চাঁদপুর। শনিবার ১১ নভেম্বর ২০১৭। ২৭ কার্তিক ১৪২৪। ২১ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩০। এটাই প্রমাণ যে, আল্লাহ্-ই সত্যি এবং আল্লাহ্ ব্যতীত তারা যাদের  পূজা সব মিথ্যা। আল্লাহ্ সর্বোচ্চ, মহান।


৩১। তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর অনুগ্রহে জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর নির্দেশনাবলী প্রদর্শন করেন? নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক সহনশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে নির্দেশন রয়েছে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


চোখ পেটের চেয়ে বড়।


                               -স্কট।

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


দিবস রজনী
আহাদ আদনান
১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

'দুটি জোনাকিকে একটি বোতলে ভরে বলা হলো, তোমরা সংসার সংসার অভিনয় করে যাও। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা চমৎকার অভিনয় করে গেল। শুধু তাদের আলো হারিয়ে গেল। আর জ্বলেনি কোনোদিন জোনাকি।'

ফেসবুকে রিমির স্ট্যাটাসটা পড়ে অনেকক্ষণ চুপ করে ছিল অঞ্জন। তার কি লাইক দেয়া উচিত? কিংবা একটা কমেন্ট? তাদের সংসারটার বয়স তিনবছর। এরই মধ্যে রিমির মনে হচ্ছে তারা শুধু অভিনয় করে যাচ্ছে। ভালোবাসাহীন সংসারযাপন করে যাচ্ছে। আর এটাই করতে হবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। স্ট্যাটাসটা পড়ে এমনই মনে হয় অঞ্জনের।

'সবাই হানিমুনে গিয়ে কত মজা করে। কত সুন্দর ছবি আপলোড করে। আর তুমি?' এই অভিযোগটা প্রায়ই শুনতে হয় অঞ্জনকে। ও কোনো উত্তর দিতে পারে না। পারিবারিকভাবে ঠিক হওয়া বিয়ের পরপরই ওর ওপর কয়েকটা বিপদ নেমে আসে। ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মটা বন্ধ হয়ে যায় হঠাৎ করে। এরপর নতুন চাকুরি পেতে বেশ কষ্টই করতে হয়েছিলো। প্রত্যাশামাফিক বেতন ছিল না। নিজের চেম্বার ছিল না তখন। এই তিনটা বছর অনেক কষ্ট করে অঞ্জন এখন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। হানিমুনটায় এখন যাওয়াই যায়।

অঞ্জন কখনও সেলফি তোলে না। স্বামীকে জড়িয়ে সেলফি তুলে প্রোফাইল পিকচার দেবে, রিমির অনেক দিনের ইচ্ছে। সেই ইচ্ছে পূরণ হয়নি আজও। রিমির তাই অভিযোগ, 'তুমি আমাকে অনেক ঘৃণা করো, না? এক ফ্রেমে ছবি তুলতে এত আপত্তি?'

অঞ্জন রিমির সঙ্গে কখনও কোনো রোমান্টিক কথাও নাকি বলে না। রিমির দিন যায় ফেসবুক, সিরিয়াল, ইউটিউবে। ওর বান্ধবীরা কত সুখে আছে। সবচেয়ে সুখে আছে অহনা। অনেকটা মান্না দের গানের সুজাতার মতো। 'লাখপতি স্বামী', 'হীরে আর জহরতে আগা-গোড়া মোড়া', এসব নিয়ে ওর বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। শুধু স্বামীর গালে ঠোঁট লাগিয়ে সেলফি, প্রতি মাসে বেড়ানো, ইনানি থেকে বালি, বারো মাসে তেরোটা উপলক্ষে কেক কাটা, এসব রিমিকে পুড়িয়ে মারে। সবাই কত মজায় আছে। আর ও বিয়ে করেছে কাকে? যার জীবনে হানিমুন নেই, জন্মদিন নেই, কোনো দিবস পালন নেই, সেলফি নেই, ভালোবাসা নেই।

অঞ্জন রিমির কষ্ট বোঝে। কিন্তু কিছু মানুষ কোনো কিছু মুখ ফুটে বলতে পারে না। কেন পারে না? কেন সে বাসায় ফুল কিনে আনে, কিন্তু হাতে দেয়ার আগে জড়িয়ে ধরতে পারে না? ছুটির দিনে রিকশায় ঘুরতে পারে; কিন্তু 'ফিলিং ওয়াও' জাতীয় স্ট্যাটাস দিয়ে সবাইকে জানাতে পারে না। রিমির কোনো ছবি ভালো না লাগলেও 'লাভ' রিঅ্যাক্ট দিতে পারে না? কোনো মিথ্যা আশ্বাস দিতে পারে না? ভালোবাসার অভিনয় করতে পারে না। অঞ্জন শুধু রিমির একটার পর একটা বিষণ্ন স্ট্যাটাস পড়ে মন মরা হয়ে থাকে।

আজ ফিরতে ইচ্ছে করেই দেরি করে অঞ্জন। 'জোনাকি' স্ট্যাটাসটা পড়ে ওর নিজেরই মন খারাপ হয়ে গেছে। এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করছে ভেতরে। ফোনটাও বন্ধ। ১০টার দিকে ঘরে ফিরেই চমকে ওঠে অঞ্জন। সারা ঘর আলোয় সাজিয়ে রেখেছে রিমি। ও ঢুকতেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মেয়েটা। ছাড়ার কোনো নাম নেই। অঞ্জনের ছুটে আসার কোনো চেষ্টাও নেই।

'তোমার স্ট্যাটাসটা পড়ে মন খারাপ হয়েছিলো। আমার জন্যে কত কষ্ট করো তুমি। আই অ্যাম স্যরি।'

'ধুর, ওই স্ট্যাটাস আমি কখন ডিলিট করে দিয়েছি।'

অবাক হয় অঞ্জন। কেন?

'আমরা জোনাকি না। আমরা তারকা। আকাশে জ্বলজ্বল করা তারকা। দিনের বেলার তারকা। তাই সূর্যের আলোয় ঢাকা পড়ে গিয়েছিলাম। এখন রাত নেমেছে। আর কেউ আমাদের ঢেকে রাখতে পারবে না।'

বিস্ময়ে অঞ্জনের চোখে জল এসে যায়। 'কী বলছ এসব। তুমিই না একদিন বলেছিলে আমরা উইপোকা। যে উইপোকা জন্মান্ধ। পৃথিবীর আলো দেখেনি কোনোদিন। আর তোমার বান্ধবী, কী যেন নাম, হ্যাঁ, মনে পড়েছে, অহনা। ওরা মুক্ত বিহঙ্গ।'

'রাখো অহনার কথা। ওদের অভিনয় সব ধরে ফেলেছি। আমরাই ভালো আছি।'

অঞ্জনের বিস্ময় শেষ হয় না। 'কী করেছে অহনা?'

'ওদের ডিভোর্স হয়ে গেছে।'

অঞ্জন নির্বাক। কিছুটা কৌতুকও অনুভব করে। ফেসবুকে যারা 'দিবস রজনী ভালোবাসা ভালোবাসা' বলে চিৎকার করে, তাদের জন্যে কিছুটা করুণাও হয়।

ভালোবাসা, ভালো থাকার সংজ্ঞাটাই পালটে যায় অঞ্জন আর রিমির।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮৭৬৫
পুরোন সংখ্যা