চাঁদপুর। শনিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ৩১ ভাদ্র ১৪২৫। ৪ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৯। কাফিররা বলবে : হে আমার প্রতিপালক! যেসব জি¦ন ও মানব আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল তাদের উভয়কে দেখিয়ে দিন, যাতে তারা নি¤œ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হয়।

৩০। নিশ্চয়ই যারা বলে : আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর অবিচলিত থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফেরেশ্তা এবং বলে : তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার সুসংবাদ পেয়ে আনন্দিত হও।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


বন্ধু অপেক্ষা শত্রুকে পাহারা দেওয়া সহজ।

-আলকমেয়ন।




যে ধনী বিখ্যাত হবার জন্য দান করে, সে প্রথমে দোজখে প্রবেশ করবে।



 


ফটো গ্যালারি
সাক্ষাৎকার : জমির হোসেন জনি
লেখালেখি আমার পেশা নয় নেশা
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জমির হোসেন জনি। প্রবাসী থেকেও দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে তিনি লিখছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে। লেখালেখির পাশাপাশি করছেন সাংবাদিকতাও। তিনি দৈনিক যুগান্তর, জাগো নিউজ ও চাঁদপুর কণ্ঠের ইতালি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি তাঁর জন্মস্থান চাঁদপুরের পুরাণবাজারে এসেছেন। লেখালেখি জীবন নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।



কেমন আছেন?



জমির হোসেন জনি : জ্বি, ভালো আছি।



 



বাংলাদেশে কবে এলেন?



জমির হোসেন জনি : গত ১০ আগস্ট ইতালি থেকে রওনা দিয়েছিলাম। বাংলাদেশে এসেছি ১১ আগস্ট।



আপনার লেখালেখি জীবনের শুরুর সময়টা সম্পর্কে বলুন।



জমির হোসেন জনি : আমার লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবন থেকে। যখন সেভেনে পড়ি তখন থেকে কবিতা লিখতাম। আমার প্রথম কবিতা ছাপা হয় সম্ভবত ১৯৯৬ সালে। লেখাটি চাঁদপুর কণ্ঠের পাঠক ফোরাম বিভাগে প্রকাশিত হয়। ওই সময় থেকে এখনও আমি পাঠক ফোরামে লিখে যাচ্ছি। আমার উল্লেখযোগ্য লেখার মধ্যে 'নীরব ভালোবাসা', 'উত্তপ্ত এইদিনে'সহ অসংখ্য লেখা পাঠক ফোরামে প্রকাশিত হয়েছে। সেই শাহাদাত হোসেন শান্ত থেকে মুহাম্মদ ফরিদ হাসানের সম্পাদনা পর্যন্ত আমি পাঠক ফোরামের নিয়মিত লেখক। বলতে পারেন লেখালেখির প্রথম জীবনে যে বন্ধুত্ব পাঠক ফোরামের সাথে হয়েছিল তা এখনও অটুট আছে।



লেখালেখি কেন করেন?



জমির হোসেন জনি : লেখালেখি আমার পেশা নয় নেশা। প্রতিটি মানুষেরই কোনো না কোনো শখ থাকে। মানুষ শখের বশেই ভালো দিকগুলো কোনো কাজের মাধ্যমে তুলে ধরেন। আমার বেলায়ও তেমন কিছু হয়েছে। অনেক আগের অভ্যেস, তাই ইচ্ছে করলেই লেখালেখি ছাড়া থাকতে পারি না। একদিন না লিখলে যেন পেটের ভাত হজম হয় না। লেখালেখি এখন আমার শিরায়-উপশিরায় মিশে আছে।



আপনি দীর্ঘদিন সাহিত্য চর্চার সাথে রয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আপনার কোনো বই প্রকাশিত হয়নি। কেন?



জমির হোসেন জনি : ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি প্রশ্ন করার জন্যে। প্রসঙ্গক্রমে প্রশ্নটি কঠিন হলেও বাস্তব। সাহিত্য চর্চা করলেই যে বই প্রকাশ করতে হবে এমন কিছু নয়। একজন লেখক তার লেখার মাধ্যমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে তা বই প্রকাশের চেয়ে কম গুরুত্ব রাখে না। সত্যিকার অর্থে প্রবাস জীবনে ব্যস্ততাই আমাকে বই প্রকাশ থেকে দূরে রেখেছে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ব্যস্ততার কারণে সবগুলো লেখা এক করে বই প্রকাশ করা হয়নি। তবে আশা করি খুব শীঘ্রই একটি বই প্রকাশ করার জন্য আমি চেষ্টা করবো।



ইতালিতে কি বাংলা সাহিত্য চর্চা হয়?



জমির হোসেন জনি : ইতালিতে প্রায় দু লাখ বাংলাদেশী রয়েছেন। প্রতিটি মানুষকেই তার জীবিকার তাগিদে কর্মব্যস্ত থাকতে হয়। সাহিত্য চর্চা তাই নিজ দায়িত্বেই করতে হয়। সবাই মিলে একত্রে আড্ডার দেয়ার মতো পরিবেশ ও সময় কারোরই থাকে না। অনেকেই আছেন সাহিত্য অনুরাগী। কিন্তু জীবিকার জন্যে বেশি সময় দিতে গিয়ে সাহিত্য চর্চার আর সময় পান না। ফলে সাহিত্য চর্চার মন থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে তা আর হয়ে ওঠে না। কারণ প্রতিটি মানুষই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কর্মব্যস্ত থাকেন। সপ্তাহে একদিন ছুটি থাকলে তা মানুষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করেন। তাই সাহিত্যের গভীরে যাওয়ার আর হয় না। তাই বর্তমানে ভার্চুয়াল যুগে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে বা সাহিত্য বিষয় নিয়ে টুকিটাকি প্রকাশের ক্ষেত্রে যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিয়েছেন।



ইতালির এই ব্যস্ত জীবনে কীভাবে লেখালেখির জন্যে সময় বের করেন?



জমির হোসেন জনি : একটু আগেই ইতালির ব্যস্ত জীবন যাপনের কথা বলেছি। যেহেতু সাহিত্যের প্রতি আমি অনেক দুর্বল তাই ব্যস্ততার সাথে মিতালি গড়ে একটু সময় বের করে নিই। সেটা হোক কাজের ফাঁকে, হোক আমার অবসর সময়। ধন্যবাদ পরম করুণাময়কে, আমি যে কর্মটি করি সেখানে সপ্তাহে ৫দিন কাজ করতে হয়। ওই দুদিন পরিবারকে সময় দেয়ার পর নিজের আবেগ প্রকাশের জন্যে একটু সময় বের করে নিই। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে_সাহিত্যের প্রতি প্রেম থাকার কারণে ট্রেন, বাস ও ট্রামে আসার যাওয়ার মধ্যে অনেক লেখার শুরু এবং শেষ করেছি।



আপনার প্রিয় লেখক কারা?



জমির হোসেন জনি : প্রিয় লেখক অনেকেই আছেন। তবে বেশি টানেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।



একসময় চাঁদপুর শহর চষে বেড়াতেন আপনারা। গল্পে-আড্ডায় কাটতো সময়। ওই সোনার খাঁচায় বন্দী দিনগুলো স্মৃতি শুনতে চাই।



জমির হোসেন জনি : আমরা সপ্তাহের দু-তিন সাহিত্যকর্মীরা আড্ডা দিতাম। কখনো প্লাটফর্মে, কখনো মাসুদ করিম রেজা ও কেএম মুকুলের বাসায়, কখনো আলআমিন শাহ বুলবুলের ম্যাচে, জসীম মেহেদীর দোয়াগঞ্জল বুকস্টলে আড্ডা দিতাম। আড্ডা হতো অঙ্গীকারের সামনে। মনে আছে আমি প্রায়ই নিজের লেখা ও সুর করা গানগুলো গুনগুন করে গাইতাম। তবে এখনকার সাহিত্যকর্মীরা আমাদের চেয়েও সাহিত্য চর্চায় অনেক ধাপ এগিয়ে। আমি ব্যক্তিভাবে তাদের এই চর্চাকে স্বাগত জানাই। তাদের চর্চা, আড্ডা দেখে আমার যে কত আনন্দ লাগে, তা বলে বোঝাতে পারবো না। তাদের খ্যাতি দেখে সত্যিই ঈর্ষা হয়। কারণ তারা সাহিত্য চর্চা করতে গিয়ে যে সময় ব্যয় করে সেটা আসলেই ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয়। আমাদের তরুণরা চর্চার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে লিখে ভালো একটি অবস্থান সৃষ্টি করেছে। তাদের এই সাহিত্য চর্চা বাংলাদেশে উপস্থাপন করে তারা চাঁদপুর জেলাকে সম্মানিত করেছে। আমি ব্যক্তি জীবনে এই চর্চাকে অব্যাহত রাখতে সবসময় তাদের পাশে থাকবো।



পাঠক ফোরামে দীর্ঘদিন লিখছেন। এ বিভাগের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় স্পন্সর দিয়েছেন নানা সময়ে। পাঠক ফোরামের প্রতি আপনার প্রত্যাশার কথা শুনতে চাই।



জমির হোসেন জনি : আজকের পাঠক ফোরাম বিভাগের জন্যেই চাঁদপুরে অনেক লেখক ও পাঠক তৈরি হয়েছে। এর কৃতিত্ব পাঠক ফোরাম ও চাঁদপুর কণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়। যতটুকু দেখে আসছি, পাঠক ফোরাম সবসময় পাঠকদের জন্যে কাজ করে আসছে। আমার একটি প্রত্যাশা রয়েছে। সেটি হলো, পাঠক ফোরামে যেন চাঁদপুরের পাঠকদের লেখাই বেশি প্রাধান্য পায়। এর কারণ হলো স্থানীয় লেখা বেশি ছাপা হলে পাঠকের লেখার হাত প্রসারিত হবে।



আমাদের সময় দেয়ার জন্যে আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।



জমির হোসেন জনি : চাঁদপুর কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৮৩৯৪৮
পুরোন সংখ্যা