চাঁদপুর। বুধবার ১৬ মে ২০১৮। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ২৯ শাবান ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৭-সূরা সাফ্ফাত

১৮২ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৫৬। নাকি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোন দলিল রয়েছে?

১৫৭। তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব আন।

১৫৮। তারা আল্লাহ ও জ্বিনদের মধ্যে সম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জ্বিনেরা জানে যে, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে।

১৫৯। তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যারা যুক্তি মানে না, তারা বর্বর।

-জর্জ বার্নাড শ’।


দেশের শাসনভার আল্লাহতায়ালার নিকট হতে আমানত।


ফটো গ্যালারি
স্বপ্নের অপমৃত্যু
কাদের পলাশ
১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু তা আর হলো কই? শ' শ' মানুষের সামনে পঞ্চাশ দেররা আর নাকে খৎ দেয়ার দৃশ্য মারিয়মের অন্তরে দহন বাড়ায়। বাড়ায় ক্ষোভ। কিন্তু প্রতিবাদী হতে পারে না। গোপনে ঘুণে ধরা বিবেকের প্রতি ধিক্ দেয় মারিয়ম। কিন্তু এতে সমাজপতিদের কিছু যায় আসে না। যারা একচোখে সমাজ চালায়। তারা অন্ধ।

সেদিন মারিয়ম ঘরে একা। স্বামী মারসুদ কাজে বের হয়। জমানো টাকা সব খরচ হয়ে গেছে। পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করলে পুরুষের জীবনযুদ্ধ তুলনামূলক জটিল হয়। অবশ্য নারীদেরও কম নয়। না পারে বাবার বাড়ি উঠতে; না পারে শ্বশুরবাড়ি। ওপরদিকে নতুন সংসার গুছাতে হয়। হা-ি-পাতিল, থালা-বাসন-কোসন আরো কত কিছু কিনতে হয়। ভালোবাসার ঋণে জর্জরিত মারসুদ ভেবেছিলো, কিছুদিন গেলে দু-পরিবারের সব জেদ মিটে যাবে। কিন্তু মিটাতো দূরে থাক্; তিক্ততা আরো বেড়েছে বহুগুণে। দু-পরিবারের মধ্যে পাল্লা-পাল্টি মামলা চলছে। একপক্ষ গুম; অপরপক্ষ অপহরণের অভিযোগ দিয়েছে। বাইন্নামারা চরে মারিয়ম মারসুদের নাম বলা নিষেধ। ছেলে-মেয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা কেউ গল্প করেও বলতে পারবে না। এমন খবর শুনে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে মারসুদ।

আধাপাকা টিনসেট ঘর। শহরতলী বিধায় ভাড়া মাত্র একহাজার। আশপাশের ঘরগুলো অন্তত পঞ্চাশ হাত দূরে দূরে। কটেজের মতো। খুব নিরিবিলি। ঘরের চারদিকে নানান বৃক্ষের সমারহ। এতো চমৎকার বাড়ি রেখে কীভাবে মানুষ শহরে থাকে? অন্তত পাঁচ একরের বাড়িতে মাত্র সাত-আটটি ঘর করে রাখা হয়েছে। শুধু অবৈধ দখল এড়াতে ঘরগুলোর তৈরি করেন আফাজ উদ্দিন সাহেব। সপরিবারে তিনি আমেরিকা থাকেন। নামমাত্র মূল্যে ভাড়া আদায় করার দায়িত্বে রয়েছেন বাড়ির কেয়ারটেকার রমজান আলী। তিনিই ভাড়া আদায় করেন। ভাড়াটিয়াদের ভালো-মন্দ খোঁজ-খবর রাখেন।

মারিয়ম আর মারসুদের মনে অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা। তবুও বিবিধ খুনসুটিতেই নবদম্পতির মিষ্টি সময় কাটে। ঘরে এলাকার অনেকেই আসে। যায়। কুশলবিনিময় করে। খোঁজখবর নেয়। মারিয়মের দিকে আড়চোখে তাকায়। চেয়ারম্যানের নজরে নষ্টামি খেলা করে; মারিয়ম প্রথমদিনেই তা বুঝতে পারে। ছেলে জাফরুলও একই নেচার পেয়েছে। অবশ্য মারিয়মের রূপের প্রশংসাও এলাকার গ-ি ছাড়িয়েছে। খুব সাধারণ কখনো কখনো হয়ে উঠে অসাধারণ! সাজগোছ ছাড়াই মারিয়মের মুখে ল্যাপ্টে থাকে মসৃণতা। মায়া। সাজেক কিংবা নীলগিরির প্রকৃতি যতটা কোমল, তার চেয়েও কোমলমতি মারিয়ম। যে মায়ার প্রেমে নিজেকে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত আমৃত্যু।

দু' মাসের ঘরভাড়া বাকি। রমজান আলী বকেয়া টাকাসহ ভাড়া পরিশোধের অনুরোধ জানায়। তাই অনিচ্ছায় আদরের বউকে ঘরে রেখে কাজের খোঁজে বের হয় মারসুদ। অনেকের সাথে কাজের ব্যাপারে কথা হয়। কাজ মিলে পরের দিন। এদিন কাজ না পেয়ে দুপুরের আগেই ঘরে ফিরে আসে মারসুদ। দরজায় এসে দাঁড়াতেই ঘরের ভেতর ধ্বস্তাধ্বস্তির আওয়াজ শুনতে পায়। ভেতর থেকে দরজার কপাট লাগানো। বাহির থেকে মারিয়ম মারিয়ম ডাক দিলেও ভেতর থেকে শুধু গোঙ্গানীর শব্দ বেরিয়ে আসে। সজোরে ধাক্কা দিলে দরজা খুলে। কিন্তু ভেতরে ঢুকে মারসুদ নিজেকে স্থির রাখতে পারে না। মুহূর্তেই জাফরুলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মারসুদ। কিন্তু জাফরুলের তিন সাঙ্গপাঙ্গ মারসুদকে ধরে এনে উত্তম-মধ্যম দিতে শুরু করে। ওদিকে মুখে গামছা পেছানো দুই হাত বাঁধা অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে মরিয়ম। ডাকচিৎকারে পাশের ঘরের লোকজন এসে কোনো রকমে মুক্ত করে মারসুদ আর মারিয়মকে। কিন্তু জাফরুল উল্টো শাসিয়ে যায়। বিকেলে বাড়ির আঙ্গিনায় সালিস বৈঠক হবে। নষ্টা মেয়ে এ বাড়িতে উঠলো কীভাবে? এলাকার যুব সমাজের চরিত্র নিয়ে টানাহেচড়া করার সাহস কোথায় পেলো? এসব বলতে বলতে বেরিয়ে যায় জাফরুল ও তিন সহযোগী।

বিকেলের বৈঠকে মারসুদ ও মারিয়ম দোষী সাব্যস্ত হয়। মারিয়মের সাজা না হলেও মারসুদকে নাকে খৎ দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয় জুরিবোর্ড। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এমন নির্যাতন পঞ্চায়েতের সামনে বসে শুধু অঝরে অশ্রু বিসর্জন ব্যতীত আর কোনো উপায় ছিলো না মারিয়মের। প্রকৃত ঘটনা কী? উপস্থিত সবাইকে কীভাবে বোঝাবে? মারসুদ ও মারিয়মের কাছে যা অসম্ভব। এখানে তারা পরগাছা। দীর্ঘস্বপ্ন নিয়ে অল্পকিছু সময়ের জন্যে এখানে এলেও সময় খুব নিষ্ঠুর পরীক্ষা নিয়ে নেয়। জাফরুল খুব দ্রুত সময়ে ভালো নাটক সাজায়। গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে বেশ্যা মারিয়মের কথা। সবাই ছিঃ ছিঃ করে। সুন্দরের মাঝে এতো কুৎসিত মন থাকে এ নিয়ে সমালোচনা ঝাড়ে মানুষ। কোনো ভালো মেয়ে বাবা-মাকে রেখে ক্ষণিক পরিচিত প্রেমিকের হাত ধরে পালাতে পারে না। বাবা-মায়ের মান ইজ্জ্বত নষ্ট করে না। সাথে এ কথাগুলো প্রচার হয় মানুষের মুখে মুখে।

পঞ্চায়েতের একটা মানুষও তাদের বিপক্ষে নেই। যারা আছেন তারা কথা বলার সাহস কিংবা সে সুযোগ পায় না। সুতরাং যা হবার তাই হলো। সকল অপমান আর অপবাদ মাথা পেতে নেয় মারসুদ। চেয়ারম্যান না হয় ছেলেকে বাঁচাতে মিথ্যাচার করেছে। কিন্তু উপস্থিত অন্য মানুষগুলো এতোটা অবিবেচক হয় কী করে? অবশ্য সাম্প্রতিক সমাজ এমনই। প্রভাবশালীদের সবাই পূজা করে। হজুর মানে, পীর মানে। ওদের কোনো অপকর্ম চোখে পড়ে না। যৌক্তিকতাও আছে। টাকাওলা আর প্রভাবশালীদের কথা সবাই গুরুত্ব দেয়। তারা মিথ্যে বললেও মানুষ বিশ্বাস করে। সত্য বললেও। যারা কিছুটা অবিশ্বাস করে তাদের কিছু করার থাকে না। তাদের সংখ্যা কিঞ্চিৎ। তারা অস্তিত্ব রক্ষায় মনে প্রতিবাদী হলেও প্রকাশ্যে নয়। অবশ্য মতপ্রকাশের সে সুযোগও দেয় না পঞ্চায়েত। বললেও সে কথা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। আর তাদের কথাই প্রতিষ্ঠা করে।

সালিসের বিচার শেষে সবাই চলে যায়। কিন্তু মারসুদ মাটি থেকে মাথা আর উঠায় না। মারিয়ম মাথার সাথে মাথা ঠেকিয়ে মাটিতে লুটিয়ে থাকে। দুজনে বুক ফাটিয়ে চিৎকার দেয়। হঠাৎ মাথায় আসে, দেশেতো আইন আছে। থানা আছে। পুলিশ আছে। এ কথা মনে হতেই দুজন উঠে দাঁড়ায়। মাথা চক্কর মারে। মনে হয়, পৃথিবীটা নরকখানা। এখানে মানুষ থাকে না। থাকে কিছু জানোয়ার পশু। দুজনে মাতালের মতো ডুলেডুলে থানার দিকে রওনা হয়। পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়। পুলিশ অভিযোগে বিবাদী পক্ষের নাম দেখে ভ্রু আধা ইঞ্চি উপরে তোলে। যে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি সবসময় ওসি ম্যানেজ করে চলেন। মাসোহারা দেন। এ কারণেই ওসি এ অভিযোগ সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করবে না নিশ্চিত। ডিউটি অফিসার অভিযোগের কপি হাতে রেখে তাদের বিদায় করে। ওসি অভিযোগ জিডি নম্বর না দিয়ে বিশ্বস্ত একজন উপ-পরিদর্শককে বিষয়টির খোঁজখবর নেয়ার নির্দেশ দেন। খোঁজখবর মানে ভুনা খাওয়া। মাসোহারা বাড়ানোর পাঁয়তারা। মারিয়ম মারসুদ থানার সীমানা পার হতেই ওসি কল করেন চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে।

_কী খবর চেয়ারম্যান সাব?

_স্যার; স্যার; ভালো আছি। কল করেছেন, বললে তো আমিই চলে আসতাম।

_বিষয়টা তা নয়। কীভাবে যে বলি? চেয়ারম্যান সাব; বুঝতে পারছি না। আপনার বিরুদ্ধে কিসব কথাবার্তা আসছে? শুনলে অবাক হবেন। আজকে সালিস করলেন; আমি জানলাম না। এটা কেমন কথা? ধীরলয়ে কথাগুলো বলেন ওসি।

চেয়ারম্যান আমতা আমতা করতে করতে বলে, না স্যার। ওসব মিথ্যা। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছেলে ও আমাকে ফাঁসানোর জন্যে তারা এমন অপবাদ ছড়াচ্ছে। আমি বিষয়টি দেখছি।

-আপনি থানায় আসেন সরাসরি কথা হবে। যা দিনকাল পড়েছে। এখন কথা বলা যায় না; কিছু করা যায় না। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল। কার কথা কে রেকর্ড করে তার কোনো ঠিক নাই। কোন দিক দিয়ে মোবাইল ক্যামেরা রেকর্ড করে কে জানে? আজকাল সাংবাদিকও অনেক বাইরা গেছে। লোকাল সাংবাদিকরাতো দুইশো টাকার জন্যে হুলুস্থুল কান্ড করে বসে। থাক। আসেন অফিসে বসে কথা বলি। এটাই নিরাপদ।-জি্ব। আচ্ছা। ঠিক আছে স্যার।

দুই দফায় চেয়ারম্যানগিরির আমলে ফয়জুল্লাহর বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে কেউ একটা কথা বলার সাহস পায় না। ওসির কল পেয়ে মনের ভেতর মোচড় দেয় তার। তাইলে কি ওই শুয়রের বাচ্চা দুইডা থানায় গিয়া উঠছে? তাগো সাহস কত? এতো সাহস পায় কোথায়? থাক। ওসব কথা ভাবার সময় এখন না। আগে থানায় যাই; বিষয়টা বুইঝা লই। যৎকালে তৎ ব্যবস্থা করুম নে। রাগে ক্ষোভে একবার এপাশ যায়তো আরেকবার ওপাশ। এরপর থানার দিকে দ্রুত ছুটে চলে ফয়জুল্লাহ চেয়ারম্যান। আর মনে মনে ভাবে, যদি সত্যি সত্যি মরিয়ম আর মারসুদ থানায় যায়। তয়, তারা আর জীবন ফিইরা পাইবো না। জেদে শরীর ঘামতে থাকে ফয়জুল্লাহ চেয়ারম্যানের। এ শুধু জেদ না ভয়ের বহিঃপ্রকাশও বটে। থানায় গিয়ে পেঁৗছাতে পেঁৗছাতে ওসি সাহেব অন্তত তিনবার ফোন দিয়েছে। ওসির রুমে প্রবেশ করতেই চেয়ারম্যান চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। থানায় গিয়ে চিল্লাচিলি্ল করলে নাকি ভয় পায় পুলিশ। কারণ পুলিশের অপকর্মের তো শেষ নেই। মুষ্ঠিমেয় কিছু পুলিশ ভালো। কিন্তু এতো মন্দের মধ্যে দুই চারজন ভালোকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। চেয়ারম্যান-মেম্বার পুলিশের আয়ের একটা বড় খাত। গ্রামের ঘটনাগুলো চেয়ারম্যান মেম্বারই সংকোচন-সম্প্রসারণ করে। ওসির সাথে কথা শেষে দ্রুত হেঁটে রওনা দেয় ফয়জুল্লাহ চেয়ারম্যান।

চেয়ারম্যান বিষয়টি ঠান্ডা মাথায় ভাবে। তারপর চৌকিদার সিদ্দিককে নির্দেশ দিয়ে বলে, সুন্দরী মাইয়াডারে তুইলা নিয়া আয়। ওরে আমিও একবার বিছানায় চাই। ওই খানকি মাগির তেজ কত দেখবার চাই। যাহ্...। অন্য এলাকা থাইক্কা এই এলাকার আইসা মাইয়া-পোলা এতো সাহস পাইলো কই? যা হওনের তাতো হয়েই গেছে। ঝামেলা বাড়াইবার চাইছেতো? ঝামেলা আরো বাড়াইয়া দিমু। মারসুদ খানকি পোলা এই এলাকায় থাকবো যহন; সবার সাথে মিলামিশা থাকবো। তা না কইরা ঝামেলা বাড়াইলো। উল্টা থানায় গিয়া আমার ইজ্জত মাডি কইরা আইলো।

গত তিন মাসে চেয়ারম্যান ফয়জুল্লাহ, ছেলে জাফরুলসহ অনেকের নজরে পড়েছে মরিয়ম। এমন মেয়ে দুই-চার গ্রাম খুঁজলেও একটাও মিলানো কঠিন। সুন্দরী নারী দেখলে বুড়োদেরও পরাণে মহব্বত জেগে ওঠে। গ্রামের অনেকের লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে মারিয়মের উপর।

থানার বারান্দা থেকে ঘরের উদ্দেশ্যে ফিরছিলো মারিয়ম মারসুদ। সন্ধ্যা নামার পরের আকাশে তারার আনাগোনা কম। কালবৈশাখী ঝড়ের রাত যেমন হয়। এই আলো এই অাঁধার। চেয়ারম্যানের নির্দেশে মারিয়ম মারসুদকে একটা বাগানে তুলে নিয়ে আসে চৌকিদার সিদ্দিকের দলবল। মুখে গামছা পেঁচিয়ে মারসুদকে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়। বাগানবাড়ি যেন আগেই প্রস্তুত করা ছিলো। একটা বিছানা পাতা। ওখানেই বসে আছে মারিয়ম। মুহূর্তেই ছুটে আসে ফয়জুল্লাহ চেয়ারম্যান। এসেই মারিয়মের চুলের মুঠি ধরে বলে, তোরে মাত্র একবার বিছানায় চাইছি। আরে মাইয়া এই এলাকায় আমার চোখ যার উপর পড়ছে সে আমার বিছানায় যায় নাই-এমন নজির একটাও নাই। মাগি তোর এতো দেমাগ কিসের? তোর দেমাগ আমি ছুডাইতাছি। দশ মিনিটে রাজ্য জয় করে লাল চোখে ফিরে যায় ফয়জুল্লাহ চেয়ারম্যান। কিছুক্ষণ পর হাজির ছেলে জাফরুল। বাপের ঘোলা পানিতে ছেলেও তৃষ্ণা মেটায়। মারসুদ চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকে। বাঁধ ছুটাতে চেষ্টা করে। পারে না।

একে একে চেয়ারম্যানের চার সাঙ্গপাঙ্গ পালাক্রমে গমণ করে। ততক্ষণে মারিয়মের জীবন যায় যায়। মুমূর্ষ অবস্থায় মারিয়ামকে রেখে চলে যায় বদের দল। ক্ষণিক আগে মারসুদের হাত পায়ের বাঁধন খুলে দেয়। মারসুদ কি করবে বুঝতে পারে না। মারিয়মের নিথর দেহের পাশে বসে পড়ে মারসুদ। মাথা তুলে বুকে জড়িয়ে ধরে টের পায় মারিয়ম নিষ্প্রাণ। মৃতদেহের পাশে বসে থাকে মারসুদ। অল্প সময়ের মধ্যে সিনেমার মতো হাজির খাকি পোষাকের একদল লোক। পুলিশ মারসুদকে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে থানায় নিয়ে আসে। মারিয়মের লাশের গন্তব্য হয় মর্গ। মামলার বাদি নেই। পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দেয়। তদন্ত কর্মকর্তা সার্বিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে। যা সত্য সবটুকুই টুকে নিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে পায় পুলিশ। ধর্ষণের আলামত মেডিক্যাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ধারণা করে ধর্ষণ শেষে জেদের বশে স্ত্রীকে খুন করে মারসুদ।

অবশ্য ততক্ষণে পুলিশ একটা বিড়ম্বনায় পড়ে। এতো এতো কাজ করতে পারলেও মারসুদের পরিচয় জানা সম্ভব হচ্ছিলো না। এমনকি মারসুদ নিজের নামও বলতে পারছে না। ভালো মন্দ চিনে না। আপন পর ভুলে গেছে। শুধু সবার দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। এ চাওয়ায় কোনো ক্রোধ নেই, ক্ষোভ নেই, আক্ষেপ নেই। একজন ব্যর্থ পুরুষের করুণ চিত্রায়ন হচ্ছে মারসুদের চোখে মুখে। পুলিশ নিয়ম মাফিক পরদিন সকালে মারসুদকে কোর্টে চালান দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। ফয়জুল্লাহ চেয়ারম্যান পরিষদে গিয়ে বুক ফুলিয়ে চেয়ারে বসে। চোখে মুখে তার বীরত্বের ভাব। জাফরুল পিছু লাগে অন্য কোনো রমণীর। হয়তো তৈরি হবে আরেক বিভৎস্য ভয়ানক গল্প। রহস্য থাকবে গোপন...!

আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৯৫৩২
পুরোন সংখ্যা