চাঁদপুর। শনিবার ১১ আগস্ট ২০১৮। ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫। ২৮ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু'মিন


৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৬। ফেরাউন বলল, হে হামান, তুমি আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রসাদ নির্মাণ কর, হয়তো আমি পেঁৗছে যেত পারব।


৩৭। আকাশের পথে, অতঃপর উঁকি মেরে দেখব সূসার আল্লাহকে। বস্তুতঃ আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি। এভাবেই ফেরাউনের কাছে সুশোভিত করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং সোজা পথ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছিল। ফেরাউনের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ারই ছিল।


৩৮। মুমিন লোকটি বলল: হে আমার কওম, তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করব।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


পরামর্শ মানুষের কাজে বলিষ্ঠতা আনয়ন করে।


-ভার্জিল।


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


 


 


 


 


 


 


আলো হচ্ছে পানির মত
মূল : গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ
অনুবাদ : আদিত্য শংকর
১১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

ক্রিসমাসের দিন টোটো আর জুয়েল আবারো তাদের বাবার কাছে ডিঙ্গি নৌকা কিনে দেয়ার আবদার ধরলো।

তাদের বাবা বললেন, 'আচ্ছা, আমরা কার্টেগানায় ছুটি কাটানোর সময় কিনে দিবো।'

কিন্তু বাচ্চারা আজকেই কিনে দেবার জন্য গোঁ ধরে বসে থাকলো।

তাদের মা বললেন, 'কিন্তু... নৌকা চালানোর মত পানিতো এখানে নেই।'

তাদের বাবা-মা ঠিকই বলেছিলেন। কারণ, কার্টেগানায় তাদের যে বাড়ি আছে, সেই বাড়ির পাশে নদী এবং নৌকা রাখার ঘাট দুটোই আছে। আর মাদ্রিদ শহরের ঘিঞ্জি এ্যাপার্টমেন্টে নৌকা রাখার মত জায়গাটাও নেই। কিন্তু তারা দুজন টোটো আর জুয়েলকে কথা দিয়েছেন যে, তাদের প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস পরীক্ষায় যদি তারা পুরস্কার পায় তবে তিনি সেঙ্ট্যান্ট যন্ত্র আর কম্পাসসহ ডিঙি নৌকা কিনে দিবেন। আর তাদের বাবা তাই করলেন। একটি অ্যালুমিনিয়ামের নৌকাই কিনে দিলেন।

তাদের বাবা বললেন, 'নৌকাটা গ্যারেজে আছে। কিন্তু একটাই সমস্যা হলো, লিফট আর সিঁড়ি দিয়ে নৌকা উপরে উঠানো যাচ্ছে না। আর গ্যারেজেও জায়গা কম।'

পরের দিন বিকেল বেলায় ছেলেরা তাদের ক্লাসমেটদের সাহায্য নিয়ে নৌকাটাকে ঘরে নিয়ে আসলো।

ঘরে নৌকা দেখে তাদের বাবা বললেন, 'বাহ্! ভালো। এখন কী করবে?'

'এখন কিছুই করবো না। আমার শুধু নৌকাটা ঘরে আনতে চেয়েছি, আর কিছুই না'। ছেলেরা বলল।

বুধবার রাতে ছেলেদের বাবা-মা প্রতিবারের মত সিনেমা দেখতে যান। ওই সময়ে ছেলেরা ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে লিভিং রুমের জলন্ত বাল্ব ভেঙে দিলো। ভাঙ্গা বাল্ব থেকে পানির মত ঠা-া আলো পড়তে থাকলো। আলোর গভীরতা তিন ফুটের মত গভীর হলে তারা ইলেক্ট্রিসিটি বন্ধ করে নৌকা নামিয়ে চালাতে শুরু করলো। তারা নানা দ্বীপ ঘুরে ঘুরে দেখলো।

এই ঘটনাটা আমার একটি মন্তব্যের কারণেই ঘটেছে। একবার ঘরোয়া জিনিসপত্রের কবিতা বিষয়ক এক সেমিনারে টোটো আমাকে প্রশ্ন করেছিলো, সুইচ টিপ দিলেই আলো কেন বন্ধ হয়ে যায়? আমাকে এই নিয়ে আর দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি।

আমি বললাম, 'আলো হচ্ছে পানির মত। কল ঘুরালে পানি যেমনভাবে বের হয়, ঠিক তেমনভাবে সুইচ টিপ দিলে আলো আসে।'

এভাবে প্রতি বুধবার রাতে তারা নৌকা নিয়ে নতুন নতুন অ্যাডভেঞ্চারে বের হতো। তারা কম্পাস আর সেঙ্ট্যান্ট যন্ত্রের ব্যবহার শিখলো। আর বাবা-মা আসলে তারা দেখতেন যে, ছেলে দুটো ঘুমে আছে। কয়েক মাস পর তারা আরও বড় অ্যাডভেঞ্চারের জন্য বাবা-মায়ের কাছে ডুবুরির পোশাক আর কমপ্রেসড এয়ার রাইফেল কিনে দেবার বায়না ধরলো।

তাদের বাবা বললেন, 'এমনিতেই তোমরা নৌকা চালাতে পারছ না। এখন আবার ডুবুরির পোশাক কিনে দিলে তো কিছুই করতে পারবে না।'

জুয়েল বলল, 'যদি আমরা প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় গোল্ডেন গার্ডেনিয়া পুরস্কার পাই, তাহলে?'

তাদের মা বললেন, 'না। অনেক হয়েছে।'

বাবা তাদের মাকে এমন কথা বলার জন্য কথা শোনালেন।

তাদের মা বললেন, 'এই ছেলেগুলো কাজের সময় কিছুই করতে পারে না। কিন্তু যখন তারা কিছু চায় তখন তারা সেটা পাওয়ার জন্য সব কিছুই করে।'

বাবা-মা তাদেরকে কিনে দিবেন কিনা সেটা নিয়ে হ্যাঁ বা না কিছুই বলেননি। কিন্তু জুলাইয়ে তারা গোল্ডেন গার্ডেনিয়া পুরস্কার পেলো। আর ওইদিন বিকেলে তারা দুই সেট ডুবুরির পোশাক প্যাকিং অবস্থায় তাদের বিছানার উপর দেখতে পেলো। সেই সপ্তাহের বুধবারে তাদের বাবা-মা সিনেমা দেখতে গেলে তারা পুরো বাসায় আলো ফেললো। আলোর গভীরতা দুই ফ্যাদম হলে তারা ফার্নিচার আর বিছানার নিচে শার্ক মাছের মত ঘোরাফেরা করতে লাগলো আর সাগরের রহস্যময় জিনিস উদ্ধার করলো।

বছরের শেষে তারা দুইভাই স্কুলের সেরা ছাত্র হিসেবে পরিচিত পেল। এই সময়ে তারা বাবা-মায়ের কাছ থেকে ক্লাসমেটদের সাথে পার্টি করা ছাড়া আর কিছুই চাইলো না।

তাদের বাবা অবাক হলেন। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, 'ছেলে দুটো বড় হয়েছে।'

'তোমার কথা যেন সত্য হয়।' তাদের মা বললেন।

ওই সপ্তাহের বুধবারে, যখন তাদের বাবা-মা সিনেমা দেখছিলেন। পাসেও দি লা ক্যাস্টেলানার পথে চলা মানুষগুলো একটা পুরোনো দালানের বারান্দা থেকে আলোপ্রপাত দেখলো। আলোপ্রপাতের আলো শহরের ভেতর সোনালী বন্যা হয়ে গুয়াদার্মা শহরে গেলো।

ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা খবর পেয়ে সেই এ্যাপার্টমেন্টের দরজা ভেঙে দেখলো, আলো ঘরের ছাদ পর্যন্ত ঢেউ খেলছে। ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র সেই আলোর ছন্দে ভাসছে। অ্যাকুরিয়ামের মাছগুলো সেই আলোতে মুক্ত হয়ে ঘুরতে লাগলো। এমনকি সবার টুথব্রাশ, বাবা-মায়ের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আর টেলিভিশন সেট ভাসতে লাগলো।

টোটোকে নৌকার শেষে বসে থাকতে দেখা গেলো। সে সেখানে বসে লাইটহাউজ খুঁজছে। আর জুয়েল নৌকার সামনে বসে সেঙ্ট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে ধ্রুবতারা খুঁজতে লাগলো। ঘরে তাদের সাইত্রিশ জন ক্লাসমেট আলোতে ডুবে নানাভাবে আনন্দ করতে লাগলো। তারা সব বাল্ব একসাথে জ্বালিয়েছে যে, পুরো এ্যাপার্টমেন্ট আলোতে ভেসে গেলো এবং তারা সেই আলোতে ডুবে আছে।

এরপর অনেকদিন কেটে গেল। কিন্তু স্পেনের মাদ্রিদ নামক ঘনবসতিপূর্ণ শহরে জুয়েল এবং টোটো ছাড়া আর কেউই আলোতে নৌকা চালান তেমন দক্ষ হতে পারেনি।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯০৬৪
পুরোন সংখ্যা