চাঁদপুর। শনিবার ৬ অক্টোবর ২০১৮। ২১ আশ্বিন ১৪২৫। ২৫ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা

৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২১। তাদের কি এমন কতকগুলো শরীকও আছে যারা তাদের জন্যে দ্বীনের এমন বিধান প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? ফায়সালার ঘোষণা না থাকলে তাদের বিষয়ে তো সিদ্ধান্ত হয়েই যেতো। নিশ্চয়ই যালিমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

 


মনে মনে সব মানুষই কবি।      


-ইমারস।


মানুষ মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই না করে) তাই বলে বেড়ায়।



 


ফটো গ্যালারি
গন্তব্য
কাজী লাবণ্য
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ছোট্ট একটি সাদা দ্বিতল বাড়ি। চারপাশে আম নারিকেল আর জলপাই গাছের ছায়া। এ রকম আবাসিক এলাকায় এমন গাছগাছালিবেষ্টিত দ্বিতীয় কোনো বাড়ি নেই বললেই চলে। এই জমিভিটে আমার ঠাকুর্দার ছিলো পরে টিনশেডের বাড়ি ভেঙ্গে সেটিকে দোতলা করেন বাবা, আমরা সকলেই বৃক্ষ ভালোবাসী বলে সে সময় গাছগুলো নির্মম কুঠারের শিকার না হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নিজ পায়ে। শেকড় ছড়িয়েছে ইচ্ছেমতো। চার দিদির পরে আমি বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্র। লেখাপড়ায় ভালো ছিলাম, স্কুল-কলেজ পেরিয়ে চান্স পেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হলাম। চোখে স্বপ্নের ভিড়। পাস করে উঁচুপদের চাকুরিতে যোগ দিয়ে পাড়ি দিলাম মুম্বাই। বিদেশী কোম্পানী, বিজাতীয় পদস্থ কর্মকর্তা, চারপাশে বিশেষ খাবার, পানীয়ের ছড়াছড়ি। কাজ করি আর বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখি। একের পর এক কোম্পানী বদল হয় অর্থ ও মানের ধাপ উঁচু থেকে উঁচুতর হয়, রঙেরও বদল ঘটে।



 



বাড়ির কথা মনে পড়েকি! হ্যাঁ মায়ের কথা, পাতলা কুয়াশার চাদরের মতো দোল দিয়ে যায়। বছরে একবার গিয়ে মাকে দেখে আসি। তখনও বাবা বেঁচে, তিনি বলেন, হ্যাঁরে, অতদূরে না থেকে কাছাকাছি কোথাও চাকুরি করা যায় না! আমার কানেই ঢোকে না। বাবারা এমন বলেই থাকেন...



আমি তখন পুনে, দিল্লী-মুম্বাই করে বেড়াচ্ছি। এরই মাঝে মুম্বাইতে একজন নজরে এলো। থমকে গেলাম, দীর্ঘাঙ্গী, সুন্দর, ফটফট করে চোস্ত ইংরেজি বলে। তার চাকরি চলে গিয়েছে বলে কিছুটা বিমর্ষ। আমরা দুজনে জড়িয়ে গেলাম, ঠিকুজি এক নয়, ভাষা এক নয় তাতে কি! বাঁধা কোথায়! আধুনিক বিশ্বে সবাই যে যার মতো স্বাধীন, যদিও স্বাধীনতা শব্দটি একটি ধারণামাত্র। আরেক পার্বতী-দেবদাস কাহিনীরচিত হবার সুযোগ না দিয়ে আমরা নীড় বাঁধলাম। ভালোবাসার নীড়, যেখানে সবকিছু উচুগ্রামে বাঁধা। প্রথম বছর মহা জৌলুসে খাদ্যপানীয় ছিটিয়ে এয়ানিভার্সারি পালন করলাম। ততোদিনে বন্ধু, বাড়ি, দিদিরা সবাই অনেক দূরে সরে যেতে শুর করেছে। তারাই কি সরে যাচ্ছিলো? দ্রতগামী ট্রেনের পেছন দৃশ্যের মতো তারা যেনো দ্রুত ঝাপসা হয়ে আসতে থাকে... জীবন থেকে অদৃশ্য হতে থাকে। পরের দু-তিনটে অ্যানিভার্সারি করলাম সাদামাটাভাবে, পরেরটা তো করাই হলো না। এরপরে আর কোনো অ্যানিভার্সারি আসেনি আমাদের যুগলজীবনে। আমার বাবা হবার ইচ্ছে হলো। কিন্তু আমার একার ইচ্ছে হলে তো আর হবে না, অন্যপক্ষের মা হওয়ার ইচ্ছে না হলে আমার ইচ্ছে তো ইটচাপা ঘাসের মতো মরে যাবেই। প্রায় রাতে স্বপ্নে দেখি জলপাইশাখের দোলনায় বসে এক নাইটিঙ্গল শিশু বাবা বাবা করে ডাকছে। নানা ইচ্ছের মৃত্যু হতে হতে একসময় আমাদের ইচ্ছেরা নিজ নিজ রাস্তায় প্রকটভাবে চলা শুরু করলো। চির ডানপিটে আমি কেমন যেনো ঝিমিয়ে গেলাম, নিজের ভেতরে সেঁধিয়ে গেলাম।



 



এক ভরা পূর্ণিমার রাতে আমি ছাদে গেলাম সিগারেট নিয়ে। এ গন্ধ সে সহ্য করতে পারে না। এতোদিন ব্যালকনিতে বন্দোবস্ত ছিলো আজকাল ওর সেটাও সহ্য হয়না। থালার মতো বিশাল আর গোল চাঁদ। ফক্ফকা রাতে আম, জলপাই ও নারিকেল পাতার ছায়া মাটিতে দোল খায় সে ছায়া এতো অপূর্ব আগে কখনই চোখে পরেনি। ফক্ফকা চাঁদনী পসরে পাতার ছায়াময় খেলা খেলতে থাকে আমার মস্তিস্কে...আর আমি! এক জীবন্ত শব বোম্বের এক নির্জন কংক্রিটের ছাদে হতাশার মহাসমুদ্রে ভাসতে থাকি। আমি কি তবে সমুদ্রের পাশে! যার স্বাদ নোনা! মাতৃগর্ভই তো মানুষের প্রথম মহাসমুদ্র... নিজেকে টালমাটাল শূন্য অনুভূতির ভারসাম্যহীন অদ্ভূত কোনো জীব মনে হয়।



ছাদে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে, চাঁদের অমিয় আলোর দিকে তাকিয়ে একেবারে হঠাৎ করে একটা প্রলম্বিত জানা-অজানা, চেনা-অচেনা ডাক হু হু ঢুকে যায় আমার গহীনে, আমার অস্তিত্বে। মাথাটায় একটা আকাশ ঢুকে পরে-বিহঙ্গরা ডানা ঝাঁপটায়...বাড়ির জন্যে, মায়ের জন্যে, আমার ফেলে আসা সেই আজন্ম গাছগাছালির ঠাঁস বুনট জায়গাটির জন্যে এমনকি আমার মরে যাওয়া পোষা বিড়ালটির জন্যে আমি ব্যাকুল হয়ে উঠলাম। আমি সিগারেট ধরাতে ভুলে গেলাম, ভোর পর্যন্ত আমি সেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। মাত্র ৬ মাস আগে বাবা চিতায় ছাই হয়ে গেছেন। আমি গিয়ে তাঁর সৎকার করে এসেছি, সময় কোথায় যে মার কাছে থাকবো কিছুদিন! চিরদিনের জন্যে হারিয়ে যাওয়া বাবার জন্যে বুকের ভেতর হাহাকার করে উঠলো, আর চেয়ে থাকা মা! সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। এ যাবৎ, যেভাবে আমি জীবনের সব সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি।



 



মা আমাকে দেখে হতবাক! তার চোখ মুখ আনন্দ জলে মাখামাখি, বিশ্বাস হতে চায় না, তাকে আর একা থাকতে হবে না, আত্মাকে হাত বাড়ালেই স্পর্শ করতে পারবে। আমার ভেতর-বাইি কি জলহীন! মরুভূমি! আহা কত বছর পর আমি মায়ের দিকে এমন গভীরভাবে তাকালাম। মায়ের বয়স আরো বেড়ে গিয়েছে, চোখের নিচে ব্যাগ, গালের দু পাশ ঝুলে গেছে, চশমার কাঁচ আরো পুরু হয়েছে, হাঁটতে গেলে হাঁটু বিদ্রোহ করে, মার জন্যে এক অব্যক্ত মমতায় আমার বুকের ভেতরটা পাথর পাথর লাগতে লাগলো। বেশ কিছুদিন মায়ের পায়ে একাত্মা হয়ে রইলাম সেই মাখো মাখো কাঁচামিঠে সময়গুলোর মতো। মা যেনো হাতে স্বর্গ পেয়ে গেছে, তার আর কিছু চাইবার নেই। এক অপার্থিব প্রশান্তি চোখেমুখে নিয়ে প্রতিরাতে ঘুমোতে যায় আর প্রতি সকালে ঘুম থেকে জাগে। আমি চেয়ে চেয়ে দেখি, মনে হয় কেনো আমরা ছুটে বেড়াই! কিসের পেছনে! কি পাওয়ার আশায়! কি হয় এতো এতো অর্জন দিয়ে! যদি তা মায়ের থেকে দূরেই সরিয়ে রাখে! এর চেয়ে বড় পাওয়ার আর কি আছে! এই-ই আমার পরম পাওয়া।



 



আম গাছের পাশে একটি পেয়ারা গাছ সেটাতে থোকায় থোকায় পেয়ারা ধরে, পাকলে যার ভেতরটা নারীর সিঁথির সিঁদুরের মতো লাল হয়ে যায়। সেটার পাশেই একটি কাগজী লেবুর ঝোপ...ঝেপে লেবু ধরে, অদ্ভূত সুন্দর গন্ধ আর স্বাদ। ওপাশে কোণায় ৪টি নারিকেল গাছের সারি, আজকাল আর কেউ ডাব পারে না সব ঝুনো হয়ে যায়। আগে দিদিরা কচি থাকতেই নামিয়ে নিতো, এখন নামাবে কে! আর জল পান করবে কে! সময়ে কচি সবুজ ডাব ঝুনো নারিকেল হয়, ইঁদুর কেটে দেয় পচে যায় বা মাঝে মাঝে দিদিরা কেউ এসে লোক ডাকিয়ে গাছ পরিষ্কার করে নেয়।



গাছেরা যেনো নীরবে আমার কাছে অভিযোগ করে আর তোমরা আমাদের কাছে আসো না, আমরা কি আর তোমাদেরকে ভালো লাগা দিতে পারি না! আমরা কী আর ফল-ফুল ছায়া দিতে পারি না! আমাদের শাখারা আর কি তোমাদের দোলনার ভার বইতে পারে না! বুকের ভেতর নড়েচড়ে যায়! বড্ড ছোটবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। সেই ফড়িংবেলা! সেই পূজো, ভাসান, স্কুলের পিকনিক... কিন্তু পা শুধু সামনে বাড়ানো যায়, পেছনে নয়। কী নির্মম এই সত্য! বুকে কেবল ক্যাকটাসের কাটা হানে, অদৃশ্য রক্তক্ষরণ হয়।



 



এখানে আমি আবার চাকুরি পেয়েছি। আগের মতো ঝাঁ চকচকে নয়, তাতে কি! আমার আর তো তেমন অর্থব্যয় নেই। মায়ের চাহিদা বলতে কিছুই নেই, তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সবদিক থেকে মায়ের গুছানো সংসার, আমার উপস্থিতি মায়ের আনন্দ ও বেঁচে থাকার স্পৃহা বাড়ায় কিন্তু মা আমাকে তেমন কোনো দায়িত্ব দেয় না। এতোদিনের অর্জিত যা কিছু সব আমি তাকেই দিয়ে এসেছি।



 



মাতা-পুত্রের জীবন একেবারে ড্রামের বিটে না হোক রাগভৈরবী বা বেহাগের ছন্দ লয়ে তির্তির্ চলতে থাকে। রাতের খাবারের পর, মাকে ওষুধ খাইয়ে শুইয়ে দিয়ে আমি ছাদে বসে থাকি। ছাদে বসার জন্যে চমৎকার একটি ছাউনি এবং কিছু সিমেন্টের চেয়ার তৈরি করেছি, জায়গাটি ফুলের টব, লাইট দিয়ে সুসজ্জিত করলেও আমি বসে থাকি অন্ধকারে। সময়ে অন্ধকার ফিকে হয়ে চারপাশ স্বচ্ছ ওঠে। দিদিরা বা ভাগ্নে-ভাগি্নরা এটাকে ভীষণ পছন্দ করে। এটা নাকি তাদের বার-বি-কিউ-য়ের জন্যে উপযুক্ত হয়েছে। ওরা এলে বেশ হৈহৈ করে কেটে যায় ক'টা দিন।



 



ছুটির দিন, আকাশ মেঘলা, বসে আছি ছাদে, বাড়ির সামনের একটু ফাঁকা জায়গার পরেই মিতালি দিদিদের বাসা। মিতালি দিদির ছোটবোন মনালি এখন পাগল। মনালি পাগল এই কথাটা স্বীকার করতে, মেনে নিতে এতো কষ্ট হয় যা বলার মতো নয়।



ভালোবেসে বিয়ে করেছিল যাকে একটি কন্যা সন্তান হবার পরে সে চলে গেছে আর কোনোদিন ফিরেনি। যাবার দিন মনালি তাকে বিদায় দিতে স্টেশনে গিয়েছিলো, সেই থেকে আজও সে সময়-অসময়ে স্টেশনে যায়, কান্নাকাটি করে, বিড়বিড় করে স্বামীর নাম ধরে ডাকে। প্রতিবেশীদের কারো হাত-পা ধরে মনালির বৃদ্ধা মা ওকে স্টেশন থেকে আনানোর ব্যবস্থা করে। মনালির মেয়েটা ধিরে ধিরে বড় হচ্ছে, বাবার কীর্তি মায়ের এই অবস্থা প্রজাপতি মেয়েটাকে ম্রিয়মাণ করে রাখে। আমি কয়েকদিন ওকে ডেকে কথা বলেছি, কিন্তু সে কেমন একটা ভয়ে কুঁকড়ে থাকে। সাবলীল হয় না। একদিন শপিংমল থেকে ওর জন্যে একটি ফ্রক এনেছিলাম, সেটি ড্রয়ারে পরে আছে, দেয়া হয়নি। মেয়েটি স্বতঃস্ফূর্ত না হলে দেই কি করে! তাছাড়াও লোকের কথার ভয় তো আছেই। স্বাধীনতা কোথায়!



 



আমার খুব বাবা হতে ইচ্ছে করলেও হতে পারিনি, আবার এতো চমৎকার একটি মেয়েকে ফেলে এক বাবা কীভাবে এমন নিষ্ঠুর হতে পারে! আমার সত্যিই বোধগম্য হয় না।



মনালিকে যখন ছেলেরা ধরে আনে ওকে দেখে আমার অসম্ভব কষ্ট হয়। আমরা একসাথেই বড় হয়েছি, পূজোয়, বৈশাখে, দোলে, দিদিদের বিয়েতে একত্রে আনন্দ হুল্লোড় করেছি। অথচ আজ আমরা নিজ নিজ দুঃখ, অসহায়ত্ব আর হুহু করা শূন্যতায় বন্যার্ত হয়ে কেবল নাক বাঁচিয়ে থাকি। ইচ্ছে করলেও কেউ কাউকে ছুঁতে পারি না। সমস্যা একই শুধু সমস্যার হাত-পাগুলো ভিন্ন ভিন্ন। মনালির প্রেমিক স্বামী কি চেয়েছিলো? কেনো সে এভাবে স্ত্রী-কন্যাকে ফেলে চলে গেলো! আর গেছেই যখন সেই পাষাণ মানুষটির জন্যে মনালি একেবারে ভারসাম্য হারিয়ে পাগল হয়ে গেলো! মানুষের পাগল হতে কতটা আঘাতের দরকার হয়! মস্তিষ্কে কতটা আলোড়ন উঠলে তা সুস্থতা হারায়, ভারসাম্যহীন হয়ে পরে, চিকিৎসকরা তা জানে না। যে গাছ ছায়া দেয় তা কেটে ফেললে সূর্যতাপ খা খা করে, সব পুরে তামা তামা হয়ে যায়, ভালোবাসা আমাদের সেই ছায়াদানকারী বৃক্ষ। কিন্তু মনালি ওর আত্মার কথা ভাবলো না! সন্তানও মায়ের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারলো না! ভালোবাসা কিংবা ঘৃণা এতোটাই শক্তিশালী!



 



আমি-ই বা কি চেয়েছিলাম! যা চেয়েছিলাম এবং যা পেয়েছিলাম তা কি কেবলই মোহ ছিলো! আমরা তো পরস্পরকে ভালোবেসেছিলাম সেটা মিথ্যে ছিলো না, মোহ ছিলো না, তাহলে! উঁচু থেকে উচ্চতর ডিগ্রি, টপাটপ সীমান্ত পেরিয়ে ভৌগোলিক অবারিত প্লাটফর্ম, সুলভ মেলামেশা, দূরন্ত যোগাযোগ অর্থাৎ এই যে পৃথিবী হাতের মুঠোয় এসবই কি আমাদেরকে পারস্পারিক সহনশীলতা, শ্রদ্ধাবোধ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে! আমরা কেবল 'আমি' 'আমি' হয়ে উঠছি! যা কিছুই হোক আমিতো তাকে ভালোবেসেছিলাম তাহলে আমি কেনো চলে এলাম! আমার কি আরো সময় নেয়া উচিৎ ছিলো! আমি জানি না, সত্যিই জানি না।



 



আমাদের নিচতলা ভাড়া দেয়া আর উপরের পুরোটা নিয়ে মাতা-পুত্রের বাস। আমার পাশের ঘর লাইব্রেরি করেছি। প্রচুর বই আছে সেখানে, মুভি দেখা বা গান শোনার উত্তম ব্যবস্থা রেখেছি, ছাদে অর্কিড লাগিয়েছি অসংখ্য, একেবারে বসন্ত বাতাসের মতো মোলায়েম জীবনব্যবস্থা...কিন্তু কই সে বাতাসের তরঙ্গ!



কেবল মাথাভর্তি ভাবনারা আমায় কুরেকুরে খায়। আমি ভাবনাদের কুরেকুরে খাই...কিন্তু কোনো সত্য মীমাংসায় পেঁৗছানো ঈশ্বরের কাছে পেঁৗছানোর মতোই কঠিন মনে হয়।



...অসংখ্য সিগারেটের ধোঁয়ায় চারপাশ ভরে ওঠে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৩৩৮৬৮
পুরোন সংখ্যা