চাঁদপুর । শনিবার ৭ জুলাই ২০১৮ । ২৩ আষাঢ় ১৪২৫ । ২২ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার


৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৯। আল্লাহ এক দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন: একটি লোকের উপর পরস্পর বিরোধী কয়জন মালিক রয়েছে, আরেক ব্যক্তির প্রভু মাত্র একজন তাদের উভয়ের অবস্থা কি সমান? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।


৩০। নিশ্চয় তোমারও মৃত্যু হবে এবং তাদেরও মৃত্যু হবে।


৩১। অতঃপর কেয়ামতের দিন তোমরা সবাই তোমাদের পালনকর্তার সামনে কথা কাটাকাটি করবে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


সৎ এবং চরিত্রবান নাগরিক দেশের গর্ব।


-ড্রাইডেন


 


 


 


 


 


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


ফটো গ্যালারি
আলো নিভে যায়
আব্দুর রাজ্জাক
০৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


তুহিন সম্ভ্রান্ত মুসলিম শিল্পপতির এক ছেলে। বাবার প্রতিপত্তি দেশজোড়া। কোনকিছুর অভাব নেই। বাড়ি গাড়ি, ধন-সম্পদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুই দুই চারের অবস্থা। বেশ হাক-ডাক। ঈদ কুরবানি এলে গ্রামে দান-খয়রাতে মুক্তহস্ত। গ্রামের মানুষের মুখে মুখে তাদের সুনাম। গ্রামের মানুষ বড়োলোকের একটু সহানুভূতি পেলে মাথায় তুলে নাচে। তুহিন একমাত্র ধনীর দুলাল। চাঁদের কলঙ্ক আছে তুহিন যেন চাঁদের চেয়েও পবিত্র। বাবার চেয়েও ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলে। তুহিন সুদর্শন। পড়াশোনায় প্রতিষ্ঠানের প্রথম। তুহিন মৃদুভাষী। কোনো মেয়েদের সাথে তেমন কথা বলে না। সকল অপরাধ, অপকর্ম থেকে দূরে থাকে। পড়াশোনা শেষে সঠিক সময় বাসায় ফেরে। ছেলের এহেন কর্মকা- দেখে মা-বাবা স্বপ্ন দেখতে লাগলো যে, 'তাদের ছেলে দেশের বড়কিছু হবেই। অন্যরা বলতে লাগলো তুহিন ডাক্তার হবে, দেশের সেবক হবে।'



পড়াশোনা আর স্কুলে আসা যাওয়া। একান্ত নিরিবিলি। স্কুলে দুই একজন বন্ধু আছে তার মধ্য তন্ময় একজন। তুহিন তন্ময়কে বন্ধু ভাবে। তন্ময়ও তাই। তুহিনের বাবা শিল্পপতি মা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সিও। তুহিন সোনার চামুচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। ছোট পরিবারে তার বেরে ওঠা। একাকিত্ব তার জীবনের সঙ্গী। জীবনে সবকিছু পেয়েছে তবু সে যেনো একা। স্কুল কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় তার একমাত্র সঙ্গী তন্ময়। তার কাছে সবকিছু খুলে বলে। তন্ময় বন্ধু, সহপাঠী, সুখ দুঃখের ভাগিদার। তন্ময় তুহিন মিলেমিশে চলে, পড়ে, খায়, আড্ডায় দেয়। তন্ময়-তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত। ক্যাম্পাসে তারা প্রত্যেকটি সামাজিক ও ছাত্রের অধিকার বিষয়ক আন্দোলনে অংশ নেয়। দেশের তরুণ সমাজে ভয়ানক এক নেশা ছোবল মেড়েছে। নতুন সন্ত্রাসের নাম ইয়াবা। তরুণ-তরুণী এ নেশায় আসত্ত। নেশার ছোবল তরুণ সমাজের ঘাড়ে। ইয়াবার স্বর্গরাজ্য শহর থেকে গ্রামে। ইয়াবার টাকা না পেয়ে হত্যা, ধর্ষণ বেড়ে গেছে । এসবে তুহিন তন্ময় বিচলিত। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইয়াবা নামক মরণ নেশা রোধে যুবসমাজ, তরুণ সমাজকে বাঁচাতে কর্মসূচি, সভা, সেমিনারে ডাক দেয়। লিফলেট বিতরণ, ফেস্টুন টাঙিয়ে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করে।



তুহিন তুরণ সমাজকে বুঝায়, ইয়াবা থাই শব্দ। এর অর্থ ক্রেজি, এর অন্যনাম পারভিটিন, ১৯৭০ সালে থাইল্যান্ডে প্রকাশ্যে বিক্রি হতো। ২০০০ সালে বাংলাদেশে টেকনাফ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ইয়াবা সেবনে নানান শারীরিক অসুবিধার কথা তুলে ধরে। অনিন্দ্রা, মেজাজ খিটখিটে, আগ্রহী ভাব, ক্ষুধা মন্দা, বমি ভাব, রক্তচাপ বাড়া, শ্বাসপ্রশ্বাস বাড়া, রক্তচাপ বাড়া, মস্তিস্কের সূক্ষ্ম নালীগুলো ছিঁড়ে যায়। ইয়াবাসেবীর শারীরিক অসংগতি দিনে দিনে বেড়ে এক সময় পাগল হয়ে যায়। তুহিন তন্ময় বিভিন্ন সভা সেমিনারে বুঝাতে থাকে। ইয়াবার টাকা জোগাড় করতে না পেরে ইয়াবাসেবী সমাজে খুন, রাহাজানি, হত্যা-ধর্ষণসহ নানাবিধি অবৈধ কর্মকা- করে। যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। তন্ময় সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরে। তারা দেশের বড় বড় পত্রপত্রিকায় ইয়াবা নিয়ে প্রবন্ধ, ফিচার, নাটিকা লেখে, পত্রিকায় ছাপা হয়। ইয়াবা প্রতিরোধে তুহিন তন্ময় হিরো বনে গেলো। মিডিয়া পাড়ায় তাদের নিয়ে শোরগোল। তাদের এ সামাজিক কার্যক্রম সরকারের নজর কাড়ে। সরকার তাদের মেডেল প্রদান করে। তন্ময়ের বন্ধু রবিন সমপ্রতি ইয়াবায় আসত্ত। ইয়াবা সাম্রাজ্যে তার আনাগোনা। রবিন তন্ময়ের কাছের বন্ধু। তন্ময়ের বাসায় আসা যাওয়া বেশ।তন্ময়ের মা তাকে স্নেহ করে। রবিন বড় নেশাখোর । দেশের ইয়াবা সম্রাট ও গডফাদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছে। ইয়াবার চোরাচালান ও ব্যবসায় রবিন এখন খুবই দক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা বাদ দিয়ে এখন সে ইয়াবা কারবারি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িয়েছে। রবিনের ত্রাস পুলিশের ছত্রছায়া। সমাজের কেউ জানে না।



সে তার সাম্রাজ্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বন্ধু-বান্ধবদের ইয়াবায় আকৃষ্ট করতে তৎপর। রবিন অল্প সময় কোটিপতি বনে গেলো। কি নাই তার! বাড়ি গাড়ি, ধন সম্পদ, টাকা পয়সা তার সবই হয়ে গেছে। বিমানে চলাফেরা। বিভিন্ন দেশে সফর। সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ সবই হয়ে গেলো। দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দল তাকে ছায়া দেয়, মায়া দেয়, সাপোর্ট দেয়। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়। রবিন এখন আর পিছু ফিরে তাকায় না। নামি দামী ব্রান্ডের সকল জিনিসপত্র ব্যবহার করে। খাওয়া-দাওয়ায় তার উচ্চ বিলাসিতা। দেশের বড়ো বড়ো শহরে নামে-বেনামে তার জমি। এখন সময় তার। পরিচিত-অপরিচিত, উকিল মোক্তার, চোর-ডাকাত, বড় ছোট, পুলিশ-ওসি সবাই তাকে তোষামোদ করে। এ যেনো হুক্কা হুয়া। পেপার পত্রিকায় তার নামে ফিচার ছাপে, হেড লাইন ওঠে, 'মেধাবী রাজনীতিবিদ সমাজসেবক রবিন।'



এই সব খবর আমজনতা পেট ভরে গিলে আর বাহা বাহা দেয়। রবিন এখন দেশ ও দশের সেবক রাজনৈতিক তরুণ নেতা। পুরানা বন্ধুবান্ধব দেখলে একটু হাসে আর আড়চোখে চায়। তন্ময় বাল্যবন্ধু তাই তার কথা মনে আছে। একদিন কোনো জনসভার ভিড়ে তন্ময়ের সাথে দেখা। তন্ময় আবেগ আপ্লুত।



তন্ময় : কেমন আছো দোস্ত? তোর সাথে দেখা করতে তো অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়!



রবিন : আরে ভালো আছি, তুই আমার বাল্যবন্ধু, কিসের ঝামেলা! তোর যখন ইচ্ছা আমার সাথে দেখা করবি। এই নেয় আমার কার্ড, সময় করে আমার অফিসে আসিস।



তন্ময় ভীষণ খুশি। বিশ্ববিদ্যালেেয় পড়া শেষে তন্ময়-তুহিন বেকার। তুহিনের বাবা শিল্পপতি হলেও তুহিন নিজে স্বাবলম্বী হতে চায়। মেধাবী ছাত্র। দেশের নামকরা কিছু হবে। তাই বেকার বসে আছে। তন্ময়র বন্ধু রবিন দেশের বড় রাজনীতিবিদ। তাই তন্ময় মাধ্যমে আপাদত একটা কাজ নিয়ে বড় চাকুরি জন্য চেষ্টা করবে।



 



তন্ময় রবিনের সাথে দেখা করতে গেলো। শহরের প্রাণকেন্দ্রে চাকচিক্যময় জীবন। সবকিছু গোছানো, পরিপাটি। তন্ময় মাথা নিচু করে ভাবে আর ভাবে। পড়াশোনা ভালো রেজাল্ট দেশে আমাদের এতো পরিচিতি! আর ও ভালো পড়াশোনা না করেও কতো ধন সম্পদের মালিক! তন্ময় হতভম্ভ। আবার মনে মনে প্রশ্ন করে কি করে এতো অল্পসময় এসব সম্ভব? তন্ময় অফিসে ঢোকার সাথে সাথে তাকে আপ্যায়ন করার জন্যে লোক হাজির। ভালো ভালো খাবার-দাবার তার সামনে। এতো আয়োজন! তন্ময় বিস্মিত, অভিভূত। খাওয়া দাওয়া শেষে। রবিন আসলো। কুশল বিনিময়। রবিন ছোটবেলা তন্ময়ের বাড়িতে কত খেয়েছে পরেছে। তন্ময়ের মা রবিনকে খুব আদরযত্ন করতেন। সে কথা ভোলার নয়। তাই তন্ময়কে কাছে পেয়ে সবার খোঁজখবর নিলো। রবিন প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে বললো, তোরা তো দেশের মেধাবীমুখ। পড়াশোনা শেষ করেছো এখন বড় চাকুরি করবি তাই না? তন্ময় কিছু বলে না। রবিন বলে, তবে বন্ধু এদেশে চাকুরি করে বড়লোক হওয়া যায় না। দেখো না আমি ব্যবসা করি। কোনো দিকে আমার তাকাতে হয়নি। দেশজোড়া আমার খ্যাতি। দেশের বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তির সাথে আমার সাথে ওঠাবসা করে। পত্রপত্রিকা আমায় নিয়ে ব্যস্ত। এসব সবই ব্যবসার জন্যে হয়েছে। আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াই। আমার কি না আছে! তুই আয় আমার সাথে, ব্যবসা শুরু কর। তোর কোনোকিছু ভাবতে হবে না সব আমি দেখবো। তন্ময় ভেবে চিন্তে রাজি হয়ে যায়। ইয়াবা সম্রাট রবিন তন্ময়কে বিভিন্ন দেশে পাঠায়। তার জন্যে উন্নতমানের হোটেল বুকিং, বিনোদন, নামিদামি সব জায়গায় ভ্রমণের ব্যবস্থা করে। এতো কিছু পেয়ে তন্ময়র জীবনযাত্রা পাল্টে গেলো। তন্ময় অন্য জগতের মানুষ। তন্ময় পার্টিতে যায়। আন্তর্জাতিক গডফাদারদের সাথে সখ্যতা গড়ে। তন্ময় বরিনের অধীনে ইয়াবার চালান নিয়ে দেশে ফিরে। রবিন তন্ময় মিলে দেশের শহর গ্রামে ইয়াবা ছড়িয়ে দেয়। যুবসমাজের হাতের কাছে মাদক আরো সহজ হয়ে যায়।



তন্ময় এখন রবিনের ডান হাত। তার বন্ধু তুহিনকে তার ব্যবসার কথা জানায়। সে তুহিনকে আহ্বান করে ব্যবসা করার জন্যে। তুহিন ভালো ছেলে। একজনকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো তার সাথে ঘরবাঁধা হয়নি। তাই প্রেমের আগুনে পোড়া মন একটু মুক্তি পেতে চায়। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে কৌতূহলবশত ইয়াবসেবন করে। তন্ময় তুহিনকে ইয়াবা সরবরাহ করে। তন্ময় তুহিনকে দেশীয় এজেন্ট ভাবে কিন্তু তুহিন ছিলো অতি সজ্জন। ইয়াবা পাচার ও বিক্রিতে অতটা দক্ষ নয়। দেশের অবস্থা শোচনীয়। ইয়াবার স্বর্গ রাজ্যে পরিণত। কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় এ ব্যবসা চলছে। তারপর উপর মহলের তোরজোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোড় দিয়ে ওঠে। তারা খুঁজতে থাকে কারা এই ইয়ারবার গডফাদার। পুলিশ নিরুপায়। পুলিশ ইয়াবা চালানের খবর পায়।



 



অভিযান শুরু করে। তুহিন ইয়াবাসহ ধরা পড়ে। পেপারে লেখা ছাপা হয়। দেশবাসী হতবাক। যে ছিলো ইয়াবার বিরুদ্ধে সে আজ ইয়াবা পাচারকারী! মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না। কেমন যেনো হয়ে গেলো। তন্ময় গা ঢাকা দিলো। চলে গেলো বিদেশে। রবিন বিশ্ব স্মাগলার তাকে কে ছোঁবে! কার সাধ্য আছে! পুলিশ তুহিনকে রিমান্ডে নেয়। তারকাছ থেকে তথ্য নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যায়। রাত্র চারটা-পাঁচটায় তুহিনকে গুলি করে হত্যা করে গ্রামের কোনো এক পরিত্যক্ত মাঠের কাছে রেখে চলে যায়। সকালে দেশবাসী বন্দুকযুদ্ধের খবর দেখলো। মিডিয়ার খবর দেখে তুহিনের গ্রামবাসী হতবাক। কী করে এরকম হলো। আমজনতা থেকে শুরু করে সমাজের উচ্চ পর্যায়ের মানুষ আলোচনা-সমালোচনা করতে থাকলো। রবিন-তন্ময় তখন সুখের নীড়ে সুরের বাঁশি বাজায়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৪৬৩৭৮০
পুরোন সংখ্যা