চাঁদপুর। শনিবার ১৫ জুলাই ২০১৭। ৩১ আষাঢ় ১৪২৪। ২০ শাওয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৪। যে কেহ সৎকর্ম লইয়া উপস্থিত হয় তাহার জন্য রহিয়াছে উহা অপেক্ষা উত্তম ফল, আর যে মন্দকর্ম লইয়া উপস্থিত হয় তবে যাহারা মন্দকর্ম করে তাহাদিগকে তাহারা যাহা করিয়াছে উহারই শাস্তি দেওয়া হইবে।     


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


হতাশা এবং অবিশ্বাস উভয়েই ভীতি দূর করে।


                 -উইলিয়াম আলেকজান্ডার।

মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত। 


ফটো গ্যালারি
বরর্ষার ফুল
সোহানুর রহমান অনন্ত
১৫ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আমি তেমন কিছু রান্না করতে পারে না। বউ জীবিত থাকা অবস্থায় রান্না ঘরে কখনো যেতে হয়নি। খুব ভালবাসতো আমাকে। একবার মাছ ভাজার গরম তেল ছিটকে হাতে পড়েছিল। পাগলি মেয়েটি সারারাত কেঁদেছে সে কারণে। মাঝে মাঝে মনে পড়লে হাসি পায়, তবে কষ্টটাই বেশি লাগে। একটু ক্লিয়ার করে বলি, গত বছর গ্রামে ঈদ করতে যাওয়ার সময়, রোড অ্যাকসিডেন্টে বউ মারা যায়। সে গাড়িতে আমার যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু অফিসের কাজে আটকে যাওয়া পরদিন যাওয়া সিদ্ধান্ত নেই। হঠাৎ এমন একটা ঘটনায় কেমন যেন অন্ধকার নেমে আসে আমার চারপাশে। তারপর থেকেই একলা জীবন। একাই সবকিছু করি। ঘরে ঢুকে আলু ভর্তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সময় পাশের ফ্ল্যাটের টুনি এসে তরকারি দিয়ে গেলো। পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন অধ্যাপক কামাল সাহেব। তার একমাত্র মেয়ে ভার্সিটিতে পড়ে। মাঝে মাঝে সিঁড়িতে দেখা হয়, আমার দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসে। কেন হাসে সেটা রহস্য থাক। আসল কথায় আসি, বউ মারা যাওয়ার পর থেকে প্রায় মেয়েটি তরকারি পাঠায় টুনিকে দিয়ে। যদিও আমি রাখতে চাইনা কিন্তু টুনি নিচু স্বরে বলে, ভাইজান তরকারিটা রাহেন। আফা নইলে আমারে বকা দিবো। আজও রেখেছি। ইলিশ মাছ ভুনা, এটা আমার খুব পছন্দ। ভাতটা বসিয়ে সবে মাত্র টিভির সামনে এসে বসেছে, এমন সময় আবারো কলিংবেল বাজলো। অসময় কে এলো আবার? দরজা খুলতে দেখি, সেই মেয়েটি মানে অধ্যাপক সাহেবের মেয়ে মৃত্তিকা দাঁড়ানো। শাড়ি পড়েছে আজ, কে বলবে সবে ইন্টার পাস করে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, আব্বুর খুব মাথা ধরেছে। রাত হয়ে গেছে তাই টুনিকেও বাইরে পাঠাতে পারছি না। যদি এই ওষুধটা এনে দিতেন। কথাটা বলেই একটা প্রেসক্রিপশন হাতে ধরিয়ে দিলো। আমি না করতে পারলাম না। এমনিতেই মেয়েটি প্রতিদিন তরকারি পাঠিয়ে ঋণি করে দিচ্ছে। মৃত্তিকা চলে গেলো। টি-শাট গায়ে দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। ফার্মেসীর সামনে গিয়ে দেখি, বেচারে বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক কষ্টে বন্ধ শার্টার আবার খুলল, প্রেসক্রিপশনটা খুলেই বোকা বনে গেলাম। কিসের প্রেসক্রিপশন, সাদা কাগজে বড় করে লেখা,'রান্নাটা আজ আমি করেছি, কেমন হলো জানাবেন'। ফার্মেসীর ছেলেটা বিরক্ত হয়ে বলল, ভাই তাড়াতিাড়ি কন কি লাগবো। এবার আমি নিজের জন্যই মাথা ব্যাথার টেবলেট নিলাম।

বিবাহিত পুরুষদের প্রতি নারীদের এক প্রকার আকর্ষণ থাকে কথাটা অনেক আগে শুনেছি। মৃত্তিকা যে পছন্দ করে সে বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত। মেয়েরা যে কথা মুখে বলতে পারে না, সেটা চোখের ভাষা দিয়ে বুঝায়। কে জানে হয়তো মানুষ বলে তাই, রোবট হলে এমনটা হতো না। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে নিতে পারতাম। এবার বরর্ষাতেই ঈদ। ঈদের পরেই বিয়ের ফুল ফুটাবো আবার, মনে মনে ঠিক করলাম। অফিস, কাজ সবি যেন আমার কাছে বিষাদ হয়ে উঠেছিলো। কেবল মত্তিকার হাসিটা ইদানীং খুব বেশি দেখতে ইচ্ছে করে। আঙুলের ভাঁজে হাত রেখে বৃষ্টিতে ভিজতে করে। কারণে অকারণে তাই অধ্যাপক সাহেবের ফ্ল্যাটে যাই। কখনো চিনি, কখনো বা লবণের খোঁজে। দরজা খুলেই মৃত্তিকার চোখ জুড়ানোর হাসি। অথবা অফিস যাওয়ার সময় দরজার সামনে মৃত্তিকার রেখে যাওয়া একগুচ্ছ গোলাপ কুড়িয়ে পাওয়া। এভাবেই প্রতিটি দিন স্বপ্নের মতো কাটছিলো। কে জানে স্বপ্ন ভাঙার স্বাদটা আমার জন্য তিক্তভাবে অপেক্ষা করছে খুব নিকটেই। একদিন ভোরে চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেলো। পরে জানতে পারলাম, মৃত্তিকা ছাদে অসর্তকভাবে হাঁটতে গিয়ে পড়ে গেছে। ওর ভোরে হাঁটার অভ্যাস। বিশ্বাস হচ্ছিলো না প্রথমে। মুখটা নাকি একেবারে থেতলে গেছে। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে বাঁচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। পাড়ার মুরবি্বরা বলছে, এটা বদ জি্বনের কাজ। মেয়েটারে নিঘার্ত জি্বন-টিন কিছু আছে। আমার মনে অন্যরকম ভয়। বুকের কোনে একটা টান অনুভব করছিলাম। সবকিছু রেখে হাসপাতালে ছুটে গেলাম। ডাক্তারের করা নির্দেশ রোগীর আশে-পাশে কেউ যেতে পারবে না। হাসপাতালে তিনদিন ছিল মৃত্তিকা। আমাকে দেখতে চেয়েছিল দ্বিতীয় দিন। আলতো করে হাত স্পর্শ করেছিল। আঙুলের ভাঁজে রেখেছিলো আঙুল। কিছু একটা বলার চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারেনি। ওর খুব কষ্ট হচ্ছিলো,ঠায় বুঝতে পারছিলাম আমি। ঠোট দুটো অবিরত কাঁপছিলো। হয়তো বলতে চেয়েছিলো, একসাথে আর বাকী জীবনটা কাটানো হলো আমাদের। হয়তো আমি বুঝেছি, হয়তো বুঝতে পারিনি। আমার প্রেমের গল্পটা এখানেই সমাপ্ত হতে যাচ্ছে তা জেনে গিয়েছিলাম। হলোও তাই, তৃতীয় দিন বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় মারা যায় মৃত্তিকা, ওর হাতটা তখনো ্আমার হাতের মুঠোয় বন্দী ছিলো। সে রাতে অনেক কেঁদেছিলাম। জানালার বাইরে কদম বনে জমে গেছে এক পসলা কালো মেঘ। দেয়ালে টিকটিক ঘড়ির শব্দ। প্রচন্ড একা মনে হতে লাগলো নিজেকে। খুব একা। বর্ষা প্রায় এসে গেছে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৬৭৭২
পুরোন সংখ্যা