চাঁদপুর। রোববার ১৩ আগস্ট ২০১৭। ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪। ১৯ জিলকদ ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত

৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৮। স্মরণ কর লুতের কথা, সে তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা তো এমন অশ্লীল কর্ম করিতেছ, যাহা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেহ করে নাই।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন




একটি সুন্দর মন থাকা একটি সুন্দর রাজ্যে বসবাস করার আনন্দের মতো।                     

 -জনওয়েলস।


রাসূল (সাঃ) বলেছেন, নামাজ আমার নয়নের মণি।


গাছের বন্ধু মানুষ হোক
হুমায়ূন কবির
১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মানুষের বন্ধু বই। আমি বলি, মানুষের আরেক গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু গাছ। সস্নোগান আছে, গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান। গাছ লাগালে কি শুধু পরিবেশ বাঁচবে? নাকি আমরাও বাঁচবো? হ্যাঁ, আমরাও বাঁচবো। এ বেঁচে যাওয়াটা আবার নানা ধরনের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচা। রোগবালাই থেকে বাঁচা। সবুজের মাঝে নিঃশ্বাস নিতে নিতে বাঁচা। প্রকৃতির উদারতা ও মায়া নিয়ে বাঁচা। তাহলে দুর্যোগ থেকে বাঁচতে এবং সুন্দরভাবে বাঁচতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প আমরা দেখি না। বাঙালির খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে কে না জানে। গাছ লাগালে খাদ্যও বাড়বে। আম গাছ, জাম গাছ, লিচু গাছ, কলা গাছ, পেয়ারা গাছ_যার যা পছন্দ, যে যা খেতে পছন্দ করেন_সেই গাছটিই লাগান। এবছরের বৃক্ষ রোপণ অভিযানের সস্নোগান হচ্ছে : 'বৃক্ষরোপণ করে যে, সম্পদশালী হয় সে'। আজকের শিশু যেমন আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তেমনি একটি বৃক্ষও আগামী দিনের সম্পদ। বৃক্ষ বিপদের বন্ধু। এবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেছেন, জীবন ও জীবিকার জন্য বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ, ভূমির ক্ষয়রোধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্যবিমোচন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায়ও বৃক্ষের গুরুত্ব রয়েছে। বৃক্ষের সবুজ বেষ্টনী ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা কমিয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে।...জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও বৃক্ষরোপণকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পরিবেশের উন্নয়ন ও সম্পদ সৃজনে বৃক্ষের অবদান অনুধাবন করে বৃক্ষরোপণকে বর্তমান সরকারের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে স্থান দেয়া হয়েছে।' তাহলে এ কথা স্পষ্ট দাঁড়াচ্ছে যে, বৃক্ষ নানাভাবে মানুষের নীরব বন্ধু হিসেবে ভূমিকা রাখছে। সরকারিভাবেই তাই বৃক্ষরোপণকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।



আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। সচেতন নাগরিক মাত্রই সুন্দর একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে থাকেন। কোনো দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যে মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ, বাংলাদেশে এখন ১১.২ ভাগ বনভূমি রয়েছে। যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কম বনভূমির দেশ হিসেবে তৃতীয়। এমন তথ্যই দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। অন্যদিকে মালেয়শিয়াতে মোট আয়তনের ৭৯.৭ শতাংশ বনভূমি রয়েছে। ভৌগোলিক কারণেই বাংলাদেশকে প্রচুর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করতে হয়। আর বনভূমি যদি কমে যায় তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ভয়াবহতা কী হতে পারে সেদিকে একবার দৃষ্টি দিতে চাই। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে দিনদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের একাংশ সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যেতে পারে। আর কি বিপর্যয় হতে পারে? অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি দেখা দিতে পারে। যার কারণে শস্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে। বায়ুম-লে কার্বণ-ডাই-অঙ্াইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। তাপদহে বিপর্যস্ত হবে জনজীবন। সেজন্যেই বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। গাছপালা বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যেই বৃক্ষরোপণ করতে হবে।



এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? বিজ্ঞজন বলে থাকেন, ভালো কাজ নিজে থেকে শুরু করতে হয়। কাজেই নিজেকে প্রথমত দায়িত্ববান হতে হবে। কে কি করলো সেটি ভাবার আগে ভাবতে হবে আমি কি করলাম। আমাদের করণীয় আমি প্রথমে গাছ লাগাবো। যতটা সামর্থ্য আছে ততোটাই রোপণ করবো। বাড়ির পাশে, রাস্তার ধারে খেলার মাঠের পাশে_কত স্থানেই বৃক্ষ রোপণ করা যায়। নিজের বৃক্ষরোপণ শেষে এবার অন্য মানুষের দিকে যাওয়া যাক। স্বজন-পাড়াপড়শিদের বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। বৃক্ষরোপণের উপকারিতা সম্পর্কে তাদেরকে বোঝাতে হবে। বোঝাতে হবে বৃক্ষ কেবল প্রকৃতিকে রক্ষা করে না, সম্পদ হিসেবেও বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাই। কত রকম উপহার দিই। সেইসব উপহারের মাঝে একটি বৃক্ষ উপহার দিলে কি খারাপ হয়? শাড়ি, তৈজসপত্র হয়তো বড়জোর বছর তিন-চারেক টিকে থাকবে। তারপরে শেষ। কিন্তু একটি গাছ দশ-পনের বছর অনায়াসে থাকবে। আর সেটা ফেলনা হবে না, সেটি হবে সম্পদ। স্কুল-কলেজের বার্ষিক ক্রীড়ায়-সংগঠনের নানা আয়োজনে আমরা অনেক পুরস্কার দিয়ে থাকি। কাচের প্লেট, মগ টাইপের উপহার দেয়া হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই। কিন্তু পুরস্কার হিসেবে গাছ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তাহলে এটি বনায়ন ও বৃক্ষ রোপণের ব্যাপারে ফলফ্রসু হবে।



আমরা অনেকেই খাদ্য সচেতন। ফরমালিন আতঙ্কে ভুগি। একটা পেয়ারা কিনলেও ভাবি_এতে ফরমালিন দেয়া নেই তো! কলা কিনতে গিয়ে ভাবি, আম-কাঁঠাল-লিচু কিনতে গিয়ে ভাবি। মাঝে মাঝে তরতাজা ফল না খেতে পারার জন্যে আক্ষেপ করি। অথচ এ আক্ষেপ সহজেই গোছানো যায়। নিজে যদি প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগাই, অন্তত একটি ফল গাছ তাহলে দু-তিন বছর নিজের লাগানো গাছের তরতাজা ফল আমরা নিজেরা খেতে পারি। ছাদে ফুলগাছ ও ফল গাছ লাগাতে পারেন শহরের বাসিন্দারা।



বাংলার কবিরা এদেশকে 'সবুজ-শ্যামল' বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ প্রতি বছর নির্বিচারে অসংখ্য বৃক্ষ কর্তন করা হয়। অকারণে যাতে কোনো গাছ কেটে ফেলা না হয়, সেদিকেও আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। এবছর যদি প্রতিটি পরিবার একটি করে বৃক্ষ রোপণ করে, তাহলে অন্তত ২ কোটি বৃক্ষ রোপণ হবে। আমরা সবুজ বাংলার সন্তান। আমরা ছায়া-ঘেরা, সবুজে মোড়ানো সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা করি। পরিবেশ বাঁচাতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে বৃক্ষ রোপণের বিকল্প কিছু নেই। লেখার শুরুর কথাটুকু আবার বলে শেষ করছি_গাছ মানুষের বন্ধু। আমরাও গাছের বন্ধু হই। পরিবেশ বাঁচাতে, নিজেকে বাঁচাতে, বাংলাদেশকে সবুজ করতে গাছ লাগাই।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৬১৭৫
পুরোন সংখ্যা