চাঁদপুর। শনিবার ১০ মার্চ ২০১৮। ২৬ ফাল্গুন ১৪২৪। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন

৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বললো হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোনো ক্রমে জানতে পারতোÑ

২৭। যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানীতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

২৮। তারপর আমি সম্প্রদায়ের ওপর আকাশ থেকে কোনো বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং আমি (বাহিনী) অবতরণকারীও না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


তুমি যদি ভালো থাকতে ইচ্ছা করো, তবে চেষ্টা করলেই তা পারবে।

-জেমস্ এ. গ্যারফিল্ড।


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


ফটো গ্যালারি
পাখি রক্ষায় পাখিশুমারি
গাজী মুনছুর আজিজ
১০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সারাবিশ্বে সমন্বিত পাখিশুমারির ৫০ বছরপূর্তি হলো গত বছর। অবশ্য বাংলাদেশে পাখিশুমারি হচ্ছে তিন দশক ধরে। সমন্বিতভাবেই এটা করা হয় প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে। বাংলাদেশে শুমারির নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পাখিবিদ ইনাম আল হক। তার তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর শীত মৌসুমে উপকূলীয় অঞ্চলের কাঁদাচর, হাওরের বিল ও সুন্দরবনে জলচর পাখিশুমারি করা হয়। অবশ্য বাংলাদেশে জলচর পাখিশুমারির শুরুটা হয় ১৯৮৬ সালের দিকে বন্যপ্রাণী গবেষক ড. এসএমএ রশিদ, আনিসুজ্জামান, ওহাব আখন্দের হাত ধরে।



ওয়েটল্যান্ডস্ ইন্টারন্যাশনাল নামের সংগঠন সারাবিশ্বে জলচর পাখিশুমারির সমন্বয় করে থাকে। প্রতিটি দেশে এ সংগঠনের একজন জাতীয় সমন্বয়ক থাকেন। বাংলাদেশে এর সমন্বয়ক ইনাম আল হক। তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে পাখিশুমারির সঙ্গে সম্পৃক্ত।



শুরু থেকেই বাংলাদেশে শুমারির জায়গাগুলো ছিলো ভোলা, নোয়াখালী, কঙ্বাজারসহ উপকূলের বিভিন্ন কাদাচর, সিলেট অঞ্চলের হাওরের বিল ও সুন্দরবন। এখনও এসব জায়গাতেই শুমারি করা হয়।



পাখি গবেষণায় শুমারির গুরুত্ব কতটুকু বা শুমারির উদ্দেশ্য কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে ইনাম আল হক বলেন, 'গণনা করলে জানা যায় কোন্ পাখি কমছে, কোন্ পাখি বাড়ছে। কিংবা কোন্ পাখি কোথায় বেশি, কোন্ পাখি কোথায় কম। এ জানাটা পাখি গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তখন গবেষণা করে বের করা হয় কেনো কমছে। আবার বাড়লেও কেনো। যা বাড়ছে তা খতিয়ে দেখা হয়। সেজন্যে পাখি গবেষণায় শুমারির ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার উদ্দেশ্য হলো-পাখি বাঁচিয়ে রাখা। পাখি পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাখি বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে। পরিবেশ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। তাই পাখি বাঁচিয়ে রাখতে গবেষণা জরুরি এবং গবেষণার জন্যে শুমারির বিকল্প নেই।



শুমারির ফলাফল বিশ্নেষণ করে বাংলাদেশের গবেষকরা গবেষণা চালান। নানা প্রকাশনায়ও ব্যবহার হয় শুমারির ফলাফল। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী যে জলচর পাখিশুমারি করা হয়, তার ফলাফল ওয়েটল্যান্ডস্ ইন্টারন্যাশনাল চার বছর পরপর প্রকাশ করে। সেই প্রকাশনায় বাংলাদেশের শুমারির ফলাফল গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। কারণ, বিশ্বব্যাপী অনেক বিপন্ন বা মহাবিপন্ন পাখির আবাস এ বাংলাদেশ। সেজন্যে পাখির দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে গুরুত্বের তালিকায় রয়েছে। এ গুরুত্বটাও বোঝা গেছে শুমারির মাধ্যমেই। যেমন : কঙ্বাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে ২৫ থেকে ৩০টি চামচঠুঁটো বাটানের আবাস আছে। পাখি গবেষকদের মতে, সারাবিশ্বে এ পাখির সংখ্যা আছে ২শ'টির মতো। আবার নোয়াখালীর হাতিয়ার দমারচরে দেশি-গাঙচষা পাখি দেখা যায় শত শত। এ দুটি পাখি বিশ্বব্যাপী মহাবিপন্নের তালিকায় রয়েছে। আবার গণনা করেই দেখা গেলো অনেক পাখি এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে বা দেখা যায় না বললেই চলে। ইনাম আল হক বলেন, প্রথমদিকে যখন শুমারি করেছি, তখন হাজার হাজার দেশি-গাঙচষা দেখেছি, এখন তা অনেক কম। আবার অনেক পাখি আগে শত শত দেখেছি, এখন দেখি না বললেই চলে। যেমন নাকতাহাঁস, বাদিহাঁস, বেয়ারের ভুতিহাঁস, কালাপেট গাঙচিল ইত্যাদি।



হারিয়ে যাওয়া পাখির আরেকটি বড় উদাহরণ শকুন। বিশেষ করে বাংলা শকুন। একসময় এ দেশে অসংখ্য শকুন দেখা গেছে। এখন কমতে কমতে শ'য়ের ঘরে চলে এসেছে। সারাদেশে এখন শকুন আছে শ'দুয়েকের মতো। এই যে হারিয়ে যাওয়ার সংখ্যা নিশ্চিত করা-এটাও শুমারির ফলাফল। শুমারির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কেবল যে বাংলাদেশেই গবেষণা হচ্ছে তা কিন্তু নয়। এ গবেষণা পৃথিবীজুড়েই। কারণ বাংলাদেশে যে পাখি আছে, তা অন্য দেশে নেই। আবার অন্য দেশে যে পাখি আছে, তা বাংলাদেশে নেই। সুতরাং বাংলাদেশ থেকে কোনো পাখি হারিয়ে গেলে সেটা পৃথিবী থেকেই হারিয়ে গেলো। আবার কোনো পাখির সংখ্যা বাংলাদেশে বাড়লে সেটাও পৃথিবীর পাখির তালিকাতেই যোগ হচ্ছে। এ হিসেবে বাংলাদেশের পাখি শুমারি কেবল বাংলাদেশকেন্দ্রিক পাখি গবেষণার জন্যেই নয়, এ শুমারি বিশ্বব্যাপী পাখি গবেষণারও অংশ। শুমারির তথ্য জাতিসংঘের পরিবেশ বিভাগ থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী গবেষণার নানা কাজেও ব্যবহার করা হয়।



বাংলাদেশের পাখি কিংবা পাখিশুমারির ফলাফল যে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তার বড় উদহারণ হলো টাঙ্গুয়ার হাওর ও সুন্দরবনকে রামসার সাইট ঘোষণা করা। কারণ টাঙ্গুয়ার হাওর ও সুন্দরবনের পাখি সারাবিশ্বের জন্যেই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যে আন্তর্জাতিকভাবেই এ দুটি স্থানকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ দুটি স্থান ছাড়াও পাখির জন্যে বাংলাদেশের নোয়াখালীর হাতিয়ার দমারচর, ভোলার চর শাহজালাল, কঙ্বাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া, মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর, বাইক্কা বিলসহ বেশ কিছু স্থানই আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।



শুমারির পাশাপাশি বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে পাখির পায়ে রিং পরানো হচ্ছে। বসানো হয়েছে পাখির পাখায় ট্রান্সমিটার। পাখি গবেষণায় এ উত্তরণটাও ঘটেছে নিয়মিত শুমারি করার জন্যে। আর রিং পরানোটা পাখি গবেষণার অন্যতম মাধ্যমও। এ রিংগিংয়ের জন্যে পরিযায়ী জলচর পাখির নানা তথ্যও যোগ হয়েছে গবেষণাপত্রে।



শুমারির ফলাফল বিশ্নেষণ করে কেবল পাখি গবেষণারই উত্তরণ ঘটে না, পরিবেশ ও অন্য বন্যপ্রাণী গবেষণায়ও আসে নতুন গতি। কারণ, পাখির জীবনও পরিবেশ ও অন্য বন্যপ্রাণীর সঙ্গে যুক্ত। তাই, পাখির উন্নতি মানেই পরিবেশ ও অন্য বন্যপ্রাণীরও উন্নতি।



ইনাম আল হক বলেন, তিন দশকের শুমারি বিশ্নেষণ করে জেনেছি, পাখি কেনো হারিয়ে যাচ্ছে বা কমে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে এর উত্তরণের পথও জেনেছি। আরও জেনেছি পাখি বাঁচিয়ে রাখাটা আমাদের জন্যে কতটা জরুরি। এ জরুরি কাজটাই আমরা করছি অনেকটা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। তবে পাখি রক্ষায় কেবল পাখি গবেষকরাই নন, সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততাও দরকার। কারণ গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতাও পাখি রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫০০৯৩
পুরোন সংখ্যা