চাঁদপুর। শনিবার ৩ জুন ২০১৭। ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ৭ রমজান ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪২। এই পৃথিবীতে আমি উহাদের পশ্চাতে লাগাইয়া দিয়াছি অভিসম্পত এবং কিয়ামতের দিন উহারা হইবে ঘৃণিত। ৪৩। আমি তো পূর্ববর্তী বহু মানবগোষ্ঠীকে বিনাশ করিবার পর মূসাকে দিয়াছিলাম পথনির্দেশ ও অনুগ্রহস্বরূপ, যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


দারিদ্র্যই পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ।                      


 -ইন্দিরা।


পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।


 

আকিব শিকদার-এর দুটি কবিতা
০৩ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+
ইটভাঙ্গা মজুরের ঘুম

 

বৈশাখের সমাপ্তিতে জৈষ্ঠ্যের শুরু। যতদূর চোখ যায়

মেঘহীন নীল আকাশ, চোখ ধাধানো খাঁ খাঁ রোদ্দুরে 

দেবদারু বৃক্ষের শিশু দিয়েছে এলিয়ে 

সবুজ ছাতার মতো শাখা, ছায়াতলে দূর্বা-লতার হরিৎ গালিচা। 

 

ইটভাঙ্গা মজুর-পথ সাফ করতে এসে 

দেহখানি ভরে গেল অবসাদে, চোখ জোড়া বুঝে এলো ঘুমে-

হয়তো শুয়েছিলো দেবদারু তটে-অমনি নিদ্রা মগন।

বুকে তার দিয়েছে সিথান

একজন শ্যাম বরণ নারী-তারই মতো শ্রমজীবী, ক্লান্ত ঘর্মাক্ত

হয়তো সম্পর্কে তার চিরজনমের সহধর্মিণী।

 

পুরুষের মাথার নিচে বালিশ টুকরো চটের

গায়ে জামা নেই, কোমরে বাধা লুঙ্গি হাঁটুর একটু নিচে এসে 

থেমে গেছে ভাঁজে ভাঁজে।

শুষ্ক তামাটে মুখে ঘাম আর 

দারিদ্র্যেতার ছাপ। নারীটির সূতি শাড়ি স্থানে স্থানে ছেড়া 

লাল রঙা ঘাগড়ার রং গেছে চটে, সবুজাভ ব্লাউজে লেগে আছে

ইট সুরকির রেণু, গায়ের কাপড় বাতাসের তাড়নায়

ঘাসে লুটোপুটি। পড়ে আছে একজোড়া হাতুড়ি, চামড়ার দস্তানা। 

 

দেখে যেন মনে হয় রুদ্রকরোজ্জ্বল রাত

নেমে এলো ধরণীতে। চারিধার নিঝ্ঝুম, নিশ্বাস দীর্ঘ করে 

মর্মে মর্মে ভাবি-এই ঘুম যতো সহজে আসতে পারে নেমে

দেবদারু তলে ইটভাঙ্গা মজুরের চোখের পাতায়, ততো সহজে 

কেন পারে না পৌঁছাতে 

ঐ সব অট্টালিকার মখমল, কারুময় খাট, সোফার ফোমে।

 

লাভলী বুবু

 

সংসার-সুখ সইল না

লাভলী বুবুর কপালে। স্বামী তাকে 

দিয়েছে তালাক, ফিরে এল পিতৃগৃহে জীবনের বাকি কটা দিন

শুভ্র পোশাকে কাটাতে, ডানা কাটা পাখির মতন

চির বন্দিনী গৃহ-পিঞ্জিরায়।

 

যখন ছিল ছোট মেয়ে, পড়তো শিশু স্কুলে

ঘুড়ি উড়ানো লাটাই এর মাঞ্জা দেওয়া সূতো, বাঁধতো তা দিয়ে 

গঙ্গাফড়িং-এর লেজ। যতক্ষণ ফড়িং-এর দেহে আছে প্রাণ

এ বাধন ততক্ষণ হতো না তো খোলা। 

কলাগাছ কেটে এনে-

তুলে ছেটখোল, পুকুরের তরতাজা চারপেয়ে ব্যাঙ

ঠ্যাং তার বেঁধে রাখতো চুবিয়ে কলের নালায়। দেহান্তর 

ছিল একমাত্র মুক্তির পথ, অনন্যোপায়।

 

ঠাট্টা করে বলতেন মেজোকাকী-‘ব্যাঙ বেঁধে কাজ নেই

নিজের স্বামীটিরে বেঁধো শক্ত শিকলে

যেন ওই ফড়িং এর মতো মরে গেলেও দিতে না হয় ছেড়ে।’

কাজ ছিল আরও একটা, প্রজাপতি ধরা। কেটে নিয়ে 

ডানা দুটি বইয়ের পাতার ভাঁজে সংরক্ষণ।

মা বলতেন রাগ করে- ‘প্রজাপতির অভিশাপ

দেখিস সুখ তোর সইবে না কপালে।’

 

জানি না তো অভিশাপ

কার ছিল এতো নিষ্ঠুর, কেন শাড়ির আঁচল দুর্বল অপদার্থ

ফড়িং-বাঁধা মাঞ্জা সুতোর তুলনায়। কেন ছেটখোল ছিঁড়ল না

তবু গীট গেল খুলে, মরণের পরে নয়

জীবিতকালেই।


 

আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৮৯৭৩০
পুরোন সংখ্যা