চাঁদপুর, শনিবার ১১ মে ২০১৯, ২৮ বৈশাখ ১৪২৬, ৫ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্


৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


৯। আকাশ হইতে আমি বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি এবং তদ্বারা আমি সৃষ্টি করি উদ্যান ও পরিপক্ক শস্যরাজি।


১০। ও সমুন্নত খর্জুর বৃক্ষ যাহাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খেজুর-


১১। আমার বান্দাদের জীবিকাস্বরূপ। বৃষ্টি দ্বারা আমি সঞ্জীবিত করি মৃত ভূমিকে ; এইভাবে উত্থান ঘটিবে।


 


 


assets/data_files/web

আনন্দ এমন একটা ফল যা অনুন্নত দেশে দুষ্প্রাপ্য। -জন কেনড্রিক।


 


 


প্রত্যেক কওমের জন্য একটি পরীক্ষা আছে আর আমার উম্মতদের পরীক্ষা তাদের ধন-দৌলত।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
মূল্যবোধের চর্চা হোক
সুধীর বরণ মাঝি
১১ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিজ্ঞজন বা বিশিষ্টজনদের মতো করে ভাবার ক্ষমতা ও জ্ঞান কোনোটিই আমার নেই। কোনো একটি বিষয়কে গুছিয়ে উপস্থাপন করার ক্ষমতাও সীমিত। একজন সাধারণ মানুষের মতো মাঝে মাঝে ভাবি এবং তাই আমার ভাবনার প্রকাশটাও অনেকটাই এলামেলো। আমার এই ভাবনাগুলোর সাথে পাঠকদের ভাবনাগুলোর আদান-প্রদানের জন্যেই আমার এই প্রয়াস। জানিনা কতটুকু আদান-প্রদানে সমর্থ হবো।



আমাদের সময়ের আর বর্তমান সময়কার স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে তফাৎ রাত আর দিন। কি পড়াশোনা, কি আচার-আচরণ, কি সৌজন্যতাবোধ ইত্যাদি। আমাদের সময়ে দেখেছি পারস্পারিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতার ইত্যাদি কোনোটির কমতি ছিলো না। শিক্ষক এবং বড়দের শ্রদ্ধা করা ও ছোটদের স্নেহ করা, পরস্পরকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে ছিলো পূর্ণ আন্তরিকতা। এখন আর তেমনটা চোখে পড়ে না। আমরা আমাদের শিক্ষকদেরকে, বড়দেরকে যেভাবে শ্রদ্ধা করতাম, ভালোবাসতাম আজকের ছাত্রদের সেই জায়গাটা সঙ্কোচিত হয়ে গেছে। এখনকার ছাত্ররা শিক্ষকদেরকে, বড়দেরকে সেভাবে শ্রদ্ধা করে না, ভালোবাসে না। সর্বত্র একধরনের আত্মকেন্দ্রিকতার ছোঁয়া। এখনকার স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের একাংশের মধ্যে এক ধরনের অসঙ্গতি দেখা যায়। তাদের আচরণ দেখে মনে হয় তারা জীবনে খেই হারিয়ে ফেলেছে। তাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ইত্যাদির চরম ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। একটি ছোট্ট উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে পারি। স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রদের একটি অংশ দূর থেকে শিক্ষকদের নাম ধরে ডাক দেয়, আবার কখনো নামের বিকৃতি করে। অশ্লীল আচরণ ও বিকৃত মানসিকতার মধ্যেই জীবনের আনন্দ খুঁজে পেতে চাই। জীবনে আলোর সন্ধান না করে উগ্রতাকে লালন করে। মধ্যরাত পর্যন্ত মোড়ে মোড়ে দোকানে আড্ডা দেয়। আবার দিনের বেলা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে। তাদেরকে ডেকেও খেলার মাঠে বা সহপাঠ্যক্রম ক্লাসে আনা যায় না। এটাকে তা অহেতুক কাজ বলে মনে করে। আবার কেউ কেউ অংশগ্রহণকরীদেরকে নিয়ে টিপ্পুনি কাটে। বিকৃত আনন্দের ভয়বহতা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং পারিবারিক শিক্ষার সঙ্কটই অশ্লীল আচরণ ও বিকৃত মানসিকতার জন্ম দেয়। তারা সারাদিন ফেসবুক, ইন্টারনেট, টেনপাত্তি, ক্যান্ডিক্রাশ নিয়ে ব্যস্ত। তারা তিন-চারজন বন্ধু যখন একত্র হয়, তাদের মাঝে কথাও হয়, গল্প হয় কিন্তু প্রত্যেকের চোখ দুটো থাকে তাদের নিজ নিজ মোবাইলের দিকে। চোখের সামনে তারা বিপদগামী হয়ে যাচ্ছে। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এ সমস্যাগুলো শহরে না যতোটা প্রকোট গ্রামে তার চেয়ে অনেক বেশি প্রকোট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে শিক্ষকদের নাম ধরে ডাক দেয়া আবার কখনো নামের বিকৃতি করা। এ সমস্যাগুলো ইদানীংকালে বেশি বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। পরিবেশ এক্ষেত্রে একটি বড় বিষয়। দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটও এর জন্যে কম দায়ী নয়। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তাদেরকে স্বার্থপর করে তুলছে। তারা শুধু আমি'র পেছনে ছুটছে। শুধু আমি'র পেছনে ছুটে যে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হওয়া যায় না এই উপলব্ধি করতে তারা ব্যর্থ। একদল মানুষ তাদের অশ্লীল আচরণ এবং উগ্রতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে। এইভাবে ছাত্ররা অপরাধী হয়ে উঠে এবং নিজেকে হিরু ভাবতে গিয়ে এবং হিরোইজম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নানা অপরাধে নিজেকে অজান্তেই জড়িয়ে ফেলছে। বর্তমান শিক্ষা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ। মহান মহান ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত জীবনী অনুপস্থিত আমাদের পাঠ্যপস্তুকগুলোতে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক কার্যক্রমে উপস্থিতি একবারেই নগণ্য। প্রত্যেকে ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে। এর মধ্যে যে জীবনকে খুঁজে পাওয়া যায় না এটা তারা জানেই না। বর্তমান সময়ে ছাত্রছাত্রীদের নিজেকে মেলে ধরার বা বিকাশ করার যে সুযোগ রয়েছে আমাদের সময়ে তা ছিল না বললেই চলে। তুলনামূলকভাবে এখনকার অভিভাবকরা সন্তানের লেখাপড়ার প্রতি অনেক বেশি যত্নবান,মনোযোগী। এই সুযোগ হাতছাড়া করার খেশারত শুধু তার নিজেকে নয়,তার পরিবার,সমাজ এবং জাতিকে দিতে হবে এই বোধটুকু তাদের মধ্যে জাগিয়ে তোলা জুরুরী। আজকের প্রচেষ্টা আগামীর জন্য। রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করতে হবে। আজকের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরাই তারুণ্যশক্তি। এই তারুণ্যশক্তিকে কাজে লাগানোর কৌশল ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশটা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকবো। তাই দেশ গড়ার দায়িত্বটাও আমাদের ঘাড়েই নিতে হবে। এর সমাধানের জন্য এখনি সামাজিকভাবে না ভাবলে পরবর্তী প্রজন্ম আরো ভয়ংকর হয়ে উঠবে। সবসময় একটা অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করবে। আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হবে। পারিবারিক ভাঙ্গন, সামাজিক মূল্যবোধ এবং ব্যক্তির সামাজিকীকরণ বিঘি্নত হবে। সমাজে নানা ধরনের সামাজিক অসঙ্গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ছাত্ররা জীবনের মাঝ পথে এসে হতাশায় ভোগে এবং পরিবারের উপর এক ধরনের বোঝা সৃষ্টি করে। ছাত্রদেরকে প্রাইভেট বা কোচিংমুখী না করে শ্রেণিমুখী করতে হবে। প্রাইভেট বা কৌচিং শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদেরকে শ্রদ্ধা ভালোবাসা কমিয়ে দেয়। অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন সর্বাঙ্গে। ছাত্রদের এই অশ্লীল আচরণ ও বিকৃত মানসিকতার ভোক্তভোগী যতটা না সমাজ রাষ্ট্র তার চেয়ে বেশি পরিবার। পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও সচেতনা না আসলে এই সমস্যার আশু সমাধান সম্ভব নয়। অনেক সময় পারিবারিক ও সামাজিক সমন্বয়হীনতা এবং অসঙ্গতির কারণে ছাত্ররা উগ্র হয়ে উঠে। এমন কোন কথা বা আচরণ করা যাবে না যার নেতিবাচক প্রভাব এই ছাত্রদের উপর পড়ে। তবে যাই বলি এটা আমাদের জন্য শুভ লক্ষণ না। ছাত্রদের মাঝে চেতনাকে এবং মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমকে জাগিয়ে তুলতে হবে। দেশের সংকটকালে যেই ছাত্ররা নিজের শ্রেষ্ঠ সম্পদ নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন আর আজকের তরুণ জীবনের উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে সংকটের দিকে পা দিচ্ছে। তারা জীবনের তারুণ্য এবং যৌবন সম্পর্কে সন্ধিহান। আমাদেরকে স্মরণ রাখতে হবে দেশপ্রেম সমৃদ্ধ মানুষ দ্বারা জাতীয় চেতনা বিরোধী কোন কাজ করানো সম্ভব নয়। জাগিয়ে তুলতে হবে দেশের চলমান উন্নয়নকে গতিশীল রাখতে হলে এ থেকে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদেরকে ফিরিয়ে আনতে হবে তা সে কঠিনই হোক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদেরকে ফিরিয়ে আনতে হবে জীবনের পথে, আলোর পথে। যেখানে ঘটবে তাদের জীবনের সৃজনশীল বিকাশ। সৃষ্টি হবে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক,পারস্পারিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৯১৭৫৮
পুরোন সংখ্যা