ঢাকা। শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৯। ৬ মাঘ ১৪২৫। ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


০৩। তিনিই আদি, তিনিই অন্ত; তিনিই ব্যক্ত ও তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।


৪। তিনিই ছয় দিবসে আকাশম-লী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন; অতঃপর 'আরশে সমাসীন হইয়াছেন। তিনি জানেন যাহা কিছু ভূমিতে প্রবেশ করে ও যাহা কিছু উহা হইতে বাহির হয় এবং আকাশ হইতে যাহা কিছু নামে ও আকাশে যাহা কিছু উত্থিত হয়। তোমরা যেখানেই থাক না কেনো_তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, তোমরা যাহা কিছু করো আল্লাহ তাহা দেখেন।


 


assets/data_files/web

সংশয় যেখানে থাকে সফলতা সেখানে ধীর পদক্ষেপে আসে।


-জন রে।


 


 


যে ব্যক্তি উদর পূর্তি করিয়া আহার করে, বেহেশতের দিকে তাহার জন্য পথ উন্মুক্ত হয় না।


 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।


 


ফটো গ্যালারি
ঐতিহ্যের শীতের পিঠা
১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

একসময় আমন ধান কাটার পরই শুরু হতো নবান্ন উৎসব। নতুন ধানের নতুন পিঠা, পোলাও, পায়েস, ক্ষীর এবং রকমারি খাবার তৈরি করা হতো কৃষকের ঘরে ঘরে। ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব উপলক্ষে গ্রামগঞ্জের কৃষক পরিবারের ঝি-জামাই এবং আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত করে নতুন চালের বিভিন্ন রকমের পিঠা তৈরি করে ভূরিভোজের আয়োজন করা হতো। প্রতিটি পাড়া-মহল্লা এবং বাড়ি বাড়ি নতুন চাল রান্নার ম-ম ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ত। খেতেও বেশ লাগত নতুন চালের পিঠা, পোলাও, পায়েস আর ক্ষীর। তাই কৃষক পরিবারের ঝি-জামাই এবং আত্মীয়স্বজনরা নবান্ন উৎসবের দাওয়াত পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। প্রাচীনকাল থেকে বাংলার কৃষকরা নবান্ন উৎসব উদযাপন করে এলেও বর্তমান সময়ে অগ্রহায়ণ-পৌষের নবান্ন উৎসব আগের মতো তেমন দেখা যায় না। পিঠার গুঁড়ি কুটার ঢেঁকির আওয়াজে কান পাতা যেত না পাড়া-গাঁয়ে অথচ কৃষকপল্লী এখন যেন নীরব নিস্তব্ধ। নেই নানার কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে শীতের পিঠার ধুমধাম আয়োজন। আত্মীয় আছে আগের মতোই, নেই শুধু মধুর সম্পর্ক। মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেলেও কমেনি মনের সংকীর্ণতা। সবাই যেন আত্মকন্দ্রিক, কেউ কারও খোঁজ রাখতে চায় না। নবান্নের উৎসব কৃষকপাড়ায় খুব একটা দেখা না গেলেও শীতে পিঠা খাওয়ার পুরানো অভ্যাস বদলাতে পারেনি গ্রামগঞ্জের মানুষ, তাই গ্রামের অলি-গলিতে, রাস্তার মোড়ে-মোড়ে, স্টেশন কিংবা খেয়াঘাটে গড়ে ওঠা মৌসুমি পিঠার দোকানে অফিসগামী, পথচারী অনেককেই দেখা যায় পিঠার স্বাদ নিতে। দেরিতে হলেও এখন ভোর এবং সন্ধ্যায় বেশ হিমভাব অনুভূত হচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে শীত এসে গেছে। শীত এলেই বাঙালির মনে পড়ে শীতের পিঠার কথা। পিঠা ছাড়া বাংলার শীত যেনো পরিপূর্ণ হয় না। শীতে পিঠা খাওয়ার রীতি বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির অংশ, তবে শহরের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। শীতকে কেন্দ্র করে পাড়া-মহল্লা কিংবা বিভিন্ন রাস্তার পাশে ইতিমধ্যেই পিঠার দোকান দিয়ে বসছেন পিঠা বিক্রেতারা। কৌতূহলবশত কথা হলো সিংগারদীঘি পুকুর পাড়ে পিঠা বিক্রেতার সঙ্গে। জানা যায়, মৌসুমি শীতের পিঠার প্রতি মানুষের বেশ আগ্রহ রয়েছে। তাই সাময়িক সময়ের এই পিঠার দোকান শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বেশ জমে উঠেছে। মূলত সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হলেও তুলনামূলকভাবে সন্ধ্যায় পিঠার চাহিদা বেশি থাকে। চিতই, কুলি, চই, ভাপা, ডিমচিতই, দুধচিতই, তেলচিতই, পিরামিড এবং পাটিসাপটা পিঠাসহ সবধরনের পিঠাই এখন পাওয়া যায় রাস্তার পিঠার দোকানে। তবে ভাপা এবং চিতই পিঠার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পিঠা খেতে আসা একজন জানান, সন্ধ্যায় চিতই পিঠার সঙ্গে সরিষা ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, মরিচের সঙ্গে ধনেপাতা বাটা এবং খেজুরের রস, জিভে জল আসার মতো স্বাদের কারণেই তারা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা পিঠা খেতে আসেন পুকুর পাড়ের এ পিঠার দোকানে। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা রাস্তার পিঠা কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত? রাস্তার পিঠার দাপটে বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি নবান্ন উৎসব কী তাহলে হারিয়ে যাবে? ফুটপাত কিংবা রাস্তায় তৈরি পিঠা বর্জন করে শীত মৌসুমে নিজ নিজ বাড়িতে নির্দিষ্ট দিনে বা মাঝে মাঝে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা গেলে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব ফিরে পাবে হারানো গৌরব। আসল ঠিকানা ফিরে পাবে ফুটপাতের পিঠা।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৪৯৫৪৪
পুরোন সংখ্যা