চাঁদপুর। শনিবার ০৩ নভেম্বর ২০১৮। ১৯ কার্তিক ১৪২৫। ২৩ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যুখ্রুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু,' মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭৩। সেথায় তোমাদের জন্যে রহিয়াছে প্রচুর ফলমূল, তাহা হইতে তোমরা আহার করিবে।


৭৪। নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকিবে স্থায়ীভাবে;


৭৫। উহাদের শাস্তি লাঘব করা হইবে না এবং উহারা উহাতে হতাশ হইয়া পড়িবে।


 


 


assets/data_files/web

বীরত্বের নির্যাস হলো আত্মবিশ্বাস। -ইমারসন।


 


 


বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কৃর্তক অভিনন্দিত হবেন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
বোধ
আহমদ আবদুল্লাহ
০৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

জামাল মিয়া গাই ক্ষীরাচ্ছে। বাছুর ধরেছে তারই আট বছরের মেয়ে দীপ্তি। বাঁট ধরে জামাল মিয়া জোরে জোরে টানছে আর তীরের ফলার মতো দুধ এসে ছিঁটকে পড়ছে দোনার ভেতর। একটানা গুম্ গুম্ আওয়াজ। একটা অপূর্ব গানের সুর যেনো ভারী ভালো লাগে দীপ্তি। তাছাড়া দুধের কাঁচা কাঁচা মিষ্টি গন্ধ, কেমন যেনো একটা নেশা টানে।

সামনের বাঁট দুটো ক্ষীরানো হয়েছে। পেছনের বাঁট দুটোও প্রায় শেষ করে এনেছে জামান মিয়া। এতোক্ষণে স্ফীত ঊরটা ছুঁচো হয়ে একেবারে নেতিয়ে পড়েছে। এদিকে দীপ্তি বাছুরটাকে ছেড়ে দেয়। উন্মাদের মতো কয়েকটা টান দিয়েই বাছুরটা জোরে জোরে গুঁতো মারতে থাকে গাইটির ঊরে। ঊরটা কিছুটা স্ফীত হয়ে ওঠে। হয়তো আবার এসে দুধ ভর করছে। দীপ্তি বলে, বাজান! দুধ আরও রইছে। জামাল মিয়া বাঁটে ছুঁয়ে ছুঁয়ে একেক থাপ্পড়ে বাছুরের মুখটা সরিয়ে দেয়। জামাল মিয়া বলে, গরু লুকিয়ে রাখে বাছুরের লাইগ্যা। নে ধর বাছুরডা।

দু হাত দিয়ে বাছুরের গলা জড়িয়ে ধরে দীপ্তি। বাছুরটা ক্ষেপে যায়, সামনে দু পা তোলে বেপরোয়াভাবে লাফাতে শুরু করে দেয়। দীপ্তি তবুও ছাড়ে না। টানতে টানতে জামাল মিয়ার আঙ্গুল ব্যথা হয়ে যায়। তবুও তার ওঠার নাম নেই। এবার দুধ আর বেশি আসে না। বাঁট থেকে ছিঁটকেপড়া দুধের আওয়াজ ক্রমেই মন্দীভূত হয়ে আসে দোনার ভেতর। দুধের উপর সাদা ফেনা জমে দোনাটা কানায় কানায় ভরে উঠেছে। জামাল মিয়া দোনা নিয়ে ওঠে পড়ে।

ক্ষুধার্ত বাছুরটি লাফ মেরে গিয়ে পড়ে গাইটার ঊরে, আর বাঁট মুখে নিয়ে অস্থিরভাবে টানতে শুরু করে। দুটো টান আর একেকটা প্রচ- গুঁতো। কিন্তু বাঁটের ছিদ্র পথে দুধের ফোয়ারা আর নেমে আসে না। পেছনের একেকটা পা তুলে গাইটা এবার বেদম লাথি মারতে শুরু করে। অস্থির ক্ষুধার্ত বাছুর তবুও নিরস্ত হয় না। শূন্য ঊরে আরও জোরে জোরে গুঁতো মেরে সে দুধের দাবি জানায়। জবাবে গাইটা আরও জোরে লাথি মারে, দুধ দিতে পারে না।

কয়েক বছর পর...

একটা সুন্দর সকাল। মিষ্টি রোদ এসে পড়েছে আঙিনায়। উঠানে একটা খুঁটিতে লাল রংয়ের গাই বাঁধা। দু হাঁটুর মধ্যে দোনাটা চেপে ধরে বাঁট টানছে জামাল মিয়া। বাছুর ধরেছে ছোট্ট একটা ছেলে। দীপ্তির ভাই। শিশু কোলে এক তরুণী বসে আছে বারান্দায়। প্রসন্ন মুখে তার সকালের নরম আলো ঝল্ঝল্ করছে।

চঞ্চল বাছুরটা একেকবার দাঁড়িয়ে যায় পেছনের দু পায়ের ওপর। বাছুরটাকে সামলাতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে ছেলেটি। তরুণীর কোলে শিশুটি একবার কেঁদে কুঁকিয়ে ওঠে। বুক অনাবৃত করে তরুণী তার দুগ্ধ-স্ফীত স্তনের বোঁটা ঠেলে দেয় শিশুর মুখে। মুহূর্তের মধ্যেই কান্না থেমে যায় শিশুর। নিশ্চিন্তে আরামে চোখ বুঁজে সে চুষতে থাকে মায়ের স্তন। তরুণীর বড় বড় কালো চোখের উৎসুক দৃষ্টি উঠানের দিকে প্রসারিত। সে দৃষ্টিতে কী এক রহস্য যেনো ছায়া ফেলে।

-কী বেতমিজ গাই! চারটে বাঁটই চেছে ক্ষীরিয়ে নিয়ে জামাল মিয়া বিরক্তির সঙ্গে উচ্চারণ করে, দে, ছাইড়্যা দে বাছুরডা। আরেকবার পানাইয়া লই। ছেলেটি বাছুরটাকে ছেড়ে দেয়।

তরুণীর দৃষ্টি অচঞ্চল, অবিষ্ট। স্তনের বোঁটাটা সে সরিয়ে নেয় শিশুটির মুখ থেকে। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির কী চিৎকার! স্তনান্তরে যাওয়ার অবকাশটুকুও সে সহ্য করতে রাজি নয়। ব্যস্ত সমস্ত হয়ে তরুণী তার দ্বিতীয় স্তনের বোঁটাটা গুঁজে দেয় ছেলের মুখে। অমৃতের আস্বাদে আবার শান্ত হয়ে আসে শিশু।

পানানো শেষ করে জামাল মিয়া বলে, 'নে! ধর বাছুরডা।'

বাচ্চাটাকে বুকে চেপে ধরে তরুণী আগের মতোই চেয়ে আছে। একটা আত্মবিস্মৃত তন্ময়তায় চোখ তার উজ্জ্বল সি্নগ্ধ। চোখের রহস্যে তার আচমকা সত্যের ঝিলিক জাগে, বোধশক্তি ফিরে আসে। বুকটা তার হঠাৎ যন্ত্রণায় মোচড় দিয়ে ওঠে। কে যেনো তার স্তন ধরে টানছে। দস্যুরা তার বাচ্চার দুধ কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে। ছেলেটি বাছুর ধরতে হাত বাড়িয়েছে। চিৎকার করে ওঠলো তরুণী। অ্যাই ঊরে আর ধরিস্ না। ঊরের দুধ বাছুরের লাইগ্যাই, তোর লাইগ্যা না। তোরা মাইরা ফেলতে চাস্ বাছুরডারে?

তরুণীটির নাম দীপ্তি।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৭০৬৯
পুরোন সংখ্যা