চাঁদপুর, রোববার ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬, ১২ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা যারিয়াত

৬০ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

৫১। তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ স্থির করিও না ; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।

৫২। এইভাবে উহাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছে উহারা তাহাকে বলিয়াছে, ‘তুমি তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!’


assets/data_files/web

একটা হাত পরিষ্কার করতে অন্য একটা হাতের সাহায্য দরকার।


-সিনেকা।


 


 


নামাজ যাহাকে অসৎ কাজ হইতে বিরত রাখে না তাহার নামাজ নামাজই নহে; কারণ উহা তাহাকে খোদার নিকট হইতে দূরে রাখে।


 


 


ফটো গ্যালারি
কেয়া-জয়ার কণ্ঠ-চাঁদপুর কণ্ঠ
মোখলেছুর রহমান ভঁূইয়া
১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দেখতে দেখতে পঁচিশটি বছর পূর্ণ হলো চাঁদপুর কণ্ঠের বয়স। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম প্রকাশনা পড়লাম। সেই যে শুরু আজ পর্যন্ত একবিন্দুও আমার মন থেকে চাঁদপুর কণ্ঠ লুকাতে পারে না। আমার ছাত্রজীবন থেকে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস। ওই সময়ে ডাকযোগে পত্রিকা এনে পড়তাম। মাঝে মাঝে বিভিন্ন কাজের চাপে দু-একদিন পত্রিকা দেখা না হলেও পরে পেছনের তারিখের পত্রিকাগুলোতে চোখ বুলিয়ে নেই আজও। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা রাখা আমার ব্যবসায়িক অলঙ্কার। ছাত্রজীবনে আমি কবিতা, গল্প লিখতাম। তবে প্রকাশ করতাম না। চাঁদপুুর কণ্ঠ নিয়মিত পড়ার সুবাদে পর্যায়ক্রমে আজ প্রায় দশ বছর টুকটাক লেখালেখি করি, তাও অনিয়মিত। এই অনিয়মিতকে নিয়মিত রাখার ভূমিকাও চাঁদপুর কণ্ঠের। আমার মতো ক্ষুদ্র লেখকের লেখা প্রকাশিত না হলেই উদীয়মান তরুণ কবি, গল্প ও প্রবন্ধকার এবং দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের বিভাগীয় সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান মোবাইল ফোনে ব্যক্তিগতভাবে উদ্দীপনা যুগিয়ে আমার কাছ থেকে লেখা আদায় করে নেন। পাঠকের/লেখকের এই যে ফলোআপ চাঁদপুর কণ্ঠের এবং এই ফলোআপের কারণে একজন পাঠক যেমন সচল থাকে, অনুরূপ একজন লেখক তার লেখা প্রকাশ করে সাহিত্যের তৃষ্ণা মেটায়।



চাঁদপুর কণ্ঠ তার বিভিন্ন দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে। একটি কারখানায় বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে ক্রেতার ধরণ অনুযায়ী বিক্রি করে। ঠিক চাঁদপুর কণ্ঠ হচ্ছে পাঠক-লেখক তৈরির কারখানা। শব্দখেলা, পাঠক ফোরাম, সাহিত্য পাতা, কৃষিকণ্ঠ, ইসলামী কণ্ঠ, চিকিৎসাঙ্গন, সুচিন্তা, প্রযুক্তি কণ্ঠ, নারী কণ্ঠ, সংস্কৃতি অঙ্গন, শিশুকণ্ঠ, ক্রীড়াঙ্গনসহ আরো বিভিন্ন বিভাগে পাঠক-লেখকের ভিন্নতা যেমন আছে, তেমনি আছে ওইসব বিভাগ হতে শিক্ষণীয়, অনুকরণীয়, অনুসরণ, উৎসাহ, উদ্দীপনামূলক এবং বর্জনীয় পরামর্শ। পাঠক/লেখক শ্রেণীভেদ অনুযায়ী যে যার ইচ্ছে মতো চাঁদপুর কণ্ঠের ক্রেতা সেজে নিজেদের যেমন আলোকিত করছেন, সাথে সাথে পঁচিশ বছরের ধারাবাহিক প্রকাশনায় চাঁদপুর কণ্ঠ আজ ঈর্ষণীয় সাফল্যে পেঁৗছেছে। এই সাফল্যের বীজ বপনের উদাহরণ-কত তীক্ষ্ন-সূক্ষ্মভাবে আজকের শিশু আগামী দিনের চাঁদপুর কণ্ঠের পাঠক তৈরি হয় সেটি হচ্ছে 'শব্দখেলা'! এই শব্দখেলা শিক্ষার্থীদের উপভোগ্য খেলা। আমিও প্রথম প্রথম এই শব্দ খেলায় মশগুল থাকতাম। পত্রিকায় কলম দিয়ে শব্দ সংখ্যা সাজাতাম। পড়া এবং কলমের সংযোগ একজন শিক্ষার্থীকে চাঁদপুর কণ্ঠ পড়ার এবং পত্রিকায় লেখার উৎসাহ যোগায়। আমার দ্বি-রত্ন কেয়া, জয়া এখন শব্দখেলার সমাধানে খুবই মনোযোগী। চাঁদপুর কণ্ঠ এখন তাদের প্রতিদিন হাতে চাই। মাঝে মাঝে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে পত্রিকা বাসায় নিতে বিলম্ব/ভুলে গেলে চাঁদপুর কণ্ঠের জন্যে তারা উন্মূখ থাকে। বলতে গেলে চাঁদপুর কণ্ঠ এখন আমার পরিবারে নিত্যদিনের খাদ্যের ন্যায়। চাঁদপুর কণ্ঠের লেখা আমার শ্রদ্ধেয় বাবা মরহুম উমেদ আলী ভূঁইয়া মনোযোগ সহকারে শুনতেন, ভালোবাসতেন, আমি নিজেও চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে হৃদয়ের গহীন আঙ্গিনায় চুম্বকের ন্যায় আকর্ষিত। আমার দুই নয়ন কেয়া, জয়াও চাঁদপুর কণ্ঠের ভালোবাসার সূচনালগ্নে। চাঁদপুর কণ্ঠের ধারাবাহিক সফলতা এভাবেই চলমান থাকবে। আমার মেয়েদের ন্যায় অন্যান্য শিক্ষার্থী চাঁদপুর কণ্ঠের শিশুকণ্ঠ, শব্দখেলায় মনোযোগী হয়ে পাঠক হয়েছে, হবে।



চাঁদপুর কণ্ঠের বিগত দিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী লেখনীতে চাঁদপুর কণ্ঠের গুণগত মান ও পট পরিবর্তনের জন্যে বিভিন্নভাবে উপস্থাপনা করেছি। সেই পরিবর্তনের ছোঁয়ায় আজ রঙ্গিন কলেবরে চাঁদপুর কণ্ঠ। সাবাস চাঁদপুর কণ্ঠ। তুমি এগিয়ে যাও দুর্বার গতিতে। পূর্ণ যৌবনে উপস্থাপন কর সকল বিতর্কের ঊর্ধ্ব গগনে। উপস্থাপনায়- বিতর্ক-আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই। বিতর্ক আছে বলেই আজ চাঁদপুর কণ্ঠ সবার সেরা। বিতর্ক আছে বলেই চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে আছে ছাত্র, শিক্ষক ও সুশীল সমাজ। চাঁদপুর কণ্ঠ নিয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরে বিতর্ক থাকুক সারাবেলা, গোধূলী সন্ধ্যায়, চাঁদমাখা রজনীতে। চাঁদপুর কণ্ঠ আজ জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, এক কথায় প্রকাশ-অ-প্রতিদ্বন্দ্বী। চাঁদপুর জেলার ঘটনাবহুল সংবাদে ভরপুর একমাত্র দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ। সম্পাদকীয় ও সম্পাদনায় চাঁদপুর কণ্ঠ চাঁদপুরের দ্বিতীয় কোনো পত্রিকার সাথে তুলনা করা অজ্ঞতার প্রকাশ। সম্পাদকীয় দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে। যাতে জাতীয় পত্রিকার ন্যায় সমসাময়িক প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়, যার সুফল চাঁদপুরবাসী ভোগ করেন। সম্পাদকীয় লেখায় বাংলা ভাষার 'অভিজাত শব্দাক্ষর' প্রকাশ পায়। শুদ্ধ ভাষা চর্চায় আত্মনিমগ্ন ও সাহিত্যের দৃঢ়স্থির দিকপাল প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত এক অনন্য জ্ঞানগুণময় সম্পাদনায় যে শব্দগুলো প্রয়োগ করেন, গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হবে যে, অনেক জাতীয় পত্রিকার চেয়ে চাঁদপুর কণ্ঠের সম্পাদকীয় লেখার তথ্যভা-ার, শব্দভা-ার পরিশীলিত ও পরিমার্জিত। এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেন যা জাতীয় অনেক পরিচিত পত্রিকায়ও খুঁজে পাওয়া যাবে না। জেলার শীর্ষস্থানীয় এই পত্রিকাটি বন্ধ রয়েছে বলে মিথ্যাচার করে আমাকে এক হকার পত্রিকা দেয়নি, ওই হকারকে আমি পরিবর্তন করে এখন শর্ত দিয়ে নিয়মিত চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকা ক্রয় করি। কারণ শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমি একজন গ্রাহক। বিশেষ দিবসে ঘোষণা ছাড়া পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ থাকে না। সচেতন পাঠককে ভুল বোঝাবার অবকাশ নেই। সর্বশেষ চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে আমার কর্মজীবনের একটি হিসাব যেমন আছে, তেমনি আছে আমার সতের জুন বৈবাহিক গণনাবর্ষ। সত্যি চাঁদপুর কণ্ঠ আমার পরিবারের কণ্ঠ। আমার আদরের ছোট্ট ছেলে উমেদ আজহার ইয়া নূরকে না দেখলে যেমন মন চটপট করে, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ না পড়া পর্যন্ত আমার মনে এক ধরনের অতৃিপ্ত অনুভূত হয়। চাঁদপুর কণ্ঠ পড়েই আমি পরিতৃপ্ত হই।



চাঁদপুর কণ্ঠের গৌরব প্রতিষ্ঠাতা রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার, পিএইচএফ এবং কণ্ঠের ঐতিহ্যের ধারক বাহক রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত পিএইচএফ। তাঁর ঐশী মেধা ও মননে নিজসন্তান ও পরিবারকে কোনো না কোনোভাবে বঞ্চিত করলেও চাঁদপুর কণ্ঠকে অকৃত্রিম ভালোবাসায় আবদ্ধ করে একটি দিনের জন্যেও পত্রিকাটির সাথে মান অভিমান করে দূরে সরে না যাওয়ার পুরস্কার হচ্ছে রজতজয়ন্তীর আনন্দে চাঁদপুরের সচেতন পাঠক, গ্রাহক, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এই রজতজয়ন্তী উপলক্ষে 'আইন বিভাগ' চালুকরণের জন্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি (আমার লেখনীতে 'কৃষি কণ্ঠ' বিভাগ চালুকরণের জন্যে উপস্থাপন করলে চাঁদপুর কণ্ঠ তা সানন্দে গ্রহণ করে)। ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারকে ফুলেল শুভেচ্ছা। সচেতন পাঠকের মাঝে চাঁদপুর কণ্ঠ প্রবহমান থাকবে।



লেখক : সাহিত্যকর্মী, বাবুরহাট, চাঁদপুর। মোবাইল ফোন : ০১৭৩১-১৬০৮৭৫।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭০৭৮৪
পুরোন সংখ্যা