চাঁদপুর। শনিবার ৩ জুন ২০১৭। ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ৭ রমজান ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪২। এই পৃথিবীতে আমি উহাদের পশ্চাতে লাগাইয়া দিয়াছি অভিসম্পত এবং কিয়ামতের দিন উহারা হইবে ঘৃণিত। ৪৩। আমি তো পূর্ববর্তী বহু মানবগোষ্ঠীকে বিনাশ করিবার পর মূসাকে দিয়াছিলাম পথনির্দেশ ও অনুগ্রহস্বরূপ, যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


দারিদ্র্যই পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ।                      


 -ইন্দিরা।


পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।


 

মানসিক উন্নতি
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
০৩ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই উন্নয়নের জোয়ারে এগিয়ে চলছে। কিন্তু এ উন্নয়ন কেবলমাত্র বস্তুকেন্দ্রিক বা অর্থসংক্রান্ত। দেশে পদ্মাসেতু হচ্ছে, বিদ্যুৎ-সমৃদ্ধ হচ্ছে, শিল্পকারখানা হচ্ছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে, বাড়ছে গড় আয়ুও। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান। এ জন্যে সরকার অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। সাথে সাথে আমাদের এও মনে রাখতে হবে_আর্থিক সমৃদ্ধির সাথে চাই মানসিক উন্নতি। মন ও মননের উন্নয়ন না হলে আত্মিকভাবে আমরা হীনই থেকে যাবো। অর্থনীতির পাশাপাশি আমাদের চিন্তার জগতের বিকাশ ঘটলে তখন প্রকৃত অর্থেই আমরা আদর্শ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবো।

দুঃখের বিষয়, আমাদের মনোজগতের বৃহৎ পরিবর্তন গত কয়েক বছরে প্রবলভাবে লক্ষ্যণীয় হচ্ছে। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তস্নাত ভূমি জঙ্গিবাদে রক্তাক্ত হচ্ছে। আমাদের নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে। শিশু পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না। মানুষকে মানুষ পিটিয়ে মারছে। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে মানুষ খুন হচ্ছে, ইভটিজিং সইতে না পেরে আত্মহত্যা করছে স্কুলছাত্রী, মা সন্তানদের হত্যা করে নিজে আত্মঘাতি হচ্ছেন_এগুলো মনোজগতের সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। এ পরিবর্তন যে সমাজবিধ্বংসী ও প্রগতিবিরোধী তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষ তার জীবনে যা-ই করে সেটি সুন্দর যাপনের জন্যে, সুখে থাকার জন্যে করে। কাজেই এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে থাকলে যতোই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হোক, জীবন যাত্রার মান বাড়ুক_তা কাজে আসবে না। সামাজিক অবক্ষয়কে এখন ছোট সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যদি সরকার অবক্ষয়ের এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্নতা বলে মনে করে_তবে সেটার ফলাফল অবশ্যই বাংলাদেশকে ভোগ করতে হবে।

সম্প্রতি দুই তরুণীকে ধর্ষণ করা নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় হয়েছে। তোলপাড় হয়েছে ধর্ষক পিতা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম-এর কথায়ও। সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেছেন, 'আরে মিয়া, আমার পোলা আকাম (ধর্ষণ) করছে তো কি হইছে। জোয়ান পোলা একটু-আধটু তো এসব করবই। আমিও তো করি। আমার যৌবন কি শেষ হয়ে গেছে? আমি এখনও বুড়া হইনি।' তার এই বক্তব্য থেকেই তার ছেলে সাফাত আহমেদ-এর বিপথগামিতার অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের চোখে সামনে উন্মোচিত হয়। তার বক্তব্য এও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়_এমন নীচ ও হীন মানসিকতার মানুষও এই সমাজে বাস করে। অন্যায় ও নৃশংসতাকে সমর্থন করার জন্যে আপন জুয়েলার্সের মালিকের কী শাস্তি হবে সেটা জানি না। এই অবক্ষয়ে নির্লজ্জভাবে ক্ষয়ে যাওয়া অযোগ্য পিতার উক্তি যে সচেতন মানুষের মনোজগতে বারংবার নাড়া দিচ্ছে_সেটাই স্বাভাবিক। কুলাঙ্গার পিতার জন্যেই যে কুলাঙ্গার পুত্র তৈরি হয়েছে_ আবার অঘটনের জন্ম দিচ্ছে সেই পুত্র_এ ঘটনাকে সূক্ষ্মভাবে দেখতে হবে। ধর্ষকরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে_এমনটা আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু এমন ঘটনাকে কেবলমাত্র শাস্তি দিয়েই দমন করা সম্ভব নয়। ধর্ষণ, ইভটিজিং, নৃশংসতা দূর করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মনোজগতের পরিবর্তনের দিকেও আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। মানসিক সক্ষমতা আমাদের বাড়াতে হবে। সেজন্যে সরকারের উচিত অবক্ষয়ের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখা। প্রয়োজনে এসব অবক্ষয় রোধে একটি শক্তিশালী কাউন্সিল গঠন করা। যে কাউন্সিল নাগরিকদের মানসিক উন্নয়ন ও বিকাশে ভূমিকা রাখবে। তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অপরাধগুলোর কারণ, অপরাধীর মনস্তত্ত্ব, অপরাধের উৎস নিয়ে বিশ্লেষাত্মক কাজ করবে এবং এসব প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করবে। মানসিক উন্নতি হলে, চিন্তার উৎকর্ষ হলে সমাজ থেকে অধিকাংশ অপরাধ কমে যাবে বলে আমরা মনে করি।

লেখার শুরুতেই বলেছি, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্যে চাই আর্থিক ও আত্মিক উন্নতি। এ দুটি সমন্বয় হলেই বাংলাদেশ অতিদ্রুত সোনার বাংলায় রূপ নিবে। দুটির যে কোনো একটি বিচ্যুত হলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে তার লক্ষ্য থেকে। এমনটা আমরা কামনা করি না। আমরা প্রত্যাশা করি, সরকার সামাজিক সমস্যা ও অবক্ষয়কে গুরুত্ব সহকারে দেখবে এবং অবক্ষয় রোধে পূর্বের চেয়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৮৬৮৮
পুরোন সংখ্যা