চাঁদপুর। শুক্রবার ১৪ এপ্রিল ২০১৭। ১ বৈশাখ ১৪২৪। ১৬ রজব ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৬। উহারা কি অনুধাবন করে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করিয়াছি উহাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিবসকে করিয়াছি আলোকপ্রদ? ইহাতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

আমি দুর্ভাগ্যকে স্বাগত জানাই, কারণ দুর্ভোগের পরই সৌভাগ্য আসে।            -টমাস কিড। 


যে ব্যক্তি (অভাবগ্রস্ত না হয়ে) ভিক্ষা করে, কেয়ামতের দিন তার কপালে একটি প্রকাশ্য ঘা হবে ।  


আমাদের সংস্কৃতি চর্চা কোন পথে?
অমৃত ফরহাদ
১৪ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

বিশেষ বিশেষ দিবসে বা বিশেষ কোনো মাসে আমাদের সংস্কৃতি কর্মীরা খুব সক্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলা আছে যেখানে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সারা বছর তাদের কর্মকা- চালিয়ে যায়। আবার দেশে এখন এমন অনেক সংগঠন আছে যারা দেশীয় সংস্কৃতি পরিহার করে সংস্কৃতির বিকৃত উপস্থাপন করছে। অথচ আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি যথেষ্ট সমৃদ্ধ। আমরা এতোটাই রিক্ত হইনি যে ভিনদেশী সংস্কৃতি আমদানি করতে হবে। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি যথেষ্ট শালিন এবং মার্জিত। কোনো সমাজের নিজস্ব সংস্কৃতির উপর যখন অন্য সংস্কৃতি সওয়ার হয়ে সভ্যতার অবক্ষয় ঘটায় সেটাই অপসংস্কৃতি।

বাংলা একাডেমির অভিধানে অপসংস্কৃতির অর্থ এভাবে এসেছে 'সংস্কৃতি বা কৃষ্টি বিষয়ে আদর্শ চূ্যতি'। সংসদ বাংলা অভিধানে এসেছে এভাবে : 'শিক্ষা ও সভ্যতার অবনতি সংস্কৃতি বা কৃষ্টি বিষয়ে আদর্শ চূ্যতি'। সময়ের পালাবদলে পরিবর্তন হয় সামাজিক অবকাঠামো, পরিবর্তন হয় ভাষা। পরিবর্তন হয় ঠিক কিন্তু মৌলিকত্বকে বিসর্জন দিয়ে নয়। সামাজিক অবকাঠামোর ন্যায় সংস্কৃতির গায়ে রং লাগবে ঠিক। কিন্তু এমন রং লাগানো যাবে না যা সভ্যতার অবনতি ঘটায়। যে কোনো জাতির সংস্কৃতি পরিবর্তন হয় অতি ধীরে। কিন্তু আকাশ সংস্কৃতির ছোবলে আমাদের সংস্কৃতি এতোটাই আক্রান্ত যে অতি ধীরের চেয়ে অতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। যা কোনো অবস্থাতেই মঙ্গল বয়ে আনবে না।

আজ আমাদের সমাজে যে অবক্ষয়গুলো হচ্ছে তার মধ্যে, ইভটিজিং, হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস উল্লেখযোগ্য এগুলোর জন্য আমি অবশ্যই দায়ী করবো অপসংস্কৃতিকে। আমাদের সমাজে সবচেয়ে বড় অবক্ষয়, মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার অবক্ষয়। আমি বিশ্বাস করি তার জন্যও দায়ী অপসংস্কৃতি। আমাদের যুবসমাজ যে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, তার অন্যতম কারণ অপসংস্কৃতি। বাংলাদেশীরা সহজ-সরল, বিশ্বাসী, সদালাপি ও অতিথিয়েতাপরায়ন। এ জাতিকে কোনো ভুল জিনিসও যদি সুন্দরভাবে মানে সত্যের মতো করে বুঝানো যায়, তারা বিশ্লেষণ না করে, খতিয়ে না দেখে এমনকি চিন্তা না করে তাই বিশ্বাস করে। এ কারণে এ জাতি বার বার প্রতারিত হয় এবং হচ্ছে। জাতির এ সরলতাকে পুঁজি করে ভীনদেশীরা এ দেশীয় কিছু অর্থ লোভী মীরজাফরকে সাথে নিয়ে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে ভিনদেশী সংস্কৃতির অনুপ্রেবেশ ঘটাচ্ছে।

আমি একটা কথা খুব ভালোভাবেই বিশ্বাস করি; কোনো জাতির চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন করার জন্য অর্থনীতি বা অন্য কোনো ব্যবস্থার চেয়ে সংস্কৃতি কয়েকগুণ বেশি কাজ করে। আমি আগেই বলেছি, এ জাতি সহজ-সরল এবং বিশ্বাসপরায়ন। সেই সাথে খুবই আবেগী। তাই এ জাতিকে যা দিবে তাই গিলবে। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির আবেদন যদি ফুরিয়ে যেতো তা হলে একটা কথা ছিলো। আমরা আজও দেখি, পহেলা বৈশাখ, লালন মেলা, রবীন্দ্র উৎসব, মুক্তিযুদ্ধের মেলা, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবসহ দেশীয় সব অনুষ্ঠান খুব উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। মেলাগুলাতে উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। তাহলে কেন আমরা সংস্কৃতি ধার করতে যাই? আমরা কেন নিজের পায়ে নিজে কুড়াল দিচ্ছি? আমাদের অবহেলার শিকার হচ্ছে আমার দেশের সারি গান, জারি গান, ভাটিয়ালী, মুর্শিদী, পল্লীগীতি, পুঁথি পাঠের আসর। যারা দেশীয় সংস্কৃতি লালন করেন, আজ সময় এসেছে তাদেরকে জাগতে হবে। নতুন প্রজন্মকে বুঝতে হবে, বুঝাতে হবে। তাদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। আমরা আমাদের আদর্শ থেকে একটু একটু করে সরে যাচ্ছি। প্রশ্ন হচ্ছে ভিনদেশী সংস্কৃতির সব দিকই কি খারাপ? উত্তর হচ্ছে আমরা দেখব কোনো অংশ যদি আমাদের সভ্যতার অবনতি না ঘটায়, আমাদের নৈতিকতায় আঘাত না আসে; তাহলে তা গ্রহণ করা যাবে।

লেখক পরিচিতি : প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম, ০১৯২২৬৮৩৮৪৪।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩৭৮৮৬
পুরোন সংখ্যা