চাঁদপুর, রোববার ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬, ১২ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা যারিয়াত

৬০ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

৫১। তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ স্থির করিও না ; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।

৫২। এইভাবে উহাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছে উহারা তাহাকে বলিয়াছে, ‘তুমি তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!’


assets/data_files/web

একটা হাত পরিষ্কার করতে অন্য একটা হাতের সাহায্য দরকার।


-সিনেকা।


 


 


নামাজ যাহাকে অসৎ কাজ হইতে বিরত রাখে না তাহার নামাজ নামাজই নহে; কারণ উহা তাহাকে খোদার নিকট হইতে দূরে রাখে।


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর কণ্ঠে আমার সাংবাদিকতার ১৪ বছর
মুহাম্মদ আবদুর রহমান গাজী
১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমার একটি লেখা ২০০৫ সালের ৭ অক্টোবর দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পাক্ষিক আয়োজন ইসলামী কণ্ঠে প্রকাশিত হয়। লেখাটি ছিলো তারাবীহর ফজিলত (নামাজ সম্পর্কে)। তৎকালীন লেখাটি পড়ে অনেক পাঠক আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাঠকের সে উৎসাহ-উদ্দীপনায় আজও লিখি।



দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও আমার গুরু কাজী শাহাদাত আমাকে ধর্মীয় বিষয়ে লিখতে উৎসাহ দেন। আর এ লেখালেখির জন্যে অনুমতি ও দোয়া নিই আমার শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ আলহাজ্ব মাওঃ মোঃ সাইফুদ্দিন খন্দকারের কাছ থেকে। আর সে থেকেই লিখতে শুরু করি। লিখি নানা বিষয় নিয়ে। একসময় আমাকে চাঁদপুর কণ্ঠ থেকে বলা হয়, আপনি আমাদের সংবাদদাতা হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করুন। আমি সম্মতি জানালাম। আমিও খুশি মনে বিভিন্নভাবে সংবাদ সংগ্রহের জন্যে দিক-দিগন্তে ছুটে বেড়াই। সংবাদ সংগ্রহ করি। আর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এতে কাজ করার উদ্দীপনা আরো বেড়ে যায়। আবার কয়েক বছর পর আমাকে চাঁদপুর কণ্ঠ থেকে বলা হয়, আপনি এখন থেকে চাঁদপুর কণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করবেন। এ দায়িত্ব পেয়ে বার্তা বিভাগের দিকনির্দেশনায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে চলে আরো বেশি তোড়জোড়।



২০১১ সালে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় আমার নাম দিয়ে একটি সংবাদ ছাপানো হয়। সেটি ছিলো 'ইফতার খেয়েছে বেশি, মা মারবে ভয়ে ছেলের আত্মহত্যা'। তারপর থেকেই বিভিন্ন সংবাদ আমার নাম দিয়ে প্রকাশিত হয়। আর সে সুবাদে আমার নিকটতমরা জানতে থাকে আমি চাঁদপুর কণ্ঠে আছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিচিতির পালায় যখন বলি আমি চাঁদপুর কণ্ঠের, তখন অন্যরা মূল্যায়নের নজরে দেখেন। এমন অবস্থায় বেশ ভালো লাগে।



'প্রতিবন্ধী রানুর হুইল চেয়ারের আকুতি' এ প্রতিবেদনটি ২০১৩ সালে চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত হয়। সংবাদটির আলোকে তৎকালীন চাঁদপুর জেলা শহরের ধনাঢ্যরা রানুকে হুইল চেয়ার দেবেন বলে চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান। যিনি প্রথমে নিশ্চিত করেন তিনি হলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, তারপর বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল আজিজ খান ও স্কুল শিক্ষক মোঃ কাউছার আলম পাটোয়ারী। পরে তাঁদের দেয়া হুইল চেয়ারগুলো প্রতিবন্ধী রানু, ফরহাদ ও রিফাতকে দেয়া হয়। চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাতকে নিয়ে ওই হুইল চেয়ারগুলো ওই অসহায় প্রতিবন্ধীদের হাতে তুলে দেয়া হয়। আরেকটি সংবাদ প্রকাশিত হয় 'বিষ্ণুপুরে ছাগল হারিয়ে আনোয়ারা কাঁদছেই'। সেই সংবাদের আলোকে আমরা পেয়েছি এক ধনাঢ্য ব্যক্তির মাধ্যমে ১০ হাজার টাকার অনুদান। সে টাকা বিষ্ণুপুরের আনোয়ারাকে তুলে দেয়া হয় ছাগল পালনের জন্যে। এভাবেই বিভিন্ন সংবাদের স্বীকৃতি পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে হয়। আর মানুষের মূল্যায়ন ও কৃতজ্ঞতায় সাংবাদিকতায় জড়িয়ে থাকতে অনুপ্রাণিত হই।



মতলব উত্তর-দক্ষিণ, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি ও কচুয়ায় হরতাল-অবরোধের সময় পত্রিকা নিয়ে যাবে কে? সিদ্ধান্ত হলো, যাবে আবদুর রহমান গাজী ও তাপস দে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোটরসাইকেলযোগে পত্রিকাগুলো পেঁৗছে দিতাম শীতের সকালে আমাদের প্রতিনিধিদের হাতে। আর ওই সময়টা ছিলো বিরোধী দলের আন্দোলনের চাঙা সময়। সে সুবাদে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে বিভিন্ন জায়গায় মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাংচুর করা হতো। এমন পরিস্থিতির শিকার আমাদের সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেই হয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানিতে আন্দোলনকারীরা চাঁদপুর কণ্ঠ লেখা মোটরসাইকেলটিকে দেখলে পথচলার সুযোগ দিয়ে দিতেন।



চাঁদপুর কণ্ঠ সম্মানিত করেছে আমাকে। অফিস পদবীতে আমি আছি সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার পদে। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পঁচিশ বছর (রজতজয়ন্তী)। আমার সাংবাদিকতার ১৪ বছর। এতোগুলো বছর চাঁদপুর কণ্ঠে কাজ করে যা কিছু অর্জন করেছি সেগুলো সম্ভব হয়েছে প্রধান সম্পাদকের আদর, স্নেহ ও শাসনে। চাঁদপুর কণ্ঠে লেখালেখির অভিজ্ঞতা নিয়ে ছারছীনা শরীফ থেকে প্রকাশিত পাক্ষিক তাবলীগ ও মাসিক কুড়িমুকুল পত্রিকা এবং পর্যায়ক্রমে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব, ঢাকা প্রতিদিন, সকালের আলো ও বাংলাদেশের সংবাদে কাজ করছি।



 



চাঁদপুর কণ্ঠের সহযোগিতায় এবং আত্মীয়-স্বজন, হিতাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া ও সমর্থনে এবং ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলার সদস্যদের ভোটে কোষাধ্যক্ষ পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। চাঁদপুর কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার স্যার ফুলের মালা পরিয়ে যখন আমাকে বরণ করে নেন তখন আনন্দে অশ্রুসিক্ত হই। আর এ উপলক্ষে ২০১৮ সালে চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাকে সংবর্ধনা এবং ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এতে আমি প্রাপ্তির পুরোটাই পেলাম। যা আছে আমার স্মৃতির মণিকোঠায় পরম যত্নে। এ পরম আনন্দে বাবার কথা মনে পড়ে গেলো। আজ যদি বাবা বেঁচে থাকতেন তিনি কত আনন্দিত হতেন। বাবা জীবিত থাকাকালীন প্রায়ই পত্রিকায় কিছু লোকের ছবি দেখিয়ে বলতেন যে, তারা অনেক জ্ঞানী। তারা দেশের কল্যাণে কাজ করেন বলেই তাদের ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। হে আল্লাহ তুমি আমার বাবাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করো।



পারিবারিকভাবে আমার অনেক স্মৃতি জড়িত এই চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে। আমার প্রথম লেখা প্রকাশের দিন আমি পুত্র সন্তানের বাবা হই। বর্তমানে আমি তিন ছেলে এক মেয়ের বাবা। আমার স্ত্রী জান্নাতুন নাঈম শারমিন। সে একজন আদর্শ গৃহিণী ও মাদ্রাসার শিক্ষিকা। আমার বড় ছেলে মহিবুর রহমান মহিব্বুল্লাহ (১৪)। সে চাঁদপুর দারুচ্ছুন্নাত দীনিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে অধ্যয়নরত। একমাত্র কন্যা রাহিমা মুশফিকা আনোয়ারা মতিউর মহিলা মাদ্রাসায় ক্বারিয়ানা বিভাগে অধ্যয়নরত। দ্বিতীয় ছেলে মশিউর রহমান মেহেরুল্লাহ (৩)। কনিষ্ঠ ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফী (১)। বিয়োগব্যথায় যাদের হারিয়েছি তারা হলেন আমার নানা মরহুম আব্দুল লতিফ সরদার, নানী ফাতেমা বেগম, মামা মোঃ মিজানুর রহমান, খালু মোঃ আবদুর রহমান গাজী ও মোঃ বাদল কাজী, জেঠা আব্দুল লতিফ গাজী, মোঃ শামছুল হক সামু গাজী, জেঠী মাজুদা বেগম, মাউই মা উম্মেহানী ও তাউই মুক্তিযোদ্ধা মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তারা আমাকে চাঁদপুর কণ্ঠে আছি বলে 'সাংবাদিক হুজুর' বলে ডাকতেন। আজ তারা ইহ জগতে নেই। প্রাণচঞ্চল দিনগুলোর মাঝে তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাই। চাঁদপুর কণ্ঠের রজতজয়ন্তীতে সবার মাগফেরাত কামনা করছি।



পরিশেষে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক, প্রধান সম্পাদক, বার্তা সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। এছাড়াও আমার সংবাদ প্রেরণসহ বিভিন্ন সহযোগিতার জন্যে সকলের নিকট কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও মহান আল্লাহতা'য়লার শোকরিয়া আদায় করছি। এ পত্রিকা যতোদিন থাকবে, পত্রিকার সাথে যেনো কাজ করতে পারি। যতোদিন সুস্থ থাকি কোনো অপশক্তি যাতে লেখা হতে বিরত করাতে না পারে সেজন্যে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কামনা করছি।



পত্রিকার ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। এ পত্রিকাটি যাতে সবসময় পাঠকপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে মহান আল্লাহতা'য়ালার নিকট প্রার্থনা করছি। পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৮৭৬২
পুরোন সংখ্যা