চাঁদপুর। শনিবার ১১ নভেম্বর ২০১৭। ২৭ কার্তিক ১৪২৪। ২১ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩০। এটাই প্রমাণ যে, আল্লাহ্-ই সত্যি এবং আল্লাহ্ ব্যতীত তারা যাদের  পূজা সব মিথ্যা। আল্লাহ্ সর্বোচ্চ, মহান।


৩১। তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর অনুগ্রহে জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর নির্দেশনাবলী প্রদর্শন করেন? নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক সহনশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে নির্দেশন রয়েছে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


চোখ পেটের চেয়ে বড়।


                               -স্কট।

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


কুসুমের স্বপ্নবুনন
কবির হোসেন মিজি
১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

সন্ধ্যা হয়ে এলো। কুসুমের হাঁসগুলো আজ এখনো বাড়ি ফিরছে না। ভীষণ চিন্তিত হয়ে আছে কুসুম। গোয়াল ঘরে বাছুরটি বেঁধে দিয়ে কুপি জ্বালিয়ে হাঁসগুলো খুঁজতে বেরুলো। মিটি মিটি কুপির আলোতে এক দু'পা কদম করে হাঁটছে কুসুম। ডাইনে-বাঁয়ে চোখ বুলিয়ে ডাকছে, আয়-আয় তই-তই-আয়-আয়। কোনো সাড়া-শব্দ পেলো না। রহিম চাচার ঝিলেও দেখে এলেও এলো, সেখানেও নেই। তাহলে সোনামণিরা গেলো কোথায়? প্রতিদিন সকাল হতেই কুসুম হাঁসগুলো রহিম চাচার ঝিলে খেলা করে। ঘুরে ফিরে তারা এখানেই শামুক, ঝিনুক কুড়িয়ে খায়। কিন্ত আজ অাঁধার ঘনিয়ে এলো, এখনো হাঁসগুলো বাড়ি ফিরছে না। মনে মনে ভাবলো কুসুমঃ কোনো শিয়াল-কুকুরে তাড়া করলো না তো? দক্ষিণের ঝিলের কাছে গিয়ে খানিকটা থামলো কুসুম। আবারো চতর্দিকে মুখ করে ডাকতে লাগলো, আয়-আয়-তই-তই-। এবারো ব্যর্থ হলো।

কুসুমের হাতের কুপির আলো দেখে রহিম চাচা এগিয়ে এসে বলল, কি রে কুসুম কুপি জ্বলিয়ে কারে খোঁজছো? কুসুম নীরব গলায় বললো, চাচা আমার সোনামণিগরে দেখছো? না রে মা, দেখি নাই তো! আমাগো ঝিলে দেইখা আইছিলি? চাচা সবখানেই দেখা হইছে, এহন শুধু পশ্চিমের খালপাড়ে দেহা বাকি রইছে। তাইলে যা মা, ঐ হানে দেইখা আয়। হ চাচা, যাইতাছি। তুমিও যাওয়ার পথে একটু চোখ রাইখো। পশ্চিমের খালপাড়ের দিকে হেঁটে চলল কুসুম। কুপির তেলও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আকাশের দিকে তাকায় কুসুম। আকাশটা ঘোর অন্ধকার। হয়তো বৃষ্টি হবে। নিভু নিভু কুপির আলোতে খালপাড় এলো। আবারো ভালবাসা মাখা কণ্ঠে ডাকলো সোনামণিদের, আয়-আয়-তই-তই-আয়-আয়।

কুসুমের কণ্ঠ শুনতেই হাঁসগুলো ক্যাঁত ক্যাঁত করে ডেকে উঠলো। এবার কুসুমের মনে কিছুটা স্বন্তি এলো। ধীরে ধীরে হাঁসগুলো কুসুমের কাছে এলো। এবার কুসুম বাড়ির দিকে হেঁটে চলল; আর সোনামণিদের বলতে লাগলো, আয় তোরা, আমার পিছে পিছে আয়। তোরা এমন কইরা আর কত জ্বালাইয়া খাবি। তোগো রে তো খাওন, লওন সবই ঠিকমতো দেই। তয় কেন তোরা আমারে এত চিন্তায় ফালাস্। তোগো রে যদি শিয়ালে খাইতো তাইলে আমার কী যে অইত তোরা কি জানস্? তোগো রে নিয়াইত আমার যত স্বপ্ন। তোরা বালা বালা খাইয়া আমারে বড় বড় ডিম দিবি, আর আমি হেই ডিম বেইচ্ছা তোগোর নামে একটা সঞ্চয় করুম। কই রে সোনামণিরা আয়। এই তো আইয়া পড়ছি আর একটু সামনে বাড়ি।

কুসুমের কথায় সোনামণিরা ক্যাঁত ক্যাঁত করে জবাব দেয়, সন্তান যেমন মায়ের টানে পেছনে হেঁটে চলে, কুসুমের হাঁসগুলোও যেন কুসুমের সন্তন। কুসুমের কথায় হাঁসগুলো সাড়া দেয়, কুসুম যেদিকে হেঁটে চলে তার সোনামণিরাও সেইদিকে হেঁটে চলে। বাড়ির কাঁছাকাছি আসতেই কুসুমের হাতের কুপিটা পুরোপুরি নিভে যায়। কোনো রকমে বাড়ির আঙিনায় পা রাখলো কুসুম। ঘর থেকে ভাতের মাড়ের সাথে কুড়ো মিশিয়ে খেতে দিলো সোনামণিদের। তারপর এক এক করে সবগুলোকে খোয়াড়ে ঢোকালো। হাতের সব কাজ শেষ করে এবার নিশ্চিত ঘুমিরয় পড়লো কুসুম।

একজন কৃষক দিনমজুর গরিব বাবার মেয়ে কুসুম। জায়গা-সম্পদ তেমন নেই। ভিটেমাটি যেটুকু ছিলো তাও নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন যেটুকু অঅছে অতটুকুর মধ্যে বাবা চাষবাস করে কোনো কেমন সংসার চালাচ্ছে। অন্যদিকে কুসুমের সহযোগিতা। কুসুম খুব গুণী মেয়ে। নকশী কাঁথা হতে শুরু করে হাতের সব কাজেই কুসুমের শেখা আছে। তবুও বাবার দুশ্চিন্তা; ঘরে আইবুড়ো মেয়ে, বয়স হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেয়েকে একটা ভালো পাত্রের হাতে তুলে দিতে পারলেই বাবার সব দুশ্চিন্তা; দূর হবে।

আজকাল ভালো পাত্র পাওয়া রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার। এ পর্যন্ত বহুপাত্রই কুসুমকে দেখে গেলো। তবে কুসুমের সুন্দর মুখখানা তাদের পছন্দ হলেও যৌতুকের দাবিটা তারা কখনই ছাড়ে নি। সেই থেকে কুসুম প্রতিজ্ঞা করেছে, বাবাকে বিপাকে ফেলে যৌতুকে বিয়ের পিঁড়িতে সে কখনোই বসবে না। নারী হয়ে জন্মেছে যখন একদিন তো বিয়ের পিঁড়িতে বসতেই হবে।

সেটা যৌতুকে হোক আর যৌতুকবিহীন হোক। যৌতুক দিয়ে যদি বিয়ে বসতেই হয়, তাহলে বাবার পরিশ্রমের টাকা দিয়ে নয়, নিজের যোগ্যতা দিয়ে কুসুম নিজেকে গড়ে তলবে, তাইতো তার সোনামণিদের নিয়ে কুসুমের এত স্বপ্ন বুনন।

কয়েক মাস যেতেই কুসুমের দশটি হাঁস কুড়ি দুুয়েক হাঁস পরিণত হলো। কুসুমের আদর-স্নেহে সোনামণিরা দিনে দিনে বেড়ে উঠলো। আর কুসুমের পরিশ্রমের ফসল হলো প্রতিদিন ছয়-সাত হালি ডিম। অন্যদিকে রোজ সকাল এবং বিকেলে গাভী ৫/৬কেজি দুধ। তাছাড়া হস্তশিল্পের কাজটা তো আছেই। সেইদিক থেকেও কিছুটা আয় আসে। দিনে দিনে কুসুমের সঞ্চয়ের দিকটাও বাড়তে লাগলো। কুসুম জীবনের সাথে লড়াই করে নিজের যোগ্যতা দিয়ে নিজেকে একজন গর্বিত নারী হিসেবে প্রমাণ করলো। দুঃখী বাবার চোখের জল মুছে দিয়ে ধীরে ধীরে সংসারে সুখের হাসি ফুটতে লাগলো। আনন্দে বাবার চোখে জল আসে-মা রে তুই আমার দুঃখের ঘরে সুখের প্রদীপ। তুই আমার আধার ঘরের পূণিমা চাঁদ। তুই পরের ঘরে চইলা গেলে এই ঘর যে অন্ধকার হইয়া যাইব রে মা।

-বাবা তুমি দুঃখ কইরো না। তুমি শুধু আমারে মন খুইলা দোয়া কইরো। তোমার কুসুম যেন জীবনে সুখী অইতে পারে।-তুই সুখী হবি রে মা তুই অনেক সুখী হবি। আমি দুই হাত উঠাইয়া আল্লাহর কাছে দোয়া চামু আল্লায় যেন তোরে অনেকদিন বাঁচাইয়া রাখে।

দিনে দিনে কুসুমের গুণের কথা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়লো। কুসুম নিজেকে ভাগ্যবতী বলে মনে করছে। মে তার যোগ্যতা দিয়ে নিজের আত্মসম্মান লাভ করেছে। এখন চারদিক থেকে অনেক ভালো ভালো প্রস্তাব আসতে লাগলো। কিন্ত ভালো প্রন্তাব দিয়ে কী হবে? যদি না থাকে ভালো একটি মন, আর কুসুম সেই ভালো মনের আশাই প্রতীক্ষার প্রহর গুণে যাচ্ছে...।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮৬৪৬
পুরোন সংখ্যা