চাঁদপুর। শনিবার ১১ নভেম্বর ২০১৭। ২৭ কার্তিক ১৪২৪। ২১ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩০। এটাই প্রমাণ যে, আল্লাহ্-ই সত্যি এবং আল্লাহ্ ব্যতীত তারা যাদের  পূজা সব মিথ্যা। আল্লাহ্ সর্বোচ্চ, মহান।


৩১। তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর অনুগ্রহে জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর নির্দেশনাবলী প্রদর্শন করেন? নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক সহনশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে নির্দেশন রয়েছে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


চোখ পেটের চেয়ে বড়।


                               -স্কট।

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


ফাঁসি
শরীফ উল্লাহ
১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

কসিম উদ্দীন ফাঁসিকে ভয় পায়। ফাঁসির কথা মনে হলেই কসিম উদ্দীন বিঘড়ে যায়। পাগলের মতো রুখে যায় মানুষের দিকে। ফাঁসির ভয়ে সে গ্রাম ত্যাগ করেছিল। কিন্তু বেশিদিন লুকিয়ে থাকতে পারেনি। কোথা থেকে যেন একটা আওয়াজ বার বার তার কানের কাছে ফাঁসি-ফাঁসি আওয়াজ তুলে। এই ভয়ে ঘেমে যায় কসিম উদ্দীন। অথচ এর আগে কোন দিন তার এমনটা হতো না। সবচেয়ে হাই কোয়ালিটির এসির নিচে সে থাকত, যার দেহে কোনদিন ঘাম ধরত না। সে আজ ভয়ে বিচলিত হয়ে কুকড়ে ওঠে।

এক সময় কসিম উদ্দীন নামটা শুনলেই এলাকাবাসীর টনক নড়ে উঠত। সে যে পথে হাঁটত সে পথ থর থর করে কেঁপে উঠত। তাই দেখে সে গর্ব করে বলত আমি এলাকার রাজা। আমার উপর আর কে আছে। আমি সবাইকে শাসন করার ক্ষমতা রাখি আমাকে শাসন করার মতো কেউ নেই। আমি মানুষের বিচার করি। আমার বিচার করার মতো কোন মায়ের লাল জন্ম গ্রহণ করে নাই। ভবিষ্যতেও করবে না। তা-তো ঠিক বলেছে সে। সমাজে কে আছে কসিম উদ্দীনের মুখের উপর কথা বলার। যে কথা বলে সেই তো এলাকা থেকে নাই হয়ে যায়। তার ভয়ে পথের কুকুর গুলো বাঁচ্চা দিতে ভয় পায় সে জায়গায় মানুষ। এ জন্য পাড়ার মহিলারা সন্তান জন্ম দিতে শিউরে ওঠে। কসিম উদ্দীন তা দেখে খিল খিল করে হাসে। ও যখন হাসে তখন তার দুগাল বেয়ে পানের পিছকি গড়িয়ে তার সাদা পাঞ্চাবী ল্যাপ্টে যায়। এতে তার একটুও খারাপ লাগে না। কারণ ওর এ হাসি আনন্দের হাসি, বিজয়ের হাসি। তাই সে বেশি করে হাসে তার অট্টো হাসিতে আকাশ বাতাস আলোকিত হয়ে যায়।

কসিম উদ্দীন সমাজের প্রভাবশালী লোক। সব ধরনের পদবীতে তার শুনাব অন্য সবার চেয়ে উধর্ে্ব। এলাকায় শালিশ দরবার হতে শুরু করে সবখানে কসিম উদ্দীনের আসন সবার আগে। সে ছাড়া এ মহল্লায় কারও সাহস নেই প্রধান চেয়ার নেবে। ওর কথা হলো আমি সমাজের মাথা আমার মতো টাকা পয়সার মালিক আর কে আছে এখানে। আমি যা বলবো তাই মেনে চলতে হবে সবাইকে। এই মহল্লায় বাস করতে হলে আমার কথা মতো থাকতে হবে। কসিম উদ্দীনের সহযোগীরা দাপটের সাথে মাস্তানি করে। এতে সে দু'হাত প্রসারিত করে তাদের বুকে টেনে নেয়। কসিম উদ্দীন লেখাপড়া না জানলেও বুদ্ধি খাটিয়ে এবারের স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পদ তার দখলে নিয়ে গেছে। পদের জন্যও সে ভোটে দাঁড়াতে হয়নি। সে বলে পদ পেতে হলে টাকা পাশাপাশি ক্ষমতার প্রয়োজন। আমার সব আছে। মানুষ আমারে দেখলে স্যালাম দেয়। আমি সে স্যালামের উত্তর দেই। আমার কাছে আনন্দ হয়। মানুষ আমারে ভয় করে হা- হা- হা। তা দেখে আমার খুশি লাগে। এরি মধ্যে গুটি কয়েকজন পুলিশ প্রশাসন ও র‌্যাব তার হয়ে কাজ করে। তাদেরকে কসিম উদ্দীন মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তার অপরাধ ঢেকে রাখে। আইনের কাছে সে নিরপরাধ সেজে বৈআইন কাজ করে যাচ্ছে। দলীয় প্রভাবে ওর অপরাধ গুলো ঢাকা পড়ে যায়।

কসিম উদ্দীনের বহুদিনের শখ নির্বাচন করবে। তাই সে এবার মেয়র নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। কিন্তু লোকমান তালুকদার তার বিপক্ষে দাঁড়ালে কসিম উদ্দীন ক্ষেপে যায়। কারণ এ মহল্লায় লোকমান তালুকদার ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া সে সমাজের উন্নয়ন মূলক কাজে এগিয়ে আসে। অন্যায়ের কাছে মাথা নথ করে না। বহুবার কসিম উদ্দীনের কাজে সে বাধা প্রদান করেছে। তার জন্য লোকমান তালুকদার কসিম উদ্দীনের লোকের কাছে লাঞ্ছিত হয়েছে। তারপরও সে সমাজের সচেতন মানুষ নিয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে কসিম উদ্দীন ক্ষিপ্ত হয়ে লোকমান তালুকদারকে কড়া কথা শুনিয়ে গেছে। সে বলে লোকমান কাজটা তুই ভাল করস না। আমাকে তুই এখনো চিনস না। আমি তোর কি হাল করতে পারি তা তুই দেখবি। তোকে জীবন দিয়ে তার খেসারত দিতে হবে। লোকমান তালুকদার ভয় পাওয়ার মানুষ নয়। সমাজে আদর্শ লোকের কথা আসলে সবার আগে লোকমান তালুকদারের কথা ওঠে আসে। সমাজ প্রতিরাও লোকমান তালুকদারকে স্নেহ ও আদর করে ভালোবাসে। এজন্য সে তার গতিতে নির্বাচন করে এবং নির্বাচনে জয়লাভ করে ফেলে। কসিম উদ্দীন নির্বাচনে হার মেনে নিতে পারেনি। এত বছরের সুনাম অর্জন অল্পতে ব্যাস্তে গেছে। কসিম উদ্দীন অনেকটা বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। কিভাবে লোকমান তালুকদারকে শেষ করে দেয়া যায়। যদি লোকমান তালুকদারকে শেষ না করি তা হলে সে আমাকে মহল্লায় থাকতে দেবে না। আমার সব সম্পত্তি পুলিশের কাছে দরিয়ে দেবে। এ মহল্লায় আমার নেতৃত্ব বহাল রাখতে হলে লোকমান তালুকদারকে আমার পথ থেকে সরিয়ে দিতে হবে।

লোকমান তালুকদার নির্বাচনে পাশ করার পর এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে যে আশার বাণী দিচ্ছে তা কসিম উদ্দীন মেনে নিতে পারছে না। কসিম উদ্দীন এ সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার কথায় মানুষ উঠ বস করে। সে বলে আমি ঘুম থেকে না জাগলে সকাল হয় না। আমার উপরে কথা বলার মতো মানুষ হয়নি এখনো। অথচ লোকমান নির্বাচনে পাশ করার পর আমার কাজ কর্মে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার পোলাপাইনরে কাজ করতে দিচ্ছে না। মানুষ আমারে শালিশ দরবারে নিচ্ছে না। মানুষ সব তার কথায় উঠাবসা করে। এতে আমার ক্ষমতা শেষ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ এখন আর আমাকে ভয় পায় না। কসিম উদ্দীন তার লোক নিয়ে লোকমান তালুকদার ও তার সহকারী এমদাদ সহ যারা কসিম উদ্দীনের বিরোধীতা করেছে সবাইকে অপহরন করে। এতে এডভোকেট শ্যামলকান্ত দেখে ফেলায় তাকে ধরে নিয়ে যায়।

আজ কসিম উদ্দীনের বিচার শুরু হবে। তার জন্য এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। আদালত প্রাঙ্গনে মানুষের ভিড়। এখানে এলাকাবাসীরা আছে। যারা এক সময় কসিম উদ্দীনের নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। অনেক মা বাবাও আছে যার সন্তানদের সে হত্যা করেছে। সকিনা বিবিও আজ আদালত প্রাঙ্গনে উপস্থিত হয়েছে। কখন কসিম উদ্দীনের বিচার শুরু হবে। এলাকাবাসী আজ সস্তীর নিশ্বাঃস ফেলবে। এই অপেক্ষায় অধীর আগ্রহ নিয়ে উৎসুক মানুষের উপচেপড়া ভিড়। সকিনা বিবিতো বলেই ফেলেছে কসিম্মার যদি ফাঁসি হয় তাহলে সে মিলাদ করিবে। আল্লাহর কাছে মানত করেছে সে তার পালিত ছাগলটারে জবাই দিয়ে মানুষরে আল্লারাস্তে ভাত খাইবো।

যে ফাঁসির ভয় পেত কসিম উদ্দীন। অবশেষে আদলত তাকে সেই শাস্তি প্রদান করেছে। কসিম উদ্দীন ফাঁসির রায় শুনে ভীতু হয়ে পড়েছে। অথচ এর আগে সে সিংহ চেহারা নিয়ে মহল্লায় দাপট খাটিয়ে চলাফেরা করছে। ফাঁসির কথা শুনে সে ভয়ে মুষড়ে পড়েছে। ও আতঙ্কে তার চোখ বড় বড় হয়েছে গেছে। এক সাথে সাত জনকে খুন করে কসিম উদ্দীন পার পায়নি। লোকমান তালুকদার মেয়র হয়ে কসিম উদ্দীনের পাপের রাজত্ব কেড়ে নিয়ে মহল্লাবাসীকে যে শান্তির বার্তা দিয়েছে তা শুনে সকিনা বিবি প্রথমে থু ফেলে কসিম উদ্দীন কে নিন্দা জানিয়েছে। পরে লোকমান তালুকদারকে দোয়া করে বলে আল্লাহ তুমি আমাগো লোকমানরে অনেক দিন বাঁচাইয়া রাখ। ও শয়তানডার উপযুক্ত বিচার করেছে। এত দিন পর আমার স্বামীর আত্মার শান্তি হইবো। শয়তানডা আমাগো মহল্লার সাত জন ভালো মানুষরে বাঁচতে দেইনি। আল্লাহ এতদিন পর তার বিচার করেছে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮৩৬১
পুরোন সংখ্যা