চাঁদপুর, রোববার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৭-সূরা মুহাম্মাদ


৩৮ আয়াত, ৪ রুকু, 'মাদানী'


০২। যাহারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং মুহাম্মাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে বিশ্বাস করে, আর উহাই তাহাদের প্রতিপালক হইতে প্রেরিত সত্য, তিনি তাহাদের মন্দ কর্মগুলি বিদূরিত করিবেন এবং তাহাদের অবস্থা ভাল করিবেন।


 


 


 


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।


ফটো গ্যালারি
বান্দরবান-কক্সবাজার ভ্রমণ
প্রকৃতির কাছে ছয়দিন
মানিক দাস
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রকৃতির লাস্যময়ী রূপ ও সৌন্দর্যম-িত স্থান যদি দেখতে হয় তাহলে ছুটে যেতে হবে সবুজের সাথে বন্ধুত্ব করতে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। শুধু বান্দরবানই নয়, বিশাল জলরাশির শহর কঙ্বাজারে। এ স্থানগুলোতে গেলেই যে কেউ কবির ভাষায় বলবেন, দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া/ঘর হতে দুপা কেলিয়া'। সত্যি কবিতার এ দুটি লাইন বাস্তব।



গত ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার। চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে আমরা ৬ দিনের আনন্দভ্রমণে গিয়েছিলাম পার্বত্য জেলা বান্দরবান আর বিশাল জলরাশির জেলা কঙ্বাজার।



রাত ১০টা ৫৫ মিনিট। চাঁদপুর শহরের হাজী মহসিন রোডস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রের সামনে থেকে হিলশা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-১৫৮৫) বাস নিয়ে যাত্রা শুরু। বাস চালক ফারুক দ্রুত গতিতে বাস চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ভ্রমণের দলপতি চতুরঙ্গের মহাসচিব হারুন আল রশীদ, শ্রদ্ধেয় হারুন ভাই। ভ্রমণে সঙ্গী তপন সরকার পরিবার, ইয়াহিয়া কিরণ পরিবার, হারুন ভাই পরিবার, অনিতা নন্দী, নাজনীন ভাবী, মোঃ মামুন ও মাঈনুল ইসলাম মানিক নবদম্পত্তি, লেখকের (মানিক দাস) পরিবার, শুভ্র, বাতেন, রাজিব সাহা, মেহেদী হাসান জীবন, রাবি্ব, মোবারক, ফারজু, প্রীতি, হৃদয়, আল_আমিনসহ অনেকে। রাত সোয়া ১১টায় চাঁদপুর বাসস্টেশন থেকে গাড়ির ছাদে টায়ার নিয়ে যাত্রা শুরু। ১১টা ২২ মিনিটে বাবুরহাট থেকে সঙ্গী হয়ে বাসে উঠলো রাবি্ব ও তার ছোট ভাই। গাড়ি চলছে আলো-অাঁধারি পথে দ্রুতগতিতে। ১৮ মিনিটে চলে যাই হাজীগঞ্জে। ফারুক ভাই এতো দ্রুত গাড়ি চালাচ্ছে যেনো বাতাসের গতিতে। রাত ১২টা ২০ মিনিটে চলে যাই লালমাই। পথে আলীগঞ্জ, মাদ্দাহ খাঁ মাজারের টাকা তুললাম আমি আর হারুন ভাই। রাত ১২টা ৩৫ মিনিট হিলশা বাস চলে এলো কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে। আবার যাত্রী হলো জিয়াউর রহমান জসীম। খুবই রসিকপ্রিয়। গাড়িতে উঠেই শুরু করলো রসিকতা। এ যেমন মনে করেন খুশিতে, ঠেলায়, আনন্দে, ভালো লাগছে আর কী ঘোরতে এলাম। আবার বলেন, আপনারা গরু, আপনারা ছাগল...পালবেন। বাসে সবাইকে মাতিয়ে তুললেন। রাত ১২টা ৪৭ মিনিটে হাইওয়ের সামনে। সফরসঙ্গী হলো তাহমিনা ভাবির ভাই মামুনুর রহমান খান ও ভাবী। কয়েক মিনিট পর চলে আসি মিয়ারবাজার এলাকায় সৌদিয়ার যাত্রাবিরতি স্থান টাইমস্ স্কয়ারে। ২০ মিনিটের যাত্রাবিরতি দেয়া হলো। তখন বাস থেকে নেমে কেউ চা নাস্তা করলো আবার কেউ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলো। রাত ১টা ২৫ মিনিট। আবার আমাদের যাত্রা শুরু বান্দরবানের পথে। ফারুক ভাই হিলশা বাস এতো দ্রুত গতিতে চালচ্ছে যেনো বাতাসের গতিতে। রাত ১টা ৪০ মিনিটে চলে আসি চৌদ্দগ্রামের বঙ্গবন্ধুর মোড়ালের সামনে। রাত ২টায় চলে আসি ফেনী শহরে। রাত ২টা ২০ মিনিটে বারইরহাট, রাত ৩টায় ভাটিয়ারী পার হয়ে রাত সোয়া ৩টায় পেঁৗছে যাই চট্টগ্রামের নতুন গেটে। গাড়ির ভেতর নিস্তব্ধ। সবাই ক্লান্তপথিকের মতো ঘুমে বিভোর। চাতকপাখির মতো হারুন ভাই, কিরণ ভাই, আমি, আল-আমিন জেগে আছি। ভোর ৫টায় গাড়ি এসে থামলো চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীরহাট বাসস্টেশনে। নির্দেশ ছিলো আকাশ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত যেনো বাস ছাড়া না হয়। পাশের মসজিদ থেকে মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আযানের ধ্বনি ভেসে আসতে লাগলো। গাড়ি থেকে অনেকেই হোটেলে গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে হালকা নাস্তা করলো। চালক ফারুক ভাই বাসের স্টিয়ারিংয়ের উপর ক্ষাণিক সময় ঘুমিয়ে নিলেন। আবার যাত্রা শুরু হলো। পাহাড়ের কোলঘেঁষা পিচঢালা উঁচু-নিচু রাস্তা দিয়ে আমাদের বাস চলছে। সকাল সাড়ে ৭টায় আমাদের বহন করা হিলশা বাস এসে থামলো বান্দরবানের পৌরসভা সংলগ্ন আর্মিপাড়া কার্পেটিং রোডে। বাস থেকে নেমে যার যার মতো ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে আবাসিক হোটেল 'প্লাজা বান্দরবানে'। যে যার মতো রুমে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেস হলো। হারুন ভাইয়ের ডাক পড়লো রুম থেকে বের হওয়ার জন্যে।



১৬ জানুয়ারি আমাদের ভ্রমণ শুরু হলো। প্রথমেই চলে গেলাম স্বর্ণমন্দিরে সুউচ্চ পাহাড়ের পথ বেয়ে উপরে উঠে এলাম। হারুন ভাই পরিবার নিয়ে নিচে বসে রইলেন। আমি ছেলেকে নিয়ে উপরে থেকে নিচে নেমে এলাম, অনেকেই স্বর্ণমন্দিরে বৌদ্ধের মূর্তি দেখতে গেলো। নিচে নেমে একটা টং দোকান থেকে পেয়াজু কিনে নিজেও ছেলেকে খাওলাম। হারুন ভাইকে দিলাম। গরম গরম মজাই লাগলো। সবাই স্বর্ণমন্দির থেকে নেমে আসছে। এমন সময় অনিতা দি মেয়েকে নিয়ে প্রবেশ করলো। আমরা সবাই একসাথে বাসে চড়ে বসলাম। বাস চলে এলো পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে। বাস থেকে নেমে আমি ছেলেকে নিয়ে প্লাজা বান্দরবানে চলে আসি চোখে ঘুম থাকায়। সবাই চান্দের গাড়ি নিয়ে চলে যায় নীলাচল আর মেঘলায়। এভাবে ঘুরে বান্দরবানের প্রথমদিন শেষ হয়।



১৭ জানুয়ারি সকাল ৭টা ২০ মিনিট আমরা যাত্রা শুরু করলাম নীলগিরির পথে। পাহাড়ি অাঁকাবাঁকা পথ ধরে পরপর ৩টি চান্দের গাড়ি ছুটে চলছে দূরন্ত গতিতে। কয়েক মিনিটের মধ্যে চলে যাই মিলনছড়ি বিডিআর চেকপোস্টে। যাত্রী সংখ্যা আর নাম লিখিয়ে চান্দের গাড়ি ছুটে চলছে। ৩টি গাড়ির দলপতি ছিলেন হারুন আল রশীদ, আমি আর মেহেদী হাসান জীবন। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে চলে আসি চিম্বুক সেনাক্যাম্প ও ক্যান্টিনের সামনে। যাত্রাবিরতি, ক্যান্টিনে কেউ কেউ খিচুড়ি দিয়ে নাস্তা করলো। আবার যাত্রা ৯টা ৪০ মিনিটে চলে আসলাম গন্তব্যস্থান নীলগিরিতে। হারুন ভাইয়ের নেতৃত্বে সেনাসদস্যদের কাছ থেকে টিকেট কিনে ভেতরে প্রবেশ করলাম। মনে হলো যেনো নিজেকে প্রকৃতির মাঝে বিলিয়ে দিলাম। প্রায় ৩ হাজার বর্গফুট উঁচু থেকে নিচের দিকে তাকালে মনে হয় আকাশের মেঘ যেনো সবুজ গাছের ওপর বসে আছে। আমরা সবাই যার যার মতো ক্যামেরা ও মোবাইল সেটে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোডের করলাম। দীর্ঘসময় ঘুরে নীলগিরিতে আনন্দ করি। সীমান্ত, অনন্ত আর প্রান্তিক ওরা ছুটাছুটি করে আনন্দ করে। নীলগিরিতে অনন্ত আর সীমান্ত গান গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। প্রান্তিক ক্লান্ত হয়ে নীলগিরি হেলিপ্যাডে বসে রইলো। মামুন দম্পতি গল্পে মশগুল। মুনতার পরিবারের সদস্যদের ছবি তুলতে ব্যস্ত। রুমা-দির তো আনন্দের সীমা নেই। যেভাবে পারছে সেভাবেই ছবি তুলছে। আমাদের সাথে একজন বয়স্ক লোক ছিলো। বয়স তেমন ভাটির দিকের না হলেও ডাকা হতো প্রীতির নানী বলে। দীর্ঘসময় নীলগিরিতে থাকার পর ফিরে আসার পালা। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে যাত্রা শুরু। পথে থামলাম চিম্বুক পাহাড়ের কাছে। কিন্তু ভেতরে কেউ প্রবেশ করলো না। আমরা চলে এলাম শৈলপ্রোপাতে। দূর অজানার পাহাড় থেকে ঝর্ণাধারার জল নেমে আসছে। নীলগিরি আর শৈলপ্রোপাতে ধুম পড়লো পেঁপে খাওয়ার। এভাবে বান্দরবানের দ্বিতীয় দিন পার করলাম।



জসীম বান্দরবানে আমাদের কাছ থেকে পালিয়ে তার নিজ জেলা কুমিল্লা চলে আসে। রাতে বান্দরবানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যে হুলুস্থূল কা-। প্রশাসন পর্যন্ত তাগড়িয়ে যায়। তারপর বান্দরবান প্লাজায় ক্যান্টিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়। এনএসআই কর্মকর্তা মামুন, তপন সরকার, ইয়াহিয়া কিরণ বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধন করেন তাহমিনা ভাবীর বড় ভাই মামুমুর রহমান খান। গান গেয়েছেন তাহমিনা হারুন, অনিতা নন্দী, হারুন আল রশীদ, পলিন, মামুন, সিজার, বাতেন, শুভ্র। নৃত্য করে অথৈ, ফারজু, রাবি্ব, মোবারক ও প্রীতি।



শুরু হলো কঙ্বাজার প্রসঙ্গ। ১৮ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় বান্দরবান প্লাজা থেকে বের হয়ে পড়লাম। যার যার মতো ব্যাগ-ট্রলি সবকিছু নিয়ে বাসে চড়ে বসলাম। ৪৫ মিনিট গাড়ি চলার পর আমরা সোয়া ৯টায় চলে এলাম কেরানিরহাটে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে যাত্রাবিরতি পরল হাক্কানি ফিলিং স্টেশনে। গাড়িতে তেল নেয়া হলো। গাড়ি চলছে আপন গতিতে সোয়া ১১টায় চলে এলাম চকরিয়া বাজারে, পৌনে ১টায় হিলশা বাস এসে থামলো কঙ্বাজারের আবাসিক হোটেল অস্টার ইকোর সামনে। রুম বণ্টন করে দেয়া হলো। রুমে ব্যাগ রেখে প্রান্তিককে নিয়ে চলে গেলাম সমুদ্রে। লোনা জলে ঝাঁপিয়ে স্নান করলো। ছেলেকে ভিজতে দেখে আনন্দিত হলাম। যার যার মতো ঘুরাঘুরি শুরু হলো। সন্ধ্যায় আমি, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চলে গেলাম ৮০ টাকা অটো ভাড়া দিয়ে বার্মিজ মার্কেটে। করা হলো কেনাকাটা। আমার মতো অনেকেই মার্কেটে ঘুরে ঘুরে অনেক কেনাকাটা করলো। সবাই কমবেশি শুটকি কিনেছে। ঘণ্টাখানেক সময় বার্মিজ মার্কেট ঘুরে পছন্দের জিনিস কিনে আবার ৮০ টাকা অটো ভাড়া দিয়ে চলে এলাম অস্টার ইকোতে। রাতে আমি আল-আমিনকে নিয়ে চলে গেলাম সুগন্ধা পয়েন্টের বীচ এলাকায়। সেখানে গিয়ে চিংড়ি চপ খেলাম ৬০ টাকা দিয়ে। কঙ্বাজার বীচে রাতে ঘুরে অস্টার ইকোতে ফিরে যায় যার কক্ষে রাতযাপন করি।



পরদিন ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টায় আমি, স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে সমুদ্রের পাড়ে চলে যাই। প্রান্তিক ডুবিয়ে আর সমুদ্রের জলে ভিজে আনন্দ করছে। ২ ঘণ্টা পর আমরা রুমে ফিরে আসি। ফিরে আসার পথেই হোটেলে সকালের নাস্তা খেয়ে নিলাম। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে চলে যাই ইনানী বীচে। যার যার মতো কেনাকাটা করলো। আমাদের মধ্যে ইয়ং ছিলেন হারুন ভাই। রং-বেরংয়ের পোশাক পরেন, দারুণ দেখাচ্ছিলো। ইনানীতে গিয়ে তপন দা, রুমাদি একজন ক্যামেরাম্যানকে ভাড়া করে কেবল ছবি তুলছেন। তাহমিনা ভাবি বীচ কারে বসেন আর হারুন ভাই মোবাইলে ছবি তুলে ফেসবুকে ভরিয়ে আপলোড করেন। সীমান্ত আর অনন্ত দিদার মতোই কারে চরে। ১১টা ৪৫ মিনিটে আমরা ইনানী থেকে হিমছড়ির পথে যাত্রা শুরু করি। কেউ কেউ টিকেট কেটে ভেতরে প্রবেশ করলো। অনেকেই বাইরের মার্কেট ঘুরলো, কেনাকাটা করলো। আবার কেউ ডাব কিনে ভাগে খেলো। নাজনীন ভাবী ও তার কন্যা, সরস্বতী ও প্রান্তিক, তপন দা পুরো পরিবার নিয়ে চায়ের দোকানে বসে জমিয়ে আড্ডা। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে হিমছড়ি ত্যাগ করে চলে আমি অস্টার ইকোতে। যার যার রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নিলাম। রংধনুর সৃজনশীল নৃত্য সংগঠনের আয়োজনে দুপুরের খাবার খেতে চলে গেলাম অস্টার ইকোর পাশের ফ্রেস ইন হোটেলে। সকালে কেউ মহেশখারী আবার কেউ সেন্টমার্টিন ঘুরতে চলে যায়। দুপুরের খাবার শেষে উন্মুক্তভাবে চলে ঘুরাফেরা। যে যার মতো ঘুরে ঘুরে আনন্দভ্রমণের শেষ দিনটি পার করে দেই। রাত্রীযাপনের পর ২০ জানুয়ারি সকাল ৬টায় আমি, সরস্বতী আর প্রান্তিক চলে যাই সমুদ্রের নানা জলে। প্রান্তিক সমুদ্রকন্যার উঁচু ঢেউয়ে নিজেকে ভিজেই চললো। দূরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছেলের আনন্দ উপভোগ করলাম। আমাদের মতো সফরসঙ্গী অনেকেই সমুদ্রের পাড়ে আনন্দ করলো।



সকাল ১১টায় অস্টার ইকো থেকে রামু বৌদ্ধ মন্দিরের পথে বাসে চরে বসলাম। ১ ঘণ্টা পর বৌদ্ধ মন্দিরে পেঁৗছে গেলাম। ১০ টাকা করে অটো ভাড়া দিয়ে চলে যাই মন্দিরের গেটে। ১০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দেখি ১২০ ফুট লম্বা বৌদ্ধ দেব শুয়ে আছে। মূর্তির সামনে ছবি তোলার সময় দেয়া হলো মাত্র ৩০ মিনিট। রামু বৌদ্ধ মন্দির থেকে বের হয়ে হিলশা বাসের সামনে চলে এলাম। এর মধ্যে কেউ বাজার-সদাই করল। কেউ-বা দোকান থেকে পেয়াজু কিনে খেতে লাগলো। সুমনা ভাবির কথা মতো সবচেয়ে বেশি পেয়াজু কিনে আনলো ইয়াহিয়া কিরণ ভাই। ভ্রমণপ্রিয় সবার মাঝে গাড়িতে সেই পিয়াজু আল-আমিনের মাধ্যমে বিতরণ শুরু করলো। তারপর যাত্রা আবার শুরু। এবারের বিরতি বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে চলে আসি কঙ্বাজারের চকরিয়া থানার ডুলাহাজারা এলাকার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। বাস থেকে নেমেই বঙ্গবন্ধুর মোরালের সামনে ছবি তোলার ধুম। আমাদের মধ্য থেকে অনেকেই ৫০ আর ২০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে পার্কের ভেতরে প্রবেশ করলো। আমিও ছেলেকে নিয়ে প্রবেশ করলাম। কিছু জীবন্ত খাঁচায় বন্দি প্রাণী দেখলাম। সবচেয়ে বেশি দেখলাম বানর। ওদের বাদরামী দেখতেই সাফারি পার্কে প্রবেশ। পার্ক কর্তৃপক্ষ যদি বন্য প্রাণীদের প্রতি দৃষ্টি দেয় তাহলে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি আরো উন্নত করা সম্ভব। পার্কের ভেতর থেকে ৩টায় বের হয়ে আসলাম। খোলা মাঠের পাশে সাফারি ক্যান্টিনে শত টাকার প্যাকেজে দুপুরের খাবার খেলাম। একটু ঘুরাঘুরি, ডাক পরলো বাসে উঠার। ৩টা ৫০ মিনিট বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে যাত্রা শুরু। বিকেল সোয়া ৪টায় চলে আসি চকরিয়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে। ৪টা ৫৫ মিনিটে চলে আসি চট্টগ্রামের লোহাগড়ায়। ৫টা ৫ মিনিটে লোহাগাড়া পদুয়ার বাজার। সন্ধ্যা ৫টা ৩৫ মিনিটে আমাদের বাস এসে থামলো কেরানীরহাট নিজাম উদ্দিন এন্ড ব্রাদার্স পেট্রোল পাম্পে। গাড়িতে তেল নেয়া হলো। আমাদের মাঝ থেকে কেউ কেউ চা পান সিগারেট খেলো। ৬টা ৫০ মিনিটে আমাদের বাস চলে আসে পটিয়ার শান্তির হাটে। ৭টা ৫ মিনিটে কর্ণফুলি ব্রিজ পার হয়ে যাই। রাত ৭টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের বটতলী পুরাতন রেলস্টেশনের কাছে আরিফের জন্যে অপেক্ষা। আরিফ এসে কিছু কমলা দিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক কমলা বণ্টন করে দেয়া হলো। বাস আবার ছাড়া হলো। রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে আমাদের বহন করা বাসটি এসে থামলো কুমিল্লা বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানে। কেউ শুকনো খাবার কিনলো। সামান্য একটু এগিয়ে এসে আমানিয়া হোটেলে অনেকেই রাতের খাবার খেলো। বাসটি রাত ১টায় চাঁদপুরের পথে ছুটলো। রাত ২টায় আমরা চাঁদপুর শহরে প্রবেশ করলাম। এভাবেই আনন্দ করে চতুরঙ্গের ৬ দিনব্যাপী আনন্দভ্রমণ সমাপ্ত হলো।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৬২৪৯৭
পুরোন সংখ্যা