চাঁদপুর। শনিবার ১১ নভেম্বর ২০১৭। ২৭ কার্তিক ১৪২৪। ২১ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩০। এটাই প্রমাণ যে, আল্লাহ্-ই সত্যি এবং আল্লাহ্ ব্যতীত তারা যাদের  পূজা সব মিথ্যা। আল্লাহ্ সর্বোচ্চ, মহান।


৩১। তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর অনুগ্রহে জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর নির্দেশনাবলী প্রদর্শন করেন? নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক সহনশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে নির্দেশন রয়েছে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


চোখ পেটের চেয়ে বড়।


                               -স্কট।

দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


মুক্তগদ্য
যদি একদিন বানানো হয় স্বপ্নবসতি
কাদের পলাশ
১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

অনেক সময় খুব সহজ বিষয়কে গরল মনে হয়। অথচ কিছুই মনে হয় না। তাইতো তোমাকে খুব কাছে পেয়েও একান্ত নিজের ভাবা হয় নি। তুমি যখন আমার আশপাশে ঘুরঘুর করতে তখন আমি হেয়ালিপনায় মত্ত ছিলাম। তখন তোমাকে বুঝা আপন করে নেয়া খুব সহজ ছিলো। অথচ আজ তুমি দুর্বোধ্য। পাথরের ন্যায় কঠিন। ইস্পাতের ন্যায় ক্ষুরধার। আগুনের দাবানল। আমি তোমায় বুঝতে পারি না। সম্ভব হয়ে ওঠে না। নিজের ছায়া বুঝা যেমনি কঠিন, ঠিক তেমনই বলতে পারো। অনেক দূরে তোমার অবস্থান। সত্যিকার অর্থে তুমি কাছেই আছো। হাত বাড়ালেই তোমার অস্তিত্ব অনুভব করি। সময়গুণে এখন তুমি অনেক বড় হয়েছো। বাস্তবতায় আমিও। আজ যখন বুক পেতে এগিয়ে আসি। তুমি পীঠ দিয়ে সরে যাও। কাছের করতে ব্যর্থ হই। বুঝতে গিয়ে হই পরাস্ত। কখনো কখনো কর্ম নামের এক নিষ্ঠুর ব্যস্ততা তোমাকে নিয়ে ভাবতে দেয় না। অদৃশ্য কঠিন বাস্তবতার জালে আমি বন্দি। অথচ কত কাছাকাছি ছিলে তুমি। কত সহজভাবে ছিলে। আমি জানি; তোমার পৃথিবী এখন অনেক বড়। প্রসস্ত।

তোমার হৃদয়ের ভাষা বুঝেছি আর না বুঝেছি শুধু বুঝার ভান ধরেছি। অনেক অধ্যবসায় করেছি তোমার চোখের ভাষা বুঝতে। সম্ভব হয়নি। বুঝা হয়নি ঠোঁটের ইঙ্গিত। এও আমার চরম ব্যর্থতা বলতে পারো।

দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করা অসম্ভব নয়। কিন্তু বড় মানুষ হওয়ার খুব সহজ কাজ নয়। প্রমথ চৌধুরীর শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধটা আমার হৃদয় ছুঁয়েছিলো। যে শিক্ষা মনুষ্যত্ব বোধ জাগ্রত করে না, সে শিক্ষার কোনো দাম নেই। কথাটা মনে ধরেছিলো। আবু ইসহাকের জোঁক গল্পটা শোষণ আর পরাধীনতা সম্পর্কে অবগত করেছিলো। কাজলা দিদি কবিতায় দিদির প্রতি দরদ বাড়িয়েছিলো। শুধু তোমার মূল্য বুঝি নি। আর বুঝি নি বলেই আজ নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়। অনুসূচনা হয়। খুব খারাপ লাগে। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়। দক্ষ পাঠকদের ভীড়ে আমি লজ্জি্বত হই।

এখন বলতে ইচ্ছে হয় কথকতা। খুব সহজে মনের গহীনে জমা কথাগুলো বলতে চেষ্টা করি। পারি না। ইচ্ছে হয় তোমায় আবিষ্কার করি। হয়ে উঠে না। সময় খুব নিষ্ঠুর। আমায় ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। কখনো আমি ইচ্ছে নদীতে গোসল করতে পারি নি। সব সময় ইচ্ছের বাইরে আমায় চলতে হয়েছে। নদীর কোমল ঢেউ চেয়ে, পেয়েছি উত্তাল সাগরের বাণ। সেই সাগরে বারবার ডুবে যাই। হাবু ডুবু খেয়ে আবার উঠি। কোনক্রমে বেঁচে যাওয়া। এখন বাঁচতে চাওয়াটাও দায়িত্বের খাতিরে। আমার কষ্ট হচ্ছে তাতে কী? কাউকে না কাউকেতো সুন্দর পথ বাতলে দেয়া হয়। আমি হতে পারি কারো জীবনে জলন্ত উদাহারণ।

মোবাইলের টাসপেডে সঠিক গন্তব্য খুঁজে পায় না আঙুল। মাঝে মাঝে মনও এভাবে ছুটে চলে। গন্তব্যহীন উদ্দেশ্যহীন। বুঝাই যায়, আজ মন ও শরীর বিরতিহীন ছুটে চলছে। দাঁড়ি নেই, কমা নেই, নেই সেমিকোলন। আর্শ্চায্য রকমের বেপরোয়া মন। চোখের পাতায় বারংবার ভেসে উঠে তোমার মুখ। এই বুঝি ঘরের দরজায় এসে ঠকঠক আওয়াজ দিলে তুমি। দরজা খুলতেই দেখবো সহস্র বছর হেঁটে চলা ক্লান্ত মুখ। আমি আলতো করে মুছে দেবো চুইয়ে পড়া ঘাম। আঊলা চুলগুলো গুছিয়ে দেবো আঙুল চিরুনীতে। তুমি হেলে পড়বে আমার বুকে। আমি জড়িয়ে ধরে ভুলে যাবো সব বিস্মৃতি। বুঝতে না পারার বিষাদ। ফিরে পাবো পালতোলা অনেকগুলো রঙিন দিন। কিন্তু তা আর হলো কই? তুমি এলে না। আমি প্রতিদিন এভাবে ভেবে যাই, তুমি হেঁটে যাও আমার বুকের উপর দিয়ে কিন্তু থামো না। আমি তোমার পায়ের আওয়াজ শুনি। তোমার দম নেয়ার শব্দ শুনি। তোমার ক্রোধ রাগ অভিমান সব আমি বুঝি। অনুভব করি। আমি সব মুছে দেবো তুমি ফিরে এলে। শুরুটা ফের নতুন করে হবে। এভাবে কত রাত, কত দিন কেটে গেছে কখনো বুঝবে না তুমি। বিশ্বাস করো, হিসেব মেলাতে পারবে না। কারণ আমার কাছে প্রতিটি মিনি সেকেন্ডকে দিন মনে হয়। সময় বয়ে যায়। দিন রাত মাস বছর চলে যায়। আমি ভেবে চলি মাকড়সার জালের মতো আবল তাবল। যদি একদিন বানানো হয় স্বপ্নবসতি।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮৪০৩
পুরোন সংখ্যা