চাঁদপুর। শনিবার ১০ মার্চ ২০১৮। ২৬ ফাল্গুন ১৪২৪। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
ckdf
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরসহ দেশের বেশ কিছু জেলায় আজ ঈদ পালিত হচ্ছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন

৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বললো হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোনো ক্রমে জানতে পারতোÑ

২৭। যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানীতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

২৮। তারপর আমি সম্প্রদায়ের ওপর আকাশ থেকে কোনো বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং আমি (বাহিনী) অবতরণকারীও না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


তুমি যদি ভালো থাকতে ইচ্ছা করো, তবে চেষ্টা করলেই তা পারবে।

-জেমস্ এ. গ্যারফিল্ড।


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


ফটো গ্যালারি
ভ্রমের মানুষ
হাসান সাইদুল
১০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


_তুই তো নওমিদের পরিবারের একজন নিশ্চিত সদস্য হয়ে গেলি কল্প।



-মানে?



-এই যে প্রতিদিন ভোর বেলা খাবার আনতে যাস। খাবারের রকম দেখলে মনে হয়। যাই রান্না হয় নওমি তোকে দিয়ে যায়।



আসাদের কথা শুনে বিরক্তবোধ করে কল্প। অনেকটা রাগান্বিত ভাব।



-তুই কি মনে করছো নওমি খাবার চুরি করে দেয়। ওদের পরিবারের সবাই জানে। আমার আর ওর সম্পর্কের কথা। তাই প্রতিদিন আমাকে খাবার দিয়ে যায়।



-মুচকি হাসে আসাদ। এটাকে তুই কৃতিত্ব মনে করিস্?



-কি বুঝাতে চাস্ তুই?



-কিছু না।



-তোর প্রেমিকা তোকে দেয় না বলে একটু হিংসা করতে পারিস্ বুঝলাম। বাট, এভাবে বলা তোর উচিত না।



-আমি ঠিক এটা বুঝাতে চাইনি। আর আমার প্রেমিকা আমাকে দিবে কেনো। আমি তো উপবাস থাকি না। আমার যথেষ্ট আছে। আর এটা আমি না বললেও মেসের সবাই জানে।



-থমকে যায় কল্প। তো কি বুঝাতে চাইছিস্ বল্?



-আগে তো একটা চাকুরি করতি। নওমির সাথে সম্পর্ক হওয়ার পর তো ছেড়ে দিলি। এটা বুঝালাম আরকি?



 



খ.



ভালোবাসার মানুষ ভালো থাকুক এটা প্রতিটি মানুষই চায়। প্রেমিক হিসেবে প্রেমিকার এটা প্রথম চাওয়া বটে। কিন্তু একজন প্রেমিক যখন প্রেমিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায় জীবনটা সুখকর হয় না। এ বিষয়টা বন্ধু আসাদ ঠিকই বুঝতে পারছে। মুখে বলতে না পারলেও সহ্য করতে পারছে না। একবছর আগেও কল্প পনের হাজার টাকার চাকুরি করতো।



তার সাথে বাড়তি পয়সা তো থাকেই। কিন্তু দিন দিন সবকিছু বিকিয়ে যাচ্ছে কল্পর। সারাক্ষণ মোবাইল ফেসবুক-ইমো-ভাইবার নিয়ে ব্যস্ত।



অনার্সে এক বর্ষ পড়েই পড়ালেখা শেষ করলো। শুধুই কল্পর দোষ? মনে মনে প্রশ্ন করে আসাদ। আসাদ কল্পর কথাভাবে। কেননা আসাদ কল্পের একজন ভালো বন্ধু।



 



গ.



মাঝেমধ্যে অহেতুক ঝগড়া করে কল্প নওমির সাথে। এতোক্ষণ ফেসবুকে কি করছ্। আমার অনুমতি না নিয়ে কেনো ভাইবারে ঢুকছো? এরই মাঝে দুইদিন ঝগড়া হলে দুইদিন দেখা করা বন্ধ। আর দেখা করা বন্ধ মানে খাবার না দেয়া। বিষয়টা নওমি বুঝতে পেরেও। দোষ না করেও দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেয়।



বাসার কাছে ডাকে খাবার দেয়ার জন্যে। মনও চায় সারাক্ষণ কল্পকে চোখের সামনে দেখতে।



আজ পথের মোড়ে আসাদ কল্পকে খাবারের ব্যাগ নিয়ে আসতে দেখে ডাক দেয়। চা খাবে বলে।



-আচ্ছা, তোকে নওমি কিছু বলে না কল্প?



-কী?



-কিছু একটা করার জন্যে?



-ও তো চায় কিছু যেনো না করি।



-কেনো?



-না করলে ওকে বেশি সময় দিতে পারব। ঘুরতে পারবো।



-ও সময় পায় কই?



-মানে ওর পড়ালেখা নাই?



-ও তো ডাক্তারি পড়ে।



-ডাক্তারি পড়ে এতো সময় কই পায়? রাত একটা দুটায় দেখি তোর সাথে কথা বলে। কিন্তু কি করে সম্ভব?



-এটা ও ভালো জানে।



-আচ্ছা রাতকে রাত কথা বলে কারা জানিস্?



-তুই বল্?



-কাউকে আকৃষ্ট করতে মন জয় করতে নানান রকম কথা বলতে। এতে সময়ের কোনো বাধ মানে না। তোদের সম্পর্ক তো বহুদিনের। এখন ধরতে পারি দাম্পত্য।



-আচ্ছা শোন্ তোর কথা আমি বুঝছি। আমরা কথা বললে তোর সমস্যা কি?



-না কোনো সমস্য নাই। তবে বিবেকে বাধে। ডাক্তারি পড়া খুব খরচের। বাবা-মা তো খরচ দেয়-ই কিন্তু নওমি কি করে সেই ভালো জানে।



প্রচ- রেগে যায় কল্প। মানুষকে ব্যঙ্গ করতে বা ধিক্কার দিতে ভালো লাগে তোর?



কপাল কুঁচকে কল্প বলে ওঠে। মুচকি হাসে আসাদ। হাসতে হাসতে কল্পের কাঁধে হাত রাখে। হাতটা ঝেড়ে পালায় কল্প। তবুও হাসে আসাদ। বলে ওঠে-একটা কিছু কর্। মেসে থাকি। হয়তো কয়দিন কয়মাস পর আমরা কেউ একসাথে থাকবো না। আমার কথাগুলো মনে পড়বে। বলেই কল্পকে বসা থেকে ওঠায়, যা বাসায় যা। নওমি কি খাবার দিছে গরম কর্।



কল্প বাঁকাচোখে আসাদের দিকে তাকায়। শালা যা মনে করছ্! বলেই চলে গেলো কল্প।



 



ঘ.



জীবনে অনেক নির্ভরশীলতা দেখেছি। বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল, ভাইয়ের ওপর, চাচা-বা-মামার ওপর নির্ভরশীল মানুষ দেখেছি। কিন্তু প্রেমিকার ওপর নির্ভরশীল একজন মানুষ দেখলাম এই প্রথম। তাও পুরুষ লোক। চা খেতে খেতে চা দোকানিকে বলে ওঠে আসাদ।



-তোর সমস্যা কী?



-আমার কি সমস্যা? কল্প আমারটা খায় না আমার বিছানায় শোয়?



-তাহলে বাদ দে এসব।



-কেমনে বাদ দেবো বলেন। কল্পর ভবিষ্যৎ খুব খারাপ দেখছি। দুদিন পর যখন নওমির বিয়ে নিয়ে কথা হবে। কল্প কি করতে পারবে। ভালোবাসার টানে নওমি যদিও কল্পের কাছে ছুটে আসে তখন কি করে চলবে ওরা? বন্ধু না মানুষ হিসেবে বলছি আমি।



-তোর কথাও ঠিক কিছু করার নাই। যার সমস্যা তার খবর নাই। তোর কথা বলে শত্রু হওয়ার দরকার কি?



-তাও ঠিক।



 



ঙ.



আজ দুপুর বেলা বাহির থেকে মেসে ঢুকতেই খুব বিষণ্ন দেখতে পেলো আসাদ কল্পকে। একবার এখানে ফোন দেয় আবার ওখানে। কাউকে যেনো বলতে শোনে বোধ হয় নওমিকেই-আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না।



তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না। আমি রিকশা চালিয়ে হলেও তোমাকে আমার কাছে রাখবো। তুমি একটা কিছু করো জান!



কল্পের কথা শেষ হতেই আসাদ সামনে যায়। চোখগুলো লালচে তার।



-কিরে কী হইছে?



-বন্ধু আমি তো শেষ?



-কি হইছে বল্ আগে শুনি?



-নওমিকে দেখতে আসছে। ছেলে লন্ডন থাকে। বিয়ে করে নওমিকে ওখানে নিয়ে যাবে।



-তো এতে অসুবিধা কি। নওমি তো আর রাজি না।



-রাজি না হলে কি হবে। বিয়ে তো আগে বন্ধ করতে হবে।



-বন্ধ করবি।



-কেমনে করবো?



-কেনো তোকে না নওমির পরিবারে সবাই জানে চেনে?



-হুম। কিন্তু নওমির ভাবি তো প্যাঁচ লাগাইছে এখন কেউ রাজি না। আর লন্ডনের ওই ছেলের সাথে ওর বিয়ে দিবে। আমি বাঁচবো না আসাদ।



-কী প্যাঁচ লাগইছে বল্?



-বলছে আমি নাকি বেকার। আমাকে নওমি খরচ দিয়ে চালায়। নওমিকে বিয়ে করে আমি কীভাবে চলবো?



-হুম। আগেই তো বলছিলাম। এখন মিলিয়ে নে...। আমার কথা ঠিক না বেঠিক।



বন্ধু তোর তো পরিচিত অনেক কোম্পানি আছে কোথাও আমাকে একটা চাকুরি নিয়ে দে। বেতন যেমনই হোক।



চাকুরি বললেই তো হয় না। কাগজপত্র জমা দিতে হয়। অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। নম্রভদ্র হতে হয়। তুই তো সারক্ষণ মোবইল নিয়ে ব্যস্ত থাকবি।



না না।



কোম্পানি যেভাবে বলে ঠিক সেভাবে কাজ করবো।



মোবাইলের বিষয়টা সামলে নেবো। বলেই মেস থেকে বেরিয়ে যায় কল্প। পেছন থেকে আসাদ ডাক্ দেয় কোথায় যাস্?



কম্পিউটার দোকানে। জীবনবৃত্তান্ত আর ছবি তুলতে। চাকুরির জন্যে। মুচকি হাসে আসাদ। নিজে নিজে বলে ওঠে, গাঁধার পেছনে লাথি না মারলে সামনে এগোয় না।



নওমি লন্ডনের ছেলের সাথে চলে যাবে। আর তুই চাকুরির খোঁজে ঘোর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৫৭৮১৬
পুরোন সংখ্যা