চাঁদপুর, শনিবার ১ জুন ২০১৯, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৬ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্


৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২২। আকাশে রহিয়াছে তোমাদের রিযক্ ও প্রতিশ্রুত সমস্ত কিছু।


২৩। আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ ! অবশ্যই তোমাদের বাক্-স্ফুর্তির মতই এই সকল সত্য।


২৪। তোমার নিকট ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত আসিয়াছে কি?


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।


 


 


ফটো গ্যালারি
ঈদ নিয়ে যতো ভাবনা
জমির হোসেন
০১ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মুসলিম উম্মাহের জন্যে ঈদ অনন্য আনন্দের বার্তা। সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্নায় ভরা ঈদ উৎসব। ঈদের ঘোষণাটি কোনো এক বিশেষ দিনের পথ ধরে ঈদের আনন্দের সূচনা হয়। এই দিনটিকে ঘিরে আবালবৃদ্ধ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের মনের মাঝে ভিন্ন এক অনুভূতি জাগ্রত হয়।



 



বছরে দুটি ঈদ ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে বিশ্বময় মুসলমানদের জন্যে। পবিত্র রমজান মাস হলো ঈদের আগাম বার্তা। তাই সব শ্রেণীর মানুষ ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রস্তুতি নিতে থাকে রোজার ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে পবিত্র রমজান মাসের। চাঁদ দেখা নিশ্চিত হলে রোজা শুরু। এরপর শুরু হয় সিয়ামসাধনা আর সংযমের পথে চলা। রোজার একটি মাস পরম করুণাময়ের মহিমান্বিত অন্যতম একটি মাস।



প্রতিবছর আল্লার নৈকট্যলাভের আশায় সমগ্র মুসলিম জাতি অপেক্ষা করে। রোজার একটি মাস অতিক্রমের পর উঁকি দেয় ঈদের খুশি।



 



সেই কিশোরবেলায় আমার কাছে ঈদের আগের রাতেই ঈদ মনে হতো। কি যে আনন্দ মনে বয়ে যেতো ভাষায় না প্রকাশ করা যায়। ঈদের আগের দিন রাতে শত চেষ্টা করে দু চোখের পাতা এক করতে পারি না। কেনো জানি ঘুমের ক্লান্তি শরীরে স্পর্শ করে না। বিছানায় এদিক-সেদিক গড়াগড়ি করে কখন যে মাঝরাতের ঘণ্টা বাজে টেরই পাই না। পরের দিন ঈদ। ঈদের খুশিতে সবকিছু উলোট-পালোট হয়ে যায়। তবুও সবকিছুতে দ্বিগুণ আনন্দের অনুভূতি ঈদকে ঘিরে। রমজান শুরু হওয়ার সাথে সাথে ঈদ নিয়ে যতো সব করণীয় পরিকল্পনা বেড়ে যায়। এমনকি এক শ্রেণীর মানুষের কর্মচাঞ্চল্য দ্বিগুণ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বাসাবাড়ির চাকচিক্য করা এবং তৈরি পোশাক কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে।



ছোটবেলার ঈদ ঘিরে থাকে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা যেনো আনন্দের কোনো কমতি নেই। এ আনন্দের মাঝে প্রাকৃতিক খুশির বার্তা বয়ে আনে।



 



ঈদের রাতে পোশাক ঘরে এনে রাখা। এরপর গভীর রাতে ঘুমিয়ে ভোরে উঠে গোসল সেরে ঈদের নামাজ আদায় করা সত্যি পরিপূর্ণ মনোতৃপ্তি চলে আসে মনে। মনে পড়ে প্রায় বিশ বছর আগে মা যখন জীবিত ছিলেন ঈদের নামজের পূর্বে মিষ্টিমুখ অর্থাৎ সেমাই খেয়ে নামাজে যাওয়া যেনো একটা সামাজিক রেওয়াজ। না খেলেও জোরপূর্বক খাওয়াতেন মা। এরপর নতুন পোশাক পরে সালামি নিতে অপেক্ষায় থাকতাম। বাবা-মাসহ আত্মীয় পরিবার-পরিজন বড় সবাইকে সালাম দিলে টাকা হাতে তুলে দিতেন। সেই টাকা দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যেতাম বন্ধুদের নিয়ে। কিছু খেতাম আর নাই খেতাম চটপটি না খেলে কেনো জানি একটা অপরিপূর্ণতা থেকে যেতো ঈদের দিন। পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াতাম। সবার বাসায় গিয়ে সেমাই খেতে খেতে একটা সময় আর খাওয়ার কোনো রুচি থাকতো না। তারপর বাসায় এসে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে বের হতাম। যদি কোনো ভালো ছবি ঈদে মুক্তি দিতো তবে অবশ্যই তা দেখতাম। হলে এতো ধাক্কাধাক্কির পরও টিকেট সংগ্রহ করে পছন্দের সিনেমাটি দেখে নিতাম। বিশেষ করে পুরাণবাজার কোহিনুর সিনেমা, ছায়াবাণী ও চিত্রলেখা। চাঁদপুরের এ তিনটি হল ছাড়াও হাজীগঞ্জ রনি সিনেমা হল এবং কুমিল্লায় ছবির নেশায় ছুটে যেতাম।



 



আরেকটি মজার বিষয় হলো তখন নদীতে গোসল করতাম। তার মজাই আলাদা। সবমিলিয়ে ছেলেবেলার ঈদ ছিলো পরিপূর্ণ বিনোদনে ভরা। যা এখন শুধু স্মৃতি। তাছাড়া সেই আগের মতো আনন্দ পাই না। গত বিশটি বছর মাকে ছাড়া ঈদ কাটাচ্ছি। তাই প্রতিটি ঈদে আনন্দের লেশমাত্র খুঁজে পাই না। একটা সময় সালামি নিয়ে খুশি হতাম আর এখন সালামি দিয়ে খুশি হই। আরেকটি বিষয় গত এক যুগেরও বেশি প্রবাসে ঈদ করছি। বিদেশে অর্থের পিছুটান না থাকলেও আনন্দ-উল্লাসের অনেক ঘাটতি রয়েছে, যা কোনোভাবেই পূরণীয় নয়। দেশের টানে নাড়ির টানে মন ছুটে চলে সবসময় দেশের পানে। বিশেষ করে বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে দেশকে অনেক বেশি মনে পড়ে।



 



তখন নিজেকে বড্ড অসহায় একা মনে হয়। এরপর ইউরোপ মধ্যপ্রাচ্যের ঈদ আকাশ-পাতাল ব্যবধান। কারণ ইউরোপে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির বাইরে একটি দিনও বন্ধ রাখে না। আমরা যারা মুসলিম রয়েছি, ঈদের দিনে কোনো ছুটি থাকে না। যার ফলে ঈদের নামাজটা পড়াও মুসকিল হয়ে যায়। তাই ঈদ উপলক্ষে কর্মস্থলে আগেই ছুটির জন্যে বলে রাখতে হয়। ঈদের নামজ পড়তে। নামাজ শেষে ফের কর্মস্থলে যেতে হয়। ঈদের কোনো আনন্দ অনুভূত হয় না ইউরোপে। এদিক দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশগুলোয় কর্মজীবী বাংলাদেশিরা কিছুটা ঈদের আনন্দ পান। কারণ সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে তাই বোধগম্য হয় ঈদ হচ্ছে। তবু সবকিছু মেনেই চলতে হয়। এগিয়ে যেতে হয় সামনের দিকে প্রবাসজীবনে। প্রবাসীদের এ কষ্ট যদি সরকার কোনোপ্রকার উপলব্ধি করতো, তবে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশী মিশনগুলো সঠিক দায়িত্ব পালনে আরো সচেষ্ট হতে বিশেষ নির্দেশ দিতো। ক্ষোভ আর রাগ-গোস্সা বিভিন্ন দূতাবাসের উপর। অভিযোগ উঠে, এতো কষ্টের পরও তাদের যথাযথ সেবা প্রদান করে না দূতাবাসের কর্মকর্তরা।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৮৮৮৫০
পুরোন সংখ্যা