চাঁদপুর। রোববার ১৩ আগস্ট ২০১৭। ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪। ১৯ জিলকদ ১৪৩৮
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত

৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৮। স্মরণ কর লুতের কথা, সে তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা তো এমন অশ্লীল কর্ম করিতেছ, যাহা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেহ করে নাই।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন




একটি সুন্দর মন থাকা একটি সুন্দর রাজ্যে বসবাস করার আনন্দের মতো।                     

 -জনওয়েলস।


রাসূল (সাঃ) বলেছেন, নামাজ আমার নয়নের মণি।


ফটো গ্যালারি
কবি ও কবিতার কথা
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'যদি এক পঙক্তি কবিতা না লিখি আমি আজ



তাহলে হয়তো কাল অমন সুন্দর রাঙা ভোর হয়ে



দাঁড়াবে না তোমাদের ঘরে,



ফুটবে না অভিমানে কোনো জুঁই, শিউলি বকুল!



হয়তো আকাশ কালো কুয়াশায় নিজের মুখ ঢেকে



দেখা যাবে হাঁটুর ভেতরে তারা মাথা গুঁজে মনঃক্ষুণ্ন



বসে আছে গাছে,



..............................................



কবিতা না লিখি যদি আজ তবে



হয়তো বা বিজ্ঞানসম্মত এই বিমানও উড়বে না



কাল ভোরে,



ওষুধ হারাবে তার ক্রিয়া, গোলাপও গোলাপ থাকবে না!'



------মহাদেব সাহা



কবি_শব্দটি উচ্চারণ করা মাত্রই মনের ভেতর এসে ভর করে অদ্ভুত শিহরণ; আমরা উপলব্দি করি মমতায় অাঁকা কোমল কোনো আবক্ষ মূর্তিকে, যাঁর কলমের শব্দশস্যে গড়ে উঠে কবিতার বিস্তীর্ণ ক্ষেত। যাঁর চিন্তায় শব্দের স্রোত নিত্য বহমান, যাঁর চেতনায় পৃথিবীর বিচিত্র লীলা-রূপ-রস-বৈচিত্র্য খেলা করে এবং তাঁর জন্য সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অপরিমেয়। কিন্তু কবিতার জন্য এই ভালোবাসায়, অনুরাগে সিক্ত হন কি সবাই? সবই কি কবি? কিংবা কবি কে? জীবনানন্দ দাশ এসব প্রশ্নে বলেছেন_ 'সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি।'



কবি মাত্রই অসাধারণ মানুষ। যে কেউ চাইলেই কবিতা লিখতে পারেন না, যে কোনো সময় ইচ্ছে করলেই গাঁথা যায় না শব্দের মালা। আবার কবিতা লিখলেই কেউ কবি হয়ে উঠেন না। কবি হয়ে উঠার জন্য চাই প্রতিভার স্ফূরণ, ধারাবাহিক চর্চা। কাব্য প্রতিভার জোরেই একজন কবি চিরকালের হাসি-কান্না, জীবনবোধ, বিন্যাস, প্রেম-বিরহ, ক্ষোভ-আক্ষেপকে শব্দের নান্দনিক স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে কবিতা হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। উপন্যাস হলেও 'কবি ও কামিনী'তে জাকির তালুকদার প্রাজ্ঞোচিতভাবে বলেছেন_ 'কবি হচ্ছে সে-ই, যার রয়েছে অলৌকিক ক্ষমতা। সে পারে শব্দ দিয়ে বুকের মধ্যে অনুভূতির নতুন নতুন নহর সৃষ্টি করতে। একজন কবিই কেবল হতে পারে তার গোত্রের মুখপাত্র; শান্তির পথ প্রদর্শক আর মন্ত্রণাদাতা, যুদ্ধক্ষেত্রে শৌর্যবীর্যের প্রতীক। কবি না হলে কেউ ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা হতে পারে না, জ্যোতিবিদ্যার রহস্য শিখতে পারে না, দেবতার অস্ফূট ইঙ্গিতের রহস্য উন্মোচন করতে পারে না।' এটা সহজেই অনুধাবনযোগ্য যে একজন কবি কেবলই কবিই নন, তিনি একাধারে সত্য ও সুন্দরের পূজারী, দার্শনিক, ভবিষ্যতদ্রষ্টা, বিজ্ঞানীও বটে। একবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আইনস্টাইন একান্তে কথা বলার পর সাংবাদিকরা আইনস্টাইনকে প্রশ্ন করেছিলেন_ 'কবি রবীন্দ্রনাথকে আপনার কেমন মনে হয়েছে?' আইনস্টাইন বলেছিলেন_আমার মনে হয়েছে তিনি কবিই নন, একজন বিজ্ঞানীও বটে!!



প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিভা আর সুদীর্ঘকাল চর্চার মাধ্যমেই জাতি একজন মহান কবির দেখা পায়। আল মাহমুদ বলেছিলেন, 'কোনো জাতির শত বছরের পুণ্যের ফসল একজন কবি।' কবিই পারেন নিজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, বিশ্বাস, উপলব্দি ও অনুভবগুলো দেশকালের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে দিতে। কবি সীমানা মানেন না, কবি নিয়মে-কানুন, তাবেদারীর তোয়াক্কা করে না। কবি নিরন্তর ছুটে চলেন কবিতার জন্য, কবিতার অন্বেষণে তাঁর দিন-রাত কাটে; সৌন্দর্য আবিষ্কার নেশায় মত্ততা তাঁর ঘুম কেড়ে নেয়। তাঁর চিন্তার জগতে তখন দ্বিতীয় কোনো বিষয় থাকে না। কবিতাই তাঁর তৃপ্তির নিঃশ্বাস, চূড়ান্ত লক্ষ্য।



পৃথিবীর বিচিত্র ভাব কবি হৃদয়কে আন্দোলিত, অভিভূত করে তোলে; কবির চেতনা করে তোলে তীক্ষ্নতর, স্পর্শকাতর। মানব জীবন ও প্রকৃতির ক্ষিপ্ত-বিক্ষিপ্ত সৌন্দর্যবোধ, বেদনাসিক্ততার যখন মনে-মননে ভর করে তখন কবি শব্দের গাঁথুনীকে গড়ে তোলেন কবিতা। এমন ভাব-অনুভব ছাড়া কবিতা লেখা যায় না, তাই কবিতাকে কবিতা করে তুলতেই কবি নানামুখী ভাবের সঞ্চার করেন, চিন্তা-চেতনাকে হৃদ্ধ করে চলেন। 'শুদ্ধতম কবি' জীবনানন্দ দাশ তাঁর 'কবিতার কথা' প্রবন্ধে কবি হৃদয়ের ভাব-অনুভবের কথা বলেছেন এভাবে_'... আমাকে অনুভব করতে হয়েছে যে, খ- বিখ-িত এই পৃথিবী, মানুষ ও চরাচরের আঘাতে উত্থিত মৃদুতম সচেতন অনুনয় ও এক এক সময় থেমে যায়, _একটি-পৃথিবীর-অন্ধকার ও-স্তব্দতায় একটি মোমের মতোন যেনো জ্বলে উঠে হৃদয়, এবং কবিতা-জননের প্রতিভা ও আস্বাদ পাওয়া যায়। এই চমৎকার অভিজ্ঞতা যে সময় আমাদের হৃদয়কে ছেড়ে যায়, সেসব মুহূর্তে কবিতার জন্ম হয় না।'



আর যখন জন্ম হয় কবিতা তখন জনকের উপলব্দিতে ধরা পড়ে বিস্ময়। কেমন করে লেখা হয়ে গেলো একটি কবিতা_ ভেবে কবি নিয়েই অবাক হন। তার মনে হয়, কবিতা তিনি লিখেন নি, তাকে দিয়ে লিখিয়েছে কেউ। কোনো অদৃশ্য শক্তি তার শাদা কাগজে এঁকে দিলো বুঝি শব্দের মালা। প্রথম কবিতা লিখে মহাকবি বাল্মীকিও তাঁর প্রতিভায় বিস্মৃত হয়েছে। কারণ এমন কবিতার ভাষা তার জ্ঞাত ছিলো না। কার করুণায় তিনি পেলেন এমন সুললিত ভাষা? রবীন্দ্রনাথ 'বাল্মীকি প্রতিভা' গীতিনাট্যে এভাবেই তুলে ধরেন বাল্মীকির কবিতা লেখার অনুভূতিকে, যেখানে বাল্মীকি বিস্মৃত হয়ে বলেন_



'...কী বলিনু আমি। একী সুললিত বাণী রে।



কিছু না জানি কেমনে যে আমি প্রকাশিনু দেবভাষা,



এমন কথা কেমনে শিখিনু রে।



পুলকে পুরিল মনপ্রাণ, মধু বরষিল শ্রবণে,



একী! হৃদয়ে একী জ্যোতি ভার!



অবাক! করুণা এ কার!'



কবির ইচ্ছে রাজ্য জুড়ে কবিরই রাজত্ব। এ রাজ্যে কবি আপন মনে, আপন খেয়ালে ঘুরে বেড়ান, খোঁজ করেন চির নতুনের, শব্দ, তাল, লয়, অলঙ্কারের ঝঙ্কার। কবি তাঁর রাজ্যকে সাজিয়ে তুলেন কল্পনায়; চিন্তার সারবত্তায় চিরহরিৎ পথে কবি সত্য ও সুন্দরের চির পথিক। কবিই পারেন 'সুন্দরকে আরো সুন্দর করে নিপুণভাবে উপস্থাপন করতে। কবিই পারেন যমীমকে অসীমে, ক্ষুদ্রকে বৃহৎ আর অভাবনীয়কে ভাবনীয় করতে। প্রখ্যাত কবি মাহমুদ দারবিশের 'পাশা খেলোয়াড়' কবিতায় লিখেছেন_



'অবশ্যই আমি একটি জলপাই গাছ হবো



ভূগোলের একজন শিক্ষক হবো



পিঁপড়ের রাজ্যে হবো একজন বিশেষজ্ঞ



অথবা হবো একজন 'প্রতিধ্বনি দ্বারা দুরত্বমাপক'দের পাহারাদার।'



এই যে 'জলপাই গাছ' হওয়া, পিপড়ে রাজ্যে'র বিশেষজ্ঞ হবার আকাঙ্ক্ষা করা _কবি বলেই এমনটা ভাবা সম্ভবপর হয়েছে। কবির কাজ কেবলই কবিতায় পৃথিবীকে ঘিরেই। কবি বোবাকে ভাষা দেন, অন্ধকে স্বপ্ন দেন আর পরাধীনকে দেন স্বাধীনতা। অভাবনীয়কে ভাবনীয়, প্রকৃতির সৌন্দর্য উন্মোচনে কবি নিরলস কাজ করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'আত্মপরিচয়'-এ তুলে ধরেছেন কবির কর্ম, ধর্ম, সাধনা, উদ্দেশ্যকে। সেখান থেকে ধার করে ক'লাইন উদ্ধৃতি করা যেতে পারে :



বিচিত্রের লীলাকে অন্তরে গ্রহণ করে তাকে বাইরে লীলায়িত করা_ এই আমার কাজ। মানবকে গম্যস্থানে চালাবার দাবী রাখিনে, পথিকদের চলার সঙ্গে চলার কাজ আমার। পথের দুই ধারে যে ছায়া, যে সবুজের ঐশ্বর্য, যে ফুলপাতা, যে পাখির গান, সেই রসের যোগান দিতেই আমরা আছি। যে বিচিত্র বহু হয়ে খেলে বেড়ান দিকে দিকে, সুরে গানে, নৃত্যে চিত্তে, বর্ণে বর্ণে, রূপে রূপে, সুখদুঃখের আঘাতে সংঘাতে, ভালোমন্দের দ্বন্দ্বে_ তাঁর বিচিত্র রসের বাহনের কাজ আমি করেছি; তাঁর রঙ্গশালায় রূপকগুলিকে সাজিয়ে তোলভার ভার পড়েছে আমার উপর, এই আমার একমাত্র পরিচয়।'



কবি মাত্রই বেখেয়ালী, আনমনা, ঘোরগ্রস্ত, কল্পনাবিলাসী মানুষ। ধ্যানী বিধায়ই কবিরা সাধারণ মানুষদের তুলনায় বাস্তব বিক্ষিপ্ত। বাউন্ডলেপনার জন্যই হয়তো কে একজন বলেছিলেন _কবিরা কবিতায় যা লিখেন মিথ্যে লিখেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষেই তারা মিথ্যে লিখেন? কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যই কবিতা নয়? সত্য-মিথ্যের প্রভেদের উত্তর দিতে গিয়ে স্যার ফিলিপ মিডনী বলেছেন, 'কবিরা কখনো মিথ্যা বলে না, কেননা তারা কখনো সত্য বলে না।' বোদলেয়ারও মনে করতেন কবিতাকে যদি কখনো নৈতিকতা বা বিজ্ঞানের সাথে সমন্বিত করা হয় তবে তার শাস্তি হবে মৃত্যু অথবা নির্বাসন; কবিতার অন্বিষ্ট 'সত্য' নয়, কবিতার অন্বিষ্ট কবিতা নিজেই।



কবি প্রতিনিয়ত আবিষ্কার করে চলেন জীবনের গূঢ় রহস্যকে। সৃষ্টির আনন্দে উল্লাসিত কবি উন্মাদনা পান, কবিতায় খুঁজে পান ঠিকানা। অসীমের সীমা রচনা করতে, দুবোধ্যকে বোধতে, ব্যক্তিকে সর্বজনীন করতে, বেদনাবিদ্ধ হৃদয়কে আনন্দরস দিতে কবি হেঁটে চলে চিরকালীন পথে।



কবির স্বরূপ তুলে ধরতে গিয়ে কতুবউদ্দিন আহমেদের 'কবিতার ঘোর' প্রবন্ধে যাওয়া যাক_



'একজন কবিকে নিশ্চয়ই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সম্মুখে অবিরত পদসঞ্চালন করে যেতে হয়। আশৈশব তাকে কবিতার পথে, সত্য ও সুন্দরের পথে হাঁটতে হয়। একজন কবি চিরকালের পথিক, সত্য ও সুন্দরের উপাসক; এবং তার এই পথ আর পথের উপাসনা কখনো শেষ হওয়ার নয়।...একজন কবির চিন্তায় থাকে বিশ্বের সমস্ত কোলাহল, সমস্ত নীরবতা, সমস্ত অস্থিরতা। মানুষ্য জাতির সমস্ত ক্ষুধা এসে জমা হয় একজন কবির পাকস্থলিতে, সমস্ত কষ্ট এসে ভরে করে একজন কবির অনুভবে, বিশ্বের তাবৎ মানুষের রক্তক্ষরণ হয় কবির বুকের শিরায়। সৃজন বেদনায় তারা কখনো উন্মাদগ্রস্ত হয়ে যায়।' অন্তরে-আত্মায়-ভাবনায়ই কবির কবিত্ব ফুটে উঠে কবিতায়। কবিতার জন্যই কবিকে ভোগ করতে হয় সীমাহীন অবহেলা, কষ্ট, যন্ত্রণা, বিদ্রূপ। হারাতে হয় সাংসারিক ভাবনা, সময়-কতো কিছুই। এজন্যই এলিয়েট মনে করতেন কবিতা রচনা করা হলো রক্তকে কালিতে রূপান্তর করা। এ কারণেই আমরা জীবনানন্দকে বলতে শুনি_'আমি ক্লান্ত প্রাণ এক।' কবিতার জগতে কবির একলা পথিক, এ জগতে কবিতাই কবির বন্ধু, পুত্র, আরাধনা_'অথচ কবির চেয়ে আর কে এমন জানে/কবিতাই অন্ধ ছেলে তার।'_সৈয়দ শামছুল হক।



কিন্তু এতো ত্যাগ, তিতিক্ষা দীর্ঘ চর্চার বিনিময়ে কবির প্রাপ্তি কী? এ কথা সত্য যে, সাহিত্যে কবির সম্মান অনেক উপরে। সমায়সেট সম বলেছিলেন, একজন কবি যখন হেঁটে যান, আমরা তাঁর সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে যাই। শত শত বছর আয়ু কী কবির প্রাপ্তি নয়?



কবিতা মানুষের চিন্তার জগৎকে করে সমৃদ্ধশালী। কাব্যিকবোধ মানুষকে রাঙায়, নাড়া দেয়, উপলব্দি করা পৃথিবী কতো রূপময়, ছন্দময়। কবিতার চোখে ধরা পড়ে অন্য এক বসুন্ধরা। যদি কবিতা লেখা না হতো তাহলে নিরসে নির্বাসিত হতো পৃথিবী, পাখিরা গান গাইতো না, কোনো প্রেমের চিঠি লেখা হতো না, ফুটতো না কোনো ফুল। আর এর ফুল ফোটানো আর সুন্দর পৃথিবী গড়ার কাজই করেন কবিরা।



কবির কবিতায় ফুঠে উঠে তাঁর দেশ, কবি তাঁর ঐতিহ্যের ধারক। কবি মাটি ও মানুষের কথা বলেন। সুন্দর আর মুগ্ধতার কথা বলেন, কবিই পারেন তাঁর স্বদেশকে সারা বিশ্বে তুলে ধরতে। কবিতার বিনিময়ে কবি বেঁচে থাকেন শত শত বছর_কবি এ এক কিংবদন্তী উচ্চারণ!



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৪৯৩
পুরোন সংখ্যা