চাঁদপুর, শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩ ভাদ্র ১৪২৬, ৭ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪০। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিব?


৪১। অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাইবে উহাদের লক্ষণ হইতে, উহাদিগকে পাকড়াও করা হইবে মাথার ঝুঁটি ও পা ধরিয়া।


 


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
গুজবের অন্তরালে
রুহুল আমিন রাকিব
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাসুর উঠোনজুড়ে লোকের ভিড়। কাকডাকা ভোর থেকে এমন ভিড় লেগে আছে। মসজিদের মাইকে মুয়াজ্জিন সতর্ক করে দিল- গ্রামে গলাকাটা বাচ্চাধরা ঢুকছে। যে যার মতো সজাগ থাকুন। শিশুদের প্রতি নজর রাখুন। গ্রামের সবাই বলাবলি করছে, হাসুর বউয়ের কপালে এমন পরিণতি হলো শেষ অবধি! আহারে! ফুটফুটে বেবিটার কী হবে? দুবছর বয়সও হয় নাই এখনও।



 



এই বয়সে মাহারা হলো বেবিটা। ওহ! আসল ঘটনা তো বলাই হয়নি। আজ থেকে বছর চারেক আগে, পাশের গ্রামের রুজিনাকে বিয়ে করেছে হাসু। বিয়ের পর থেকে সংসারে ঝগড়া-ঝামেলা লেগেই থাকত। রুজিনারে সবাই বলত একটা বাচ্চা নিতে। বাচ্চা নিলে সংসারের প্রতি মায়া-মহব্বত বাড়বে। সবার কথা রাখতে গিয়ে একটা ফুটফুটে মেয়ে জন্ম দেয় রুজিনা। মেয়ে জন্ম দেওয়ায় অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে গেল! দিনের পর দিন রুজিনাকে অনাহারে রাখত হাসু। বাবা-মা বেঁচে না থাকার কারণে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করে রুজিনা। মেয়ের মুখপানে তাকিয়ে শত কষ্ট আর অবহেলা-অত্যাচারকে সঙ্গী করেও হাসুর ঘর-সংসার করে। রোজ রাতে ঘুমাতে যায় পরদিন ভোরের আলোর মতো স্বচ্ছ সুন্দর একটা দিনের আশায়। তবে রুজিনার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয় না।



প্রতি রাতের মতো সেদিন রাতেও মেয়েকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে আপন ঘরে শুয়ে ছিল রুজিনা। প্রতিদিনের মতো সেদিনও অনেক রাত করে বাড়ি ফেরে হাসু। হাতে একটা জুসের বোতল নিয়ে, আদরের সুরে ডাক দেয় রুজিনাকে। হাসুর মায়ামাখা কণ্ঠের আড়ালে যে বিষ মেশানো ছিল, তা একটুও বুঝতে পারেনি। ঘরের দরজা খুলে দেয়। রুজিনার হাতে জুসের বোতল দিয়ে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে হাসু বলল, এই জুসটা তোমার জন্য এনেছি। তুমি একাই খেয়ে নিও। স্বামীর এমন বদলে যাওয়া দেখে হাসির ঝিলিক খেলা করে রুজিনার মুখজুড়ে। মনের



 



আনন্দে বোতলভর্তি সব জুস খেয়ে নেয় রুজিনা। বিছানায় শুয়ে পড়ার কোনো এক মুহূর্তে ঘুমিয়ে পড়ে। রুজিনা তখনও জানত না, এটাই তার জীবনের শেষ ঘুম। রাত গভীর হয়ে আসে। পাষ- হাসু পরিকল্পনামতো রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে একটু দূরে গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে রাখে রুজিনার গলাসহ মাথাটা।



 



ফজরের আজান শুনে সাজানো নাটকের সমাপ্তি টানতে গিয়ে চিৎকার করে কান্না শুরু করে হাসু। গ্রামজুড়ে সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে- গলাকাটা এসে রাতের আঁধারে গলা কেটে নিয়ে যায় রুজিনার। বাবা-মা না থাকার কারণে রুজিনার মৃত্যু নিয়ে কেউ থানায় ঝামেলা করতে যায়নি। সেদিন রাতে হাসু জুসের সঙ্গে চেতনানাশক ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়েছিল রুজিনাকে।



 



গুজবের অন্তরালে খুন হলো অসহায় একটি মেয়ে, কেউ তা জানল না। সত্যটা জানে রুজিনার পোষমানা কুকুরটা। আর তাই তো গ্রামজুড়ে কয়েক দিন বিলাপ করে কান্না করতে করতে অসুস্থ হয়ে মরেও গেল। কেউ বুঝতে পারেনি পোষ মানা পশুর কান্নার কারণ।



 



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৮৮১৪
পুরোন সংখ্যা