চাঁদপুর। শনিবার ০৩ নভেম্বর ২০১৮। ১৯ কার্তিক ১৪২৫। ২৩ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যুখ্রুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু,' মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭৩। সেথায় তোমাদের জন্যে রহিয়াছে প্রচুর ফলমূল, তাহা হইতে তোমরা আহার করিবে।


৭৪। নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকিবে স্থায়ীভাবে;


৭৫। উহাদের শাস্তি লাঘব করা হইবে না এবং উহারা উহাতে হতাশ হইয়া পড়িবে।


 


 


assets/data_files/web

বীরত্বের নির্যাস হলো আত্মবিশ্বাস। -ইমারসন।


 


 


বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কৃর্তক অভিনন্দিত হবেন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
খোয়াব চোর
রুমেলা সাহা
০৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

তিরতির করে বয়ে চলে পদ্মা। সূর্যের শেষ আভার স্পর্শদোষে রক্তিম নদী। জলের আয়নায় নিজেকে মেলে দেয় সে। হাজার হাজার টুকরোয় ভেঙে যায় অবয়ব। অবয়ব না সে নিজে। এক একটা ভাঙা টুকরো থেকে জন্মায় খোয়াব। জুগনুর আলো হয়ে খোয়াবরা পাড়ি দেয় আসমানে। ওই যে সারা আসমানজুড়ে ঝিলমিল করে, ওগুলো খোয়াব ছাড়া আর কি।

হাতে লেগে থাকা মাটিটা পদ্মায় জমা রাখে, আলতো ভাবে। এই মাটি দিয়েই একটু আগে ঢেকে এসেছে খোয়াব চোরকে। গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়া বৃদ্ধ শরীরটাকে।

ইরশাদ আলী বলতো, খোয়াব সবাই দেখে কিন্তু খোয়াব নিয়ে বাঁচে কজন? ঘুম ভাঙলেই মিলিয়ে যাওয়া নয়, জীবনভর রাস্তা দেখানোই তো খোয়াব।

স্কুল থেকে ফেরার পথে প্রায় বিকেলে সে দেখতো, নদীর ধারে অশ্বত্থ গাছে ঠেস দিয়ে বসে থাকতো মানুষটা, ঝুলিতে বাঁশি।

লোকে বলতো ইরশাদ বাঁশিওয়ালা।

বলতো, এটা তো বৃন্দাবন নয়, তুমি কার জন্যে বাঁশি বাজাও।

বিনম্র হেসে ইরশাদ পদ্মার ওপার দেখিয়ে বলতো, ওর জন্যে, বাঁশির ডাকে ওই তীর যদি কখনও এদিকে চইলা আসে।

লোকে বলতো, পাগল।

চোখ দুটো নেচে উঠতো ইরশাদের। বলতো, আল্লার মেহেরবানি।

সুরের টানে ইরশাদের পাশে গিয়ে বসতো ধ্রুপদ। লোকটার সুরে জাদু ছিলো।

বলতো, বাপজান তোমার নামটা বড় মিঠা, গলা আর মনটারে এমনি মিঠা রেখো।

সে জানতে চাইতো, তুমি আর কি করো বাঁশিওয়ালা?

ছোট্ট ধ্রুপদের মাথায় মমতা মাখিয়ে ইরশাদ বলতো, খোয়াব চুরি করি।

_সে আবার কি!

-এই যে পুরানো করবখানা। ওখানে যাঁরা মাটির নীচে শুয়ে থাকে, তাঁদের দেখা খোয়াব আসমানে জুগনু হয়ে জ্বলে। লাওয়ারিশ সেই খোয়াবগুলো চুরি করি।

-কীভাবে করো?

-সে তো তোমায় বলা যাবে না।

ধ্রুপদ আরও কোলের কাছে এসে বলে, বলো না, কাউকে বলবো না।

-ঠিক আছে, আমার এন্তেকালের পর আমার খোয়াবটা তুমি চুরি কোরো, কেমন।

সময়ের তাগিদে সবই সরে সরে যায়। মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা কতই বা দূর? আরও দূর পদ্মার এই দু পার, মাঝ দিয়ে ৩ প্রজন্ম সময় বয়ে গেলো, দূরত্ব কমলো না। জলের দাগের মতো মিলিয়ে যাওয়া বাঁশিওয়ালা ধরা পড়লো চোর হয়ে। ২৭ বছর পর। সে রাতে গাঁয়ে কী হল্লা, বেড়াচোরকে ধরেছে গ্রামবাসী। সীমান্তবর্তী গাঁ হওয়ায় খেতের মাঝ বরাবর কাঁটাতার লাগানো। বেশ কয়েক মাস ধরেই জায়গায় জায়গায় গায়েব হয়ে যাচ্ছে সে বেড়া। চোর যে এটাও ছাড়ে না। রীতিমতো হাসির খোরাক। সেই বেড়াচোর ধরা পড়েছে। বাঁশের খুঁটিতে দু হাত বাঁধা বৃদ্ধ বাঁশিওয়ালা। ধ্রুপদ কেঁপে ওঠে। গাঁয়ের গুণী প্রবাসী শিল্পীকে সবাই খুব মানে। নিজের দায়িত্বে ছাড়িয়ে আনে তাঁকে, বলে, কেনো এমন করো বাঁশিওয়ালা?

বিস্মৃতির কুয়াশা মাখা চোখে অপরিচয়ের ছায়া।

-কী করো বেড়া চুরি করে?

বৃদ্ধের চোখে সূর্যালোক ঝলসে ওঠে, বলে, গোর দি মাটিতে।

-কেনো?-ওই বেজান বেড়াটার জন্যে কত চোখের পানি, কত ঘৃণা, কত যন্ত্রণা, কত যুদ্ধ। যার জান নাই তার লাগি কত জান যায়, আমি রাতের আন্ধারে বেড়াটারে খুইলা লই। যেহানে বেড়া নাই সেখানে দেশভাগ নাই।

সব এক, কে কইবে কোন্টা দেশ আর কোন্টা বিদেশ?

-কী লাভ, এতে বিপদ আছে।

-লাভৃ যে-বেড়া আমাগো অনুমতি লইয়া তৈরি হয় নাই তারে আমরা এতো পাত্তা দিমু ক্যান?

অনেক বুঝিয়েও নিরস্ত্র করতে পারেনি ধ্রুপদ। আবার ধরা পড়ে বাঁশিওয়ালা। তবে শরীরটা। বেড়া কাটার সময় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলিতে ঝাঁঝরা শরীরটাকে মাটির চাদরে ঢেকে এসেছে সে।পদ্মাপারের অশ্বত্থ গাছের নীচে বসে আসমানের দিকে তাকায় ধ্রুপদ।

তারায় গুঞ্জরিত আসমানে কোন্ খোয়াবটা বাঁশিওয়ালার? খোঁজে সে।

গত ৬৮ বছরের লক্ষ লক্ষ খোয়াবের মধ্যে হাতড়ে চলে ধ্রুপদ। সব খোয়াবই তো এক রকম দেখতে, কোন্টা চুরি করবে সে।

সূত্র : দেশ।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৯৬০৪৫
পুরোন সংখ্যা