চাঁদপুর। শনিবার ০৩ নভেম্বর ২০১৮। ১৯ কার্তিক ১৪২৫। ২৩ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যুখ্রুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু,' মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭৩। সেথায় তোমাদের জন্যে রহিয়াছে প্রচুর ফলমূল, তাহা হইতে তোমরা আহার করিবে।


৭৪। নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকিবে স্থায়ীভাবে;


৭৫। উহাদের শাস্তি লাঘব করা হইবে না এবং উহারা উহাতে হতাশ হইয়া পড়িবে।


 


 


assets/data_files/web

বীরত্বের নির্যাস হলো আত্মবিশ্বাস। -ইমারসন।


 


 


বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কৃর্তক অভিনন্দিত হবেন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
নদীর বুকে চলতে চলতে
কাদের পলাশ
০৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


খুব দ্রুত ছুটে এসেও নাগাল পাওয়া হলো না। ঠিক দুই মিনিট আগে ঘাট ছেড়েছে লঞ্চটি। এক বুক হতাশা নিয়েই পরবর্তী লঞ্চের অপেক্ষা। ছেড়ে যাওয়া লঞ্চটি ততোক্ষণে নদীর বুকে ছুটে চলছে বীরদর্পে। পেছন পেছন ছুটছে কিছু সাদাকালো বিহঙ্গ। হয়তো শিকার নয়তো স্বভাবজাত আচরণে। মাঝে মাঝে বাতাসে বেজে উঠে ফোঁ ফোঁ শব্দ। মাত্র ত্রিশ মিনিটের মধ্যে লঞ্চটি দৃষ্টিসীমানার বাহিরে যেমনি চলে গেছে, তেমনি ফোঁ ফোঁ শব্দটিও দূরের হয়ে গেছে। লঞ্চটির পাঙ্খা নদীর পানি কেটে দু ভাগ করলেও আবার মিশে যায় প্রাকৃতিক নিয়মে। যেভাবে মিলিয়ে যায় হৃদয়ের সব মান-অভিমান।



আমি ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকি বারোটার অপেক্ষায়। এ নৌ-পথে বিলাসবহুল বেশ কিছু লঞ্চ ছুটে চলে। এ নদীতেই দুবেলা খাবার জুটায় জেলে। ঘরের মতো সব সুবিধা থাকায় এ এলাকার মানুষ লঞ্চ যাতায়াত পছন্দ করে। এ শহর থেকে বাসও ছুটে চলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মাইক্রো এবং প্রাইভেটকার চলে প্রতিদিন। পরবর্তী সিডিউলের লঞ্চটি যখন ঘাটে এসে ভিড়ে তখন ঠিক সাড়ে এগারোটা। ঘাটে শ' শ' মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুণছে। আমিও যেমনটি। সবার সাথে কেউ না কেউ আছে। শুধু আমি একা। তবে আমার সাথে এক আকাশ স্বপ্ন সঙ্গী হয়েছে। যে স্বপ্ন পূরণে নীরবে কেটে গেছে আটাশ বছর। বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন নগরে পা ফেললেও এবারের উপলক্ষ একটু ভিন্ন। সরকারি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে মৌখিক পরীক্ষা। চাকুরিটা খুব পছন্দের। একটা বিষয়ের গভীরে যেতে আমার খুব ভালো লাগে। ভাগ্য খারাপ না হলে চাকুরিটা আমার হবেই হবে। তারপর জীবন সাজাবো রঙিন মোড়কে। স্বপ্নরা সব বাহারি রঙের হয়। ডানা মেলে আকাশে উড়ায়।



মায়ের দোয়া নিয়ে চওড়া বুকে রওনা হয়েছি। অপেক্ষার সময় হঠাৎ মন উদাস উদাস। মানুষ একা থাকলে মনে বিষণ্নতা পেয়ে বসে। কেউ তা কাটিয়ে উঠতে পারে, কেউ পারে না। মানুষ যখন খুব বড় স্বপ্ন দেখে, তা ভাঙার সম্ভবনাও বড় থাকে।



এতো বছর মনযোগী ছাত্র হিসেবে সবাই আলাদা দৃষ্টি দিতো। পড়ালেখা ধ্যান হওয়ায় নিজেকে নিয়ে ভাবার কোনো অবকাশ ছিলো না। মনে কোনো ইচ্ছে ফুল ফোটাবার ফুসরৎ হয়নি। চাকুরির পর একটু স্বস্থির দম নেবো ভেবে অসংখ্য রাত কেটেছে নির্ঘুম। তাই স্মৃতির ক্যানভাস সমৃদ্ধ হয়নি। আমার কোনো স্মৃতি নেই। যা কিছু ছিলো সময়ে ফুরিয়ে গেছে।



হঠাৎ চোখ পড়লো পূবের পন্টুনে। অচেনা দুটি চোখ আমার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে বারবার। এর আগেও অনেকেই নজর দিয়েছে। আমি নজর ফিরিয়ে নিয়েছি। জীবনের প্রয়োজনে। সাজানো পরিপাটি বাগানে ফুল ফুটবেই। বাগান সাজানোর চেষ্টায় কারো চাহনি নিয়ে ভাবিনি। আজ কেনো জানি মনের আয়নায় ভেসে উঠছে কিছু মুখ। যে মুখ কিছু বায়না ধরার অপেক্ষায় ছিলো। আমার সাড়া না পেয়ে আড়াল হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু এ চোখ দুটি আমার মনের ভেতের উথাল-পাথাল ঢেউ খেলছে। কি এক ভিন্ন ভাবনার জগতে নিয়ে যায়। আমি ভেসে বেড়াই রঙিন হাওয়ায়। মনেরও যে চোখ আছে, তৃষ্ণা আছে, কাতরতা আছে এখন খুব টের পাচ্ছি। নিজে থেকেই মেয়েটির নাম রেখেছি নন্দিনী। নন্দিনী মাঝে মাঝে অন্যদিকে মুখ ঘুরালেও আমি বোধহয় তার মনে ভেতর বসতি গেড়েছি। তার চাল-চলন দেখলে এমনটা মনে হওয়াই স্বাাভাবিক। একবার এপাশ ঘুরে আবার ওপাশ। বুকের ওড়না নামায়। উঠায়। ঠিক করে। কিছু একটা করতে হবে তো, তাই করছে। হেমন্তের প্রারম্ভে হালকা ঠা-া বাতাস কপালে নেতিয়ে পড়া চুল নিয়ে খেলা করছে। বাতাসের সাথে মনে হয় নন্দিনী নিজেই নিজেকে দোলায়। এবার আমিও চেয়ে থাকি অপলক দৃষ্টিতে। নন্দিনী সফল। সে আমার নজর নিতে পেরেছে। এতো অল্প সময়ে কি বুঝানোর চেষ্টা করছে। আমি অবোধ। মেয়েটির সাথে ছোট ভাই এবং মা আছে। তারা বারোটার লঞ্চে উঠার প্রস্তুতি নেয়। আমিও নেই। যখন সূর্যরশ্মি জলের বুকে মুক্তা ফলায়। আমার হাতে একটা হ্যান্ডব্যাগ। তাই উঠতে খুব বেশি সমস্যা হবে না। আমি নন্দিনীর পেছন পেছন উঠবো বলে মনস্থির করি।



ইচ্ছে ছিলো একটি কেবিন নিয়ে আরামে পড়তে পড়তে ঢাকা পেঁৗছে যাবো। কিন্তু তা আর মন সায় দিচ্ছে না। লক্ষ্য করছিলাম তারা কোথায় সিট নেয়। মেয়েটির মা প্রথম শ্রেণীর টিকিট কাটে। কেবিন না নিয়ে আমিও তাই করি। পরের সিট পেলাম। একসাথে টিকিট কাটায় কাছাকাছি বসার সুযোগ মিলে। যদিও মাঝখানে হাঁটার গলি। তাদের দুটি সিট। লঞ্চ যথাসময়েই ঘাট ছাড়ে। চোখের ভাষায় কথা বলছে নন্দিনী। আমাকেও ইঙ্গিত করে কিছু বলে। আমি বুঝতে পারি। কিন্তু কিছু বলতে পারছি না। একটু পর মেয়েটি ঘুমিয়ে পড়ে। সাথে মা ও ছোট ভাই। মনে হয় আমি তাদের পাহারাদার। পাহাড়া দিচ্ছি আর ভাবছি, ঘুম ভাঙলে নন্দিনীর সাথে কথা বলবো। প্রয়োজনে মায়ের সাথে আগে। অবশ্য নন্দিনী আমার দিকে তাকাচ্ছে তা নন্দিনীর মাও দেখেছে। মা কিছু বলছে না। তবে মায়ের চোখে মুখে অতৃপ্তির ভাঁজ। কী এক গোপন কষ্ট খেলা করে তার পুরো পৃথিবীজুড়ে। এতো সুন্দর মেয়ের মা যে তারতো হাস্যোজ্জ্বল মুখ থাকার কথা। তবে কী কোনো সমস্যা তাদের? মনে হয় একটু বেশিই ভাবছি আমি। তাদের নিয়ে এতো ভাবার কারণ কী? নন্দিনীর ঘুম যেনো এক মহানিদ্রার সাগর। পুরো তিনঘণ্টায় তাদের ঘুম ভাঙলো না। লঞ্চের লোক এসে জানালো আমরা ঢাকা পেঁৗছে গেছি। নন্দিনীর মা ব্যাগ গুছাচ্ছেন। আমি অপেক্ষা করি নন্দিনী আমায় কিছু বলুক। কিন্তু কিছু বললো না। মা এক ফাঁকে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে গেলো, আমার মেয়ের মুখে এখনো ফুল ফোটেনি। আমি সিট থেকে উঠে দাঁড়াতে পারলাম না। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম মানুষের কীভাবে মন ভাঙে, স্বপ্ন ভাঙে। মানুষ কীভাবে হারতে শিখে...!



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৮৬৫৮
পুরোন সংখ্যা