ঢাকা। শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৯। ৬ মাঘ ১৪২৫। ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা সূরা তূর

৪৯ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৯। ‘তোমরা যাহা করিতে তাহার প্রতিফল স্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সহিত পানাহার করিতে থাক।’

২০। তাহারা বসিবে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়া; আমি তাহাদের মিলন ঘটাইব আয়তলোচনা হূূরের সংগে;


assets/data_files/web

জাতীয় সংসদ আদর্শ লোকজনের এক বিরাট সমাবেশ ব্যতীত আর কিছু নয়।

 -ওয়াল্টার বেজইট।


দুষ্কর্মের প্রকৃত অনুতাপকারী এবং যে কখনো দুষ্কর্ম করেনি-এদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।


ফটো গ্যালারি
আলবেল
ফরিদুল ইসলাম নির্জন
১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আলবেলা আসছে না। বুকের মাঝে কেমন যেনো করছে। হৃদয়টা শুকনো নদী হয়ে আছে। তৃষ্ণার্ত মনে হচ্ছে। আলবেলা যেনো এক পেয়ালা জল। তাকে দেখলেই সব তৃষ্ণা দূর হয়ে যাবে। সব মন্দ লাগা ভালো লাগা হয়ে যাবে। সব বেদনা পালিয়ে যাবে। শুকনো নদী ভরাট হয়ে যাবে। মনের বর্ষাকাল হয়ে যাবে বসন্তকাল। মন সতেজ হয়ে যাবে। নতুন পাতা জেগে উঠবে। কখন ফিরবে সে। সে তো দেরি করে না। আজ এমন করছে কেনো। নাগরদোলার মতো প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে। কোনো উত্তর মিলছে না।



তার সঙ্গে মুখোমুখি কখনও কথা হয়নি। হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ে কথা হয়েছে। চোখের ইশারায় কথা হয়েছে। আলবেলা যেনো বাস্তবজীবনের তেমনই আখ্যান। তার সঙ্গে কথা না বলেই অপরিমেয় ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছে। নুক বুক স্টোরে দাঁড়িয়ে বই দেখছি। বইয়ের র‌্যাকে হরেক রকমের বই সাজানো। একটা বই দেখছি। আরেকটা রাখছি। গুলশান-২ এলাকায় সুনসান পরিবেশে একমাত্র নুক বুক স্টোর। বেশিরভাগ বই ইংরেজি। পাঠকগুলো বেশ উচ্চ মানসিকতার। বেশ রিচ বই। বাংলাদেশের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পাঠক এখানে বই পড়তে ও কিনতে আসেন।



তেমনই এক পাঠক আলবেলা ও আমি। নামটা তার মুখ থেকে জানতে পারিনি। সে খাতায় এন্ট্রি করতো। আড়ালে আমি এন্ট্রি করার সুবাদে দেখেছি, সেখান থেকে জানতে পেরেছি_সে রাশিয়ান মেয়ে। চোখগুলো টানা টানা। একবার তাকিয়ে থাকলে চোখ নামাতে ইচ্ছে করে না। হালকা গড়নের। জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট পরতো। সাইকেল নিয়ে সে আসতো। আমি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শেষ করেই চলে আসতাম নুক বুক স্টোরে। কোনোদিন আমি, কোনোদিন সে আগে আসতো। আমি আগে এলেই চারদিক খুঁজতাম। আলবেলা আসছে কি-না। যখন তাকে দেখতে পেতাম না, তখন অস্থির হয়ে যেতাম। র‌্যাকের পাশে কাচের জানালা দিয়ে গেটের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আলবেলা আসছে কি-না-সবকিছু কেমন যেন খালি খালি লাগছে। অস্থির লাগছে। এমন সময় পেছন থেকে ডাক শুনলাম। এঙ্কিউজ মি?



জি! আমাকে বলছেন?



হ্যাঁ। আপনাকে বলছি। আমি কাশফিয়া হক। নুক বুক স্টোরের প্রতিষ্ঠাতা। আপনি কি মি. শোয়েব?



হ্যাঁ। আমি শোয়েব। আমার নাম জানলেন কীভাবে?



সেটা এক বিরাট ঘটনা। আপনার নামে একটি চিঠি আছে। আলবেলা দিয়েছে। অনেকদিন হলো আপনাকে খুঁজছিলাম। পাচ্ছি না।



আমি অসুস্থ ছিলাম। কয়েকদিন জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম। এসে দেখি আলবেলা আসেনি। কাশফিয়া ম্যাডামের কাছ থেকে আলবেলার চিঠিটা নিলাম। তড়িঘড়ি করে চিঠি খুললাম। নুক বুক স্টোরের এক কোণে বসে চিঠিটা খুলে পড়া শুরু করলাম। চিঠিটা বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়-শোয়েব, তুমি কেমন আছো জানতে চাইবো না। কিন্তু জানার আগ্রহ অনেক। যে বিষয়টিতে আমার জানার বেশি আগ্রহ তা আমি এড়িয়ে যাই। শত বেদনা হলেও এড়িয়ে যাই। তুমি অবাক হয়ো না। তোমার নাম আমি কীভাবে পেলাম। তোমার নামটা আমি রেজিস্ট্রার থেকে নিয়েছি। আমি যেদিন আগে আসতাম, তোমাকে খুঁজতাম। তুমি শরীর দুলিয়ে দুলিয়ে প্রবেশ করতে। আমি তোমাকে ফলো করতাম যখন তুমি খাতায় নাম লিখতে। আমি অবাক নয়নে তাকিয়ে থাকতাম। তোমাকে চোখভরে দেখতাম। কেনো জানি তোমাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি। আমি রাশিয়া থেকে এখানে স্টাডি করতে এসেছি। খুব কম বাঙালি ছেলের সঙ্গে মিশেছি। কখনও কাউকে বন্ধু ছাড়া অন্য কিছু কল্পনা করিনি। তোমাকে কেনো জানি অন্যরকম ভাবতে শুরু করি। স্বপ্ন দেখতে থাকি। হঠাৎ করে কয়েকদিন তোমাকে দেখতে না পেয়ে মন খুব খারাপ হয়ে যায়। মনের আকাশে কালো মেঘ জমাট বাঁধে। তোমার সঙ্গে কথা বলার খুব ইচ্ছে হতো। কিন্তু আমি বোবা। কথা বলতে পারি না। তাই তোমার সঙ্গে কথা বলার সাহস হয়নি। তুমি আমার বোবার কথা শুনে যদি না আসো। আমার দিকে যদি না তাকাও, তখন আমি বেশি দুঃখ পাবো। সেই বেদনা থেকে আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি। আমাকে ক্ষমা করো। ভালো থেকো। ইতি আলবেলা।



চিঠিটা পড়ার পর চোখ ভিজে গেলো। মনের ভেতর টর্নেডো-সিডর বয়ে যেতে লাগলো। নিজেকে অপরাধী মনে হলো। কেনো যে আলবেলার সঙ্গে কথা বললাম না। কেনো যে বললাম না, আলবেলা কথা শুধু মুখ দিয়েই বিনিময় হয় না। মন ও চোখ দিয়েও হয়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯৭৯২৭
পুরোন সংখ্যা