চাঁদপুর, শনিবার ১ জুন ২০১৯, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৬ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্


৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২২। আকাশে রহিয়াছে তোমাদের রিযক্ ও প্রতিশ্রুত সমস্ত কিছু।


২৩। আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ ! অবশ্যই তোমাদের বাক্-স্ফুর্তির মতই এই সকল সত্য।


২৪। তোমার নিকট ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত আসিয়াছে কি?


 


 


 


assets/data_files/web

আকৃতি ভিন্ন ধরনের হলেও গৃহ গৃহই। -এন্ড্রি উল্যাং।


 


 


যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।


 


 


ফটো গ্যালারি
অশ্রুসিক্ত ঈদ
কবির হোসেন মিজি
০১ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শহরের শেষ প্রান্তে হাসিনার গোছানো সংসার। পাঁচ ছেলে, দুই মেয়ে। বড় মেয়েটার বিয়ে হয়েছে বছর পাঁচেক আগে। ছোট মেয়েটা এখনো মায়ের সংসারে। চার ছেলে বিয়ে করে যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তাই কেউ মায়ের খোঁজ নেয় না। ছোট ছেলে শান্তকে নিয়েই মায়ের যতো স্বপ্ন। বাবা মারা যাবার পর থেকে এ শান্তই সংসারের হাল ধরে আছে। শান্ত পড়ালেখায় বেশি দূর এগুতে পারেনি। তাই ভালো চাকুরিও কপালে জোটে না। একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকুরি নিয়ে কোনো রকম মা-বোনকে নিয়ে দিন কাটিয়ে দেয়। তবুও অভাব পিছু ছাড়ে না। বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি যেনো বাজারের গায়ে জ্বলন্ত আগুন লকলকিয়ে বেড়ে চলছে। পাঁচশ' টাকা নিয়ে বাজারে গেলে কিছুই হয় না। তরকারি কিনলে মাছ কেনা হয় না, মাছ কিনলে তরকারি...। মাত্র দু হাজার টাকা বেতনের চাকুরিতে কেমন করে চলবে একটি সংসারের খরচ।



অন্যদিকে ঈদের কেনাকাটা। দেখতে দেখতে পার হয়ে গেলো ত্রিশটি রোজা। আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর। মার্কেটের বিপণীগুলোতে বেচাকেনার ভিড়। শান্ত রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে কত কী ভাবছে আর মানুষের কেনাকাটা দেখছে।



মার্কেট করতে আসা এক ভদ্রলোক তার বোনকে বললো, কী রে রিপা এ পোশাকটা তোর পছন্দ হয়নি?



-না ভাইয়া! এই দশ হাজার টাকা দামের পোশাক আমি কখনোই পরবো না। তুমি আমাকে এর চেয়ে আরো উন্নতমানের পোশাক কিনে দিবে। নইলে এবার ঈদে আমি তোমার সাথে কোনো কথাই বলবো না।



মেয়েটির কথা শুনে শান্ত দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনে মনে ভাবছে, যদি উনার মতো আমার এতো টাকা-পয়সা থাকতো, তাহলে আমিও তো আজ আমার ছোট্ট বোনটিকে এমন ভালো পোশাক কিনে দিতে পারতাম।



হাজারো ভাবনায় শান্ত ধীর গতিতে পায়ে হেঁটে চললো বাসায়। মায়ের মন সবার আগে সন্তানের মনের খবর জানে। ছেলেকে দেখেই বললো, কিরে বাবা তোকে এতো ক্লান্ত লাগছে, শরীর খারাপ?



-কই নাতো। আমি ভালোই আছি। তোমার শরীরের কী অবস্থা মা?



-আমি বেশ ভলোই আছি রে বাবা। তুই ভালো থাকলেই হলো



যদিও কঠিন একটা রোগ হাসিনা বেগমকে তিলে তিলে ক্ষত করছে। তবুও সন্তানের কাছে বলতে সঙ্কোচবোধ করে। কারণ হাসিনা বেগম ভালো করেই জানেন তার রোগের চিকিৎসা করালে অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু শান্ত এতো টাকা কোথায় পাবে? যতো টাকা বেতন পায় তা দিয়ে চিকিৎসা করালে সংসারের গতি থেমে যাবে। তেমন জমিজমাও নেই যে তা বিক্রি করে সংসার চালিয়ে জীবন বাঁচাবে।



শান্ত মাকে ডেকে বললো, দেখতো মা এই শাড়িটা কেমন হয়েছে? আর এটা শেলীর জন্যে। দেখতো বোন পছন্দ হয় কি না?



-হ্যাঁ ভাইয়া খুব সুন্দর। সত্যি তোমার পছন্দ আছে। কিন্তু ভাইয়া তোমারটা কোথায়?



-আছে।



-কোথায় আছে?



-বন্ধুর কাছে।



-তুমি মিথ্যে বলছো।



-ধুর পাগলি। মিথ্যে বলে কী হবে! এ বলে শান্ত মিথ্যে সান্ত্বনা দিয়ে বন্ধুদের আড্ডায় বেরিয়ে পড়ে।



গভীর রাত। চারদিকে আনন্দের কোলাহল। যদিও আজকের এ রাতটি খুবই হাসি-আনন্দের কিন্তু এই মুহূর্তে শান্তর মনে এতটুকু আনন্দ নেই। হাত বাড়িয়ে প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে দিয়াশলাই দিয়ে জ্বালিয়ে টানছে আর কত কী ভাবছে।



হঠাৎ পাশের ঘর থেকে ছোট বোনের চিৎকার! শান্ত অাঁতকে উঠে দৌড়ে ছুটে চলে পাশের ঘরে। কি রে শেলী কী হয়েছে?



শেলী কেঁদে দিয়ে বললো, দেখ ভাইয়া মা যেনো কেমন করছে।



শান্ত দ্রুতগতিতে তার মাকে হাসপাতাল নিয়ে এলো।



ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখলো গভীর চিন্তায় হার্টে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই মুহূর্তে পাঁচশ' টাকা দামের স্যালাইন দিতে হবে। ডাক্তার অনেক ঔষধ লিখে দিয়েছেন। প্রায় হাজার পাঁচেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু শান্তর পকেট যে একদম শূন্য।



হতাশায় ক্লান্ত মন নিয়ে শান্ত টাকার খুঁজে বেরিয়ে পড়ে বিভিন্ন জায়গায়। রাত প্রায় তিনটা বাজে। এতো রাতে কোথায় যাবে কী করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। তার এক বন্ধুর বাসায় গিয়েও ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছে।



ডাক্তার শান্তকে ডেকে বললো, আই এম সরি শান্ত। আই এম ভেরি সরি! তোমার মা আর জীবিত নেই!



কথাটা শুনতেই শান্ত চিৎকার করে মায়ের লাশকে জড়িয়ে ধরে। এ কি মা এ কী হয়ে গেলো রে মা, এ কী হয়ে গেলো। কেনো এভাবে নিঠুরের মতো আমাদের ছেড়ে চলে গেলে। আমি যে তোমার জন্যে রঙিন শাড়ি এনেছি। সেটা কে পরবে? কেনো এভাবে পাষাণের মতো চলে গেলে। একবারও আমাদের কথা ভাবলে না। দেখ রে মা একবার চোখ খুলে তাকিয়ে দেখ, ভোর হয়েছে, আজ আনন্দের ঈদ, সবাই নতুন জামা-কাপড় পরবে। এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে সবাই আনন্দে মুখরিত হবে। আর আমরা কি তোমাকে হারানোর এই বেদনা নিয়েই বেঁচে থাকবো বাকি জীবন...।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪৯৩৮১
পুরোন সংখ্যা