চাঁদপুর। শনিবার ০৩ নভেম্বর ২০১৮। ১৯ কার্তিক ১৪২৫। ২৩ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যুখ্রুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু,' মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭৩। সেথায় তোমাদের জন্যে রহিয়াছে প্রচুর ফলমূল, তাহা হইতে তোমরা আহার করিবে।


৭৪। নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকিবে স্থায়ীভাবে;


৭৫। উহাদের শাস্তি লাঘব করা হইবে না এবং উহারা উহাতে হতাশ হইয়া পড়িবে।


 


 


assets/data_files/web

বীরত্বের নির্যাস হলো আত্মবিশ্বাস। -ইমারসন।


 


 


বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কৃর্তক অভিনন্দিত হবেন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ভাই ফোঁটা
মুক্তা পীযূষ
০৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

'ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা

যম দুয়ারে পড়লো কাঁটা

যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা

আমি দেই আমার ভাইকে ফোঁটা

আজ থেকে আমার ভাই

যম দুয়ারে তিতা'।

ভাইফোঁটা কোনো প্রচলিত পূজা-পার্বণ নয়, বাঙালির ঘরে 'ভাইফোঁটা' হচ্ছে সবচেয়ে আনন্দময়, নির্মল, একটি উৎসব। যম ও যমুনা জমজ ভাইবোন, ভাই-বোনের মধ্যেকার অনিন্দ্যসুন্দর সম্পর্ক ঘিরেই প্রচলিত হয়েছে এই উৎসবটি।

ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় ঈশ্বরের কাছে বোনের আকুতি, ভাইয়ের সাফল্য, দীর্ঘায়ু লাভের জন্যে বোনের প্রার্থনাই 'ভাইফোঁটা'কে মহিমান্বিত করেছে। ভাইফোঁটার ধর্মীয় গুরুত্ব অপেক্ষা সামাজিক ও পারিবারিক গুরুত্ব অনেক বেশি, যেখানে ভাই-বোনের মধ্যকার প্রীতি ও ভালোবাসার স্বর্গীয় সম্পর্কটিই মুখ্য। ভাই-বোন দুজনেই বছরের এই একটি দিনের অপেক্ষায় থাকে।

ভাইফোঁটা এমনই এক উৎসব যা ভাই-বোনের মধ্যকার ভালোবাসা এবং স্নেহের সম্পর্ক খুব দৃঢ় করে। ভাই-বোনে সারাবছর ঝগড়া-ঝাঁটি থাকলেও, ভাই-বোন দুজনেই বছরের এই একটি দিনের অপেক্ষায় থাকে। বোনের কাছ থেকে ভাইফোঁটার নেমন্তন্ন পেলে, দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে, যতো প্রয়োজনীয় কাজ ঠেলে সরিয়ে রেখে ভাই আসবেই বোনের কাছ থেকে ফোঁটা নিতে।

ভাইকে বোনের পক্ষ থেকে উপহার দেয়া হয়। অবশ্য কোনো কিছুই একতরফা হয় না। বোন যেমন ভাইকে দেয়, ভাইও বড় বোনকে প্রণাম শেষে দিদির হাতে উপহার তুলে দেয়। আর বোন যদি বয়সে ছোট হয়, তাহলে বড় ভাইকে প্রণাম করে, ছোট বোনের হাতে উপহার তুলে দিতে ভাইয়ের আনন্দের সীমা থাকে না। এভাবেই ভাই-বোনের মধ্যে ভালোবাসা ও প্রীতির সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

বছরের অন্য দিনগুলোতে খাবারের মান যতোই সাধারণ হোক না কেনো, ভাইফোঁটা অনুষ্ঠানে ভাইয়ের পছন্দের খাবার রান্না করা হয়। বোনের যতটুকু সাধ্য, ভাইকে তা উজার করে দিয়ে সুখী হয়। বোনের কাছ থেকে এই পরম মমতামাখানো ভালোবাসা পাওয়ার টানেই ভাইয়েরা সারাবছর অপেক্ষা করে থাকে এই দিনটির জন্যে।

মানুষ সামাজিক জীব। আমাদের সমাজ তৈরি হয় প্রথমে ঘর থেকে। বাবা-মা, ভাই-বোন দিয়ে যে পরিবার শুরু হয়, সেই ছোট পরিবারটিই সময়ের সাথে সাথে আত্মীয়তার বন্ধন বিস্তৃত করে, ঘর থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশী, প্রতিবেশী পেরিয়ে পাড়া, গ্রাম ছাড়িয়ে একদিন সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ে। যে ভাইয়ের একটি মাত্র বোন ছিলো, চলার পথে সে আরও কত বোন, দিদি, আপুর দেখা পায়। যে মেয়েটি শুরুতে একটি ভাইয়ের আদর পেয়ে বড় হচ্ছিলো, সেই মেয়েটিই জীবন চলার বাঁকে বাঁকে কত নতুন ভাই, দাদার দেখা পায়। এভাবেই সম্পর্ক বাড়তে থাকে, এবং একসময় অচেনা যে কারো সাথেই 'ভাই' বা 'বোন' সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। ভাই-বোন সম্পর্কে জাত, ধর্ম, গোষ্ঠীর বিভিন্নতা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। এই সম্পর্কে কোনো স্বার্থ-দ্বন্দ্ব থাকে না, ভাই-বোন সম্পর্কে কোনো বিরোধ থাকে না।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় সারা বাংলায় 'রাখীবন্ধন' উৎসব হয়েছিলো। কবিগুরু কোনো আন্দোলনে সরাসরি যোগ না দিলেও 'রাখীবন্ধন' উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন। সেদিন হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-শিখ-মারাঠির মধ্যে কোনো ভেদাভেদ ছিলো না। সকলেই ভাই, প্রতিটি ঘরে ঘরে ছিলো স্নেহময়ী বোন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়, কত অচেনা মায়ের ছেলেকে 'ভাইয়ের স্নেহে' শত্রুর আড়ালে রাখার চেষ্টা করেছে বাংলার বোনেরা। এভাবেই যুগে যুগে ভাই-বোনের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে।

ভাই বাইরে যতোই প্রভাবশালী হোক, বোনের কাছে এলেই শিশু হয়ে যায়, বোন বয়সে বড়ই হোক অথবা ছোট হোক, মায়ের পরেই স্নেহময়ীর পদটি তার দখলে চলে যায়। ভাইয়ের কল্যাণ কামনায় বোন সবসময় ঈশ্বরের কাছে তার দুই হাত তুলে রাখে।

তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২৭৫৬১
পুরোন সংখ্যা