চাঁদপুর, রোববার ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬, ১২ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা যারিয়াত

৬০ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

৫১। তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ স্থির করিও না ; আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহ প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।

৫২। এইভাবে উহাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছে উহারা তাহাকে বলিয়াছে, ‘তুমি তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!’


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


যারা ধনী কিংবা সবকালয়, তাদের ভিক্ষা করা অনুচিত।


 


 


ফটো গ্যালারি
কার্ল মার্কসের তত্ত্ব, প্রেমিকা ও অবৈধ সন্তান
হাসান আলী
১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রায় দুশো বছর ধরে বৈজ্ঞানিক সমাজতেন্ত্রর প্রবক্তা কার্ল মার্কস দুনিয়াব্যাপী বহুল আলোচিত ব্যক্তি। তিনি বললেন, এতদিন দার্শনিকেরা পৃথিবীর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এখন তাঁদের কাজ হলো পৃথিবীকে বদলে দেয়া। তাঁর রচিত কমিউনিস্ট ইশতেহার সারা পৃথিবীতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি বললেন, মানব জাতির ইতিহাস হলো শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস। পৃথিবীতে দুটি শ্রেণী রয়েছে। একটি শ্রমিক শ্রেণী অপরটি মালিক শ্রেণী। ঝাঁকে ঝাঁকে তরুণ-তরুণীরা মার্কসবাদে আকৃষ্ট হলো। শোষণহীন সমাজ করার জন্যে জানবাজি রাখলো। রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, কিউবা, ভিয়েতনাম সহ অনেক দেশে বিপ্লব হলো। শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র কায়েম হলো। সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্র সত্তর বছর টিকলো। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক সরকার গঠন হলো, টিকলো পঁয়ত্রিশ বছর। সারাবিশ্বে মাতম উঠলো বিশ্বে আছে একই বাদ, মার্কসবাদ-লেনিন বাদ।



বাংলাদেশের তরুণদের একটা বড় অংশ আদর্শ হিসেবে মার্কসবাদকে গ্রহণ করলো। সমাজ পাল্টানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-যুবকরা সংগ্রামে অবতীর্ণ হলো। তাদের মধ্যে একদল ভাবলো, দলই জীবন বিপ্লবই জীবন এই চেতনায় দল গড়তে হবে। তারা মনে করলো, জীবনের সকল ক্ষেত্রে মার্কসবাদকে অনুসরণ করতে হবে। মার্কসবাদীরা দাবি করলো, মার্কসবাদ সকল বিজ্ঞানের বিজ্ঞান অর্থাৎ সকল বিজ্ঞান মার্কসবাদের অধীন। যারা মার্কসবাদকে চ্যালেঞ্জ করলো তারা হয়ে গেলো শ্রেণী শত্রু। তাদের বলা হলো পুঁজিবাদের দালাল উচ্ছিষ্ট ভোগী। সমাজতন্ত্রীরা দাবি করলো, সমাজ হবে শ্রেণীহীন। শ্রেণীহীন সমাজ ব্যবস্থাই শ্রমিকদের মুক্তি দিতে পারে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও সমাজতন্ত্রীরা প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে মানুষের কাছে সমাজতন্ত্রের জয়গান করেছে। শুরুর দিকে ভালোই সাড়া পেয়েছিল। বর্তমানে বামপন্থীদের কর্মকা-ের ওপর সাধারণ মানুষের ভরসা নেই। ক্রমেই নিস্তেজ নির্জীব হয়ে আসছে সমাজতন্ত্রের নামে গড়ে ওঠা দলগুলো। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দারুণ ভাবে সরব রয়েছেন। মার্কসবাদী রাজনীতির কর্মী সমর্থকরা কার্ল মার্কস কে দেবতার আসনে বসিয়ে দিয়েছেন। সব কিছুতেই তাঁর বাণী উল্লেখ করেন। জগৎ জীবনের সকল প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন মার্কসবাদের মধ্যে। কার্ল মার্কস-এর তত্ত্বকে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন। মার্কসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন করলে বুর্জোয়াদের অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেন।



আশ্রয় খোঁজা মানুষের সহজাত ধর্ম। প্রচলিত বিধিবিধান যখন মানুষ সইতে পারে না তখনই মানুষ নতুন কিছুর জন্যে মনে মনে অপেক্ষা করে। নতুন কোনো আদর্শ কিংবা মতবাদ তার ইচ্ছা পূরণে সহায়ক মনে করলে সমর্থন ও বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে। নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা, জ্ঞান বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পুরাতন চিন্তা ভাবনা কে চ্যালেঞ্জ করে। কেউ কেউ নতুন চিন্তা এবং জ্ঞান বিজ্ঞানের সমর্থক হয়ে এগিয়ে আসে। পৃথিবীর সকল পরিবর্তনে বিজ্ঞানের বড় ভূমিকা রয়েছে। বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আদর্শবাদীদের জন্যে বিপজ্জনক। আদর্শবাদীরা মনে করে, পৃথিবীর সব সংকট দূর হবে তিনি যেই আদর্শে বিশ্বাস করেন সেটি বাস্তবায়িত হলে। যেমন কমিউনিস্টরা মনে করেন, শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাম্যবাদই চূড়ান্ত। ধর্ম বিশ্বাসীরা মনে করেন, ধর্মীয় অনুশাসন ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পৃথিবীর শান্তি। বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আর নতুন নতুন আবিষ্কারে মানুষের জীবন যাপন, চলন-বলনে ব্যাপক পরিবর্তন চলছে। বিজ্ঞানীরা যদি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ঘোষণা দেয়, তেল-গ্যাস ছাড়াই কলকারখানা, গাড়ি চালানো, বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে তাতে অবাক হবার কিছু থাকবে না। বিজ্ঞানের সকল আবিষ্কার সমগ্র মানবজাতির জন্যে।



কার্ল মার্কস প্রেম করেছেন তাঁর চেয়ে চার বছরের বড় প্রাশান অভিজাত বংশোদ্ভূত জেনি ভন ওয়েস্ট ফ্যালেন-এর সাথে। তাঁদের বিয়ের পর মার্কসের শ্বাশুড়ি মেয়ে জামাইর সেবা-যত্নের জন্যে ১৮৪৫ সালে ব্রাসেলসে যুবতী হেলেন ডিমূথ কে পাঠান। মার্কস দম্পতি লন্ডনে থাকার সময়ে হেলেন ডিমূথ একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সবাই মনে করতো পুত্র সন্তানটির জনক মার্কস। এই নবজাতক কে নিয়ে মার্কস দম্পতির ঝগড়া চরমে উঠলে ম্যানচেস্টারে অবস্থানরত অবিবাহিত ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস সংসার টিকিয়ে রাখতে নবজাতকের পিতৃত্ব দাবি করেন। হেলেন ডিমুথ-এর ঘরে জন্ম নেয়া পুত্রসন্তানটির নাম দেন ফ্রেডারিখ লুইস ডেমূথ। শিল্পপতির সন্তান ফ্রেডিরখ এঙ্গেলস ছিলেন মার্কসের প্রতিপালক। দুর্ভাগ্য হলো, ঘোষিত পুত্র সন্তানটি বড় হয়েছেন লন্ডনের একটি এতিমখানায়। পরবর্তীকালে এই ছেলেটি যন্ত্রমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। ১৮৯০ সালের ৪জুন হেলেন ডিমূথ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মার্কসের স্ত্রীর ইচ্ছা অনুসারে তাঁকে মার্কস পরিবারের সমাধি ক্ষেত্রে সমাহিত করা হয়। মার্কসের কন্যা এলিনোর মার্কস পিতার মৃত্যুর পর সকল সত্য জানতে পারেন। তিনি ফ্রেডরিখ লুইস ডেমূথ কে পারিবারিক বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেন। এলিনোর মার্কস হেলেন ডিমূথ কে তাঁর পিতার সমাধিতে পুনঃ সমাহিত করেন। আমার প্রশ্ন, কে বড়? মার্কসের স্ত্রী নাকি কন্যা? মার্কস কি আজীবন সেবাকর্মী হেলেন ডিমূথ-এর পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছিলেন? দুনিয়ার মজদুর এক হও?



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২০০৪৭
পুরোন সংখ্যা