিল, কোনো একদিন আমিও বৈশাখী মঞ্চে উঠব। কিন্তু গান-আবৃত্তিতে পারঙ্গমতার অভাবে হয়ে ওঠেনি। তবে একটা বিষয় ওকে মুগ্ধ করেছিল। পাতার বাঁশি। শৈশবে কচি পাতা ঠোঁটের মধ্যে নিয়ে বাজানোর অভ্যাসটা অবনীর জন্য ফিরে আসে। বৈশাখের প্রথম দিনে বিশাল কোনো মাঠকে আমরা মঞ্চ বানাতাম। অবনীর ঘোষণা শেষ হওয়া মাত্র পাতার বাঁশি বেজে উঠত।

অনার্স শেষে আমি যখন চাকরিতে যোগ দিই, স্কলারশীপ নিয়ে অবনী বিদেশে পাড়ি জমায়। তারপর এটাই প্রথম বৈশাখ। অবনীকে চমকে দেওয়ার আয়োজন সফল হয়েছে কিনা জানি না। ওর কথা মতো আমাদের প্রিয় জায়গাটিতে গিয়ে বসি। আবার ফেসবুক লাইভে আসে ও। এবার বৈশাখী সাজে উপস্থাপনার সেই পুরোনো ঢঙে। এরপরের অংশে এমন কিছু ঘটবে ভাবিনি। কোথা থেকে অবনী কচি পাতা সংগ্রহ করেছে। তা দিয়ে বাঁশি বানিয়ে নিজেই বাজাচ্ছে! সে শব্দে এই বৈশাখেও বিস্ময় আর মুগ্ধতা একাকার হয়ে যাচ্ছে...

সোহেল নওরোজ : ০১৯১৮০০০০৪৮

আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৯৯১৮
পুরোন সংখ্যা