চাঁদপুর। সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮। ৫ ভাদ্র ১৪২৫। ৮ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৪। বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশ ও হেদায়েত স্বরূপ।

৫৫। অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।

৫৬। নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে তাদের কাছে আগত কোন দলিল ব্যতিরেকে, তাদের অন্তরে আছে কেবল আত্মম্ভরিতা, যা অর্জনে তারা সফল হবে না। অতএব, আপনি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।     

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


ছবি হচ্ছে শব্দহীন এক অনবদ্য কবিতা।                    

-ওয়াশিংটন অলস্টন


মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত।  



 


ফটো গ্যালারি
একটি ঈদ বিষয়ক রম্য
সোহানুর রহমান অনন্ত
২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শুরু হয়ে গেলো রোববারের লাইভ শো, 'শপিং লাইভ'। আমরা এখন একটি বৃহত্তম শপিং সেন্টারের সামনে আছি। শুরুতেই আমরা একজন মোটাসোটা আপাকে পেয়েছি। আপা কেমন আছেন?



_ভালো না, এখন আবার মৌচাক যেতে হবে, তারপর গরুর বাজার। ওফ্! এখানো কত কিছু কেনা বাকি!



_তা কেনাকাটা কিছু করেছেন?



_কোথায় আর করতে পারলাম! এখনো তো শিরোনামটাই শেষ করতে পারলাম না।



_হুম্ম, আপনার সাথে আর কাউকে দেখছি না কেন?



_দেখছেন না মানে! পেছনেই তো আমার স্বামী দাঁড়ানো।



_বলেন কী!



[প্রতিবেদক পেছনে তাকাতেই শপিংয়ের ব্যাগে চাপা পড়া একজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগের কারণে লোকটার চেহারাই দেখা যাচ্ছে না। এই যদি হয় শিরোনাম, তাহলে বিস্তারিত জানতে হলে এই প্রতিবেদকেরই ইহলীলা সাঙ্গ করতে হবে। সে কারণে সাক্ষাৎকার এখানে অসমাপ্ত রেখে প্রতিবেদক গোবেচারা স্বামীর দিতে এগিয়ে যান।]



_ভাই আপনার কী অবস্থা?



_ধুর মিয়া, ইঁদুরের ওষুধ সাথে থাকলে দেন। খাইয়া মইরা যাই।



_ভাই আমরা তো ওষুধ বিক্রেতা না। এই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কী?



_হারামি হারামি, হাত দুইটা ফ্রি থাকলে তোরে কানের নিচে মাইরা অনুভূতি বুঝাইতাম। আমার অবস্থা যায় যায়। আর সে আছে অনুভূতি নিয়ে।



[ভাইয়ার বোধহয় প্রেশার হাই হয়ে গেছে_এই ভাবনা মাথায় নিয়ে প্রতিবেদক আরেকজন আপুর কাছে মাইক্রোফোন নিয়ে এগিয়ে যান।]



_আপু ঈদে আর কোথায় কোথায় শপিং করবেন?



_তার আগে বলেন আপনাদের এটা কি লাইভ প্রোগ্রাম?



_হু।



_বলেন কী, এই আমার কসমেটিকের ব্যাগটা দাও তো। শিলা-নিপা তোরা কই, জলদি আমারে মেকআপ দে।



_আপুরা মনে হচ্ছে পুরা পার্লার সাথে নিয়া ঘুরছেন...



_একটু ওয়েট করুন ভাইয়া, মেকআপটা নিয়ে নিই।



[যে পরিমাণ ফেস ঢালাই শুরু করেছেন তাতে এই ঈদ গিয়ে সামনের বছরের ঈদ চলে আসতে পারে। তার চেয়ে বরং একটু সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যাক। দর্শক, এখন একজন দোকানদার ব্রাদারের সাথে কথা বলা যাক্, কী বলেন!]



_ভাই, বিক্রি কেমন চলছে?



_ব্যাপক ভালো।



_এইবারে নিউ কালেকশন কী কী?



_লুল প্যান্ট, সাথি থ্রিপিছ, মাইরালা টি-শার্ট, আলেকজেন্ডার টি-শার্ট, সানি লিওন শাড়ি, আহু আহু থ্রি পিছ, ফলোয়ার আন্ডারওয়্যার।



[নাম শুনেই প্রতিবেদকের বমির উদ্রেক হলো। আসুন পাঠক, তারচেয়ে বরং আমরা সামনে একটা ভ্রাম্যমাণ মোবাইল হস্পিটাল দেখতে পাচ্ছি, তার সাথে কথা বলে দেখি]



_ভাই এই শপিং মলে আপনাদের এই হস্পিটাল কেন? টয়লেট হলেও না হয় কথা ছিলো, মলে এসে মলত্যাগ...



_এইখানে যারা দুর্বল চিত্তের লোক আসে শপিং করতে, দেখা যায় দাম শুনেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাদের জন্যে ইমার্জেন্সি ব্যবস্থা।



_ব্যবস্থাটা খারাপ না! কিন্তু শপিং করতে তো এখন অনেকেই প্রেশারের ট্যাবলেট নিয়ে আসেন। প্রিয় দর্শক, এই মুহূর্তে গ্যাঞ্জাইম্মা লুঙ্গির সৌজন্যে নিচ্ছি মিনি একখানা বিরাটাকারের ব্রেক। আপনার টয়লেট ছাড়া আর কোথাও যাবেন না। ...বিরতির পরে আমরা আবারও ফিরে এলাম। আমরা এখন একজন ব্রাদারের সাথে কথা বলবো। ভাই শপিংয়ে নিশ্চয়ই অনেক কেনাকাটা করতে এসেছেন?



_ধুর মিয়া, কাপড়চোপরের যে দাম তাতে বড়জোর একখান টারজানের গেঞ্জি কেনার হিম্মত করতে পারি।



[বুঝতেই পারছেন দর্শক, কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ। সামনে বেশ ভিড় দেখা যাচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে না এখানে গরুর হাট বসলো কি না। চলুন প্রতিবেদকের সাথে সাথে আমরাও একটু এগিয়ে যাই। ওহ্ আমরা একজন সেলিব্রেটিকে পেয়েছি।]



_এইবার ঈদের জন্যে কী কী শপিং করলেন?



_আসলেই আমার শপিং করতে খুব ভালো লাগে। আর ঈদে তো এঙ্ট্রা শপিং করি। তবে এবার বেশি কিছু কিনিনি, তিনটা শাড়ি, পাঁচটা থ্রিপিছ, চার জোড়া জুতো, তিনটা মেকআপ বঙ্। ওহ্ নো আর কী কী যেনো কিনেছি, এক মিনিট লিস্টটা বের করে নিই।



[এমন সময় 'চোর চোর ধর ধর' শুরু হলো। ব্যাটা চোর প্রতিবেদকের সামনে দিয়ে দৌড় মারার সময় তিনি চোরের কলার চেপে মুখের মধ্যে দিলেন এক ঘুষা। ঘুষি খেয়ে সাথে সাথে দুটো দাঁত নিহত। এমন সময় কাট কাট শব্দ হলো। কয়েকজন এগিয়ে এসে বলল, 'ভাই কামডা করছেন কী, আপনি তো নায়কের দাঁত ভেঙে ফেলছেন। নায়ক পেস্টের বিজ্ঞাপন করবে কেমতে? শুটিংয়ের তো বারোটা বেজে গেলো।' বোঝা গেলো, প্রতিবেদক নায়ককে চোর ভেবে আকাম করে ফেলেছেন। কোনো রকম নিজের দাঁত বাঁচিয়ে সেখানে থেকে অন্যদিকে ছুটলেন তিনি। একটু সামনে যেতেই কে যেনো বলে উঠলো 'পাগলা গরু আইলো'। 'হায় হায় মার্কেটে পাগলা গরু ঢুকলো কেমতে'_এই ভাবনা মাথায় রেখে প্রতিবেদক জান বাঁচানোর জন্যে দৌড় লাগালেন। পরে জানা গেলো_এটা একটা পিওর গুজব ছিলো। একটু ধাতস্থ হতেই প্রতিবেদক সামনে একজোড়া পাবলিক দেখতে পান, সম্ভবত এরা প্রেমিক-প্রেমিকা।]



_আপনারা নিশ্চয় শপিং করতে এসেছেন?



(মেয়েটি বললো)_আসলে আমরা শপিং করতে আসিনি।



_মানে?



_মানে হইলো_এইডা আমার ভাই। আমরা আসছি মেয়ে খুঁজতে, মানে আমার ভাইয়ের জন্যে বউ খুঁজতে, বুঝছেন? [বাপরে বাপ! আজকাল কাজী অফিস রেখে মানুষ শপিংয়ে এসে পাত্রী খোঁজে। গরুর হাটেও পাবলিক গরুর বদলে পাত্র খুঁজতাছে কি না কে জানে। দর্শক চিন্তা করে দেখেন, দেশ কত আপডেট! আরেকজনকে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে নাচছেন। আমরা এগিয়ে গেলাম তার কাছে।]



_ভাই, আপনি এমন নাচতাছেন কেনো? শুটিং করেন নাকি?



_আরে না।



_তাইলে?



_প্রতিবছর শপিংয়ে আসি, মাগার কোনো ক্যামেরা আমার দিকে ধরে না। তাই এইবার বুদ্ধি খাটাইলাম_এমন বিরল নাচ নিশ্চয়ই কোনো টিভি ক্যামেরা মিস করতে চাইবে না। হা হা হা ভালো বুদ্ধি না।



_হ, ভাই ডাহা ভালো বুদ্ধি। দর্শক, শপিংয়ের অবস্থা দেখে অলরেডি আমার মাথা ঘুরাইতাছে। আপনাদের কী অবস্থা কে জানে! জ্ঞান হারানোর আগে এখান থেকে ভাগতে চাই। সবাই ভালো থাকবেন, বাই বাই।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৩৪০১৭
পুরোন সংখ্যা