চাঁদপুর। রোববার ১৩ আগস্ট ২০১৭। ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪। ১৯ জিলকদ ১৪৩৮
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত

৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৮। স্মরণ কর লুতের কথা, সে তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা তো এমন অশ্লীল কর্ম করিতেছ, যাহা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেহ করে নাই।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন




একটি সুন্দর মন থাকা একটি সুন্দর রাজ্যে বসবাস করার আনন্দের মতো।                     

 -জনওয়েলস।


রাসূল (সাঃ) বলেছেন, নামাজ আমার নয়নের মণি।


ফটো গ্যালারি
গল্প নিয়ে ভাবনা
দীলতাজ রহমান
১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

তরুণ গল্পকার মুহাম্মদ ফরিদ হাসান বলেছেন একটি গল্প বিষয়ে ভাবনা লিখে দিতে। মানে গল্পভাবনা। বলেছি দেবো! কিন্তু লিখতে বসে মনে হচ্ছে, গল্প নিয়ে ভাবনা, সে আবার কি?

খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ঘন ঘন ছেলে-মেয়ের মা হয়ে গেলাম। তাতে নিজের লেখাপড়া সঙ্গত কারণে থেমে গেলো। সেই তখনি নিজে যা পাইনি, তার সবক্রমে সন্তানদের মুঠোয় এনে দিতে প্রয়াসী হয়ে উঠেছিলাম। এতে করে চারপাশের যাবতীয় বিষয় কখন আমার গল্পের বিষয় হয়ে উঠলো। নাকি সরাসরি গল্পই হয়ে উঠলো !

তাই গল্পভাবনা শুনলে আমার একটু খটকাই লাগে! পেটে সন্তানের ভ্রুণ ধারণ করার পর ধীরে ধীরে সে ভ্রুণই নিজের মতো ভূমিষ্ঠ হতে জননীকে প্রস্তুত করে। আমার কাছে গল্প বিষয়টিও ঠিক সেরকম মনে হয়।

মনে হয় গল্পটির উৎসের এতটুকু রেশও ঠিক মগজে ঢুকে পরিপুষ্ট হয়ে একদিন সে নিজেই প্রসবিত হওয়ার তাগিদে তার স্রষ্টাকে প্রস্তুত করে। (নারীকে তাই আমার নর'র চেয়ে বেশি শক্তিমান মনে হয়। এইসব সৃজনশীলতায়ও।) নিশ্চয় কেউ লিখতে বসে কলম কামড়াকামড়ি করেন না। বরং কলমের আগে গল্পের গতর বড় হতে খাবিখায়। তবে হ্যাঁ, এর প্রাণটি অবশ্য স্বয়ং ঈশ্বরই প্রতিষ্ঠা করেন বলে আমার মনে হয়।

ফরিদ হাসান যখন আমাকে এই লেখার ফরমাশটি দেন, তখন আমি গাজীপুরের পানিশাইল নামক আমার প্রাণান্ত চেষ্টায় দখল করা একখ- জমির টিনের ঘরওয়ালা বাড়িতে আয়েশি মনোভাবে ছিলাম।

অন্যখানে ভালো জমি কেনার আশ্বাস দিয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের অফিসার সমবায় সঞ্চয় ও ঋণ দান সমিতি সে জমি কেনেনি। কিন্তু টাকাটা তারা আর ফেরৎ দেননি। তিনজন ভুক্তভোগীকে একযুগ ঘুরিয়ে প্রথম প্রকল্পের পাঁচকাঠার একটি করে প্লট যা দ্বিতীয় প্রকল্পের সাড়ে চারভাগের একভাগ দাম, তাই বরাদ্দ, মানে ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগীদের আর দু'জন পুরুষমানুষ হওয়ায় তারা দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে সে জমির কাছেও যাননি, শেষে দখলের খরচটাও খোয়া যায়। কিন্তু ততোদিনে আমি বৈধব্য বরণ করায় আমাকে ঢাল নেই তলোয়ার নেই, একাই সেই প্রবাদপুরুষ নিধিরামে সর্দারের মতো হয়ে উঠতে হলো।

ভাবলাম, বাউ-ারি ওয়াল করলে বিবাদীরা ভেতরে বহাল তবিয়তে হেফজখানা বানিয়ে জমিটা আরো সহজে দখল করে ফেলবে। তাই অরক্ষিত জায়গায় দখলের মনোভাব নিয়ে যে ঘরখানা করলাম, তা হয়ে গেলো স্কুলের মতো।

ঘরটি করার আগে এলাকায় ভাড়ার হাল হকিকত শুনে প্রলুব্ধ হয়েছিলাম, যে গার্মেন্টস শ্রমিকের অভাব নেই। তারাই লুফে নেবে ঘরের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরও কোরো শ্রমিকের পদচারণা টের না পেয়ে আগবাড়িয়ে ভাড়াটিয়া হায়ার করতে গিয়ে জানলাম, ঘরের আয়তন দেখে সবাই ভেবেছে, পাশের জমি দুখ- যখন মসজিদ তুলে সমিতির কাছ থেকে জমি কেনা একদল মানুষ দখল করে নিয়েছে। এটাও তারাই হেফজোখানার কাজ শুরু করছে, বলে তাদের ধারণা হয়েছিলো। নাহলে বসবাসের ঘর এত বড় হয়, এরা কেউ ভাবেনি।

সাধারণ মানুষের ধারণার এই কথায় কেমন খটকা লাগলো। সত্যিই তো, ঘর তৈরি করে রেখে চলে গেলে যদি মসজিদের পক্ষের লোকেরা এটা সত্যিই ছাত্র-ছাত্রী জোগাড় করে তাদের হাফেজি পড়ানো শুরু করে দেয়! এর ভেতর কিছুটা ধনুকের মতো বাঁকা একলোক প্রবল বর্ষণমূখর এক দুপুরে এসে বললো, আমারে যুদি ঘরডা ভাড়া দেন, 'তয় আমি গুরু-বাছুরডি লুইয়া থাকলাম অইলে।' আমার তখন মনে হলো, এইরকম শক্তপোক্ত ভাড়াটিয়াই আমার দরকার। এমনি ভাড়া দিলে দেখা যাবে মাস শেষ হওয়ার আগে ভাড়াটিয়া ভাড়া পরিশোধের দায় এড়াতে পগারপার। কারণ ঢাকা থেকে অতোদূরে তো নজরদারি করা যাবে না!

দেখতে বৃদ্ধ, প্রায় ধনুকসম বাঁকা সে লোকটির নাম চাঁনমিয়া। বাড়ি কিশোরগঞ্জ। মা-বাবার একটিই সন্তান সে। পাঁচ পুত্র তিন কন্যার সে জনক। বড় ছেলেটিকে বিয়ে দিয়ে নিজের অকাল বিধবা, বৃদ্ধা মায়ের খেদমতে নিবেদন করে বাকিগুলো নিয়ে এরকম উপশহরে এর-ওর খালি বাড়িতে একপাল গরু-বাছুর, কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলে আরো কুড়িখানের ছাগলের সাথে গরুর সংখ্যাও বাড়ে। আর তাতে বাড়ি শুধু নয়, ঘর ভরে, বিছানায়ও তাদের তোলা হয়। আমারই বাড়িতে গরু-বাছুর পোষা হবে শুনে প্রথমে নিজেকেই নিজের যে একটা গেরস্ত গেরস্ত ভাব মনে হচ্ছিলো, ভাবতে থাকলাম, প্রতিবার বাসায় ফিরতে কলস ভরে খাঁটি গরুর খাঁটি দুধ নিয়ে যেতে পারবো। কিন্ত যখন বাড়িতে জিনিসপত্র ঢোকানো শুরু করলো চাঁনমিয়া, তখন টের পেলাম ইটের মত সাইজের শক্ত কটা বালিশ আর সব ঝুরো কাঁথা কাকে বলে! ঘরের অন্যসব জিনিসপত্র অসম্ভব নোংড়া। খাট তো নয়ই, চৌকি বলতে ফলের বাঙ্রে তক্তার যা তৈরি হয়। কিন্তু বাকি ছেলে চারটি বেশ সুঠাম। মেয়ে তিনটিও। একেবারে ছোট চার বছরের মেয়েটি যখন জানলাম তার, মানে চাঁনমিয়ার, তখন আর চাঁনমিয়াকে অতো বৃদ্ধ মনে হলো না।

আর এ অবস্থা তো সেই বছর দশেক আগের। এর ভেতর আমি মাঝে মাঝে বাড়িটির হালহকিকত দেখতে গিয়ে, যখনতখন চলে এলেও, বছরে একবার দু'তিন রাত করে থেকেও আসি পানিশাইলে। সেরকম থাকার জন্য ছয়টি রুমের থেকে একটি রুম আমার নিজের জন্য রাখা আছে।

বাড়িটি নিজেই এখন চাঁন মিয়ার তিন মিশেলি পরিবারের সদস্যদের অনাচারে অতিষ্ঠ। সবগুলো রুমের মেঝে ভেঙেচুরে না-িভাস্টি! ঝামেলা বাঁধা জায়গা বলে, মানে কর্তৃপক্ষ তখনো জমিখ- আমাকে রেজিস্ট্রি করে দেননি। তাই মানুষের চোখের সামনে বজ্রঅাঁটুনি বাঁধার মতো আমার নাম লেখা বিরাট একখানা ফসকা সাইনবোর্ড টাঙানো আছে। তবু এলাকার সবাই তার নিকুচি করে, বলে, 'গরুওয়ালা বাড়ি!' তবু আমি বিগড়াই না। কারণ, চাঁন মিয়া এভাবে প্রভাব খাটিয়ে না থাকলে, এমনি সাধারণ ভাড়াটিয়া হলে আমার প্রতিপক্ষদল ফুঁসলিয়ে, বা ঘুষ দিয়ে তাড়িয়ে তাদের নিজেদের সিদ্ধি সার্থক করে ফেলতো। যাদের দৌরাত্যে বাকি দু'জন কষ্মিনকালেও তাদের জন্য বরাদ্দকৃত জমিতে আর গিয়ে দাঁড়াতেও পারেননি!

এর ভেতর কয়েক বছর আগে চাঁন মিয়ার স্ত্রী একেবারে মরণের ঘর দেখে এসেছে। আমি ভাবতেই পারিনি সে আর কিছুদিন বাঁচতে পারে। তাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা তারা করেছে। কিন্তু স্ত্রী'র দুঃশ্চিন্তায় চাঁন মিয়ার গরু পালার আনন্দে কখনো এতোটুকু ভাটা পড়েনি। গরুর খেদমত কী কঠিন, এটা ভুক্তভোগীই জানে! সারাদিন ধরে ঘাসকাটতে, বাড়ি-বাড়ি ঘুরে ফ্যান জোগাড় করতে, প্রতি চাপে ছিঁটে ফোটা করে পড়া পানি বালতি গড়াতে তার যে গলদঘর্ম অবস্থা, তবু চাঁন মিয়ার কি যে আনন্দ, তাদের গোসল করাতে, সেটা চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। যাই হোক, এ লেখা আসলে গল্পের কিছু না। গল্প হচ্ছে, এবার গিয়ে দেখলাম, চাঁন মিয়ার স্ত্রী'র ভেতর খবর হয়ে গেছে, যে, আগের যাত্রা বেঁচে গেলেও এবার তার ভেতরটা বড় দুর্বল হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় সে মরে যেতে পারে। আমাকে ক'বার ডেকে ডেকে বলেছে, ' ও আফা, কত কুছতা কইছি, সামনে, অনগু চোরে। ফারলে মাফ কইরা দিয়ুইন যে!'

পরদিন চলে আসার আগে রাতে যখন চাঁন মিয়াকে ডাকলাম, বাড়িঘর মেরামতের বিষয় কথা বলতে, তখন চাঁন মিয়া সদলবলে, মানে স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, দুএকটা পুত্রবধূ হয়তো ছিলো সাথে, সবাইকে নিয়ে একসাথে ঘরে ঢুকলো। তাতে একটা উৎসব উৎসব আমেজ তৈরি হলেও, মূল উদ্দেশ্য, তারা কথায় বা কোনো বিষয়ে যেন বাড়ির মালিকের কাছে ঠকে না যায়। আচমকা কোনো বিষয়ের উত্তর দিতে চাঁনমিয়া ভ্যাবা চ্যাকা খেতে খেতে অন্য কেউ তার মুখে কথা যুগিয়ে দিতে এই একচ্ছত্র তৎপরতা। শান করা পুরো বাড়ি গরুর পাড়ায় চলটা উঠে সারা। আর এই নিয়ে কোনো কথা তুললেই, একে একে সবার একই কথা, 'আল্লা, আফনের মিস্ত্রি একটুও সিমিন্ট দিছুইন না...!' আমি যতোই বোঝানোর চেষ্টা করি, তাহলে আমার রুমটা ঠিক আছে কী করে? তারা তখন সমস্বরে বলে ওঠে, 'খালি ওইটুকতাতেই দিছুইন...' সব উষ্মার প্রকাশ থিতু হতে চাঁন মিয়ার স্ত্রী বলে উঠলো, 'ও আফা, আপনার বড় মোবাইলডা দ্যা আমার একখান ছুবি তুলুইন যে। খারন, এহনি তুলুইন না যে! বেলাউজটা গত্রে দিয়াই। তারপর আমি মইর্রা গেলে আমার ছ্যাড়াইন্তের কাছে ছবিডা দি দিয়িউন...। ডায়াবেটিস অইছে গো আফা আমার, এই রোগ অইলে শইলের কুছতা থাহে না...!'

স্ত্রী'র প্যাঁচালে চাঁন মিয়ার কোনো ভাবান্তর নেই। সে পিছন থেকে বলে উঠলো, 'তুই মইরা গ্যালে বিয়াইন এউকটারে বিয়া কইরা লইয়া আয়াম!'

দম্ভোক্তির ঝাপটা সমস্ত নারীজাতির গায়ে লাগলো যেনো! আমি তার রাশ টানতে, না বলে পারলাম না, বেয়াইন একটারে নিয়ে আসবে মানে?

চাঁন মিয়া বললো, পোলা তিনডারে বিয়া করাইছি, একটারও শ্বশুর নাই। তাই বেয়াইন যেইডা সোন্দর, শক্তপোক্ত আছে, সেইডারে বিয়া কইরা লইয়া আয়া পড়াম!

ভাবলাম, স্ত্রীকে খেপাতে চাঁন মিয়া ঠাট্টা করছে। তবু গা জ্বলে উঠলো। বললাম, তুমি বিয়ে করতে চাইলেই বেয়াইনেরা বিয়ে বসবে নাকি?

চাঁন মিয়া বীরদর্পে বুকটা টান করতে চাইলেও, আবার ধনুকের একপ্রান্তের দিকে আরেক প্রান্ত ঝুঁকে থাকার মতো হয়ে গিয়ে উত্তর দিলো, 'বইতো না মাইনে? না বইলে হ্যার মাইয়ারে দেঁৗড়াইয়া দিতাম না!' গল্পের ভাবনা আমার সেই যে ইদুরের মতো গর্ত ফুঁড়ে উঁকি দিলো যেনো। আমি আর তাকে ভেতরে ঢোকাতে পারছি না! যতোবারই তার থেকে মন ফেরাতে চাই ততোবারই আমার কেমন বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা হচ্ছে। চাঁন মিয়ার স্ত্রী জানে, সে মরে গেলে তার জায়গাটি তৎক্ষণাৎ পূরণ হয়ে যাবে। তার মরা বাঁচা নিয়ে তার স্বামীর ভ্রুক্ষেপ নেই, ছেলে-মেয়েদের প্রাণেও নেই কোনো উৎকণ্ঠা! অথচ এই সেদিনও তিনবছরে তিনটি বউ সংসারে ঢোকার আগে, একমাত্র সেই ছিলো এদের সবার প্রাণের জরুরি। সে রেঁধে বেড়ে না দিলে সবাই না খেয়ে ত্যানাত্যানা হয়ে ঘুরেছে। তারে তাৎক্ষণি কিভাবে চাঙ্গা করে তুলতে মেয়েরা কাছে না থাকলে ছেলেরাই হাতেপায়ে গাই দোয়ানো সরিষার তেলের শিশিটা খুঁজে তেল মালিশ করে দিয়েছে। আজ সবার নির্লিপ্তভাব টের পেয়ে ভারী শুষ্ক চোখে কী মিহি একটা আর্তি ফুটে আছে ।

আর গল্পের সেটাই যেনো প্রাণভ্রমরা! আমাকে চোখ বন্ধ রেখে বিস্তারিত সে আখ্যান বাদ দিয়ে যেতে হচ্ছে, শুধু গল্পভাবনাতে সীমিত থাকতে।

তবু পরম্পরা ভেঙেচুরে অতিমাত্রিক কল্পনার চোখে দেখছি, চাঁনমিয়ার পছন্দসই বেয়াইনটি তার প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না দেখে, সে তার সেই বেয়াইনের মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে! হাঙ্গামা, চেঁচামেচিতে মানুষের জটলা বেঁধে যায়। এরওর কাঁধ হাত দিয়ে সরিয়ে, ঠেলে তাতে আমারও বাড়ানো মুখ...।

কী জানি ঘটনার মোড় কোনদিকে যায়, কোন মেয়েটার জানি কপাল পোড়ে, আল্লাহ্ পাক জানেন। আমার গল্পভাবনা আপাতত এখানেই এসে ঠেকানো...

আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪৪০০৪
পুরোন সংখ্যা