চাঁদপুর। শনিবার ১৩ জানুয়ারি ২০১৮। ৩০ পৌষ ১৪১৪। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯
kzai
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  •  ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রকিকুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ||   || -------------------- || ------- || শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রাকিকুল হাসান (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   ||  ||  শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রকিবুল ইসলাম (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ||   ||   || শাহরাস্তি থানার উপ সহকারী পরিদর্শক রাকিবুল হাসান (৩৫) শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৪-সূরা সাবা


৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মাক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০১। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নভোমন্ডলে যা আছে এবং ভূমন্ডলে যা আছে সব কিছুর মালিক এবং তাঁরই প্রশংসা পরকালে। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।


০২। তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে, যা সেখান থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় এবং যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি পরম দয়ালু ক্ষমাশীল।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


 


 


দুঃখ কখনো একা আসে না, সে দল বেঁধে আসে। -সেঙ্পিয়ার।


 


 


যাদের সামর্থ্য থাকা অবস্থায় হজ্ব করল না তারা ইয়াহুদী হইয়া মরুক অথবা নাসারা হইয়া মরুক তাতে আমার কিছু আসে যায় না।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
হরিণ হয়ে থেকে গেল তারা
গাজী মুনছুর আজিজ
১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পশুপতিনাথ। অর্থাৎ পশুদের অধিকর্তা। আর পশুদের অধিকর্তা নামে নেপালের এ মন্দিরের ভেতর কোনো পশুর মূর্তি থাকেবা না তা কি হয়? অবশ্যই আছে, তা-ও আবার ছোটখাটো নয়, তামার তৈরি বিশাল এক ষাঁড়ের মূর্তি। আর পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ জুড়ে অসংখ্য বানরের ছোটাছুটিও আছে। এক সকালে কাঠমান্ডুর থামেল থেকে ট্যাঙ্েিত আসি প্রাচীন এ শিব মন্দিরে। স্থানীয় ম্যাপের হিসেব অনুযায়ী কাঠমান্ডু থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্বদিকে বাগমতি নদীর তীরে এ মন্দির।



 



মন্দিরটি ১৯৯৭ সালে ইউনোস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নেপালের ইতিহাস ঘেঁটে দেখি ৪০০ খ্রিস্টাব্দে এ মন্দিরের গোড়াপত্তন হয়। তারপর সংস্কার করা হয় একাধিকবার। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি শিবের সবচেয়ে পবিত্র মন্দির বলে পরিচিত। শুধু তাই নয়, নেপালীরা দাবি করেন এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিব মন্দির। ২৬৪ হেক্টর জমি জুড়ে মন্দিরের অবস্থান। আর মূল মন্দিরের আশেপাশে ছোটবড় মিলিয়ে আরও ৫শ' ১৮টি মন্দির আছে। অবশ্য শিব মূল মন্দির একটাই। বিশাল এ মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও বিভিন্ন রকমের। এক বর্ণনায় আছে_ শিব ও পার্বতী কাঠমান্ডু উপত্যকায় বেড়াতে আসেন এবং যাত্রা পথে বাগমতি নদী ও নদীপাড়ের বনের প্রকৃতি তাদের কাছে ভালো লাগে। এজন্য শিব ও পার্বতী নিজেদের রূপ বদলে হরিণের রূপ ধারণ করে এখানে বেড়াতে থাকেন এবং একসময় পশুদের দেবতা বা পশুদের অধিকর্তা হিসেবে থেকে যান।



মন্দিরের প্রবেশ পথের দু'পাশে অসংখ্য দোকান আছে। এসব দোকানে পূজার পসরা, রঙ, অ্যান্টিক-শোপিস, বিভিন্ন ধরনের মুখোশ, উজ্জ্বল রঙের পুঁথি কিংবা পাথর দিয়ে তৈরি স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী গহনা, স্থানীয়দের তৈরি পর্যটন-স্মারক, আবিরসহ নানা পণ্যের সমাহার আছে। অনেক দোকানে লালপদ্ম, গাঁদা, জবাসহ নানা ধরনের তাজা ফুলের পসরাও আছে। পূজারিরা এসব ফুল কিনেন। আবার অনেক দোকানে নেপালি কয়েনের প্যাকেট আছে। এক, দুই বা পাঁচ রুপির এসব কয়েনের প্যাকেট পূজারিরা কিনেন মানতের প্রয়োজনে।



মন্দিরের গেটে জুতা রাখার স্থানে জুতা রেখে প্রবেশ করি আমরা। তারপর ঘুরে দেখতে শুরু করি মন্দির প্রাঙ্গণ। অবশ্য মূল মন্দিরে ঢোকার আগে আমরা বহিরাঙ্গণটাই ঘুরি। মন্দিরের প্রবেশমুখের খোলা মাঠে অসংখ্য কবুতর। মন্দিরে আসা পুণ্যার্থীরা এ কবুতরকে খাবার ছিটিয়ে দেন পুণ্যের আশায়। খোলা মাঠ ছাড়াও মন্দিরের প্রায় সব স্থাপনার ছাদেও দেখি কবুতরের বিচরণ। বিশাল জায়গা জুড়ে প্রাচীন এ মন্দিরে অসংখ্য পুণ্যার্থীর সমাগম আছে। মূল মন্দির ছাড়া অন্য ছোট মন্দিরগুলোতেও পূজা করছেন পুণ্যার্থীরা।



 



দেখি কেউ কেউ পূজা করছেন একা একা, আবার অনেকে একসঙ্গে মিলেও করছেন। পুরোহিতও অলাদা আলাদা স্থানে কাউকে একা আবার একসঙ্গে অনেককে পূজা করাচ্ছেন। কারো কারো পূজার পসরায় সাজানো আছে ধান ও চালের অনেক প্লেট। এ প্লেট আবার গাছের পাতা দিয়ে বানানো। আবার কারো পূজার পসরায় আছে ফুল ও ফল-ফলাদির সমাহার। কেউ আবার পূজার অনুষঙ্গ হিসেবে রঙ দিয়ে আলপনাও অাঁকেন।



মন্দির প্রাঙ্গণ জুড়ে ছোট-বড় যেসব মন্দির বা স্থাপনা আছে, সেসব স্থাপনার দেয়াল জুড়ে আছে পাথর বা কাঠের খোদাই করা বিভিন্ন দেব-দেবির মূর্তি বা ট্যারাকোটা। কিছু মন্দিরের দেয়াল বা দরজায় আছে তামা বা পিতলের খোদাই করা বিভিন্ন দেব-দেবির মূর্তি বা ট্যারাকোটা। আর পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ জুড়ে অনেক বানরের ছোটাছুটিতো আছেই। তবে এরা বেশ শান্ত। পুণ্যার্থী বা পর্যটকদের বিরক্ত করে না।



বহিরাঙ্গণ থেকে আমরা এবার আসি মূল শিব মন্দিরে। এ মন্দিরের দরজা পেরোলেই দেখা মেলে তামার তৈরি বিশাল ষঁাঁড়ের। ষাঁড়টি বসে আছে। ষাঁড়ের সামনেই মন্দির। এ প্রাঙ্গণটিও বেশ বড়। পুরো মন্দিরটি বাগমতি নদীর দু'পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। তবে মন্দিরের প্রবেশ পথ যে পাড়ে, মূল মন্দিরও সেই পাড়ে। আর অন্য পাড়ে মন্দিরের কিছু অংশ আছে। সেই পাড়ে অবশ্য পুণ্যার্থীদের ভিড়ও নেই। তবে নদীর এ পাড়ে পুণ্যার্থীদের প্রার্থনা চলে। অনেকেই মনের আশা পূর্ণ করতে নদীর পাড়ে থাকা দেবদেবির মূর্তির প্রতি টাকা (রুপি) বা কয়েন ছুঁড়ে দেন।



বেশ কিছুক্ষণ ঘুরে আবার আসি মন্দিরের বহিরাঙ্গণে। নেপাল ঘোষিত হিন্দু রাষ্ট্র হলেও এ মন্দিরের পুণ্যার্থীর বেশ বড় একটি অংশ ভারতীয়। আর ইউরোপ-আমেরিকাসহ নানা দেশের পর্যটক তো আছেনই। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতির চিহ্ন মন্দিরের বহিরাঙ্গণের অনেক স্থাপনাতে এখনও বিদ্যমান। তবে সংস্কারও চলছে।



বের হওয়ার আগে মন্দিরের বহিরাঙ্গণে দেখি নেপালি সিনেমার শুটিং চলছে। নায়িকা তার মা বা খালাকে নিয়ে এসেছেন পূজা দিতে। অবশ্য শুটিংয়ের দিকে আমার মন নাই, মন আমার অন্যদিকে। বের হওয়ার সময় গেটে দেখি কয়েকজন হারমনি-ঢোল বাজিয়ে গান গাইছেন। মূলত তারা অন্ধ ভিক্ষুক। গান বা প্রার্থনার সুর করে ভিক্ষা করেন।



 



 



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৫৯১৫৯
পুরোন সংখ্যা