চাঁদপুর। শনিবার ১০ মার্চ ২০১৮। ২৬ ফাল্গুন ১৪২৪। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেবেন মোঃ কামরুজ্জামান। তিনি বর্তমানে এলজিইডি মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন

৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বললো হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোনো ক্রমে জানতে পারতোÑ

২৭। যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানীতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

২৮। তারপর আমি সম্প্রদায়ের ওপর আকাশ থেকে কোনো বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং আমি (বাহিনী) অবতরণকারীও না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


তুমি যদি ভালো থাকতে ইচ্ছা করো, তবে চেষ্টা করলেই তা পারবে।

-জেমস্ এ. গ্যারফিল্ড।


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


ফটো গ্যালারি
রক্ত কিংবা প্রেমের দাগ
সোহেল নওরোজ
১০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রেশমার সঙ্গে দেখা হওয়ার পরদিনই মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়ার কথা ছিলো সৌরভের। রাতে যাত্রা শুরু করেছিল তারা সাতজন। কিছু দূর যাওয়ার পরই তাদের পথ আগলে দাঁড়ায় একটা জিপ। সেখান থেকে খটখট শব্দে নেমে আসে কয়েকজন পাকিস্তানি আর্মি। তাদের পথ দেখাচ্ছিলো মুরবি্ব গোছের একজন মানুষ। অন্ধকারে তার মুখ পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না



সৌরভকে আজ একটু অন্যরকম লাগছে। অন্যদিনের সঙ্গে ঠিক মেলানো যাচ্ছে না। গত কয়েক দিনে গজানো খোঁচা খোঁচা দাড়ির চিহ্ন পর্যন্ত নেই। পরিস্কার গালে মায়াবী একটা আভা লেগে আছে। জলপাই রঙের নতুন পাঞ্জাবিতে ওকে বেশ মানিয়েছে। গায়ে নিশ্চয় সুগন্ধি লাগিয়েছে। সেখান থেকে ভুর ভুর করে মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে। রেশমা দাঁড়িয়েছে ক্যাম্পাসের উত্তর কোণের কদম গাছের নিচে। দূর থেকে হুট করে কেউ দেখতে পাবে না এমন জায়গায়। বাইশ দিন পর সৌরভের সঙ্গে দেখা। এক অদ্ভুত উত্তেজনায় তার পা কাঁপছে। অথচ এমন হওয়ার কথা নয়। সৌরভ আর সে একই সঙ্গে পড়ে। এর আগে কত কথা হয়েছে দু'জনের! মান-অভিমানও হয়েছে অনেকবার। অথচ আজকের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সৌরভকে না বলা কথাগুলো জানিয়ে দেবে রেশমা।



রেশমার কথাগুলো বলার এটা উপযুক্ত সময় নয়। তবু সে বলবে। বাড়ি থেকে তার বের হওয়া ক্রমে কঠিন হয়ে পড়ছে। সৌরভের দেখাও পাওয়া যাচ্ছে না তেমন। সবমিলিয়ে চারপাশে অনিশ্চয়তার প্রচ্ছন্ন একটা আবরণ তৈরি হয়েছে। চাইলেও যা ভেদ করে দু'জনে একান্তে বসতে পারে না। বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে পারে না। দুঃস্বপ্নের ঘোরলাগা সময় ফিকে করে দিচ্ছে তাদের প্রত্যাশা আর স্বপ্নকে। এ অবস্থায় কথা জমিয়ে রাখার অস্বস্তি বয়ে বেড়াতে চায় না রেশমা।



সৌরভ ঘন ঘন ঘড়ি দেখছে। যেনো জরুরি কোনো কাজের মধ্যবিরতিতে ছুটে এসেছে! এখনই ফিরে যেতে হবে। অথচ আজকের দিনটা রেশমার জন্যে বরাদ্দ রাখার কথা ছিলো। সে কথা কি সৌরভ ভুলে গেছে?



'তোমাকে না বলেছিলাম আজ কোনো কাজ না রাখতে! তারপরও বারবার ঘড়ি দেখছ কেনো?' রেশমার কপট অভিমান।



'আমার কথা ভাবছি না রেশমা। আজাদ ভাইয়ের কথা ভাবছি। ঠিক ১২টায় একটা অপারেশনে যাওয়ার কথা। এতোক্ষণে শুরু হয়ে গেছে বোধহয়।' সৌরভের কণ্ঠ ভয় ও আনন্দের মিশ্র অনুভূতিতে কেঁপে ওঠে।



'অপারেশনের বাইরে তুমি অন্য কিছু ভাবতে পারো না?'



'রেশমা, এ সময় বড় অদ্ভুত! একটাই লক্ষ্য আমাদের। একটাই স্বপ্ন সাতকোটি মানুষের অন্তরে। এর বাইরে অন্য কিছু ভাবার সুযোগ কোথায় বলো?'



'তা অস্বীকার করছি না। কিন্তু নিজের জীবন বলেও তো কিছু একটা আছে!'



'নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় এখন নয়। সবার জীবন মিলেই এখন একটামাত্র জীবন, যা লুকিয়ে আছে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকার মাঝে।'



'তোমার কথা শুনলে ভীষণ ভয় হয়। অজানা শঙ্কায় দেহ-মন আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কেনো এমন হয় জানি না। প্রায়ই মনে হয়, দু'জন দূরে কোথাও পালিয়ে যাই। যেখানে বেঁচে থাকা মানে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর গোলা-বারুদের শব্দ নয়। পাখির মতো মুক্তজীবন।'



'সে জীবনের জন্যেই তো এই যুদ্ধ! এতোদিনের প্রশিক্ষণ শেষে অস্ত্র তুলে নেয়া।'



'যদি সে সময় কখনও না আসে! তারচে' চলো এখনই সে জীবনের সন্ধান করি।'



'আর যাই বলো, তুমি আমাকে পালাতে বলো না। মাকে অসহায় অবস্থায় ফেলে কি তার সন্তান কখনও পালাতে পারে? এই দেশ আমাদের মা। মাকে মুক্ত করে ঠিকই তোমার কাছে ফিরে আসবো। তখন দেখবে স্বপ্নরাই আমাদের কাছে এসে ধরা দেবে।'



'তাই যেনো হয়।'



রেশমার সঙ্গে দেখা হওয়ার পরদিনই মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়ার কথা ছিলো সৌরভের। রাতে যাত্রা শুরু করেছিলো তারা সাতজন। কিছু দূর যাওয়ার পরই তাদের পথ আগলে দাঁড়ায় একটা জিপ। সেখান থেকে খটখট শব্দে নেমে আসে কয়েকজন পাকিস্তানি আর্মি। তাদের পথ দেখাচ্ছিলো মুরবি্ব গোছের একজন মানুষ। অন্ধকারে তার মুখ পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না। কিছু বোঝার আগেই তাদের চোখ বেঁধে ফেলা হয়। টেনেহিঁচড়ে তোলা হয় গাড়িতে। এরপরের ঘটনা-ট্রিগারে সাতটি চাপ, সাতটি শব্দ, সাতটি লাশ...



রেশমার বাবা অনেক রাতে বাড়ি ফিরেছে। ঘুম থেকে উঠতে সাধারণত তার দেরি হয়না। আজ কেনো এমন হচ্ছে? ঘরে ঢুকেই অাঁতকে ওঠে রেশমা। বাবার হাতে ধরা সাদা পাঞ্জাবিতে ছোপ ছোপ লাল দাগ। রেশমা নিজেকে সংবরণ করতে পারে না।



'তোমার পাঞ্জাবিতে কিসের দাগ বাবা?'



'মুক্তির রক্ত। এ আচ্ছা জিনিস। সহজে দূর হয় না।'



চোখে রাজ্যের অবিশ্বাস নিয়ে রেশমা দাঁড়িয়ে আছে। তার বাবার পাঞ্জাবি। তাতে রক্তের দাগ। কেনো জানি মনে হচ্ছে, এ সাধারণ কোনো দাগ নয়। এ রক্তের কোথাও মিশে আছে স্বপ্ন আর প্রেম। প্রচ- ঘৃণায় তার শরীর গুলিয়ে ওঠে। মুখ থেকে একদলা থু-থু বের করে বাবার পাঞ্জাবিতে নিক্ষেপ করে-'থু'!



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৬৫৭৬৩
পুরোন সংখ্যা