চাঁদপুর। শনিবার ১১ নভেম্বর ২০১৭। ২৭ কার্তিক ১৪২৪। ২১ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩০। এটাই প্রমাণ যে, আল্লাহ্-ই সত্যি এবং আল্লাহ্ ব্যতীত তারা যাদের  পূজা সব মিথ্যা। আল্লাহ্ সর্বোচ্চ, মহান।


৩১। তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর অনুগ্রহে জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর নির্দেশনাবলী প্রদর্শন করেন? নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক সহনশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে নির্দেশন রয়েছে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


চোখ পেটের চেয়ে বড়।


                               -স্কট।

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


নবান্নের ধান, নতুন বধূ
মাঈন উদ্দিন
১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

-ওগো, তুমি এই সাত-সকালে কোথায় যাচ্ছ? কিছু একটা মুখে দিয়ে যাও।

কাঁচি হাতে ঘর থেকে বের হতে যাচ্ছিল দেলোয়ার। দেঁৗড়ে এসে তার হাত ধরল শিলা।

-আরে পাগলি। দক্ষিণের ক্ষেতে সামান্য কিছু ধান কাটার বাকি। ওগুলো কাটা লাগবে না?

শিলার কপালে আলতো চুমু দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায় দেলোয়ার।

-তাড়াতাড়ি চইল্যা আইসো কিন্তু। মুচকি হাসে শিলা।

দেলোয়ার যখন হাঁটতে শিখছে তখনই তার বাবা পাগল হয়ে যায়। দেলোয়ারের মা তাকে নানির বাড়িতে রেখে আবার বিয়ে করেন। নতুন স্বামী, সংসার রেখে দেলোয়ারকে দেখতে আসার মতো সময় তার হয় না। দেলোয়ার নানির ছত্রছায়ায় বড় হতে থাকে। তিন বছর হলো নানিও তাকে ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন। সব হারিয়ে দেলোয়ার যখন চরম হতাশায় ভুগছে, ঠিক সেই সময় বধূ হয়ে আসে শিলা। ম্রিয়মাণ দেলোয়ার শিলার আদর-সোহাগে উদ্দীপনা ফিরে পায়। সজীব হয়ে ওঠে পত্রঝরা ক্ষীয়মাণ গাছটি। দেলোয়ার একজন বর্গাচাষি। পরের জমি সে বর্গায় চাষাবাদ করে।

ধানের অাঁটি আঙিনায় রেখে পাকঘরে প্রবেশ করে দেলোয়ার। শিলা নতুন ধানের পিঠা তৈরি করছে।

-শিলা, তুমি পিঠা খেয়েছ?

-স্বামীকে রেখে স্ত্রী খাবার খেলে যে সংসারে অমঙ্গল হয়। আমি কী করে খাই বলো?

-দুর পাগলি। আগেকার দিনের এই রীতি এখন কেউ মানে নাকি?

খেজুর রস আর চিতই পিঠা। আহ! কতদিন পর এমন স্বাদের পিঠা খাচ্ছে দেলোয়ার। চুলার আগুনে শিলার মুখম-ল উজ্জ্বল হয়ে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে। সে মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখছিল সেই আলো অাঁধারী খেলা।

-বাহ! আজকের খেজুর রস আর চিতই পিঠা খুবই স্বাদ হয়েছে গো। ঠিক যেন তোমার মতো।

-যা, দুষ্টু কোথাকার। মুখ বাঁকা করে সদ্য কৈশোর ছেড়ে আসা যুবতী শিলা।

-তুমি এতো ভালো পিঠা তৈরি করতে পার? আমার জানাই ছিল না।

-জানো দেলোয়ার? প্রতি বছর নবান্নে নতুন ধান এলেই মা আমাদের খেজুর রস আর চিতই পিঠা, মেরা পিঠা, ভাপা পিঠা আরও কত রকম পিঠা তৈরি করে খেতে দিতেন, আজও মনে পড়ে সে সব। আরেকটা কথা খুব মনে পড়ে।

-আরেকটা কথা? কী বলো তো? নতুন বউয়ের স্মৃতিকথা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকে দেলোয়ার।

-ছোটবেলা এই নবান্নে বাবা ধান কাটত আর আমরা ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে অনেক ধান পেতাম। পরে ওই ধানগুলো দিয়ে জিলাপি কিনে খেতাম।

-জি্ব বুঝেছি। ইঁদুর ধান চুরি করে নিত। আর তোমরা সেই ধান ডাকাতি করে আনতে। মানে চোরের ওপর বাটপারি।

খিলখিল করে হেসে ওঠে দেলোয়ার-শিলা।

-নবান্নের নতুন ধানের পিঠা খেয়ে বাবা মায়ের গলা জড়িয়ে বলত- জানো তোমার মা আমার দেখা সেরা গিনি্ন। আমরা ভাইবোনেরা হাসতাম। অথচ দেখতে দেখতে আজ আমিও গিনি্ন হয়ে গেলাম। বলে শিলা।

দুপুর হতে না হতেই নতুন ধানে ভরে ওঠে সারা উঠান। মাড়াইয়ের পর মহাজনকে অর্ধেক ধান ভাগ করে দেয়। বাকি অর্ধেক ধান দেলোয়ার ঘরে নিয়ে আসে। নবান্নের নতুন ধানের ম ম গন্ধে ভরে গেছে সারা ঘর।

আরও একটা কর্মক্লান্ত দিনের সূর্য অস্তমিত হলো। কুপি বাতির মিটিমিটি আলোতে শেষ হলো রাতের খাবার। হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর এবার একটু বিশ্রামের পালা। দেলোয়ার-শিলার চার চোখের দৃষ্টি মিলিত হয় এক বিন্দুতে। পুরনো দিনের জরাজীর্ণতা, দুঃখ-বেদনা, অবহেলা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, সবকিছুকে পেছনে ফেলে এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর দেলোয়ার। দেলোয়ার-শিলা বিছানায় গা এলিয়ে মানস-চক্ষে হাজার বছরের স্বপ্নের বীজ বুনে। চার চোখের মিটমিটে আলো কল্পনার সুতো দিয়ে আল্পনা আঁকে। একটু বিশ্রাম শেষে আবার নতুন সূর্যের উদয় হবে। আরও একটি নতুন দিনের সূচনা হবে। হাজারো লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যে নব উদ্যমে আরও একটি দিনের শুরু করবে এই নবদম্পতি।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮৪৬৮
পুরোন সংখ্যা