চাঁদপুর। শনিবার ১৫ জুলাই ২০১৭। ৩১ আষাঢ় ১৪২৪। ২০ শাওয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৪। যে কেহ সৎকর্ম লইয়া উপস্থিত হয় তাহার জন্য রহিয়াছে উহা অপেক্ষা উত্তম ফল, আর যে মন্দকর্ম লইয়া উপস্থিত হয় তবে যাহারা মন্দকর্ম করে তাহাদিগকে তাহারা যাহা করিয়াছে উহারই শাস্তি দেওয়া হইবে।     


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


হতাশা এবং অবিশ্বাস উভয়েই ভীতি দূর করে।


                 -উইলিয়াম আলেকজান্ডার।

মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত। 


ফটো গ্যালারি
কালো নদী
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
১৫ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

'সুরমা' ছেলেবেলা থেকেই জানতাম নামটা শুধু আমার দিদির। এ নামে যে কোনো প্রবাহিনী (নদী) আছে তা জানলাম কিশোরে। বিদ্যাপাঠে। দিদি হয়তো এজন্য নদী ভালোবাসতেন। যমুনার উপচেপড়া উচ্ছল ঢেউ হয়তো দোল দিয়ে যেতে দিদিকে। আমি ছোট হলেও বুঝতাম না-'বলতো ছোটন নদীটা যায় কোথায়?' সুরমা দিদির এই প্রশ্নের উত্তর। বলতাম-'জানি না'। দিদি চোখ রাঙ্গিয়ে বলতেন_তুই কি জানিসরে ছোটন? তুই একটা বুদ্ধু! বুদ্ধু কি জিনিস তানা জেনেই বলতাম_হু দিদি আমি একটু বুদ্ধু। জবাব শুনে দিদি হাসতো। বলতো নদী যায় সাগরে। কিন্তু নদীর স্রোতের মতো দিদির প্রশ্নের চুটে চলাও থামেনি। হাই স্কুলে পড়ছি আর দিদি পড়ছে এইটে। আমার এক ক্লাস উপরে। তখনো বলতো ছোটন যমুনা কই যায়? আমার তখন বুদ্ধি শুদ্ধি হয়েছে কিছুটা। দিদিকে রাগাতে বলি যমুনা তোমার শুশুর বাড়ি যায় দিদি!! সুরমা দিদি উত্তর শুনে তেড়ে আসতেন। ধরতে পারলে দিতেনও দু-পাঁচটি কানমলা। তাই আমি ছুটতাম। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ঘরমুখী হতাম না। বাবা খুঁজতো। মা হায় হায় করতেন তবু আমাকে খুুঁজে পাওয়া যেতো না। শুধু দিদিই জানতো কোথায় আমি ঘাপটি মেরে আছি। দিদি এসে রাগি রাগি হয়ে বলতো_তোকে না হয় একটা কানমলা না হয় দিয়েছি তাই বলে ঘরে ফিরবি না, ভাত খাবি না দুপুরে? আমি খুব খারাপ না রে! বলেই দিদি কাঁদো কাঁদো হয়ে যেতো। এ সময় ঘরে ফিরতাম দু'জন। বাবার সরকারি চাকুরি। যেখানে এবার ট্রান্সফার হলেন তার পাশেই একটা নদী সারাদিন কলকলায়। নদীটা যমুনা নয়, সুরমা। দিদির নামে নাম। প্রথম যেদিন শুনলাম নদীটার নাম সুরমা অবাক হয়ে দিদিকে বলেছিলাম_বাহ্ দিদি! তোর নামে একটা নদী যে জানতাম না তো! দিদির মুখে গর্বিত ভাব ফুটে উঠতো।

দিদি সাঁতার জানতো আমি জানতাম না। তাই নদী ভয় আমার ছিলো বেশি। ছাদে দাঁড়িয়ে নদী দেখতাম। বাবা বলতো চলরে ছোটন নদীতে গোসল করি। আমি বলতাম-না বাবা! ভয়ে তোতলাতাম। তবু বাবা নিবেন ধরে ধরে গোসল করাবেন। দিদি পাড়ে দাঁড়িয়ে হাসতো। জোরে জোরে বলতো-বাবা ছোটনকে ছেড়ে দাও! ছেড়ে দাও বাবা। বাবা ছাড়তেন না। বাবা বলতেন-নদীতে একটা মাছ থাকে। তার নাম কি জানিস? 'না' বলতাম। বাবা বলতো-একটা মাছের নাম আছে সুরমা মাছ। তথ্যটা পেয়েই আমি আনন্দে হাততালি দিতাম। দিদিকে বলতাম-দিদি তুমি একটা মাছ! সুরমা মাছ! দিমি বলতো-কি? আমি আরো বেশি করে বলতাম-দিদি একটা...দিদি তেড়ে আসতো।

দিদি আমাকে প্রতি সপ্তায় পাঁচটা লজেন্স দিত। প্রতিদানে দিদি আর প্রার্থ ভাইয়ের কথা কখনো বলেছি কি বাবাকে? বলিনি। ঐ যে বড় ক্লাসে পড়ে টেইনের ছাত্র প্রার্থ ভাই? স্কুল ছুটির পর দিদির জন্র গেটে দাঁড়িয়ে থাকতো। আমাকে দেখলে ডাকতো শালা বাবু বলে। আমি ভীষণ বিরক্ত দেখাতাম। দিদি যে প্রার্থ ভাইকে বিয়ে করবে তাও জানতাম আমি। কিন্তু ভবিষ্যৎ কি জানতাম। এতো বছর পর? জানতাম না। দিদিতো সবসময় হাসতো। আমার বন্ধুরা দিদিকে ডাকতো 'হাসুনী আপু বলে'। দিদির মনে এতো কষ্ট বাসা বাঁধবে পারে তাকি আমি জানতাম?

সেদিন প্রার্থ ভাই গেটে দাড়ালেন না। দিদির মুখ ছিলো থমথমে। ভয়ে কিছু বলিনি। মাঝপথে এসে দেখলাম দিদি চোখ মুছছে। কিন্তু বাড়ি এসে তার মুখ হাসি হাসি ছিলো। এটাই কি শেষ হাসি ছিলো তোমার দিদি? সেদিন সন্ধ্যায় তোমাকে কোথাও খুঁজে পাই না দিদি। বাবা-মাও না। খুঁজে খুঁজে হয়রান তুমি এলে না। এতো ডাকলাম তুমি শুনলে না। আমি কি জানতাম কলস গলায় বেঁধে নদীর ভেতর থাকলে কেউ কখনো শুনতে পায় না। সুরমা নদীর জেলেরা তোমায় মাছ জালে উঠালো পরদিন। তোমার কি মনে আছি দিদি_আমি তোমাকে সুরমা মাছ বলে ক্ষেপাতাম? তাই বলে কি তোমার মাছ হয়েই জালে উঠতে হবে?

আমার ভেতরটা কেমন খালি খালি লাগছিলো! স্রোত নেমেছিলো চোখে। এরপর কতবার স্কুলে প্রার্থ ভাইকে খুঁজেছি। পাইনি। তিনি নাকি ঠাকুরগাঁ চলে গেছেন। সেখানেই পড়বেন। তাকে পেলে কি করতাম তাকি আন্দাজ করতো পারো দিদি?

কত বিকেল পেরিয়ে গেলো। একনো আমাদের শহরে সন্ধ্যা নামে। নদীরা কলকল বয়। কিন্তু কখনো কেউ বলে না_বলতো ছোটন সুরমা নদী কোথায় যায়? আর যমুনা?

আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৮৪২৭
পুরোন সংখ্যা