চাঁদপুর। শনিবার ১০ মার্চ ২০১৮। ২৬ ফাল্গুন ১৪২৪। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন

৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। তাকে বলা হলো, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বললো হায়, আমার সম্প্রদায় যদি কোনো ক্রমে জানতে পারতোÑ

২৭। যে আমার পরওয়ারদেগার আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানীতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

২৮। তারপর আমি সম্প্রদায়ের ওপর আকাশ থেকে কোনো বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং আমি (বাহিনী) অবতরণকারীও না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


তুমি যদি ভালো থাকতে ইচ্ছা করো, তবে চেষ্টা করলেই তা পারবে।

-জেমস্ এ. গ্যারফিল্ড।


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


ফটো গ্যালারি
প্রতিবেশী
আহাদ আদনান
১০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


উঁচু পাঁচিলটা মাথায় ভাঙা কাচ বসানো। টপকাতে গেলে কষ্ট করতে হবে অনেক। রাত বাজে এগারোটা। বুড়ো লোকটা ঘুমিয়ে পড়েছেন, নাকি জেগে আছেন এখনো? তার রাতজাগার রোগ আছে, জানালো রবিন। ঠিক উল্টো পাশেই ওদের বাসাটা কিনা।



লোকটা নাকি শহরের কোর্টের বিচারক ছিলেন। ছেলেরা সব বিদেশ থাকে। বুড়োবুড়ি দুজন ছোট্ট বাসাটাতে দিব্যি ছিলেন। একতলা বাসা, সামনে ফুলের বাগান, চারদিকে উঁচু পাঁচিল। মাস দুয়েক আগে স্ত্রী ওপারে চলে গিয়ে একা করে দিলো লোকটাকে। দিনরাত কীভাবে কাটে ভেবে পাই না আমরা। কখনো কথা হয়নি যে!



আজ ফেব্রুয়ারির বিশ তারিখ। বারোটার পরে নতুন একটা দিন, আরেকটা একুশে ফেব্রুয়ারি, আরেকটা শোকের দিন, শোক থেকে শক্তি সঞ্চয়ের দিন। আরেকটা মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার দিন। যে ভাইয়েরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে একটা অধিকার এনে দিলো, মাকে মা বলে ডাকার অধিকার, ভাইকে ভাই বলে ডাকার অধিকার, তাদের সম্মান জানানোর দিন। সবাই ফুল নিয়ে যাবে শহীদ মিনারে। হাইস্কুলের ছাত্ররা যাবে, কলেজের ছেলেরা যাবে, কলোনির কাকুরা যাবে, যে লোকটা কিছুই করে না, সেও যাবে। শ্রদ্ধা জানাতে চাই একটা আর্দ্র মন, হৃদয়ভরা ভালোবাসা। আর কিছু ফুলের স্তবক। আমরা সদ্য প্রাথমিক শেষ করা কয়েকজন বন্ধু। এতো কিছু কি আর বুঝি! হলুদ হলুদ গাদা আর কয়েকটা রজনীগন্ধা দিয়ে বানিয়ে ফেললাম একটা তোড়া।



'গোলাপ দিতে হবে, লাল গোলাপ, ঠিক মাঝখানটায়।' সুমনের আবদারে সায় দিল রবিন, 'বুড়োর বাগানে লাল গোলাপ আছে। আজ সকালেও দেখেছি। কিন্তু আনতে গেলে দেয়াল টপকাতে হবে। বিচারকের বাসায় চুরি, ধরা পড়লে সোজা হাজতবাস।' আমাদের মাথায় ততোক্ষণে ভর করেছে 'বিপ্লবের' ভূত। একুশের বাতাস খুব ভয়ঙ্কর। মই বেয়ে আমরা চলে এলাম বাগানে। কিন্তু ফুল তো নেই একটাও! কে নিল সব ফুল?



কাঁধে একটা শক্ত হাতের স্পর্শে চমকে উঠলাম। হাতে একগোছা গোলাপ নিয়ে লোকটা দাঁড়িয়ে আছেন। অবাক হয়ে দেখলাম, লোকটা হাসতে জানে। মোটা চশমার পেছনে পাথর নয়, মানুষের চোখ। সে চোখ দুটো ভেজা ভেজা। 'দাদু ভাই, তোমরা ফুল নিতে এসেছো? এই নাও গোলাপ। আর আমাকে নাও তোমাদের সঙ্গে, নেবে না? একুশের প্রথম প্রহর এলো বলে।'



'আনিস ভাইকে আমি বলতাম আনুদা। সে বছরই ভর্তি হয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর আমার হয়তো তোমাদের মতোই বয়স। প্রতি শনিবার আনুদা বাসায় আসতো। আমার জন্যে একটা পেনসিল কিংবা একটা বই থাকত হয়তো। শেষবার এনেছিলেন একটা পোস্টার, "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"। আমি আর কী বুঝি এসবের। সেদিন ছিলো বৃহস্পতিবার, একুশ তারিখ। আমরা জানি ভাইয়া আসবে দুই দিন পর। সন্ধ্যায় শুনি ঢাকায় ছাত্রদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে আছে আনুদাও।'



কণ্ঠ ধরে আসে লোকটার। চোখ ভিজে যায় আমাদের। আমরা ঘরে ঢুকি। দেখি দেয়ালে এখনো লাগানো আছে সেই পোস্টার, 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই'। দূরে কোথাও ভেসে আসে সুর, আমি কি ভুলিতে পারি।



না, আনুদাকে ভুলিনি আমরা। ভোলা যায় না কোনো দিন। একুশের প্রথম প্রহরে তাই আমরা বারবার ফিরে যাই বাহান্নতে।



সূত্র : বন্ধুসভা।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯৫৭৫৬
পুরোন সংখ্যা