চাঁদপুর। শনিবার ১৩ জানুয়ারি ২০১৮। ৩০ পৌষ ১৪১৪। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৪-সূরা সাবা


৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মাক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০১। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নভোমন্ডলে যা আছে এবং ভূমন্ডলে যা আছে সব কিছুর মালিক এবং তাঁরই প্রশংসা পরকালে। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।


০২। তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে, যা সেখান থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় এবং যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি পরম দয়ালু ক্ষমাশীল।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


 


 


দুঃখ কখনো একা আসে না, সে দল বেঁধে আসে। -সেঙ্পিয়ার।


 


 


যাদের সামর্থ্য থাকা অবস্থায় হজ্ব করল না তারা ইয়াহুদী হইয়া মরুক অথবা নাসারা হইয়া মরুক তাতে আমার কিছু আসে যায় না।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
একজন জয়া
সোহানুর রহমান অনন্ত
১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এক.



বৃষ্টি দেখলেই কেন যেন রবীন্দ্রনাথের বই নিয়ে বসে পড়তে ইচ্ছে করে। ধরণীর যতো পাপ সব ধুয়ে মুছে দিতেই যেন বৃষ্টির আগমন। জানালার পাশে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লাম। মোবাইল ফোনটা আবার বেজে উঠলো। এবার জয়ার ওপর রীতিমত বিরক্তি ধরে গেল আমার। মেয়েটাকে কতবার বারণ করেছি। আমাকে দিয়ে প্রেম-টেম হবে না। বেকার মানুষ, পাস করে চাকুরির জন্য ঘুরে ঘুরেই তো দিন শেষ, প্রেমিকাকে সময় দিবো কখন? গত বছর একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে জয়ার সাথে পরিচয়। তারপর বন্ধুত্ব, জয়াই প্রথম ভালোবাসার কথাটা বলে মুখ ফুটে। কিন্তু এইসব যেন আমার কাছে কেবলই টাইম লস মনে হয় তাই ওকে ফিরিয়ে দিলাম। কিন্তু জয়া বার বার এসে দাঁড়াতে চাইছে আমার মনের আঙিনায়। আমার ক্লান্ত মন যদিও জয়াকে স্বাগত জানাতে বিন্দুমাত্র রাজি নয়। কেন রে বাবা বন্ধুত্বের ভালোবাসাটা কি যথেষ্ট নয়? বইয়ের পাতায় চোখ রাখলাম। কি অদ্ভুত ব্যাপার গল্পে আজ একদমই মন বসছে না। মনের কোণে নূপুরের ছন্দের মতো কিছু একটা বাজছিলো। নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করি, সত্যি কি আমি জয়াকে ভালোবাসি না? তাহলে চাঁদনী রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে ওর কথা ভাবি কেন? শান্ত নদীতে পা ভিজিয়ে ওর কথা ভাবি কেন? অথবা কুয়াশা ভেজা গোলাপের পাঁপড়িতে চুমু খেয়ে ওর কথা ভাবি কেন? এর উত্তর যদিও আমার অজানা তবুও যাকে নিয়ে এত ভাবনা মনের আনাচে কানাচে ঘুরপাক খাচ্ছে তাকে কেন এত অবহেলা? ধাৎ বুঝেছি আজ গল্প পড়া হবে না। মাথাটা বেশ ঝিমঝিম করছে, এক কাপ চা খেতে পারলে মন্দ হতো না। নিরবে একলা মনে কিছুটা সময় কেটে গেলো। বৃষ্টি থেমে গেছে। চেয়ারে হেলান দিয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নিজেও টের পাইনি। ঘুম ভাঙতেই দেখি লোডশেডিং, তবে আকাশে উঠেছে ফুটফুটে চাঁদ। তারই মায়াবী আলো ঘরের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পরেছে। যেন মনে হচ্ছিলো হাত বাড়ালেই কেউ আমার হাত ধরে বলবো, চলো জ্যোৎস্নার আলোয় কোনো এক রেললাইনের পথ ধরে অনেক দূর হেঁটে যাই। কুয়ায়ার নরম স্পর্শের মতো ছুঁয়ে দেই তোমার হৃদয়টাকে অথবা কান্নার রং দিয়ে একে দেই তোমার হৃদয়ের আল্পনা। আমি যেন ভালোবাসতে শিখি, সেই কথা ভেবে।



 



দুই.



পৃথিবীটা সীমাহীন আমি বড় একা। জয়ার কথাটা মনে পড়ে গেলো। পাগলি মেয়ে, নইলে কেউ এমন পাগলামো করে। চেয়ার থেকে উঠে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। সত্যি এমন রাত তো কেবলই ভালোবাসার। ঘর থেকে বেরিয়ে ছাদের এক কোণে গিয়ে দাঁড়ালাম। বৃষ্টিভেজা শহর, তার উপর চাঁদের আলো অন্যরকম দৃশ্য একেছে। টুকুটুক করে শব্দ হলো মোবাইলে। জয়ার এসএমএস এতে কোনো সন্দেহ নেই। ভাবছি সীমটাই চেঞ্জ করে ফেলবো, এইরকমটা আর ভালো লাগে না আমার কাছে। এক কোণে দাঁড়িয়ে জয়ার এসএমএসগুলো পড়তে লাগলাম। কত সুন্দর করে ভালোবাসার কথা লিখতে পারে জয়া। কত সুন্দর গুছানো কথা, আমার জায়গায় অন্য কোণে ছেলে হলে হয়তো ওকে ভালোবাসতো। কিন্তু আমি পারি না, কেন পারিনি আমি নিজেকে নিজে আবারো প্রশ্ন করি। কিন্তু কোনো উত্তর নেই। শেষের এসএমএসটা এসে থমকে গেলাম। তাতে লেখা আজকের পর থেকে আর কোনদিন ডিস্টার্ব করবো না তোমায়। তোমার জীবন থেকে অনেক দূর চলে যাবো। যে শহরে তুমি নেই। যেখানে গেলে তোমাকে আর দেখবো না, জানি প্রচুর কান্না পাবে প্রথম প্রথম হয়তো এক সময় সেই কান্নার জলও শুকিয়ে যাবে। তবুও তোমাকে আর বিরক্ত করতে চাই না। এক তরফা ভালোবেসে কি হবে বল, এ ভালোবাসা যে একটু হাসি ফোটাতে পারে না মুখে, কেবলই শেষ রাতে ডুকরে উঠা কান্নার মতো কাঁদিয়ে যায়। ভালো থেকো, অনেক অনেক ভালো থেকো। জয়ার জন্য এই প্রথম আমার বেশ খারাপ লাগলো। মেয়েটাকে এভাবে কষ্ট না দিলেও পারতাম। আমাকে ভালোবাসা যদি ওর দোষ হয়ে থাকে তবে ওকে ভালো না ভেসে আমিও অন্যায় করেছি।



 



তিন.



পরদিন আর কোনো এসএমএস আসেনি আমার ফোনে। এই প্রথম আমি জয়ার এসএমএসের জন্য অপেক্ষা করছি। কেন যেন খুব মিস করতে লাগলাম জয়াকে। সারাটাদিন কেটে গেলো জয়ার কোনো এসএমএস নেই। জয়ার বাড়ির সামনে প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলাম। প্রায় প্রতিদিন জয়া ছাদে ওঠলেও আজ আর ছাদে উঠেনি। কেন জানি খুব কান্না পেতে লাগলো আমার। জয়া ছাড়া যে আমি কতটা রিক্ত তা উপলব্ধি করতে পারছি খুব সহজে। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে ফোন করতেই দেখি জয়ার নম্বর বন্ধ। আরো বেশ কয়েকবার ট্রাই করলাম, উত্তেজনা যেন আমাকে গ্রাস করলো। পাগলের মতো বেশ কয়েকবার ডায়েল করলাম কিন্তু সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। ইচ্ছে হচ্ছিলো মোবাইলটাকে আছড়ে ফেলি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শত্রু মনে হতে লাগলো মোবাইলটাকে। কেন জয়ার সংযোগ পাচ্ছি না আমি। কেন পাচ্ছি না কেন? জয়াকে কে আমিও অনেক ভালোবাসি সেটা টের পেতে লাগলাম। হতাশা নিয়ে নিজের বাসায় ফিরলাম।



কিন্তু রুমের সামনে আসতেই দেখি, দুটো কদম হাতে জয়া দাঁড়িয়ে আছে ঘরের দরজায়। সেই পুরানো মানুষটি কিন্তু আজ যেন একেবারেই নতুন। কপোলে কালো টিপ, চোখে মুখে সুন্দর একটা হাসি। হাতের রং-বেরঙের চুড়ি। আনন্দে আমার চোখে জল চলে এলো। জয়া প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি আসলে তোমাকে বুঝতে পারেনি। আর কোনোদিন এমনটা হবে না। জয়া ঠোঁট টিপে হাসলো আমার কথায়। তারপর কদম ফুলগুলো আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, শুধু তোমার জন্যে।



 



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৫৪৭৮০
পুরোন সংখ্যা