চাঁদপুর। রোববার ১০ জুন ২০১৮। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ২৪ রমজান ১৪৩
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের চান্দ্রার খাড়খাদিয়ায় ট্রাক চাপায় সাইফুল ইসলাম (১২) নামের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার দাসাদি এলাকায় পিকআপ ভ্যান চাপায় কৃষক ফেরদৌস খান নিহত,বিল্লাল নামে অপর এক কৃষক আহত হয়েছে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৮-সূরা ছোয়াদ

৮৮ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৯। এইতো একদল তোমাদের সাথে প্রবেশ করছে তাদের জন্য অভিনন্দন নেই। তারা তো জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

৬০। তারা বলবে, তোমাদের জন্যেও তো অভিনন্দন নেই। তোমরাই আমাদেরকে এ বিপদের সম্মুখীন করেছ। অতঃএব এটি কতই না ঘৃণ্য আবাসস্থল।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


লোভী মানুষকে বিধাতাও ঘৃণা করেন।

-জন রে।


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।  

 


ফটো গ্যালারি
ভ্যানিটি ব্যাগে ছুরি!
রফিকুর রহমান পাটওয়ারী
১০ জুন, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার প্রথম কাজ হলো : দৈনিক পত্রিকাগুলোর সংবাদের শিরোনামের দিকে নজর দেয়া। তারপর নাস্তার কাজ শেষ করে আবার পত্রিকা নিয়ে বসা। প্রয়োজনীয় সংবাদগুলোর হেডলাইন কাগজে টুকে রাখা। বলা যায় না কোন্ সংবাদটি একটি কলাম লেখার খোরাক হয়ে যেতে পারে। পত্রিকার কলামগুলো পড়া শেষ হলে আমার আর পত্রিকার ছুটি। এমনও সংবাদ থাকে যা পড়া মাত্রেই অাঁৎকে উঠতে হয়। মানবজীবন বড় বিচিত্র। এমন কোনো অপরাধ নেই মানুষ করতে পারে না। মানুষ ভর্তি বাসে আগুন লাগিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারতে একবারও বিবেক কেঁপে উঠে না। তারপরও আমরা নিজেদেরকে মানুষ দাবি করে বুক ফুলিয়ে হাঁটতে দ্বিধা করি না। বরঞ্চ দাবি করি, একটি মহৎ কাজ করেছি। এদেরকে সাজা দেয়ার মতো ক্ষমতা কারও নেই।



একদিন 'প্রথম আলো'র একটি সংবাদে চোখ আটকিয়ে গেলো। সংবাদটির শিরোনাম হলো 'যুবককে ছুরিকাঘাত, তরুণী আটক'। ভেতরে গিয়ে দেখি ইডেন কলেজের ছাত্রী ফুলার রোডে উদয়ন স্কুলের সামনে আল-আমিন হোসেনের পিঠে ছুরি মেরেছে। ছেলেটি ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি। মেয়েটি পুলিশের হাতে আটক। ঘটনাটি শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর উদ্ধৃতিতে সমর্থিত।



সংবাদটি দেখে আমি মোটামুটি আতঙ্কিত। ভাবলাম, যে ব্যাগে থাকবে লিপস্টিক, আলতা, সিঁদুর, ছোট আয়না, রুমাল, লাল গোলাপ আর চিরকুট লেখার জন্য ছোট কাগজ। সবকিছু বাদ দিয়ে ভ্যানিটি ব্যাগে ছুরি প্রবেশ করলো কিভাবে প্রশ্নটি বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে মনের ভেতর। মেয়েটি যদি আত্মরক্ষার্থে কাজটি করে থাকে, তাহলে আইনের বিচারে খালাস পাবে। কারণ যে দ-বিধি মানুষকে সাজা দেয়ার বিধান করেছে, সে দ-বিধি আত্মরক্ষার্থে অপরাধের জন্য খালাস করার বিধানও রেখেছে। আত্মরক্ষা করা মানুষের অধিকার। এখানে মানুষ সবকিছু করতে পারে।



এটা স্বীকৃত যে, পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থায় নারী-পুরুষ কর্তৃক নির্যাতিতের বিষয়টি সারা বিশ্বে চলছে। কোনো দেশ নারীদেরকে শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। যার জন্যে বলা হচ্ছে নারীদেরকে স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পাড়ে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশে নারীদেরকে পুরুষের নির্যাতন থেকে বাঁচানোর জন্য ১৯৯৫ সনে ১৮ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইন করা হয়েছিলো। আইনটি আরও মজবুত করার জন্য আবার ২০০১ সনে ৮ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন করা হয়। আইনটিকে কঠোর করার জন্য মৃত্যুদ-ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারী নির্যাতন কমাতে হলে নারী-পুরুষ মিলে চেষ্টা করতে হবে। পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের প্রয়োজন। ইদানীং বলা হচ্ছে, নারী নির্যাতনের পাশাপাশি পুরুষ নির্যাতনের হার অনেক বেড়ে গেছে। লজ্জায় বলছে না কেউ। হচ্ছে না পুরুষ নির্যাতন দমনে কোনো আইন।



বাংলাদেশে পুরুষ কর্তৃক নারী নির্যাতন এতো বেশি বেড়ে গেছে, যার জন্যে নারী নির্যাতিত হলে আজকাল কোনো সংবাদ হয় না। যেমন কুকুর মানুষ কামড়ায় কোনো সংবাদ হয় না। কিন্তু মানুষ কুকুর কামড়ালে ঘটনাটি একটি বিরাট সংবাদ। নারী কর্তৃক পুুরুষ আহত একটি সংবাদ। যেমন প্রথম আলোতে প্রকাশিত উক্ত সংবাদটি। ঘটনা থেকে সংবাদের সৃষ্টি। ঘটনা না ঘটলে সংবাদের সৃষ্টি হয় না। তবে সাংবাদিকের প্রথম কাজ হলো ঘটনার পেছনের ঘটনা বের করে ভোক্তাদেরকে পরিবেশন করা। প্রতিটি ঘটনার পেছনে ঘটনা থাকে। নারী কখনও পুরুষকে নির্যাতন করতে চায় না। দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যায় তখন প্রকৃতি নারীর জন্যে কটি পথ বের করে দেয়। নারী নিজেকে বাঁচানোর জন্যে আগ্রাসিনী হয়ে উঠে। কারণ বাঁচার জন্য নারীকে তার পথ বের করতে হয়। আমাদের সমস্যা হলো, আমরা কখনও পেছনের ঘটনার দিকে তাকাই না বা বের করতে চাই না। যেমন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চে বেঞ্চ অফিসারকে পাঁচজন আইনজীবী পিটালেন। আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে প্রসেডিং হলো। আইনজীবীগণ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনায় মুক্তি পেলেন। কিন্তু কেনো আইনজীবীগণ বেঞ্চ অফিসারকে পিটালেন কারণটি আজও কেউ জানতে পারেনি এবং জানানো হয়নি। এখানে আস্থা অনাস্থার দোটানায় সবাই। স্বচ্ছতা না থাকায় বিশ্বাসের ঘটতি দিনের পর দিন বেড়েই চলছে।



অনেকদিন ছুটি থাকার পর আজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট খুলেছে। আজ আমার যেতে ইচ্ছে করছে না। স্কুল পালানো ছেলের মতো অবস্থা আমার। শংকরের প্রখ্যাত কত আজানারে বইয়ের পার্শ্ব চরিত্র ব্যারিস্টার বিকে বোসের আর আমার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ব্যতিক্রম রয়েছে এক জায়গায়; বোসের প্যান্টে বারটি তালি রয়েছে আর আমার প্যান্টে তালি নেই। তবে রং জ্বলে গেছে বহু আগেই, তবুও চালাচ্ছি মনের জোরে। জোর করে গেলাম সুপ্রিম কোর্টে। মৎস্য ভবন পার হয়ে সুপ্রিম কোর্ট আঙ্গিনায় প্রবেশ করতে গ্রীক বেদী থেমিসিসের ভাস্কর্যটি আমার দিকে তাকিয়ে কী যেনো বলতে চাইলো। সবাই বলে দেবী আর আমি বলি তলোয়ার আপা। তলোয়ার আপাকে দেখা মাত্রই আমার পিলে চমকে ওঠে। লম্বা তলোয়ার দেখে মনে হচ্ছে ঈশা খাঁর তলোয়ার। প্রতিদিন শান দিচ্ছেন তলোয়ার আপা। যিনি তলোয়ার আপাকে এখানে বসালেন মানুষদেরকে ভয় দেখানোর জন্য, তিনিই কুপোকাত তলোয়ার আপার প্রথম আঘাতেই। তাই আমি তলোয়ার আপকে বলি, গুরু মারা ওস্তাদ। একক ক্ষমতা ভোগে কেউ যেনো বাধা দিতে না পারে বা সমালোচনা করতে না পারে তার জন্য তলোয়ার আপার সৃষ্টি। কিন্তু কেউ জানতে চায় না একক ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে তোলে। হারিয়ে ফেলে বিবেক বুদ্ধি। ভাবে সারাজীবন ক্ষমতা থাকবে। খামখেয়ালীর শীর্ষে পেঁৗছে যায় একক ক্ষমতাভোগী। একক ক্ষমতা মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে তোলে।



আমি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী সমিতির একটি কক্ষ থেকে জানালা দিয়ে সরওয়ার্দি উদ্যানের দিকে নজর করলে যে দৃশ্য দেখি তা প্রকাশ করার মতো নয়। ছেলে-মেয়েরা জোড়ায় জোড়ায় বসে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা মারছে। মাঝে মধ্যে ঘুরে আসে বৃন্দাবন। অথচ এদের বাবা-মা জানে না তাদের ছেলে-মেয়েরা কোথায় কী করছে। এভাবে মেলামেশা উভয়ের জন্যে বিপদজনক। কার পকেটে অথবা ভ্যানিটি ব্যাগে ছুরি থাকে কেউ জানে না। সব চলে বিশ্বাসের ওপর। এভাবে চলতে চলতে একদিন দেখা দেয় দুর্ঘটনা। বেছে নেয় আত্মহননের পথ। এদেরকে কেউ নিষেধ করতে পারে না। নিষেধ করলে বলা হবে : সরাসরি নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। মেনে নেয়া যায় না কিছুতেই। এখানে উপদেশ দেয়া মানে ভিমরুলের চাকে ঢিল ছোড়া। ঢাকা শহরে এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে গেলে প্রেম উথলিয়ে উঠে। সেখানে সাদা পোশাকে অথবা পোশাকী পুলিশ পাহারার বিকল্প নেই। যেমন প্রতি ৩১ ডিসেম্বর রাতে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা রয়েছে। বিষয়টিকে অবহেলা করা যায় না। বিলম্বে দিতে হবে চরম মূল্য।



আমি সরকারি চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে যখন ঢাকায় আসি, তখন দেখতাম রাস্তা আর ফুটপাত দিয়ে নারী-পুরুষ একত্রে হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। দুজন একত্রে হাত ধরে পাশাপাশি হাঁটলে পথচারীদের হাঁটার জায়গা থাকে না। চিকন ফুটপাট দিয়ে চলে মোটর সাইকেল আর থাকে দোকানপাট। আমি প্রথমে মনে করতাম অসুস্থ রোগীকে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু কি ফুটপাত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, রমনা পার্ক, বাদ যায় না গুলশান লেকের পাড়। অত্যাচার আর অত্যাচার। নীরবে চোরের মার খেতে হয়।



বিষয়টি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক জনাব আমানুল্লা কবীর সাহেবকে বলায় তিনি বললেন, কিছুদিন ঢাকায় থাকলে সব বুঝতে পারবেন। আমি সবসময় বলি, আমি মফস্বল শহরের মানুষ। ঢাকার বায়ান্ন বাজারের তেপান্ন গলি চিনি না। সম্পাদক সাহেবের অনুরোধে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় 'ঢাকায় নতুন এসেছি' শিরোনামে একটি ধারাবাহিক লিখতাম। অনেকদিন পরে বুঝলাম : এরা ঘরে মারামারি করে রাস্তায় ধরাধরি করে হেঁটে আমাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছে এদের ভালোবাসা উপচিয়ে পড়ছে। আমার ক্ষমতা থাকলে একটু বলতে চেয়েছিলাম, কন্যা জায়া জননীদেরকে পর্দার আড়ালে ভাল মানায়। এর মানে এটা নয় যে, কাজকর্ম সব বাদ দিয়ে শুধু ঘরে বসে থাকবে। তবে ঘরের বাইরে চলতে হলে একটু শালীনতাবোধের মাধ্যমে চলা উচিত। কন্যা জায়া জননীকে পুরুষের সম্মান করা পবিত্র দায়িত্ব। কন্যা জায়া জননীকেও এগিয়ে আসতে হবে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে।



এতক্ষণ যে কথাগুলো বললাম, তার সংক্ষেপ কথা হলো মেয়েরা আজীবন পুরুষের অত্যাচার মুখ বুঁজে সহ্য করবে বিষয়টি মেনে নেয়া যায় না। মেয়েরা তাদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে সাহসী হয়েছে কথাটি শুনলেই খুব ভাল লাগে। প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর সব সময় সম্মানের। আল-আমিন হোসেনের পিঠে ছুরি মেরে মেয়েটি যে প্রতিবাদ করেছে তা নিশ্চয় পুুরুষের জন্য অশনি সংকেত। প্রতিবাদটিকে সমর্থন করি; কারণ তার পেছনে নিশ্চয় কোনো কারণ রয়েছে। মেয়েটির প্রতিবাদকে সমর্থন করলেও প্রতিবাদের ভাষাটিকে সমর্থন করতে পারছি না। কারণ প্রতিবাদের ভাষাটি অজান্তে দ-বিধির আওতায় একটি অপরাধ হয়ে গেছে। কন্যা জায়া জননীকে সম্মান করে নির্যাতনের অপবাদ থেকে আমাদের মুক্তি চাই। আসুন আমরা সবাই একে অপরকে সম্মান দেখাতে চেষ্টা করি। দেখবেন ভালোবাসায় জীবন ভরে উঠেছে।



 



লেখক : কবি ও কলামিস্ট।



 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৮২০৫১
    পুরোন সংখ্যা