চাঁদপুর। শুক্রবার ১৪ এপ্রিল ২০১৭। ১ বৈশাখ ১৪২৪। ১৬ রজব ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্স পড়ুয়া দুই ছাত্রীসহ তিন জনকে আটক করেছে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। হাজীগঞ্জে দুই কিশোর শিক্ষার্থীর উত্যক্তের কারণে হালিমা আক্তার (১৫) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। || হাজীগঞ্জে দুই কিশোর শিক্ষার্থীর উত্যক্তের কারণে হালিমা আক্তার (১৫) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৬। উহারা কি অনুধাবন করে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করিয়াছি উহাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিবসকে করিয়াছি আলোকপ্রদ? ইহাতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

আমি দুর্ভাগ্যকে স্বাগত জানাই, কারণ দুর্ভোগের পরই সৌভাগ্য আসে।            -টমাস কিড। 


যে ব্যক্তি (অভাবগ্রস্ত না হয়ে) ভিক্ষা করে, কেয়ামতের দিন তার কপালে একটি প্রকাশ্য ঘা হবে ।  


খাঁচার জীবন
আবু তাহের মিয়াজী
১৪ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

বন্দী থাকার চেয়ে স্বাধীনভাবে কম খেয়ে থাকা ও অনেক ভালো। প্রবাসীরাও তাদের থেকে আলাদা নয়। এবার একটু ইঁদুর এবং প্রবাসীদের সাথে মিল খুঁজি! আমার আগের রুমে থাকা অবস্থায় খাওয়ার জন্যে কিছু কিছু শাকসবজি ফলফলাদি কিনে খাটের নিচে রেখে দিতাম। কিন্তু ইঁদুর খুব জ্বালাতন করতো। দিশা না পেয়ে বাধ্য হয়ে একটা ইঁদুর ধরার কল কিনে আনলাম, মারার জন্য নয় ধরার জন্য। ডিউটিতে যাবার সময় সামান্য বিস্কুট কলের ভেতর দিয়ে রুম বন্ধ করে চলে গেলাম। ডিউটি শেষে এসে রুম খুলে দেখি বিস্কুটের লোভে ইঁদুর লোহার খাঁচায় বন্দী! ছোট্ট খাঁচা থেকে বেরিয়ে যেতে তার কী নিরন্তর প্রয়াস...। পারলে সে লোহা কেটে বেরিয়ে পড়ে এমন ভাব দেখায়। অনবরতভাবে কখনো এদিক কখনো ওদিকে দৌড়ে খাঁচা থেকে বেরোতে চাইছে। কিন্তু বন্ধ খাঁচার দরজা যে আর খুলবে না। এই বোকা ইঁদুরের মতই আমরা অসংখ্য প্রবাসী চলে আসি দূর প্রবাস নামক খাঁচায়। একটু ভালো খাদ্য আর একটু সুন্দর জীবনের আশায়। এসেই সেই বন্দী পাখি আর ইঁদুরের মতো ছোট্ট খাঁচায় দৌড়ায়, হাসফাঁস করে। অনেক চেষ্টা করেও আর বেরোতে পারি না সেই বদ্ধ খাঁচা থেকে।

আমাদের জীবন আমাদের জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য। নিজে নিঃস্ব হয়ে পরিবার পরিজনকে সুখে রাখা জন্য। কিন্তু প্রবাসীদের দুর্ভাগ্য এই প্রবাস নামের খাঁচা থেকে সহজে কেউ মুক্তি পেতে পায় না। কারণ, একযুগ দেড় যুগের ও বেশি সময় লেগে যায় পরিবার পরিজনকে খুশি করতে। যখন পরিবার পরিজনকে খুশি করার মোহ মাথায় ঢুকে যায় তখন নিজের কথা ভুলে যায়। যখন নিজের সুখের কথা মাথায় আসে তখন তার দেহটা আস্তে আস্তে নিথর হয়ে আসে। তখন এই নিথর দেহটা পরিবার পরিজনের কাছে অপছন্দনীয় হয়ে যায়। প্রবাসে টাকা আছে তবে সুখ যে নেই তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সবার ধারণা প্রবাস মানেই হলো সুখ আর সুখ। বাস্তব সত্য হলো আমরা বন্দী পাখির মতো বেঁচে থাকি তবে বেঁচে থাকার স্বাদ আমাদের ভাগ্যে নেই।

ভালোবাসাহীন জীবন নিয়ে বুক ভরা কষ্টের পাহাড় নিয়ে সুখের আশেপাশেও যাবার ভাগ্য হয় না আমাদের। যে সুখের আশায় রক্ত বাঁধনের মানুষ গুলোকে পিছনে রেখে এতদূর পথ পাড়ি দিলাম কিন্তু সুখের মুখ দেখা হলো না। বুক ভরা শূন্যতার শূন্যস্থান সঠিকভাবে পূর্ণ হলো না। কষ্ট আর হাহাকার বুকে নিয়ে সুখের আশায় বৃথা এই দৌড়ঝাঁপ দিতে দিতেই আমাদের জীবনের প্রদীপ নিভে যায়। কেউ আর তখন পাশে থাকতে চায় না, ভাবতে চায় না এই নিথর দেহটাই তো এক সময় পরিবারের চাকাটা ঘুরিয়েছিলো। সবাই থাকে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, আর নিথর দেহের মানুষটা অতীতকে স্মরণ করে নিজের ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। শুধু মনে বল থাকলে হয় না, দেহের বলের অবশ্যই প্রয়োজন। ঘরে বাহিরে লাঞ্ছনা-গঞ্জনার মুখোমুখি হতে হয়।

এই প্রবাসীদের কি ইচ্ছা হয় না এই বন্দী খাঁচা থেকে বের হয়ে আপনাদের মতো দেশের মাটিতে বসবাস করি, সবার সাথে হাসি কাঁদি, নিজের মতো করে স্বাধীন হয়ে সমাজে চলাফেরা করি, জন্মভূমির আলো বাতাসে বেড়ে উঠি, মায়ের কোলে মাথা রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেই? দেশের তরে আমাদেরও মনটা ডাকাডাকি করে। আমাদেরও ইচ্ছে হয় দেশের মাটিতে খেয়ে না খেয়ে পড়ে থাকি, মা মাটির বিরহে আমাদেরও বুক ফাটে হু হু করে হাহাকার যন্ত্রণা সারাদিন আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলতে থাকে। মন চায় সব কিছু পিছনে ফেলে রেখে দেশের মাটিতে পড়ে থাকি যেখানে কেটেছে আমাদের শৈশব কৈশোর, যে মাটিতে ঘুমিয়ে আছে আমাদের রক্ত বাঁধনের আপনজন কিন্তু পারি না। আপনাদের মুখে হাসি ফোটাবার দায়িত্ব যে নিয়েছি তাই নিজের ইচ্ছা অনিচ্ছা বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমাদের চাওয়া পাওয়ার কোনো মূল্য নেই।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬৮
পুরোন সংখ্যা