চাঁদপুর। শনিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ৩১ ভাদ্র ১৪২৫। ৪ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৯। কাফিররা বলবে : হে আমার প্রতিপালক! যেসব জি¦ন ও মানব আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল তাদের উভয়কে দেখিয়ে দিন, যাতে তারা নি¤œ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হয়।

৩০। নিশ্চয়ই যারা বলে : আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর অবিচলিত থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফেরেশ্তা এবং বলে : তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার সুসংবাদ পেয়ে আনন্দিত হও।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


বন্ধু অপেক্ষা শত্রুকে পাহারা দেওয়া সহজ।

-আলকমেয়ন।




যে ধনী বিখ্যাত হবার জন্য দান করে, সে প্রথমে দোজখে প্রবেশ করবে।



 


ফটো গ্যালারি
অপরিচিতার অমীমাংসিত গল্প
কাদের পলাশ
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

_আই লাভ ইউ।

_মানে কী?

_মানে হচ্ছে আপনার মোবাইল থেকে আমার মোবাইলে মিস কল এসেছে। তাই আই লাভ ইউ।

_অদ্ভুত! তাই বলে এমন একটা সিরিয়াস কথা এতো সহজে বলে দেবেন? একটা মানুষ সম্পর্কে না জেনে না বুঝে। আসলেই এখন প্যারালাইসড যুগ চলছে। মানুষগুলো ধীরে ধীরে যেন ক্ষয়ে যাওয়া কলকব্জায় রূপ নিচ্ছে। আপনাদের মতো কিছু মানুষের কা- দেখে এমনটা ভাবা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

_এতো ক্ষ্যাপছেন কেন?

_ক্ষ্যাপলাম কোথায়? আপনি বললেন তিন শব্দ, আমি বললাম দুই। তারপর বললেন চৌদ্দ, আমি বললাম তিন দৌদ্দ বেয়ালি্লশ শব্দ, সাথে আরো এক। যদিও আপনার প্রথম তিন শব্দের অর্থ অনেক বিস্তৃত।

_তাতে কী হয়েছে? এতে আপনার খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। আমার টাকা হাওয়ায় উড়ে যাচ্ছে। মূলত লোকসানতো আমারই। অবশ্য আপনার সময় ব্যয় হচ্ছে। যাইহোক, গোড়ার কথায় চলে আসি। গতকাল এই সিমটা কিনেছি। মোবাইলে ঢুকানোর সময় মনে একটা ব্যতিক্রম ইচ্ছে তৈরি হলো। সর্বপ্রথম অপরিচিত যে নম্বর মোবাইলের স্ক্রীনে ভেসে উঠবে তার সঙ্গে আমি ভাব জমাবো। আর ভাব জামানোর জন্যে প্রথম বাক্যটিই হবে একেবারে সহজ। যে বাক্যের জন্যে মানুষ সৃষ্টির আদি থেকে অপেক্ষা করে চলেছে। একটা নতুন সম্পর্ক হবে। আত্মীয় হবে। আত্মার আত্মীয়। আমি আমার বন্ধুত্বের হাত ভাসিয়ে দেবো তার সম্মুখে। শুধু বন্ধু নয়, জীবনসঙ্গী করার বাসনা। সুতরাং আই লাভ ইউ।

_যদি পুরুষ কেউ হতো, তখন কী বলতেন?

_ওই নম্বর বাদ গিয়ে পরের নম্বর প্রথম তালিকায় চলে আসতো। পৃথিবী যেভাবে চলছে। কেউ পৃথিবী থেকে প্রস্থান করতেই ওই স্থানে অন্য কেউ অবস্থান নেয়। কারণ মানুষ শূন্যস্থান শূন্য রাখে না। মানুষ না চাইলেও প্রকৃতি খালি রাখে না। আপনাআপনি পূরণ হয়।

_শুনুন, শুনুন, আপনাকে চিনি না জানি না হুদাই প্যাঁচাল বাড়ানো হচ্ছে। রাখছি বলেই ওপাশ থেকে লাইনটা কেটে দেয়।

_হ্যালো, হ্যালো। আ হা লাইনটা কেটেই দিলো। দিক, সমস্যা নাই। নম্বর যেহেতু আছে, পরে কল দেয়া যাবে।

সদ্য দুবাই ফেরত রায়হান। ছাত্রজীবনের সমাপ্তি হতে না হতেই কয়েক বছরের প্রবাস জীবন। ব্যতিক্রম অভিজ্ঞতা জীবন ঝুড়িতে জমা পড়ে রায়হানের। মনে পড়ে বারবার প্রবাসের দালানের পর দালান মরুভূমির পর মরুভূমি। চোখে আয়নায় ভেসে উঠে সন্তর্পণে একাকিত্ব আর কষ্টের দাবানল। কেউ দেখে না। কেউ জানে না। কেউ বুঝেও না। ওখানের মানুষগুলোর মন জীবনের তাগিদে ধুলা-বালির রঙে মিশে যায়। মানুষ হয়ে নয়, বেঁচে থাকা হয় মিসকিন হিসেবে। কাজ করিয়ে দিরহাম দেয়, শ্রমিক নয়; মিসকিন বলে।

রায়হান দেশে এসে পরাণ জুড়ায় দেখে প্রাণবন্ত সবুজ প্রান্তর। রাস্তায় হাঁটে। একা একা। কথা বলে দু পাশের সারিসারি সবুজ বৃক্ষরাজি আর লতাপাতার সনে। গোপনে। নিরবে। দু হাত প্রসারিত করে উপরে তাকিয়ে প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেয় রায়হান। এ যেন পুনঃজন্ম। এর মাঝে হঠাৎ মনে হয় আননোন নাম্বারের মানুষটিকে। আগপিছ না ভেবেই কল দেয়।

কল রিসিভ হতেই ওপাড় থেকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়।

_কে?

_আমি।

_আমি কে?

_আমি রায়হান। গতকাল কথা বলেছিলাম।

_অপরিচিত কারো সাথে কথা বলার ইচ্ছে আমার নেই।

_কেন? গতকাল অপরিচিত থাকলেও আজতো আমরা পরিচিত।

_কীভাবে?

_কারো সাথে দ্বিতীয়বার দেখা কিংবা কথা হলেও সে পূর্ব পরিচিত বলেই ধরে নেয়া হয়। সুতরাং আমরা পরিচিত।

_দেখুন, আমার সাথে কথা বলে আপনার যেমনি কোনো লাভ নেই। তেমনি আমারও। কারণ পৃথিবীটা স্বার্থের। আপনাকে দিয়ে আমার কোনো স্বার্থ হাসিল হবে না। ঠিক আপনারও। তাই শুধু শুধু কথা বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই। আর কল করবেন না, প্লিজ।

রায়হান মেয়েটির কথা শুনে অবাক হয়। গত চার বছরে দেশের নারীদের চিন্তা চেতনা কতটা পাল্টেছে কিঞ্চিৎ ধারণা পায় সে। ইতোমধ্যে নারীরা সোজাসাপটা কথা বলতে শিখে ফেলেছে। অথচ একসময় মেয়েরা হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতো না। কোনো প্রোপজ পেলে অন্তত দু চার দিন ভাবতো। খুব কাছের মানুষটির পরামর্শ চেয়ে পাল্টা জবাব নির্ধারণ করতো। একটা মেয়ের মুখে এতো র্ককশ কথা শুনে অবাক না হয়ে উপায় থাকে না রায়হানের। নিষেধ সত্ত্বেও মেয়েটির প্রতি টান আরো বাড়তে থাকে রায়হানের। কেন এ টান রায়হানও বুঝতে পারে না। যদিও প্রথমের বিষয়টি ছিলো মজা করার উপলক্ষ্য মাত্র। কিন্তু এতো সুন্দর কণ্ঠ। ওই কণ্ঠে উচ্চারিত শব্দমালা শুনে নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেয়া যাবে অনাগত দিনগুলো। রাগি কথায়ও যেন সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে যায় মেয়েটি। রায়হান কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না।

ওদিকে দুবাই ফেরত ছেলেকে ইতালি পাঠানোর জন্যে দালালের শরণাপন্ন হয় বাবা ইশকত আলী। ইতোমধ্যে কথাবার্তা চুড়ান্ত করেছেন। চৌদ্দ লাখ টাকা খরচ হবে। দুবাই ছোট দেশ তাই হয়তো ছেলের মন টিকেনি। অল্প কয়েক বছরে দেশে চলে এসেছে। এবার বড় দেশে পাঠাবো। যতটাকা খরচ হোক অসুবিধা নেই, ভাবে ইশকত আলী। যদিও ছেলেকে বিয়ে দেয়ার জন্যে পাত্রীও জোরেশোরে দেখা হচ্ছে। তিনদিক থেকে ঘটক পাত্রীর ছবি নিয়ে আসছেন। রায়হানদের পারিবারিক ঐতিহ্যের দরুণ পাত্রীর অভাব হচ্ছে না। সব পাত্রী পক্ষই আগ বাড়িয়ে কথা বলতে চায়। কিন্তু রায়হানের সম্মতি না পেয়ে বিপাকে পড়ে ইশকত আলী। বিয়ের ব্যাপারে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। রায়হান দেশে এসেই একপ্রকার নিরব নিশ্চুপ হয়ে গেছে। দিন যায়, রাত যায়, সময় কাটে তবে সম্ভুক গতিতে।

সেই আননোন নাম্বারে তিনদিন পর আবার কল দেয় রায়হান। কল রিসিভ হয় না। রায়হান বারবার কল দিতেই থাকে। তৃতীয়বার কল ধরতেই রায়হান বলে, আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই। দয়া করে বারণ করবেন না।

_আজবতো। প্রথম দিন বললেন এক কথা। আজ আবার আরেক কথা। তাছাড়া আমিতো আমার সমস্যা এবং অপারগতার কথা সাফ জানিয়ে দিলাম। তারপরেও কেন বিরক্ত করছেন আর কষ্ট পাচ্ছেন। এখানেই থামুন। নয়তো আরো তীব্র কষ্ট অপেক্ষা করছে। সামনে এগিয়ে আসলে আপনাকে তাড়া করবে এক হিংস্র ভয়ংকর বিশ্রি বাস্তবতা। তাছাড়া আপনার কথার জবাবে আমি আমার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলাম। এখন বলছেন দেখা করবেন। আপনার মাথা মনে হয় ঠিক নেই। একটু পাবনা গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তারপর আপনি আপনার অবস্থান সনাক্ত করতে পারবেন।

_আমি পাবনা যাবার আগে আপনার সাথে দেখা করতে চাই।

_সম্ভব না। আমি আপনাকে ঠকাতে চাই না।

_আমি ঠকতে চাই।

_মানুষ মুখে যা বলে মনে তার উল্টো। আপনি এখন যা বলছেন আমি নিশ্চিত করে বলতে পারবো আপনি আপনার সিন্ধান্ত পাল্টাবেন। কঠিন বাস্তবতার সম্মুখে অবস্থান করলে মানুষ তার প্রতিজ্ঞা থেকে পিছু হটে। এটা অবশ্যই মঙ্গলজনক। কারণ মানুষ জানেনা সামনে তার কী অপেক্ষা করছে? সামনে নিশ্চিত বিপদ জেনে সামনে অগ্রসর হওয়ার মানুষের সংখ্যা অতি নগণ্য। বুঝি, আমি এখন সত্য বললেও আপনার বিশ্বাস হবে না। তাই কঠিন সত্য আড়ালে থাকা শ্রেয়। এক্ষেত্রে যদি সত্য না বলি, তবে আপনার আকাঙ্খা আরো তীব্র হতে পারে। সে হিসেবে চরম সত্য কথাটিই আমার বলা উচিৎ। তারপরেও আপনার এ কোমল ভালোলাগা তৃপ্তি দিয়ে যাক মনে। তাই আমি সত্য বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখলাম।

_দেখুন তারপরেও আমি আপনার মুখোমুখি হতে চাই।

_আপনি আমার সামনে আসলে দগ্ধ হবেন। ক্ষতবিক্ষত হবেন। উন্মাদ হবেন। কিন্তু আমি তা চাই না। কারণ আমায় দেখে আপনার মতো আরো অনেকেই পথ সুধরে নিয়েছে। কেউ পারেনি বলে নিঃশেষ হয়েছে। এতে আমার দুঃখই বেড়েছে শুধু। সুন্দরের সকল উপাদান সৃষ্টিকর্তা আমায় নিজ হাতে দিয়েছেন। কিন্তু...! একটু থেমে মুঠোফোনের ওপাশ থেকে বলে, সর্বশেষ কথা, আপনার সাথে আমি দেখা করতে চাই না।

_আমি নিঃশেষ হতে চাই। অন্ধ হতে চাই। তবুও দেখা করবো।

_শুনুন। আমি দেখা করবো না। আপনার সাথে শুধু একটা কথাই এখনো বলা হয়নি। যা এর আগে আপনার মতো অন্যদের সাথেও বলা হয় নি। সে কথা আমার মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা সম্ভব নয়। তবে বলবো। যে কোনো ভাবেই হোক আমাকে বলতেই হবে। অন্তুত আপনার জন্যে। যদিও কথাটি আমার পরিবার ছাড়া আর কেউ বিশ্বাস করে না। করবেও না। কথাটি শুধু আপনাকেই বলবো। তবে এ কথা আর কাউকে বলবেন না। এটা আমার বিশেষ প্রথম ও শেষ অনুরোধ।

_ঠিক আছে বলুন।

_আজ নয়। আগামি পরশু বাই পোস্টে একটি চিঠি পেয়ে যাবেন। আপনার ঠিকানা দিন।

_অপেক্ষায় রইলাম। আমি সব ধরনের কথা শুনতে প্রস্তুত আছি। আমার জীবনের সিদ্ধান্তেও অনড় আছি।

মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে ঠিকানা লিখে রায়হান। সেন্ড করে আননোন নাম্বারটিতে। একদিন পর কুরিয়ার থেকে ফোনে জানানো হয়, আপনার একটি চিঠি এসেছে। নিয়ে যান। রায়হান দ্রুত ছুটে আসে কুরিয়ার সার্ভিসে। চিঠিটা হাতে নিয়ে এপিঠ ওপিঠ করে দেখে। খামের উপর চমৎকার হাতে লেখা প্রাপকের নাম ও ঠিকানা। প্রেরকের ঠিকানায় নাম অপরিচিতা চৌধুরী। আর আননোন নাম্বারটি গোডগোড হরফে লেখা রয়েছে। কুরিয়ার থেকে সরে এসে দ্রুত খাম খুলে রায়হান। চিঠিতেও একই হাতে লেখা। গোডগোড সুন্দর হাতের লেখা দেখে মুগ্ধ হয়। চিঠির অভিবাদন অংশের উপস্থাপন যেন কবিতাকেও হার মানায়। চিঠির মাঝখানে গিয়ে রায়হানের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যায়। আবার পড়ে লাইনটি। কয়েকবার পড়ে। একই লাইন বারবার পড়তে থাকে...

আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬১১৪
পুরোন সংখ্যা