চাঁদপুর। শনিবার ১১ আগস্ট ২০১৮। ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫। ২৮ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের চান্দ্রার খাড়খাদিয়ায় ট্রাক চাপায় সাইফুল ইসলাম (১২) নামের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার দাসাদি এলাকায় পিকআপ ভ্যান চাপায় কৃষক ফেরদৌস খান নিহত,বিল্লাল নামে অপর এক কৃষক আহত হয়েছে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু'মিন


৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৬। ফেরাউন বলল, হে হামান, তুমি আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রসাদ নির্মাণ কর, হয়তো আমি পেঁৗছে যেত পারব।


৩৭। আকাশের পথে, অতঃপর উঁকি মেরে দেখব সূসার আল্লাহকে। বস্তুতঃ আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি। এভাবেই ফেরাউনের কাছে সুশোভিত করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং সোজা পথ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছিল। ফেরাউনের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ারই ছিল।


৩৮। মুমিন লোকটি বলল: হে আমার কওম, তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করব।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


পরামর্শ মানুষের কাজে বলিষ্ঠতা আনয়ন করে।


-ভার্জিল।


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


 


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
অচেনা মানুষ মুজিবুর
আজিজুর রহমান লিপন
১১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

১৯৬৩ সালের কথা। তখনও নোয়াখালী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বতন্ত্র লক্ষ্মীপুর জেলা গড়ে ওঠেনি। নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর জেলার সংযোগ স্থলে লক্ষ্মীপুর অংশে বর্তমানের জমজমাট বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দ্রগঞ্জ বাজার। নোয়াখালী থেকে লক্ষ্মীপুরের বর্তমান ব্যস্ততম হাইওয়েটি তখনও মেঠোপথ। আর আজকের বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দ্রগঞ্জ বাজার তখনও নাবালক। ব্যস্ততম একটি নৌকাঘাট, খড়ের ছাউনিতে প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় আর দু-একটি ধান-পাটের আড়ৎ সর্বস্ব ছিলো নোয়াখালী খালপাড়ের চন্দ্রগঞ্জ বাজার। চন্দ্রগঞ্জের উমেশ ঘোষের মিষ্টির দোকানটি স্থানীয় ইতিহাসের এক উজ্জল তারকা। এই দোকানে রচিত হয়েছে অজস্র ঘটনা। এসব ঘটনা বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মূখ্য ভুমিকা রেখে গেছে।

খাল পাড়ে তালপাতার ছাউনিতে একচালা একটি দোকান ঘর। দোকানের সামনে ছিলো বড়-সড় মাটির চুলা।

দিনভর বড় কড়াইয়ে রসগোল্লা, জিলাপী, নিমকি ভাজা হতো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সেই চুলায় চড়তো চায়ের কেটলি। সেদিন উপচেপড়া খদ্দের আর ধুম বেচাকেনা হয় উমেশ বাবুর দোকানে। রাত তখন বেশি হয়নি। সাড়ে ১১টার মতো হবে। উমেশ বাবু তৃপ্ত মনে টাকা গুনে গোছগাছ করছিলেন। বাবুর শিশু পুত্র নিমাই ঘোষ দোকান বন্ধের আয়োজন করছিলো।

এমন সময় একটি মান্ধাতা আমলের লক্কর-ঝক্কড় জিপ ঝনঝন শব্দে এসে দোকানের সামনে থামল। শ্রান্ত-ক্লান্ত কয়েকজন লোক হন্তদন্ত হয়ে দোকানে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে আব্দুল মালেক উকিলকে দেখেই লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ান উমেশ বাবু। মালেক উকিল তখন টগবগে তরুণ ছাত্রনেতা। উমেশ বাবু চিৎকার করে বলে উঠেন,

মালেক ভাই এতো রাতে কোত্থেকে এলেন? মালেক উকিল কিছু না বলে বাঁশের তৈরী বেঞ্চে ধপাস করে বসে পড়লেন। উমেশ বাবু ব্যস্ত হয়ে পড়লেন চুলায় আগুন জ্বালিয়ে চা তৈরি করার জন্য।

মালেক উকিল উমেশ বাবুকে ডেকে বললেন, উমেশ ভালো করে চা বানাও। জানো আজ তোমার দোকানে কে এসেছেন? বাকি কথা বলতে গেলে মালেক উকিলকে লম্বা মতন একজন লোক থামিয়ে দিয়ে বাহিরে এসে উমেশ বাবুর চুলার পাশে দাঁড়ান। উমেশ বাবু পরখ করে দেখলেন অসম্ভব মায়ায় ভরা একটি লোক। চোখে শেখ সাহেবের মতো কালো ফ্রেমের চশমা, গায়ে পাজামা-পাঞ্জাবি। লোকটি উমেশ বাবুকে নানান কথা জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। ছেলে-মেয়ে কয়জন? আয়-রোজগার কেমন হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।

উমেশ বাবু আগ্রহী হয়ে জিজ্ঞেস করেন, দাদা আপনার নাম কী? বাড়ি কোথায়?

লোকটি হেসে উঠে ভরাট কণ্ঠে জবাব দেন_আমাকে চিনতে পারেননি দাদা? আমার নাম শেখ মুজিব। আমার বাড়ি গোপালগঞ্জে।

সরলপ্রাণ উমেশ বাবু তখনও বুঝতে পারেননি তার মাটির চুলার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন সাড়ে সাত কোটি বাঙালির কণ্ঠস্বর, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বরং তিনি উল্টো মন্তব্য করে বললেন, বাহ্! আমাদের শেখ সাহেবের বাড়িও তো সেখানে। উনার নামের সাথেও আপনার মিল আছে। দেখতে শুনতেও উনার মতো!

বঙ্গবন্ধু সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। মালেক উকিলসহ সফর সঙ্গীদের সাথে তেমন কথা না বলে সারাক্ষণ উমেশ বাবুর সাথেই রসিকতা করেছেন। উমেশ বাবুর শিশুপুত্র নিমাইকে মাথায় হাত বুলিয়ে কাছে বসিয়েছেন। বাঁশের তৈরি বেঞ্চে বসে মুড়ি, নিমকি ও রং চা খেয়েছেন। নিমাইয়ের হাতে দুই টাকার তাজা একটি নোট গুঁজে দিয়েছেন। সেই নোটটি নিমাইকে কোন দিন খরচ করতে দেননি উমেশ বাবু।

উমেশ বাবুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু যখন জিপে উঠে বসলেন তখন তরুণ মালেক উকিল উমেশ বাবুর কানে-কানে বলে গেলেন_উমেশ তুমি ধন্য। তোমার দোকানে এসে চা খেয়ে গেলেন তোমার প্রিয় মানুষ শেখ সাহেব। উমেশ বাবু এ কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। জিপ ছেড়ে দিলে উমেশ বাবু সম্বিত ফিরে পেলেন। জিপের পেছন পেছন দৌড়ে গেলেন অনেক দূর পর্যন্ত কিন্তু আর দেখা হলো না অচেনা মানুষ মুজিবরের সাথে।

সময় এগিয়ে চলে সময়ের স্রোতে। ধীরে-ধীরে বাঙালীর স্বাধিকারের আন্দোলন বেগবান হতে থাকে। উমেশ বাবুর দোকানটিও বড় হয়ে যায়। সমস্ত দোকান জুড়ে শোভা পেতো বঙ্গবন্ধুর ছবি। এই দোকানে বসেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মকা-ের ছক অাঁকতো। এই দোকান থেকেই স্থানীয়ভাবে পরিচালিত হতো জাতীয় সকল আন্দোলনের কর্মসূচি। আর উমেশ বাবু সারাটা জীবন বুকে ধারণ করে গেছেন বঙ্গন্ধুর সেই স্মৃতি।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪৩৫৬২
পুরোন সংখ্যা