চাঁদপুর। শনিবার ১০ মার্চ ২০১৮। ২৬ ফাল্গুন ১৪২৪। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন

৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বললো হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোনো ক্রমে জানতে পারতোÑ

২৭। যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানীতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

২৮। তারপর আমি সম্প্রদায়ের ওপর আকাশ থেকে কোনো বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং আমি (বাহিনী) অবতরণকারীও না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


তুমি যদি ভালো থাকতে ইচ্ছা করো, তবে চেষ্টা করলেই তা পারবে।

-জেমস্ এ. গ্যারফিল্ড।


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


ফটো গ্যালারি
সুখের চাঁদ
মেহেরুন নেছা রুমা
১০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


স্বপি্নল পৃথিবীতে স্বাপি্নক হয়ে আমিও কখনো কখনো স্বপ্নের মাঝে বিচরণ করি। জাগরণে আমার স্বপ্নের পাখিরা রঙিন পাখা মেলে নীল আকাশে উড়ে বেড়ায়।



আমার স্বপ্নে আমি দুনিয়ার বুকে সুখের স্বর্গভূমি রচনা করি। কখনো চোখ মেলে, কখনো বা স্বপ্নগুলোকে আরো স্পষ্ট করে দেখার জন্যে আমার চোখের পাতা বন্ধ করে দিই।



আমি হারিয়ে যাই, ভেসে যাই, পুলকিত হই, শিহরিত হই। স্বপ্নের দুনিয়াতে সুখী হতে হতে আমার বুজে থাকা চোখের পাপড়ির ওপর ঘুম এসে জুড়ে বসে। স্বপ্নের রকম যায় পালটে।



প্রায়ই দেখি না দেখতে চাওয়া স্বপ্নটা। আমার বাড়ির সামনে কাফনে মোড়ানো একটি 'মৃতদেহ'।



আমি বহু প্রাণপণে তাকে চিনতে চেষ্টা করি, চিনতে পারি না। তার মুখটি কিছুতেই দেখতে পারি না। হয়তো সে আমারই অন্তরের কাছাকাছি কেউ, হয়তো আমি 'নিজেই'।



না হলে সেই মৃতদেহ দেখে আমার এমন কষ্ট হচ্ছিলো কেনো? কেমন কলিজা ছেঁড়া কষ্ট! বুকের ভেতরটা নিংড়ে নেয় যেনো। আমি ঘুমের ঘোরে কেঁপে উঠি।



একদিন, দুইদিন, তিনদিন আমি প্রায় একই স্বপ্ন দেখি। আমার অন্তর কেঁপে ওঠে, আতঙ্কিত হই, কণ্ঠ জড়িয়ে আসে, আমি চিৎকার দিতে চাই-পারি না, আমি বর্ষার হিমশীতল রাতেও ঘর্মাক্ত হয়ে জেগে উঠে থরথর কাঁপতে থাকি।



হয়তো বা পাশের কোনো মানবের স্পর্শে আমি জেগে উঠি। রাস্তার পাশের লাইট পোস্টের আলোয় আমার ঘরের পাতলা অন্ধকারে আমি দেখতে পাই আমার বাস্তবতাকে। কিন্তু স্বপ্নে কি ছিলো! আমি মন থেকে সরাতে পারি না। কার মুখটি ছিলো! মনের ওপর আমার মেঘের ছায়া ছড়াতে থাকে।



যতই জেগে থেকে সুখের স্বপ্ন দেখতে চাই ঘুম এলেই আমার স্বপ্নের রকম যায় পালটে। আমি ভয়ে থাকি, ঘুমের ঘোরে দেখা আমার প্রায় স্বপ্নই কেনো জানি সত্যি হয়ে যায়।



যদিও জেগে দেখা স্বপ্ন খুব একটা সত্যি হয় না। আমার ক্ষেত্রেই কেনো স্বপ্নের এই পক্ষপাতিত্ব বুঝি না। সেই ভয়ঙ্কর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে খুব বেশি দেরি লাগেনি। আমার জাগরিত স্বপ্নের লাশটিই আমি সুপ্ত থাকা স্বপ্নে দেখতে পাই।



যে অপার সুখের স্বপ্ন তুমি আমায় দেখিয়েছিলে ওটা ছিলো সেই স্বপ্নেরই লাশ! যার মুখটি আমি দেখতেই পারিনি তখন। কত সহজে এখন তুমি সেই স্বপ্নটার বাস্তব রূপ দিলে।



যে মৃত্যু আমি দেখেছিলাম সে মৃত্যু ছিলো আমার আকাশ সমান 'বিশ্বাস'র মৃত্যু, আমার 'পরম নির্ভরতা'র মৃত্যু, 'ভাবনা'র মৃত্যু, 'ভালোবাসা'র মৃত্যু-সর্বোপরি আমার 'স্বপ্ন'র মৃত্যু। যে স্বপ্ন তুমিই আমায় দেখতে শিখিয়েছিলে।



পথের দু-ধারের গাঢ় ঘন সবুজ বনানী তখন নীলাভ কুয়াশার মতো হতে হতে কখন যেনো গাঢ় কালো অন্ধকারে ছেয়ে গেলো। প্রথম ভালোবাসার প্রথম উষ্ণতাটুকু পেতে পেতে আমি যে কোথায় আছি মনে পড়েনি একবারো।



কেনো জানি একবার চকিতে ফিরে এসে পেঁচার ডাকটি শুনতে পেলাম; অথবা পেঁচার ডাকেই আমি চকিতে ফিরে এলাম সজ্ঞানে। ভয়ে গা শিউরে উঠলো আমার।



পাতা ঝরার মর্মর ধ্বনি, আমারই চলার শব্দটা তখন বড় বেশি ঘাবড়ে দিতে থাকলো আমাকে। ভয় থেকে বাঁচতে আমি অাঁকড়ে ধরতে চাইলাম, লতা যেমন গাছকে অাঁকড়ে ধরে, তেমনি করে আমার স্বপ্নকে। পথের শেষ কখন হবে কোথায়ই বা হবে সমাপ্তি, জানা নেই।



নির্ভয়ে আমি নিজের বিশ্বাসটুকু অতি যতনে তোমার দুটি হাত পেতে মুঠোভরে অর্পণ করলাম তোমারই হাতে। দুই হাতে তুলে নিয়ে আমাকে দিলে সাহস, এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা। আহ! কি শান্তি! ঘন অন্ধকারে কালো থেকে নিশিকালো আমি দেখলাম সাদা করে। আমার আর ভয় কি, আছি তো সন্তর্পণে, ভালোবাসা যাকে বলে। ভয় কি? এ তো রুষ্ঠতা নয়, মায়া থেকে মায়া, কাঁপন থেকে কাঁপন।



বনানীর ফাঁকে চিকন সরু রেখার মতো আকাশের বুকে এক সুখের চাঁদ আমার দৃষ্টি ভিজিয়ে দিল। ঈদের চাঁদের মতো করে অনেক আশার আলো নিয়ে একটুখানি নীল জোছনা আমাকে আবেগী পরশে শিহরিত করে দিলো। এরই নাম হয়তো বা ভালোবাসা।



তবু কেনো মানুষ বলে 'ভালোবাসা'? সে তো এক অসুখের নাম।



এ তো সেদিনের কথা।



যা ছিলো সবচেয়ে সুখ; আজ তা হলো সবচাইতে তা অসুখ। আমারও কাছে, অন্য সবারই মতো করে। অথচ সেই তো একটিই নাম তার, একই সত্তা, একই কাঠামো, গড়নে-বরণে একই তার অবয়ব। তবে ছলটা যেন নিত্যনতুন। তবে সে কি শুধুই স্বপ্ন বলে?



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯৭০৫৪
পুরোন সংখ্যা