চাঁদপুর। শনিবার ১৩ জানুয়ারি ২০১৮। ৩০ পৌষ ১৪১৪। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৪-সূরা সাবা


৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মাক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০১। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নভোমন্ডলে যা আছে এবং ভূমন্ডলে যা আছে সব কিছুর মালিক এবং তাঁরই প্রশংসা পরকালে। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।


০২। তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে, যা সেখান থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় এবং যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি পরম দয়ালু ক্ষমাশীল।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


 


 


দুঃখ কখনো একা আসে না, সে দল বেঁধে আসে। -সেঙ্পিয়ার।


 


 


যাদের সামর্থ্য থাকা অবস্থায় হজ্ব করল না তারা ইয়াহুদী হইয়া মরুক অথবা নাসারা হইয়া মরুক তাতে আমার কিছু আসে যায় না।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ফ্রিদা কাহলোর শিল্পী হওয়ার গল্প
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিশ্ব চিত্রকলার অর্জন, অগ্রগতি ও বিশেষ প্রবণতার কথা উল্লেখ গেলে যে কজন শিল্পীর নাম অপরিহার্যভাবে চলে আসে, তাঁদের মধ্যে মেঙ্কিান চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলো অন্যতম। চিত্রকলার ইতিহাসে তিনি আত্মজৈবনিক শিল্পী হিসেবে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। ব্যক্তি ফ্রিদা ও তাঁর ঘটনার অনুষঙ্গ ব্যবহারের সাথে প্রতীকের ব্যবহার, মিথের প্রয়োগ এবং ঐতিহ্যের উপস্থাপন তাঁর চিত্রকর্মকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। জীবনের দুঃখের ছোবল, বেদনা ও রক্তাক্ততার প্রকাশ তাঁর অধিকাংশ ছবিতে সরলমাত্রায় উন্মোচিত হয়েছে।



 



ফ্রিদা কাহলোর জন্ম মেঙ্েিকা সিটিতে, ১৯০৭ সালের ৬ জুলাই। ১৯১৩ সালে ফ্রিদা মাত্র ছয় বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হন। এ রোগে চিকন হয়ে যায় তাঁর ডান পা। এমনকি পায়ের পাতাও বাঁকিয়ে গেলো। এই শারীরিক অসঙ্গতি ফ্রিদাকে কম তাড়িয়ে বেড়ায়নি। কিন্তু ফ্রিদা হয়তো জানতেন না যে, স্রষ্টা তাঁর জন্যে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ কিছু জমা রেখেছিলেন। এই 'ভয়াবহ' অবস্থা এমনি যে-যার জন্যে তাঁকে আমৃত্যু জ্বলে-পুড়ে ছাই হতে হয়েছে। অমানবিক হলেও সত্য, শিল্পের জন্যে এ ঘটনাটি ছিলো ইতিবাচক। কেননা, এই দুর্ঘটনাটি কেবল ফ্রিদাকে দুঃসহ জীবনের দিকে ঠেলে দেয়নি, সাথে সাথে তাঁকে চিত্রশিল্পী হওয়ার পথেও ধাবিত করেছিলো। এ দুর্ঘটনাটি না ঘটলে তিনি হয়তো আর চিত্রশিল্পী হিসেবে গড়ে উঠতেন না।



 



১৯২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, তখন ফ্রিদার বয়স আঠারো। দিনটি বৃষ্টিতে মাখামাখি। ফ্রিদা মেঙ্েিকা সিটি থেকে কোরোকান যাচ্ছিলেন। হঠাৎই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলির সাথে তীব্র ধাক্কা খেলো। বিশিষ্ট চিত্রসমালোচক অমিতাভ মৈত্র এ সম্পর্কে লিখেছেন, 'একটা মোটা লোহার পাত ফ্রিদার শিড়দাঁড়া চূর্ণ করে, তলপেট জননঅঙ্গ ছিন্নভিন্ন করে বেরিয়ে এসেছে রক্ত ক্লেদ মাংস মাখামাখি হয়ে। পরে দেখা গেল এছাড়া ফ্রিদার কাঁধ, পাঁজরের দুটো হাড় ভেঙেছে। এগারো টুকরো হয়ে গেছে ডান পায়ের হাড়, পায়ের পাতা ভেঙে দুমড়ে গেছে।' এ দুর্ঘটনাটিই ফ্রিদার জীবনের আলো কেড়ে নিলো এবং তাঁর যাপনকে এক ঝলকে পতিত করলো ঘোর অমাবস্যায়। দুর্ঘটনার কারণে পরবর্তীতে ফ্রিদার শরীরে ৩২ বার অপারেশন করতে হয়। বলা হয়ে থাকে, মেঙ্কিান এ শিল্পী তাঁর জীবনের তিনভাগের একভাগ হাসপাতালে কাটিয়েছেন। ফ্রিদা কাহলো ম্যুরালশিল্পী দিয়েগো রিভেরার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ১৯২৯ সালের ২১ আগস্ট ২২ বছর বয়সে ফ্রিদা ৪২ বছর বয়সী রিভেরাকে বিয়ে করেন। ফ্রিদা রিভেরার মধ্য দিয়ে তাঁর অপূর্ণ জীবনের পূর্ণতা খুঁজে পেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু তাও টেকসই হয়নি। গবেষকগণ মনে করেন, তাদের সম্পর্কের তিক্ততার পেছনে 'হঠকারিতা' ও 'বিবিধ সম্পর্ক'ই দায়ী। ফ্রিদা কাহলো আক্ষেপ করে বলেছিলেন, 'আমার জীবনের মারাত্মক দুর্ঘটনা দুটি। একটি বাসের দুর্ঘটনা, অন্যটি দিয়েগো।'



 



ফিদ্রার কাহলোর বাবা গুইলেরমো কাহলো ছিলেন একজন ফটোগ্রাফার। যখন ফ্রিদা বাস দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত, কোনো কিছুতে মন বসছে না তাঁর, সেসময়ে গুইলেরমো মেয়ের হাতে রঙ-তুলি তুলে দেন। যদিও কোনো লক্ষ্য ছাড়াই ফ্রিদা রঙ-তুলি হাতে নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি চিত্রকলাকেই প্রবলভাবে আকড়ে ধরে ছিলেন। ১৯২৬ সালে তাঁর অাঁকা প্রথম চিত্রকর্মটি ক্যানভাসে বন্দী হয়। চিত্রটির শিরোনাম ছিলো দঝবষভ চড়ৎঃৎধরঃ রহ ধ ঠবষাবঃ উৎবংং্থ। ফ্রিদা কাহলো সারাজীবন ১শ' ৪৩টি ছবি এঁকেছেন। এ ছবিগুলোর মধ্যে ৫০টি ছবি রয়েছে, যে ছবিগুলোতে নিজেকে নিজে এঁকেছেন ফ্রিদা কাহলো। ফ্রিদা কাহলোকে আত্মজৈবনিক শিল্পী বলা হয়, কারণ, তাঁর ছবি শৈল্পিকরূপে তাঁকে ও তাঁর জীবনকে নানাভাবে ক্যানভাসে উপস্থাপন করেছে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যক্তি জীবনের তীব্র দহন, ভাঙন, অসুস্থতা ফ্রিদার দেহ থেকে তাঁর ক্যানভাস পর্যন্ত সঞ্চারিত হয়েছিলো। ফলে তাঁর অাঁকা ছবিগুলো হয়ে উঠেছে স্বরবিদ্ধ, নির্মম জখমভরা এবং ভীষণভাবে রক্তাক্ত।



 



ফ্রিদা কাহলো নিজের জীবন ও যাপনকে কেন অাঁকতেন_এ প্রশ্ন সহজভাবেই সামনে আসে। এর ব্যাখ্যা হতে পারে এরকম_ফ্রিদার জীবনের সবচেয়ে বড় একটি বিষয় 'বাস দুর্ঘটনা'। অন্যদিকে রিভেরা-বিচ্ছেদও কম বড় ঘটনা নয়। ফ্রিদার জীবনের এরচেয়ে বড় কোনো ঘটনা আসেনি, যে ঘটনা তাঁকে ও তাঁর শিল্পকে অতিমাত্রায় প্রভাবিত করতে পারে এবং চলমান সময় থেকে তিনি নিস্তার লাভ করতে পারেন। ফলে ফ্রিদা তাঁর জীবনের বড় ঘটনা প্রবাহটিকেই বারবার এঁকেছিলেন। ফ্রিদা নিজেই একবার বলেছিলেন, 'আমি প্রায় সময়ই একাকিত্বের মধ্যে নিমজ্জিত থাকি। আমি কেবল আমার ছবি অাঁকি, কারণ, ব্যক্তি আমিই হচ্ছে এমন একটি বিষয়, যাকে আমি সবচেয়ে ভালোভাবে জানি।' ফ্রিদা মনে করতেন, যদিও তাঁর ছবিগুলো বেদনার প্রকাশবাহক, তবু চিত্রকলাই তাঁর জীবনকে পূর্ণতা দিয়েছে। ফ্রিদার আত্মবিশ্বাস যে যথাযথ, তা আর নতুন করে বলা সময়ক্ষেপণ মাত্র। জীবনের দুঃখ ও নিরাশা, দহন ও পীড়ন যে জীবনকে অর্থবহ ও প্রসারিত করতে পারে_এটি ভাবা খুব কষ্টসাধ্য। কিন্তু একজন ফ্রিদা কাহলো এই ভাবনার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য উদাহরণ হয়ে রইলেন। তাঁর সৃষ্টি তাঁকে শিল্পের রাজদরবারে অমর করে রেখেছে। একজন শিল্পীর জন্যে এমন প্রাপ্তি সর্বোচ্চ আনন্দের ও জীবনের জন্যে সর্বোচ্চ সার্থকতার।



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭৮১১০
পুরোন সংখ্যা