চাঁদপুর। শনিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ৩১ ভাদ্র ১৪২৫। ৪ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৯। কাফিররা বলবে : হে আমার প্রতিপালক! যেসব জি¦ন ও মানব আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল তাদের উভয়কে দেখিয়ে দিন, যাতে তারা নি¤œ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হয়।

৩০। নিশ্চয়ই যারা বলে : আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর অবিচলিত থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফেরেশ্তা এবং বলে : তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার সুসংবাদ পেয়ে আনন্দিত হও।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


বন্ধু অপেক্ষা শত্রুকে পাহারা দেওয়া সহজ।

-আলকমেয়ন।




যে ধনী বিখ্যাত হবার জন্য দান করে, সে প্রথমে দোজখে প্রবেশ করবে।



 


ফটো গ্যালারি
আমাদের মশাময় জীবন
সাইফুল ইসলাম জুয়েল
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মশা আর মানুষ দুটিই 'ম' আদ্যাক্ষরযুক্ত। মশার বেড়ে ওঠা মানুষের মাঝেই (মশা যে জীবাণু ছড়ায়, তা মানুষই নিজ শরীরে পেলেপুষে বড় করে!)। তাই বলাই যায়, মানুষের জীবনই মশাময়। আসুন, এর আরও কিছু বিষয়-আশয় জেনে নিই!



'মশা মারতে কামান দাগা' এখন জাতীয় প্রবাদ হয়ে গেছে। যতদিন মশা আছে, ততদিন মানুষ কামানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে চলবে। এখন আর সেই মধ্যযুগ নেই, তাই আমরা কামানও দাগতে পারি না। এখন আমরা অ্যারোসল দাগি, মধ্যযুগের মতো বিশাল অগি্নকু- না জ্বেলে কয়েল জ্বালাই। সঙ্গত কারণেই মশার হাত থেকে নিস্তার মেলে না! মানুষ যেমন মিশরের পিরামিডকে, লাশকে মমি করে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে আশ্চর্যের বস্তু হিসেবে গণ্য করে, আর ক'দিন পর থেকে কামানকেও তারা সেই তালিকায় যুক্ত করবে। কেননা, তারা ভেবে পাবে না এককালে মানুষ এতো বড় বড় কামান দিয়ে কীভাবে অতটুকুন ক্ষুদ্র কীট মশার বংশ নির্বংশ করতো!



আমরা লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে বেশ সোচ্চার। এর মানে হলো মনুষ্যকুলে এখনো লিঙ্গবৈষম্য প্রকট! অথচ একটু ভেবে দেখুন_মশারা এদিক থেকে কত্ত আধুনিক। তারা কোনো লিঙ্গবৈষম্য করে না। 'স্ত্রী মশারা দুর্বল বলে রক্ত খাবে না'_এমন কোনো নিয়ম তারা মশকসমাজে চালু রাখেনি। তাই অকর্মা পুরুষ মশারা বসে থাকলেও, স্ত্রী মশারা কিন্তু সুনিপুণভাবে রক্ত পান করে চলে! শুধু তাই নয়, এই 'পান' করার ক্ষেত্রেও কিন্তু তারা কোনো বৈষম্য রাখে না। অর্থাৎ মানুষের পুরুষ-মহিলা ভেদাভেদ না করে তারা গণহারে সবাইকেই তাদের রক্তপানের আওতাভুক্ত হিসেবে গণ্য করে।



মশাদের মাঝেও যোগ্যতা অনুযায়ী শ্রেণি বা স্তর আছে। এক শ্রেণির মশা বেশ কর্মপটু। তারা কুট করে কামড়ে দিয়ে হুট করে চলে যায়। আরেক শ্রেণির মশা আছে বেশ রোম্যান্টিক। এরা সারাজীবন সংগীত সাধনায় নিবিষ্ট থাকে। তাই যখন আপনার আশপাশে আসে, তখন আপনারও সৌভাগ্য হয় তার সুরেলা 'মশীয় সংগীত' শোনার। আর পুরুষ প্রজাতির যেই মশারা রয়েছে, তারা তো আরও এককাঠি সরেস! নিয়মিত ফল-ফলাদি আহার করে, আর স্বাস্থ্য ভালো রাখে। আর কে না জানে_সুস্বাস্থ্যই প্রেমকে তথা বংশকে মজবুত করে!



যেখানেই মনুষ্য প্রজাতির বসবাস ছিলো, সেখানেই মশার উপস্থিতি ছিলো বলে ইতিহাসে প্রমাণ মিলে। অর্থাৎ মশা আর মানুষের সভ্যতার ক্রমবিকাশ সমসাময়িক। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, আজকাল মশার মশাতাত্তি্বক গবেষণার মাধ্যমেই মানুষের নৃতাত্তি্বক গবেষণা সফলকাম হচ্ছে!



ঐতিহাসিক টিট্টির (হিট্টির ঠাট্টীয় ভার্সন!) মতে, মশা একসময় হাতির জাত ভাই ছিলো। তখন অবশ্য হাতি এতো বড় ছিলো না। হাতি ছিলো দু ধরনের। এক. যারা উড়তে পারে; দুই. যারা খেতে পারে! উড়তে পারা হাতিরা উড়তে গিয়ে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়তো, তারা খেতো কম। তাই জিরো ফিগার হাতির বর্তমান রূপই হলো মশা! আর হাতির মতো খেতে পারা হাতিরাই আজকের সুঠাম দেহি হাতি!



মঙ্গলগ্রহে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা কতটুকু তা যাচাইয়ের লক্ষ্যে 'বাসা' (বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা) সিদ্ধান্ত নিয়েছে_মঙ্গলে মানুষের আগে তারা মশা পাঠাবে। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস সেখানে মশা সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারলে, সেখানে মানুষও দিব্যি জীবনযাপন করতে পারবে!



বিলিভ ইট অর নট, মানুষ আর মশা দুটোই 'পান'প্রিয় জাতি। মানুষ পানি, চা, মদ পান করে। আর মশারা পান করে রক্ত। পার্থক্য হলো_মানুষ মদ খেয়ে মাতাল হয়। আর মশারা মাতাল হওয়ার পরেই রক্ত পান করা শুরু করে!



দিনের বেলা থেকে রাতে মশা কেনো বেশি কামড়ায়? এমন প্রশ্ন আপনার মাথায় হয়তো এসে থাকবে। এর কারণ হলো, দিনে মানুষ হাঁটা-চলা, শারীরিক নাড়াচাড়া বেশি করে। তখন মশারা টেনশনফ্রি থাকে। কিন্তু রাতে যখন আপনি মোষের মতো পড়ে পড়ে ঘুমান, তখন মশককুল দুর্ভাবনায় পড়ে যায় আপনি মরে গেলেন না তো! সে কারণে একটু পর পর তারা এসে আপনি বেঁচে আছেন কিনা তা পরখ করে যায়। আর আপনিও তখন বেঁচে থাকার প্রমাণ স্বরূপ হাত-পা নাড়ান, কিংবা শরীর এপাশ-ওপাশ করেন!



মশক জাতি দিনরাত শুধু মানুষের কথাই ভাবে। এতটা ভাবনা বোধহয় আজকাল মানুষও মানুষের জন্যে ভাবে না। সে কারণে, যেখানে আপনি সেখানেই মশার উপস্থিতি টের পাবেন। মশা আর মানুষের এই 'পেয়ার কা বন্ধন' মাঝেমধ্যে মশারি দিয়েও আলগা করা যায় না! ক্লোজআপের বিজ্ঞাপন দেখে তার অনুপ্রাণিত। কাছে আসাই তাদের মূল মন্ত্র!



মানুষ দিনরাত খেটে মরুক, মশককুল এটা চায় না। তারা চায় মানুষ পারলে পূর্ণ বিশ্রামে থাকুক। সে লক্ষ্যেই তারা মানুষের বিশ্রামের জন্যে উপযোগী জিনিসপত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। ডাক্তারের সিরিঞ্জ তাদের সাথেই থাকে। তা দিয়েই তারা ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, চিকুনগুনিয়া প্রভৃতি ওষুধ নিয়ে মানুষের আশপাশেই ঘুরঘুর করে। তারপর সঠিক সময়ে সেগুলো মানুষের শরীরে পুশ করে দিয়ে তাদেরকে ডাক্তারি ভাষায় 'কমপ্লিট রেস্টে থাকা'র সুযোগ করে দেয়!



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৮৩৩৭৯
পুরোন সংখ্যা