চাঁদপুর, শনিবার ১ জুন ২০১৯, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৬ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্


৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২২। আকাশে রহিয়াছে তোমাদের রিযক্ ও প্রতিশ্রুত সমস্ত কিছু।


২৩। আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ ! অবশ্যই তোমাদের বাক্-স্ফুর্তির মতই এই সকল সত্য।


২৪। তোমার নিকট ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত আসিয়াছে কি?


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।


 


 


ফটো গ্যালারি
বাবাহীন আমার ঈদ
জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
০১ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

দিন যায়, রাত যায়, কেটে যায় সব অনাথের সাজে

আমি বসে আছি দূর প্রবাসে,

বাবা ফিরে আসবে বলে

সবাই ফিরে আসে, কই বাবা ফিরে আসে না...

দাদা-দাদি, নানা-নানি, ফুফা-ফুফি সবাই গেলো

কেউ ফিরে আসেনি, অবশেষে বাবা গেলেন

তিনিও ফিরেনি-ঈদ ফিরে এসেছে।

প্রিয় বন্ধুরা একটি পরিবারের সুখ, শান্তির জন্যে বাবা নামক মানুষগুলো ছুটে চলেন ক্লান্তিহীনভাবে। আয়-রোজগার করে এনে তা তুলে দেন সংসারের মূল চালিকাশক্তি সুখ-দুঃখের প্রধান মা-নামক নারীর হাতে। যিনি সন্তানের লেখাপড়া, আত্মীয়স্বজন, পাড়া, প্রতিবেশী সবাইকে মোকাবেলা করেই সংসার এগিয়ে নেন।

আমাদের পরিবারে আমরা ৩ বোন, ৫ ভাই, বাবা, মামাসহ ১০ জন তার সাথে আত্মীয়-স্বজন সবাইকে সুখে রাখার জন্যে বাবা একাই লড়াই করে চালিয়েছেন। সরকারি একজন কর্মকর্তা ছিলেন। মাসশেষে বেতন আর যে রেশন পেতেন তাই দিয়েই কাটিয়েছেন জীবন অনেক আনন্দে।

বাবার সাথের অনেক বন্ধু রাতারাতি বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। অনেকেই সম্পদের মালিক হয়েছেন। বাবার সাথে চট্টগ্রামে টেকনিক্যাল সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে ছিলাম আমি। আমার বাবা সবসময় বলতেন, আদর্শগত শিক্ষাজীবন, অন্যের উপকার, সততার সাথে জীবনযাপন, হালাল ইনকাম, নামাজ, রোজাসহ সকল ভালো কাজের সাথে থাকার নামই জীবন। তুমি অসৎ উপায়ে হয়তো অনেক কিছু করতে পারবে, তবে তা মনের সুখ এনে দিবে না। যতো পাবে, মন চাইবে আরও কিছু করি। আর তুমি যদি সৎ উপায়ে আয় করে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারো তবেই তুমি সফল।

মনে রাখবে, ফুল ঝরে রেখে যায় বৃতি, আর মানুষ মরে যায় রেখে যায় স্মৃতি। বাবার শেখানো কথাগুলো পুঁজি করেই আমরা ভাই, বোন সবাই চলছি সেই পথে। আজ সবাই যার যার জায়গায় আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। অনেক টাকা বা অনেক সম্পদ নেই, আমাদের সকলের মাঝে আছে একে অন্যের প্রতি সমপ্রতি, ভালোবাসা আর আন্তরিকতা। ঈদ এলেই বাবা সকলের জন্যে কিছু না কিছু ঈদ উপহার দিতেন। নিজের জন্যে কিছুই কিনতেন না। তখন আমরা কেউ বুঝতে পারিনি বাবা নিজের জন্যে না কিনে ঈদ উপহার হিসেবে নতুন জামা কাপড় আমাদের দিয়েছেন। আমরা নতুন জামা হাতে পেয়ে আনন্দে ভুলে গেছি সব। কেউ বলিনি বাবা তোমার জন্যে কী কিনেছো। মা জিজ্ঞাসা করলে মুচকি হেসে বলতেন, আমার আছে। ও নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না।

বাবা সবই করেছেন। সবই বলেছেন। বাবাকে যখন আমরা একটু সুখ-শান্তিতে রাখার চিন্তা করেছি তখনই মহান আল্লাহর হুকুমে বাবা চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। যেখান থেকে আর ফিরে আসবে না। আজ চিৎকার দিয়ে কান্না করতে ইচ্ছে করে বাবা, বাবা বলে। ঈদ উপহার আর নতুন জামা ক্রয় করার ক্ষমতা হলেও বাবার জন্যে উপহার দিতে পারি না। বাবা যে আমাদের পাশেই ঘুমিয়ে আছে নিঝুম নিরালায়, ডাকলেও ঘুম ভাঙ্গবে না। বাবাহীন ঈদ যে কত কষ্টের তা আমার মতো যারাই বাবাকে হারিয়েছে শুধু কেবল তারাই বুঝবেন। বাবা হলেন একটি পরিবার ও সন্তানের জন্যে বটবৃক্ষ।

যে সকল সন্তান বাবাকে অন্তর থেকে ভালোবাসতে পারেনি তারা বুঝবে না বাবা কি। আজ নিজেও বাবা হয়েছি। সন্তানের কথা প্রতি ক্ষণ দূরপ্রবাসে বসে মনে পড়ে। বাবাকে নিয়ে লিখলেও শেষ হবে না। আর মায়ের কথা তো বলে লিখেও শেষ করা যাবে না। শুধু সকলের প্রতি একটিই দাবি ও অনুরোধ বাবাকে ভালোবাসুন। মায়ের খেদমত করুন। তাদের সম্মান দিন। তাদের যত্ন নিন। সন্তানের জন্যে তারাই পীর, ঘরে পীর রেখে অন্যকে পীর মেনে অভিশপ্ত জীবন পরিহার করুন। বাবা-মায়ের চাইতে বড় আপন আর কেউ হবে না। হয় না। হতে পারেও না। হে আল্লাহ আমার মতো যাদের বাবা দুনিয়ায় বেঁচে নেই তাদের জান্নাতবাসী করুন।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯৭০৬০
পুরোন সংখ্যা