চাঁদপুর, শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩ ভাদ্র ১৪২৬, ৭ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪০। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিব?


৪১। অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাইবে উহাদের লক্ষণ হইতে, উহাদিগকে পাকড়াও করা হইবে মাথার ঝুঁটি ও পা ধরিয়া।


 


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
পাতি চোরের আত্মকথা
রবিউল ফিরোজ
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ব্যালাক মানে চুরি, বুজ্জেননি? তয় কেউ আবার কয়লার ব্যালাক ভাইবা বইসেন না য্যান। সেই গল্পই কইতাছি, হ্যাঁ চুরিচামারি। কামডাতে অন্যরকম হাসি আনন্দ আছে- মানে ফিলিং আছে। আমার ফিলিং থাকলেও যে ব্যাটার চুরি করি তার ফিলিং আবার অন্যরকম। যেহেতু আমি চোর, তাই চোর আর চুরির কতাই কই। চুরি করতে গিয়ে সফল হলে হাসিতে দুই গালের মাংস মাড়িতে গিয়ে ঠেকে। তাইলে বুজেন একবার আনন্দের পরিমাণ কতখানি! যদি আমার ওপর সরল বিশ্বাস না হয় তাইলে আমার স্বজাতি চোর ভাইদের জিজ্ঞেস কইরা দেখতে পারেন। তয় সত্যি কতাখান কী জানেন? কামডা করতে কই মাছের মতো প্রাণ দরকার। নইলে বিষম নিরানন্দও কপালে আছে।



 



সেই ছোট্টকালের ইস্কুল জীবনের কতা। তখন সবেমাত্র আরম্ভ করেছিলাম বন্ধুদের পকেট থেকে কলম হাতানো দিয়ে। বইয়ের মধ্যে রাখা ছাত্রীদের দু-এক টাকা বাগানো দিয়ে। আস্তে আস্তে কর্মের প্রসার হইছে। চাকরির মতুন প্রমোশন পাইছি আর কী। বড় হওনের লগে পাল্লা দিয়া নতুন নতুন চাহিদাও বাড়ল। সেই বাড়ন্ত চাহিদা মিটাইতে গিয়া দোকানি বাপকে ঠকাইতে লাগলাম। তাতেই চলত পান বিড়ি সিগারেটের খরচ। এরই মধ্যে আমার আবার সিটি সিঙ্গাপুর যাওনের প্রবল শখ হইলো। কিন্তু খরচখান্তির এত টাকা কই পামু? গরিবের নাকি ঘোড়ারোগ হয়। তয় বিদেশ যাওনের ব্যাপারটা আমার কাছে ঘোড়ারোগ টপকিয়ে নিশ্চিত হাতিরোগ। লক্ষ্যে পৌঁছাতে চুরিচামারির কর্মে দিনে রাইতে অভারটাইম কইরাও কুলাইতে পারলাম না। মাঝেমাঝে মনে হইতো, যদি শালার ট্যাকার বস্তা পাইতাম! রাস্তায় পথ চলতে কতজনেই তো কত কিছু কুড়াইয়া পায়। আর আমি একখান ট্যাকার বস্তা পাইলে দোষ কী?



 



চোরের ডাকও আল্লায় শোনে। সত্যি সত্যি পাইলাম তয় বস্তা নয়, লাখ ট্যাকার দান। ওই যে গানে গানে কয় না হাতের কাছে থাকতে মানিক রইলা যে কাঙাল...



যে যাই কউক আমি কিন্তু কাঙাল থাকতে চাইনি। তাই সুযোগের সদ্ব্যবহার কইরা এনজিওর সকল সদস্যের ট্যাকাগুলান তুইলা দিতাছি বইলাই পালাইলাম। হায়রে, সিটি সিঙ্গাপুর যাওন কি এতই সোজা! এইবার চুরিতেও হইলো বিধিবাম। বহুত চেষ্টা কইরাও কুলাইতে পারলাম না। বাড়িও গেলাম না, ধরাও দিলাম না। গভীর রাইতে চুপিচুপি বাড়ির দিকে পা বাড়ালাম। কাছাকাছি এসেই দেখি বাড়িজুড়ে এলাহিকা-- মহামজলিশ। আত্মীয়স্বজন, সদস্য, কর্মী সকলে মিটিং বসাইছে। আমারে এক পলক দেখেই মারমার-কাটকাট শুরু হয়ে গেল। চারদিকে তুমুল সস্নোগান_



আনোয়ার আনোয়ার/জানোয়ার জানোয়ার।



চারদিকে একই ধ্বনি- আমি নাকি চোরের খনি।



 



অবস্থা বেগতিক দেখে কইলাম, ট্যাকা তো হাতের ময়লা। সেই ময়লার জন্যি এত কিছু করবেন জানলে আমি সিটি সিঙ্গাপুর যাইতাম না।



 



কে য্যান আমার ঘাড়ে হাত দিয়া কইলো, ক শালা, ট্যাকা কই রাখছস? তাতে অবশ্য আমি অপমান বোধ করিনি। ছোটবেলায় বাপেও ঘাড়ে হাত দিয়া চটকানি দিত। আইজ না হয় পাড়াতো বড়ভাই দিতাছে। তাতে আবার অপমান কিসের? তাতেও সভাসদের মন ভরল না। কেউ আর আমার পক্ষে নাই। তারপর সে কী মাইর! মনে হইতাছিল সিটি সিঙ্গাপুরের বদলে না জানি কবরপুরে যাইতে হয়। সব হজম করছি। তয় মনে হইলে এখনও গাও গতর শিউরে ওঠে। তাই শ্যাষকালে বইলা যাই, আমার মতুন যারা আঁতি চোর, পাতি চোর আছেন তারা অতিশয় সাবধান হয়্যা যান। কিন্তু সিন্দুক চোরের কতা ভিন্ন। তাদের আবার আলাদা স্টাইল, আলাদা ভাবসাব। হাজার হইলেও উনারা আমাগো পরম শ্রদ্ধেয় বস। কানে কানে গোপনে গোপনে তারেও সাবধান কইরা দিতাছি- বাবুসাব, চোরের দশ দিন সাধুবাবার কিন্তু্তু একদিন।



 



 



 



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৩৩১৭৬
পুরোন সংখ্যা