চাঁদপুর । শনিবার ৭ জুলাই ২০১৮ । ২৩ আষাঢ় ১৪২৫ । ২২ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার


৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৯। আল্লাহ এক দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন: একটি লোকের উপর পরস্পর বিরোধী কয়জন মালিক রয়েছে, আরেক ব্যক্তির প্রভু মাত্র একজন তাদের উভয়ের অবস্থা কি সমান? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।


৩০। নিশ্চয় তোমারও মৃত্যু হবে এবং তাদেরও মৃত্যু হবে।


৩১। অতঃপর কেয়ামতের দিন তোমরা সবাই তোমাদের পালনকর্তার সামনে কথা কাটাকাটি করবে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


সৎ এবং চরিত্রবান নাগরিক দেশের গর্ব।


-ড্রাইডেন


 


 


 


 


 


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


ফটো গ্যালারি
ধারাবাহিক উপন্যাস
প্রেম মানব
খাদিজা মুন্নি
০৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। ভালোবাসে স্বপ্নগুলো আপন করে কাছে পেতে। কিন্তু পাওয়াটা সবার ভাগ্যে থাকে না। তাই কিছু মানুষকে কাঁদতে হয় খুব আড়ালে। এই আড়াল-কান্নাটা যে কতোটা যন্ত্রদায়ক এটি সেই মানুষটাই বোঝে যে কাঁদে। আজ এই কান্নাটাকেও মেনে নিয়েছি আমি। কারণ, বেঁচে থাকতে হলে প্রকৃতির নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। তাই কান্নার পেছনেও একটি হাসির রেখা খুঁজে নিই। হাজার কষ্টের মাঝেও তাই আমি ভালো আছি। অনেক ভালো। নিজের পথচলায় চলতে চলতে হঠাৎ স্বপ্নগুলো চুরমার হয়ে ভেঙ্গে গেলো। ঝর্ণাধারার মতো এই চোখ দিয়ে আজ অশ্রু ঝরছে। নিজেই নিজের জল মুছে নিলাম। কারণ, এখনও আসল গন্তব্য বাকি। সেখানে যে আমাকে পেঁৗছতেই হবে। খুঁজে নিতে হবে আমার সত্যিকারের জয়। আর এই সত্যিকারের জয়ের মালা পড়তে হলে তো সঠিক পথটা খুঁজে নিতে হবে আমাকে। জয় করতে হবে কষ্টকে। তাই এই কষ্টকে জয় করতে আমি হাজার কষ্টেও আজ হাসতে শিখেছি। নিজের মনের ডায়েরি বন্ধ করতে করতে হাত দিয়ে চোখের জলটাকে মুঝে নিলাম। কাঁদতে এখন ভালো লাগে আমার। কারণ, এই কান্নার পরেই একটি সুখ ধরা দেবে এই আশায়। আজ মনে হয় সত্যিই বাঁচতে শিখেছি।



 



আমি আমার ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকালাম। এখন প্রায় বারোটা পঁয়ত্রিশ বাজে। আজ শুক্রবার। এই দিনটাকে আল্লাহ ঈদের দিন হিসেবে বিবেচিত করেছেন। তাই আর দেরি না করে উঠে পড়লাম। গোসল করে পবিত্র হয়ে নামাজটা আদায় করে নিতে হবে।



আমার মা সুলতানা বেগম শুয়ে আছেন। আর শরীরটা বেশির ভাগ সময় রাতে খারাপ করে। ঠিক মতো ঘুমোতে পারেন না। মায়ের এই রাতে শরীর খারাপ করাটা আজ কয়েক বছর থেকেই হচ্ছে। দিনে শরীর ভালো থাকে। প্রচুর পরিশ্রম করেন তাই দিনে শরীরে রোগ আরাম করে বাসা বাঁধতে পারে না হয়তো। আমার মায়ের এই পরিশ্রমের কারণেই আমার বাবা হাজী সাহেবের রোজগারের অর্থের উন্নতি। আমার বাবা হাজী সাহেব আজ কয়েক যুগ ধরেই প্রবাসজীবনে পড়ে আছে নিজের পরিবার থেকে। তিনি শুধু অর্থই রোজগার করেছেন বাকি সংসারটা মায়ের হাতেই তিলে তিলে গড়া।



 



আমার নাম রাহা। মন খারাপ হলেই আমার লিখতে অসম্ভব ভালো লাগে। আমার সকল মনের কথা আমি কাগজ-কলমকে বলি। তারা কোনো ক্লান্তি অনুভব করে না। যা বলি তাই শুনে, কোনো অভিযোগ করে না। আমার সকল মনের কথা তারা ভাগ করে নেয়। তাই তাদেরকে খুব খুব ভালোবাসি। যখনই মনে কোনো কথা জমা হয় তাদেরকে বলতে ছুটি আসি। তাই এখন লিখতে বসে গেলাম। নাহ, লিখতে বলাটা ভুল হচ্ছে বরং বলা যায়, আমার নিত্যসঙ্গীদের সাথে গল্প করতে বসলাম। কয়েক মাস হলো উপন্যাস লেখার ভূত চেপেছে মাথায়। লেখালেখি ভালো লাগে, তাই মনের ভাষা দিয়ে যা মাথায় আসে তাই লিখি।



 



আমি হাঁটছিলাম বিভিন্ন রকম গাছগাছালি ভরা একটি পার্কে। রমনা পার্ক। পার্কটিতে কিছুটা আজ নিরবতা। মানুষের আসা-যাওয়া এখানে আজ কম। অন্য কোনো বিশেষ দিন হলে মানুষ এখানে পিঁপড়ার দলের মতো গিজগিজ করতো। আমি খালি দেখে একটি বেঞ্চ বসলাম। আমার পাশের বেঞ্চটিতে একটি জীর্ণশীর্ণ মেয়ে শুয়ে আছে। গায়ের জামাটা খানিকটা ছেঁড়া। মুখে মায়াভাব প্রবল। চোখজোড়া শান্ত দিঘির মতো। মেয়েটি গাঢ়ো ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎ মেয়েটি শিউরে উঠলো। নিশ্চয়ই কোনো স্বপ্ন দেখেছে। ভয়ঙ্কর স্বপ্ন।



 



একটা নিষ্পাপ মেয়ে। তার এখন লেখাপড়া, খেলাধুলা, হাসি-খুশি থাকার সময়। কিন্তু ভাগ্য তাদের কোথায় দাঁড় করিয়েছে। খাবার খুুঁজে খাচ্ছে, ধুলোবালুতে থাকছে, থাকার নির্দিষ্ট জায়গা নেই। সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত। আচ্ছা এদের মা-বাবা কি নেই? যদি থেকেই থাকে তবে কেমন তারা মা-বাবা? যাদের সন্তানে প্রতি দয়ামায়া কোনো ভালো নেই। মেয়েটি আবারও শিউরে উঠলো। আমি মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলাম। মেয়েটির মাথায় হাত বোলাতেই মেয়েটি জেগে উঠলো। আমি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম, স্বপ্ন দেখেছো? মেয়েটি বললো, হ্যাঁ।



কী স্বপ্ন দেখেছো। তোমার মা-বাবা নেই?



না নেই। কখনো তাদের দেখিনি। আমার এক বুড়িমা আছে তার কাছে আমি থাকি।



তোমার নাম কী?



আমার নাম জবা। তোমার নাম কী?



আমার নাম রাহা। জবা বললো, তুমি আমার মাথায় হাত বুলাচ্ছিলে কোনো? আমি বললাম, জবা তুমি ভয় পাচ্ছিলে তাই তোমার মাথায় হাত বুলিয়েছি। আচ্ছা জবা আমি আসি_এই বলে আমি তার হাতে বিশ টাকার একটা নোট দিয়ে বললাম কিছু খেয়ে নিও। জবা কিছু বললো না। আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। জবার দিকে তাকিয়ে নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে হলো। পৃথিবীতে কতো মানুষ না খেয়ে থাকে, থাকার জায়গা পায় না। মৌলিক চাহিদাগুলো থেকেও পর্যন্ত বঞ্চিত। আর আমরা এতো সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও সামান্য একটু কষ্ট পেলেও হতাশ হয়ে পড়ি।



আমি বাসায় আসলাম। হাত-মুখ ধুয়ে ওযু করে মাগরিবের নামাজ আদায় করে নিলাম। কারণ এটাই আমার একমাত্র সম্পদ। এই দুনিয়াটা আসলে স্বপ্নের মতো অলিক-ভ্রান্তি। এই পৃথিবী থেকে একদিন বিদায় নিতে হবে, শুধু বিদায় না চিরবিদায়।



নামাজ পড়ে মায়ের কাছে গিয়ে বসলাম। আমার মা খুব পরহেজগারী নারী। নামাজ, রোজা, মৃত্যু চেতনা তার মাঝে প্রবল। মায়ের মতো হতে চেষ্টা করি আমি। আমার মা সুলতানা বেগমের কাছে বসে থাকলে হবে না আমার ক্ষুদা লেখেছে। মা এখন জায়নামাজ থেকে উঠবেন না। আমাকেও কিছু বানিয়ে খাওয়াবেন না। যা করার আমাকেই করতে হবে। আমি রান্না ঘরে গিয়ে চা বানালাম। খাওয়ার পর্ব শেষ করে আমার ঘরে আসলাম। এখন কোনো কিছু করে সময়টা কাটাতে হবে। একা একা অবসর সময় কাটানো খুবই কষ্টকর। সময়গুলো মনে হয় ধীরে ধীর শেষ হয়। আমি শুয়ে পড়লাম তবে ঘুম আসতে এখনো অনেক দেরি। শোয়ার সাথে সাথেই আমার চোখে ঘুম আসে না। তাই কোনো কিছু নিয়ে এখন ভাবতে হবে। কেননা মানুষের মস্তিস্ক এমন এক জিনিস যা স্থির থাকে না কখনো। কিছু না কিছু ভেবেই চলে। তাই সুন্দর কিছু চিন্তা করতে হবে। যার অস্তিত্ব হয়তো বাস্তবে নেই। আমি চাই আমার বাস্তব জীবনটা সুন্দর হোক বা না হোক আমার কল্পনার জগৎ হোক আমার মনের মতো করে। আমি ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ছি আমার ঠিক মনে নেই। যখন ঘুম ভাঙলো, কখন আমার মা আমাকে ডাকছে নামাজ পড়ার জন্যে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ভোর সাড়ে ৫টা বাজে। তাই দেরি না করে উঠে ওযু করে নামাজটুকু আদায় করে নিলাম। নামাজ পড়ে বাইরে তাকাতেই চোখে পড়লো কী সুন্দর প্রকৃতি! প্রকৃতি আমার সবসময় ভালো লাগে। কিন্তু আজকের সকালের প্রকৃতিটা বেশি সুন্দর মনে হচ্ছে। একটু হাঁটা দরকার। আমি হাঁটতে বের হলাম। দূরে কিছুটা আবছা কুয়াশা মনে হচ্ছে। এখন বাংলা মাস অনুযায়ী শীত পড়ার কথা। কুয়াশার চাদর দিয়ে ঢেকে রাখার কথা পুরো প্রকৃতিকে। কিন্তু মানুষের তৈরি উন্নত প্রযুক্তিগুলোর কারণে প্রকৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। ঋতুগুলো পাল্টে যাচ্ছে। প্রকৃতিটা দেখতে দেখতে অনেকটা পথ হাঁটা হয়েছে। সূর্যিমামা উঁকি দিয়েছে, সকালের সূর্যের পবিত্র আলোয় প্রকৃতিটাকে আরো সুন্দর হয় কেউ না দেখলে বিশ্বাসেই করতে পারবে না। আমি বাসায় ফিরে এলাম। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলে খুধা লাগে। কথাটা আগে আমার এক বন্ধুর কাছে শুনেছিলাম। নাম মিরা। ওর খুব ছোটবেলা থেকেই খুব ভোরে ওঠার অভ্যাস ছিলো। আমরা যখন নাস্তা করতাম তখন মিরা বলতো আমার এনিয়ে তিনবার নাস্তা করা হলো। আমরা খুব হাসতাম ওর কথা শুনে। আমার তখন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস ছিলো না। আমি মিরাকে বলতাম আমার জন্যে একটু প্রার্থনা করিস যাতে তোর মতো আমিও ভোরে ঘুম থেকে উঠতে পারি। ওর দোয়া হয়তো কবুল হয়েছে। মাসখানেক হলো আমি এখন ফজর নামাজটুকু পড়তে পারি। সুন্দর সকালগুলো মুগ্ধ হয়ে দেখতে পারি।



মা সেমাই রান্না করেছে। আমি নাস্তা খেয়ে শুয়ে পড়লাম ঘুমোতে হবে। নয়তো ঘুম কম হওয়ায় পুরো দিনটা অস্বস্তির মধ্য দিয়ে কাটাতে হবে। অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙলো।



ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি দশটা ত্রিশ বাজে। ব্রাশ হাতে নিয়ে ওয়াশ রুমে গেলাম। ঘুমের মধ্যে কিছু একটা স্বপ্ন দেখেছি। ঠিক মনে করতে পারছি না। অথচ আমার যতো তুচ্ছ স্বপ্ন হোক মনে থাকে। আজ কী হলো? আমি স্বপ্ন দেখার অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছি। যখনেই ঘুমাই কিছু না কিছু স্বপ্ন দেখেই থাকি। স্বপ্ন দেখতে দেখতে এমন হলো যে, দেখা স্বপ্নগুলো রিপিট করা শুরু করেছি।



হাত-মুখ ধুয়ে আসলাম। জীবনটা কেমন একঘেয়ে লাগছে। সময়গুলো খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমার কাছে মনে হচ্ছে সময়গুলো থমকে আছে। আমি মায়ের কাছে গিয়ে বসলাম, মা রান্না করছে। একা থাকতে খাকতে এখন খুব অস্বস্তি লাগছে। বাসায় আমরা সদস্য সংখ্যা তিনজন। আমি, আমার মা, ভাই রিসান। একটা থাকতে থাকতে আমার এমন অবস্থা যে, জনতা, নির্জনতা কিছুই ভালো লাগে না। আমার মা তরকারিগুলো কেটে দিতে বললেন। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে তরকারিগুলো কাটতে বসলাম। মাকে তরকারি কেটে দিয়ে আরো কিছু কাজে সাহায্য করে আমার রুমে ফিরে আসলাম।



শুয়ে শুয়ে উপন্যাস পড়ছি। আমার শখের মধ্যে একটি 'বই পড়া'। বই পড়তে আমার ভালো লাগে। আমি এখন যে উপন্যাস পড়ছি সেটি 'হুমায়ূন আহমেদ'-এর লেখা 'হিমু সমগ্র'। হিমু চরিত্রের লেখাগুলো পড়লে হিমু হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। নিজেকে ভাবতে ইচ্ছে করে হিমু। আমি উপন্যাসটি শেষ করে উঠে পড়লাম। আছরের আজান দিয়েছে, নামাজ পড়তে হবে। তাই ওয়াশরুমে গিয়ে ওজু করে নামাজটুকু আদায় করে নিলাম। মোবাইল বাজছে। আমার বোন রাইসা সুলতানা কল দিয়েছে। আমি যখন ছোট ছিলাম বয়স সাত বা আট তখন আপুর বিয়ে হয়। আর বিয়ে হয়েছে একযুগ হয়েছে প্রায়। আমি আপুর কল রিসিভ করতেই আপু সালাম বিনিময় করলো। আমি সালামের উত্তর দিয়ে বললাম, কেমন আছিস্? আপু বললো, ভালো আছি। তোর কী খবর? হুম আমিও ভালো আছি। আপুর সাথে কথা শেষ করে আমি আমার মাথায় ঘুরপাক করা গল্পটা লিখতে বসলাম। (চলবে)



 



লেখক :



শিক্ষার্থী, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১১৬০৬৩৫
পুরোন সংখ্যা